তীব্র ঠান্ডায় বিপর্যস্ত পঞ্চগড়-যশোর, বইছে শৈত্যপ্রবাহ

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় ও যশোরে তীব্র ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশার ঢেকে থাকছে চারপাশ। সাথে পড়ছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফোটার মতো কুয়াশা।

পঞ্চগড়ে তীব্র ঠান্ডা শুরু হওয়ায় লোকজন যেমন কাহিল হয়ে পড়ছে তেমনি প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষরা। প্রতিদিনই ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা থাকায় শহরের বিভিন্ন রাস্তায় যানবাহনগুলো হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।

গরম কাপড়ের অভাবে নিম্ন আয়ের মানুষজন ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচার জন্য রাস্তার পাশে আগুন চালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্ঠা করছেন। তারা দ্রুত সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন।

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ের ৫টি উপজেলায় নির্বাহী অফিসারদের কাছে শীতার্ত মানুষের জন্য সরকারিভাবে ২১ হাজার কম্বল পাঠানো হয়েছে। ৫টি উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কম্বলগুলো বিতরণ করা হবে।

এদিকে, যশোরের অনুভূত হচ্ছে তীব্র শীত। সেইসাথে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। যশোরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে, শুক্রবার যশোরের তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সন্ধ্যা থেকেই শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকে। শনিবার সকালে তাপমাত্রা কমে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। কুয়াশা না থাকায় সকাল থেকে সূর্যের আলো থাকলেও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে শীত অনুভূত হচ্ছে বেশি। এতে করে সকালে কাজে বেড়িয়ে দুর্ভোগে পড়েন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

আব্দুস সামাদ নামে এক রিকশা চালক বলেন, খুব সকালে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। হিম ঠান্ডার কারণে রিকশা চালাতে কষ্ট হচ্ছে। হাত অবশ হয়ে যাচ্ছে। আগুন পোহাতে পারলে ভালো হতো।

শামসুল ইসলাম নামে এক চাকরিজীবী বলেন, সকাল ৮টার মধ্যে অফিসের উদ্দেশে বের হতে হয়। প্রচণ্ড শীতের কারণে রিকশা না পেয়ে হেঁটে যাচ্ছি। আবার হাঁটলে শরীরটা একটু গরম থাকে। কিন্তু উত্তরের হিমেল হাওয়ায় জবুথবু অবস্থা। খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ তো নাজেহাল হয়ে যাচ্ছে।

সালাম হোসেন নামে এক হোটেল কর্মচারী বলেন, সকালে নাস্তার জন্য হোটেলে চাপ থাকে। যে কারণে ফজরের আজানের পর থেকে কাজের চাপ বেশি। তবে শীতের কারণে কম মানুষ আসছেন। পানিতে হাত রাখলে মনে হচ্ছে অবশ হয়ে যাচ্ছে। আঙ্গুলগুলো নাড়ানো যাচ্ছে না। তারপরও কাজ করছি। ঠান্ডার ভয় করলে মালিক মজুরি দেবে না।

শাহাজাদা নামে আরেক রিকশা চালক বলেন, গত কয়েকদিন বেশ কুয়াশা ছিল। কিন্তু শীত ছিলো না। কাল বিকেল থেকে ঠান্ডা জেঁকে বসেছে। শনিবার সকালে কুয়াশা নেই। রোদ উঠলেও শীত কমছে না। হালকা বাতাসে পুরো শরীর কালায়ে (জুবুথুবু) যাচ্ছে। এ রকম আরো কয়েকদিন হলে সকালে কাজে বের হওয়া যাবে না।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো জানিয়েছে, যশোরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে এবং রোববার তাপমাত্রা আরো কমার শঙ্কা রয়েছে।