জামায়াত আমীরকে ‘মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা’ দিলেন এমপি উম্মে ফাতেমা নাজমা

বীর মুক্তিযোদ্ধা গণসংবর্ধনা’ পেয়েছেন জামায়াতের এক আমীর। আর এই সংবর্ধনার আয়োজক হলেন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি ইউপি চেয়ারম্যান। যিনি পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এছাড়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারী সংসদ সদস্য।

গত শনিবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে জামায়াতের আমীর তাজুল ইসলামকে ‘মুক্তিযোদ্ধা গণসংবর্ধনা’ দেওয়া হয়। তিনি একজন হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক আর শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারী সংসদ সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের উম্মে ফাতেমা নাজমা আক্তার (শিউলী আজাদ)। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, জামায়াতের ওই আমীরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তরুণ শিল্পপতি মো. বিল্লাল ভূঁইয়া।

এতে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্য করেন- ডা. ফয়েজ আহমদ ফুল মিয়া, এ.কে.এম ছাদির, মো. ছানাউল্লাহ, তাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান হাফ মিয়া, ইউপি সদস্য মো. ইকবাল হোসেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি মোজ্জামেল হক তপন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক রায় ভৌমিক, আশুগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সদস্য মো. সাজিদুল ইসলাম সাচ্চু মাস্টার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতার সঙ্গে শরীফপুর ইউনিয়নের অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াতদের পরিবারের হাতে ক্রেস্ট এবং ফুলেল শুভেচ্ছা দেওয়া হয়।

জানা যায়, এই ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ৭৪ জনের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৪৩ জন।

স্থানীয়রা জানান, সংবর্ধনার আয়োজক শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন চৌধুরী বেশ কয়েক বছর আগে বঙ্গবন্ধুর ছবি প্রকাশ্যে ছেঁড়ার অপরাধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি হয়েছিলেন। ওই মামলা থেকে বাঁচতে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

শরীফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ শরীফ হোসেন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক জামায়াত নেতাকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার ঘটনা নিন্দনীয়। এ ঘটনায় সর্বত্র সমালোচনা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের ব্যাপারে চেয়ারম্যান আমাদেরকে কিছু বলেননি। জনগণের তেমন কোন সম্পৃক্ততা ছিল না অনুষ্ঠানে। সেখানে তার পরিষদের কিছু সদস্য ও নিজেদের লোক নিয়েই অনুষ্ঠানটি করেছেন। আর এমপি শিউলি আজাদ এখানে এসেছেন, তিনিও আমাদের কিছু জানাননি। জনপ্রতিনিধিদের আচরণ এমন হওয়া উচিৎ নয়।

শরীফপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা ফাইজুর রহমান তার ফেসবুকে ঘটনার সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক জামায়াতের আমিরকে সংবর্ধনা। উনি (চেয়ারম্যান) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হয়। পরে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে মামলা শেষ করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফ উদ্দিন চৌধুরী জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার আয়োজন করে ইউনিয়ন পরিষদ। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি ও মুক্তিযোদ্ধাদের দাওয়াত দিয়েছেন ইউনিয়ন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফয়েজ আহমেদ। এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসার জন্য অনুরোধ জানালে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নারী সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা আক্তার (শিউলী আজাদ) অংশ গ্রহণ করেন।

তথ্যসূত্রঃ ইত্তেফাক

ইসলামের জন্য গান-বাজনা ছেড়ে দিবেন জনপ্রিয় শিল্পী আতিফ আসলাম

সঙ্গীত পাড়ার সবচেয়ে আলোচিত টপিক এখন, পাকিস্তানের বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আতিফ আসলাম আর গান করছেন না। জনপ্রিয় সাংবাদিক ও কলামিষ্ট হামিদ মীর এক সাক্ষাৎকারে আতিফ আসলামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, শোন যাচ্ছে আপনি আর মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে থাকছেন না? জবাবে আতিফ বললেন, বিষয়টি একান্তই আমার ব্যক্তিগত।

তবে আমি এই অস্থায়ী বিশ্বে বেঁচে থাকাকালীন ধার্মিক হয়ে বেঁচে থাকতে চাই। সঙ্গীতটা একেবারেই ছেড়ে দিব বিষয়টা এমন নয়, তাজেদারে হারাম ও আল্লাহ ৯৯ নামের সঙ্গীতধর্মী কাজগুলো হয়তো বেশি করবো সামনে।

আতিফ আরো জানান, সঙ্গীত মানুষকে খুব প্রভাবিত করে সুতরাং আমার গান দ্বারা মানুষ ভালোর দিকে প্রভাবিত হোক আমি এমনটা চাই। সম্প্রতি তাজেদারে হারাম, আজান ও আল্লাহর ৯৯ নাম নিয়ে সঙ্গীত করে বিশ্বব্যাপি ভালো সাড়া পেয়েছে ন আতিফ আসলাম। ভাবা হচ্ছে, নতুন ধরনের এই ধর্মীয় সাড়া বর্তমান সিন্ধান্ত গ্রহণের নেপথ্যে ভূমিকা পালন করছে।

আজানের সুমধুর ধ্বনি আমাকে ইসলামের পথ দেখিয়েছে : অ্যালান রুনি

জীবনে কখনো কোনো মুসলিমের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়নি স্কটল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দা শ্বেতাঙ্গ অ্যালান রুনির।

কিন্তু হঠাৎ একদিন তার কানে ভেসে এলো আজানের সুমধুর ধ্বনি। এটা তাকে বিমোহিত করে। এরপর তিনি পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন শুরু করেন। অবশেষে তিনি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

তার ইসলাম গ্রহণের কাহিনী নিয়ে ব্রিটেনের ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকায় এক নিবন্ধ লিখেছেন রুনি।

আসুন তার বয়ানেই শুনি সেই মনোমুগ্ধকর কাহিনী:

‘তুরস্ক ভ্রমণকালে আমি একটি সৈকতে ছিলাম। সে সময় স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে। আমি এটা শুনলাম এবং নিজের ভেতরে নতুন কিছু অনুভব করতে লাগলাম। এটা আমাকের আধ্যাত্মিকতার সন্ধান করতে অনুপ্রাণিত করলো।

দেশে ফিরে আমি স্থানীয় একটি লাইব্রেরিতে গিয়ে পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন শুরু করলাম। অধ্যয়ন করার সময় আমি ঈশ্বরকে বলতাম আমি যে যাত্রা শুরু করেছি তাতে তোমার পথনির্দেশনা চাই।

কোরআন অধ্যয়নের সময় আমি বহুবার প্রার্থনা করেছি।

পবিত্র কোরআন আমাকে বিমোহিত করে। এটা বিস্ময়কর একটি গ্রন্থ যেখানে আমি দেখতে পাই যে আমাদের নিজের সম্পর্কে অনেক কথা বলা হয়েছে যা আমার মধ্যে নেই। আমি নিজেকে কিছুটা বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেই।

আমি জানতাম আমি যে কোনো সময় কোরআন অধ্যয়ন শেষ বন্ধ করে দিয়ে এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি টানতে পারি। কিন্তু আমি জানতাম এটা করা হলে তা হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেড়ে যাওয়া।

এবং আমি জানতাম যে এই প্রক্রিয়ার শেষ হলো আমি একজন মুসলিম হবো। কাজেই আমি অধ্যয়ন অব্যাহত রাখলাম। আমি তিনবার কোরআন অধ্যয়ন করলাম। আমি প্রতিটি বিষয়ে স্বস্তি অনুভব করলাম।

আমি অনলাইনে খোঁজাখুঁজি করে সময় কাটাতে লাগলাম যাতে আমার মত কারো অভিজ্ঞতা হয়েছে কিনা তা জানা। কিন্তু দেখলাম ইসলামের পথে প্রত্যেকের যাত্রাই অতুলনীয়।

এই প্রক্রিয়ায় আমার ১৮ মাস সময় লাগলো। কারো এর চেয়ে বেশি সময় লাগে, কারো লাগে কম সময়। তবে আমি এটা নিজেই করলাম, কারো সহায়তা ছাড়াই। তখন পর্যন্ত আমি কোনো মুসলিমের সাথে সাক্ষাৎ করিনি।

১৮ মাস পরে আমি নিজেকে মুসলিম হিসেবে ভাবতে লাগলাম। আমি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি, রোজা রাখি এবং কোরআনের নির্দেশ অনুসারে পানাহার করি।

পরে আমি দেখতে পাই আমার শহরে ছোট একটি মসজিদ আছে। আমি নিজেই সেখানে গেলাম, দরজায় কড়া নাড়লাম এবং নিজের পরিচয় দিলাম।

তারা প্রথমে আমাকে দেখে বিস্মিত হলো এবং আমাকে তাদের সম্প্রদায়ে স্বাগত জানালো। শুরু থেকেই তারা আমাকে গ্রহণ করলো এবং এখন আমি এই সম্প্রদায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অবশ্যই, আমার এখনো অনেক কিছু শেখার আছে।

পবিত্র কোরআনের শিক্ষা মানলে আপনি নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখতে পারবেন।

আমি এখন একজন শ্বেতাঙ্গ, মধ্যবয়সী স্কটিশ মুসলিম এবং এটা নিয়ে আমি সুখী।’