ইউটিউবে ২৫৪ কোটি টাকা আয় ৯ বছরের রায়ান কাজির

ইউটিউব থেকে তার উপার্জন বিশ্বে সর্বাধিক। বয়স মাত্র ৯ বছর। তার উপার্জন শুনলে আরো অবাক বনে যাবেন। বছরে ৩০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ২৫৪ কোটি টাকা। ভাবা যায়! তবে ভাবতে না পারলেও এটাই সত্যি। মাত্র এই টুকু বয়সেই নিজের ইউটিউব চ্যানেলে পেয়ে গিয়েছে ১২ বিলিয়নের বেশি ভিউ এবং ২৭ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার।

৯ বছরের রায়ান কাজি থাকে টেক্সাসে। খেলনা আনবক্সিং বা কোনো খেলনার রিভিউ, ছোটদের জন্য নানা সায়েন্সের এক্সপেরিমেন্ট, এসবই তার ইউটিউব ভিডিও’র বিষয়।

আমেরিকার বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উপার্জন করা ইউটিউবার হিসেবে নিজেকে পরিচিত করেছে রায়ান।

রায়ানকে এখন বলা হচ্ছে, চাইল্ড ইনফ্লুয়েন্সার। ২০১৫ সালে শুরু হয় তার ইউটিউব জার্নি। অন্যান্য টয় রিভিউ চ্যানেল দেখে সে শুরু করে নিজের ভিডিও বানানো। মা-কে জিজ্ঞাসা করেছিল, “অন্য বাচ্চারা ইউটিউবে আছে, তাহলে আমি কেন নেই?” তখন সে মাত্র তিন বছরের। এরপর থেকেই চলছে তার ভিডিও-মেকিং।

এই পাঁচ বছরে সে যা উপার্জন করেছে, তা দিয়ে বানাতে পারে তার নিজের একটি বড়সড় টয় কোম্পানি। বেশির ভাগ ভিডিওতেই দেখা যায়, লেগোস, ট্রেন এবং নানা রকমের গাড়ি আনবক্সিং করছে ছোট্ট রায়ান। এছাড়াও ছোটদের জন্য ডিআইওয়াই প্রজেক্ট এবং বিজ্ঞানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা খুব সুন্দর ভাবে প্রেজেন্ট করে এই শিশু।

তার ভিডিওগুলোর মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘হিউজ এগস সারপ্রাইজ টয় চ্যালেঞ্জ’। দুই বিলিয়ন ভিউ হয়েছে তার এই ভিডিওতে। শুধু তাই নয়, ইউটিউবের সব থেকে বেশি ভিউ পাওয়া প্রথম ৬০টি ভিডিও’র মধ্যে এটি একটি।

জানা গেছে, রায়ান এবং তার বাবা-মা নাকি মোট ৯টি ইউটিউব চ্যানেল চালান, যার প্রত্যেকটিই বেশ ভালো ভিউ পায়। তবে আমেরিকার ফেডারেল ট্রেড কমিশন, তদন্ত করে এই অভিযোগ এনেছে যে রায়ানদের চ্যানেলগুলোর স্পনসর কারা, সে বিষয়ে নাকি সঠিকভাবে কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্র : নিউজ ১৮

ইসলামের জন্য গান-বাজনা ছেড়ে দিবেন জনপ্রিয় শিল্পী আতিফ আসলাম

সঙ্গীত পাড়ার সবচেয়ে আলোচিত টপিক এখন, পাকিস্তানের বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আতিফ আসলাম আর গান করছেন না। জনপ্রিয় সাংবাদিক ও কলামিষ্ট হামিদ মীর এক সাক্ষাৎকারে আতিফ আসলামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, শোন যাচ্ছে আপনি আর মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে থাকছেন না? জবাবে আতিফ বললেন, বিষয়টি একান্তই আমার ব্যক্তিগত।

তবে আমি এই অস্থায়ী বিশ্বে বেঁচে থাকাকালীন ধার্মিক হয়ে বেঁচে থাকতে চাই। সঙ্গীতটা একেবারেই ছেড়ে দিব বিষয়টা এমন নয়, তাজেদারে হারাম ও আল্লাহ ৯৯ নামের সঙ্গীতধর্মী কাজগুলো হয়তো বেশি করবো সামনে।

আতিফ আরো জানান, সঙ্গীত মানুষকে খুব প্রভাবিত করে সুতরাং আমার গান দ্বারা মানুষ ভালোর দিকে প্রভাবিত হোক আমি এমনটা চাই। সম্প্রতি তাজেদারে হারাম, আজান ও আল্লাহর ৯৯ নাম নিয়ে সঙ্গীত করে বিশ্বব্যাপি ভালো সাড়া পেয়েছে ন আতিফ আসলাম। ভাবা হচ্ছে, নতুন ধরনের এই ধর্মীয় সাড়া বর্তমান সিন্ধান্ত গ্রহণের নেপথ্যে ভূমিকা পালন করছে।

আজানের সুমধুর ধ্বনি আমাকে ইসলামের পথ দেখিয়েছে : অ্যালান রুনি

জীবনে কখনো কোনো মুসলিমের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়নি স্কটল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দা শ্বেতাঙ্গ অ্যালান রুনির।

কিন্তু হঠাৎ একদিন তার কানে ভেসে এলো আজানের সুমধুর ধ্বনি। এটা তাকে বিমোহিত করে। এরপর তিনি পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন শুরু করেন। অবশেষে তিনি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

তার ইসলাম গ্রহণের কাহিনী নিয়ে ব্রিটেনের ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকায় এক নিবন্ধ লিখেছেন রুনি।

আসুন তার বয়ানেই শুনি সেই মনোমুগ্ধকর কাহিনী:

‘তুরস্ক ভ্রমণকালে আমি একটি সৈকতে ছিলাম। সে সময় স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে। আমি এটা শুনলাম এবং নিজের ভেতরে নতুন কিছু অনুভব করতে লাগলাম। এটা আমাকের আধ্যাত্মিকতার সন্ধান করতে অনুপ্রাণিত করলো।

দেশে ফিরে আমি স্থানীয় একটি লাইব্রেরিতে গিয়ে পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন শুরু করলাম। অধ্যয়ন করার সময় আমি ঈশ্বরকে বলতাম আমি যে যাত্রা শুরু করেছি তাতে তোমার পথনির্দেশনা চাই।

কোরআন অধ্যয়নের সময় আমি বহুবার প্রার্থনা করেছি।

পবিত্র কোরআন আমাকে বিমোহিত করে। এটা বিস্ময়কর একটি গ্রন্থ যেখানে আমি দেখতে পাই যে আমাদের নিজের সম্পর্কে অনেক কথা বলা হয়েছে যা আমার মধ্যে নেই। আমি নিজেকে কিছুটা বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেই।

আমি জানতাম আমি যে কোনো সময় কোরআন অধ্যয়ন শেষ বন্ধ করে দিয়ে এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি টানতে পারি। কিন্তু আমি জানতাম এটা করা হলে তা হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেড়ে যাওয়া।

এবং আমি জানতাম যে এই প্রক্রিয়ার শেষ হলো আমি একজন মুসলিম হবো। কাজেই আমি অধ্যয়ন অব্যাহত রাখলাম। আমি তিনবার কোরআন অধ্যয়ন করলাম। আমি প্রতিটি বিষয়ে স্বস্তি অনুভব করলাম।

আমি অনলাইনে খোঁজাখুঁজি করে সময় কাটাতে লাগলাম যাতে আমার মত কারো অভিজ্ঞতা হয়েছে কিনা তা জানা। কিন্তু দেখলাম ইসলামের পথে প্রত্যেকের যাত্রাই অতুলনীয়।

এই প্রক্রিয়ায় আমার ১৮ মাস সময় লাগলো। কারো এর চেয়ে বেশি সময় লাগে, কারো লাগে কম সময়। তবে আমি এটা নিজেই করলাম, কারো সহায়তা ছাড়াই। তখন পর্যন্ত আমি কোনো মুসলিমের সাথে সাক্ষাৎ করিনি।

১৮ মাস পরে আমি নিজেকে মুসলিম হিসেবে ভাবতে লাগলাম। আমি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি, রোজা রাখি এবং কোরআনের নির্দেশ অনুসারে পানাহার করি।

পরে আমি দেখতে পাই আমার শহরে ছোট একটি মসজিদ আছে। আমি নিজেই সেখানে গেলাম, দরজায় কড়া নাড়লাম এবং নিজের পরিচয় দিলাম।

তারা প্রথমে আমাকে দেখে বিস্মিত হলো এবং আমাকে তাদের সম্প্রদায়ে স্বাগত জানালো। শুরু থেকেই তারা আমাকে গ্রহণ করলো এবং এখন আমি এই সম্প্রদায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অবশ্যই, আমার এখনো অনেক কিছু শেখার আছে।

পবিত্র কোরআনের শিক্ষা মানলে আপনি নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখতে পারবেন।

আমি এখন একজন শ্বেতাঙ্গ, মধ্যবয়সী স্কটিশ মুসলিম এবং এটা নিয়ে আমি সুখী।’