ইসরাইলের অনুরোধে পাঠ্যবই থেকে জিহাদকে বাদ দিল সৌদি আরব

শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের মাধ্যমে পাঠ্যক্রমকে জায়নিজম বা ইহুদি মতবাদ বান্ধব করে তুলতে রাজি হয়েছে সৌদি আরব।

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) ইহুদি গণমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এই সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম উর্দু পয়েন্ট।

খবরে বলা হয়, ইহুদি গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে যে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের জায়নিস্ট সরকার ও দক্ষতার সাথে বিশ্বব্যাপী জায়নিস্টদের পক্ষে লবিং করে বেড়ানো একটি জায়নিস্ট লবিং গ্রুপ, সৌদি শিক্ষা কারিকুলাম বা পাঠ্যক্রম থেকে জায়নিজম (ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইহুদি জাতির উন্নয়ন ও ইহুদিবাদের সুরক্ষায় বিশ্বাস) ইহুদি এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলসাথে সাংঘর্ষিক বিষয়বস্তু সরিয়ে দিয়ে তার স্থানে জায়নিজম, ইহুদি ও ইহুদিবাদী ইসরাইল বান্ধব পাঠ্য অন্তর্ভুক্ত করাতে সৌদি সরকারকে রাজি করিয়ে ফেলেছে।

এছাড়াও খবরে বলা হয়, ইহুদিবাদী ইসরাইলের পলিসি স্টাডিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে সৌদির ব্যাপারে উল্লেখ করা হয় যে, সৌদিদের নিয়ে ইসরাইলের চিন্তার কিছু নেই। কেনোনা তারা অত্যাধিক পরিমাণে বদলে গেছে।

সৌদি আরব আগত নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য ইহুদিবাদ ও ইসরাইল বান্ধব নতুন পাঠ্যক্রম ইতিমধ্যেই তৈরি করে ফেলেছে। এই নতুন পাঠ্যক্রম আগত নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর করার কথা রয়েছে।

ইহুদি গণমাধ্যমের মতে, সৌদি সরকার এমন সব পাঠ্য তাদের পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করেছে যে, কচিকাঁচা ও নতুন প্রজন্মের সৌদি পাঠকেরা সে পাঠ্যের ফলে আর কখনো ইহুদি বিদ্বেষী হবে না।

ইহুদি বিরোধী পাঠ্য, জিহাদ ও জিহাদ সম্পর্কিত আলোচনার কারণে সৌদিরা ইহুদি বিদ্বেষী হয়ে যাচ্ছিল উল্লেখ করে ইহুদি গণমাধ্যমগুলো বলছে, সৌদির পাঠ্যক্রমে ইহুদি বিদ্বেষ ও ”উগ্রতায়” উদ্বুদ্ধকারী জিহাদ, জিহাদ সম্পর্কিত আলোচনা এবং ইহুদি বিরোধী আর কোনো বিষয়ই বাকি রাখা হয়নি, জিহাদ ও জিহাদ সম্পর্কিত সবকিছুই তুলে দেওয়া হয়েছে।

ইহুদি গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে, পাঠ্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ রূপে জিহাদকে বাদ দেওয়ায় সৌদিদের অন্তরে আর কখনোই জিহাদ ও শাহাদাতের তামান্না জাগবে না।

তাছাড়া ইহুদিরা যে, মাদক, অর্থ ও নারীদের ব্যবহার করে বিশ্ব পরিচালিনার প্রধান উৎসগুলোয় নিজেদের হাত জমানোর পায়তারা করছে এই কঠিন সত্য ধারণাকেও তারা চিরতরে মুছে দিতে সক্ষম হবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

জিহাদ, ইসলাম ও ইসলামের আধিপত্য বিষয়ক বিষয়বস্তুর পরিবর্তে পাঠ্যসূচিতে মুক্তচিন্তা বা ধর্মনিরপেক্ষতা, উদারনীতি এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তাভাবনা মূলক বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানায় ইহুদি গণমাধ্যমগুলো।

ইহুদিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যত ও উন্নয়নকে নিজেদের একমাত্র ধ্যানজ্ঞান করতে, নারীদের আরো বেশি স্বাধীনতা দিতে এবং সকল ধর্মের সহাবস্থান নিশ্চিত করণার্থে পুনর্গঠনমূলক কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে সৌদি সরকার।

সূত্র: উর্দু পয়েন্ট

ইসলামের জন্য গান-বাজনা ছেড়ে দিবেন জনপ্রিয় শিল্পী আতিফ আসলাম

সঙ্গীত পাড়ার সবচেয়ে আলোচিত টপিক এখন, পাকিস্তানের বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আতিফ আসলাম আর গান করছেন না। জনপ্রিয় সাংবাদিক ও কলামিষ্ট হামিদ মীর এক সাক্ষাৎকারে আতিফ আসলামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, শোন যাচ্ছে আপনি আর মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে থাকছেন না? জবাবে আতিফ বললেন, বিষয়টি একান্তই আমার ব্যক্তিগত।

তবে আমি এই অস্থায়ী বিশ্বে বেঁচে থাকাকালীন ধার্মিক হয়ে বেঁচে থাকতে চাই। সঙ্গীতটা একেবারেই ছেড়ে দিব বিষয়টা এমন নয়, তাজেদারে হারাম ও আল্লাহ ৯৯ নামের সঙ্গীতধর্মী কাজগুলো হয়তো বেশি করবো সামনে।

আতিফ আরো জানান, সঙ্গীত মানুষকে খুব প্রভাবিত করে সুতরাং আমার গান দ্বারা মানুষ ভালোর দিকে প্রভাবিত হোক আমি এমনটা চাই। সম্প্রতি তাজেদারে হারাম, আজান ও আল্লাহর ৯৯ নাম নিয়ে সঙ্গীত করে বিশ্বব্যাপি ভালো সাড়া পেয়েছে ন আতিফ আসলাম। ভাবা হচ্ছে, নতুন ধরনের এই ধর্মীয় সাড়া বর্তমান সিন্ধান্ত গ্রহণের নেপথ্যে ভূমিকা পালন করছে।

আজানের সুমধুর ধ্বনি আমাকে ইসলামের পথ দেখিয়েছে : অ্যালান রুনি

জীবনে কখনো কোনো মুসলিমের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়নি স্কটল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দা শ্বেতাঙ্গ অ্যালান রুনির।

কিন্তু হঠাৎ একদিন তার কানে ভেসে এলো আজানের সুমধুর ধ্বনি। এটা তাকে বিমোহিত করে। এরপর তিনি পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন শুরু করেন। অবশেষে তিনি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

তার ইসলাম গ্রহণের কাহিনী নিয়ে ব্রিটেনের ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকায় এক নিবন্ধ লিখেছেন রুনি।

আসুন তার বয়ানেই শুনি সেই মনোমুগ্ধকর কাহিনী:

‘তুরস্ক ভ্রমণকালে আমি একটি সৈকতে ছিলাম। সে সময় স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে। আমি এটা শুনলাম এবং নিজের ভেতরে নতুন কিছু অনুভব করতে লাগলাম। এটা আমাকের আধ্যাত্মিকতার সন্ধান করতে অনুপ্রাণিত করলো।

দেশে ফিরে আমি স্থানীয় একটি লাইব্রেরিতে গিয়ে পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন শুরু করলাম। অধ্যয়ন করার সময় আমি ঈশ্বরকে বলতাম আমি যে যাত্রা শুরু করেছি তাতে তোমার পথনির্দেশনা চাই।

কোরআন অধ্যয়নের সময় আমি বহুবার প্রার্থনা করেছি।

পবিত্র কোরআন আমাকে বিমোহিত করে। এটা বিস্ময়কর একটি গ্রন্থ যেখানে আমি দেখতে পাই যে আমাদের নিজের সম্পর্কে অনেক কথা বলা হয়েছে যা আমার মধ্যে নেই। আমি নিজেকে কিছুটা বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেই।

আমি জানতাম আমি যে কোনো সময় কোরআন অধ্যয়ন শেষ বন্ধ করে দিয়ে এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি টানতে পারি। কিন্তু আমি জানতাম এটা করা হলে তা হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেড়ে যাওয়া।

এবং আমি জানতাম যে এই প্রক্রিয়ার শেষ হলো আমি একজন মুসলিম হবো। কাজেই আমি অধ্যয়ন অব্যাহত রাখলাম। আমি তিনবার কোরআন অধ্যয়ন করলাম। আমি প্রতিটি বিষয়ে স্বস্তি অনুভব করলাম।

আমি অনলাইনে খোঁজাখুঁজি করে সময় কাটাতে লাগলাম যাতে আমার মত কারো অভিজ্ঞতা হয়েছে কিনা তা জানা। কিন্তু দেখলাম ইসলামের পথে প্রত্যেকের যাত্রাই অতুলনীয়।

এই প্রক্রিয়ায় আমার ১৮ মাস সময় লাগলো। কারো এর চেয়ে বেশি সময় লাগে, কারো লাগে কম সময়। তবে আমি এটা নিজেই করলাম, কারো সহায়তা ছাড়াই। তখন পর্যন্ত আমি কোনো মুসলিমের সাথে সাক্ষাৎ করিনি।

১৮ মাস পরে আমি নিজেকে মুসলিম হিসেবে ভাবতে লাগলাম। আমি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি, রোজা রাখি এবং কোরআনের নির্দেশ অনুসারে পানাহার করি।

পরে আমি দেখতে পাই আমার শহরে ছোট একটি মসজিদ আছে। আমি নিজেই সেখানে গেলাম, দরজায় কড়া নাড়লাম এবং নিজের পরিচয় দিলাম।

তারা প্রথমে আমাকে দেখে বিস্মিত হলো এবং আমাকে তাদের সম্প্রদায়ে স্বাগত জানালো। শুরু থেকেই তারা আমাকে গ্রহণ করলো এবং এখন আমি এই সম্প্রদায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অবশ্যই, আমার এখনো অনেক কিছু শেখার আছে।

পবিত্র কোরআনের শিক্ষা মানলে আপনি নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখতে পারবেন।

আমি এখন একজন শ্বেতাঙ্গ, মধ্যবয়সী স্কটিশ মুসলিম এবং এটা নিয়ে আমি সুখী।’