ফরিদপুরে দোকানে সরকারি প্রণোদনার সার, আটক ১

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী বাজারের একটি সার ও কীটনাশকের দোকান থেকে সরকারি সার উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে ১৩ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এসময় সার ব্যবসায়ী মিরাজ মন্ডলকে আটক করা হয়। আটককৃত মিরাজ মন্ডলের বাড়ী উপজেলার আড়পাড়া গ্রামে।

মধুখালী থানার এস আই তোফাজ্জেল হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ৯টার দিকে কামারখালী বাজারের সার ব্যবসায়ী মিরাজ মন্ডলের দোকানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে সরকারিভাবে কৃষকদের মাঝে বিতরণকৃত ৯ বস্তা ডিএপি ও ৪ বস্তা ২৫ কেজি এমওপি সার জব্দ করা হয়।

এসময় মিরাজ মন্ডলকে আটক করা হয়। রাতে সার ও আটককৃতকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মধুখালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে এসে সত্যতা পেয়েছি। সার ব্যবসায়ীর লাইসেন্স জব্দ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সার ও আটককৃত ব্যক্তিকে রাতে থানায় রাখা হবে। মঙ্গলবার সকালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আটককৃত মিরাজ মন্ডল বলেন, সোমবার দুপুরে আমি দোকানে ছিলাম না, আমার ছেলে ওই সময় দোকানে ছিল। এমন সময় আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রউফ দোকানে এসে এই সারের বস্তাগুলো রেখে যান।

আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রউফ বলেন, দোকানে আমি সার রাখিনি। আমার কথা বলে কেউ দোকানে রেখে এসেছে।

আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন বলেন, করোনার সময়ে সরকারি সার কৃষকদের মাঝে গ্রুপভিত্তিকভাবে বিতরণ করা হয়। সে কারণে হয়তো কয়েকজন কৃষক একসাথে সার এনে ওই দোকানে রাখতে পারে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, সরকারি প্রণোদনার সার প্রকৃত চাষিরা পাচ্ছে না। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা প্রভাব খাটিয়ে তাদের কাছের লোকদের নামে সার বরাদ্দ দিয়েছেন। তাই তারা সার উত্তোলন করে ওই দোকানে বিক্রি করে দিয়েছে।

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা মনোয়ার বলেন, সরকারি সার উদ্ধারের বিষয়টি জেনেছি। মঙ্গলবার সকালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।