আমাদের মুসলিম ভাই রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে তুরস্ক!

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে তুরস্ক বাংলাদেশ সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রী মেভলুত কাভুসৌগলু। বাংলাদেশে আশ্রয়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরাতে নিজ দেশের সমর্থনের কথা তুলে ধরেন তিনি।

বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসৌগলু।

দেড় ঘণ্টাব্যপী বৈঠকে তারা বাংলাদেশ-তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন। বৈঠকে শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরেন কাভুসৌগলু।

বিশ্বের অন্যতম শরণার্থী শিবির এখন কক্সবাজারের উখিয়ায়। দীর্ঘ তিন বছরেও নিজ দেশে ফিরিয়ে না নেওয়ায় এখন বাংলাদেশের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। বাংলাদেশ সরকার বারবার তাগিদ দিয়ে আসলেও এ নিয়ে টালবাহানা করছে মিয়ানমারের সূ চি সরকার।

মিয়ানমারের নয় ছয়ের জন্য বিশ্বের কাছে সহযোগিতা চেয়ে আসছে ঢাকা। এর মধ্যেই বাংলাদেশ সরকারকে আশার কথা শোনাল তুরস্ক। রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভুসৌগলু বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরা উচিত বিষয়টি অনুধাবন করছে আঙ্কারা।

সব রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে প্রতিটি স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাব। কিন্তু অগ্রগতির জন্য মিয়ানমারের সরকারের সঙ্গেও আমাদের জোরালভাবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া দরকার।’

জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত মানুষ হিসেবে বর্ণিত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়। দেশটিতে ২০১২ সালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রাণ হারান অনেকে। রাখাইন, শানসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের মুখে জীবন বাঁচিয়ে পালিয়ে ২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। বিভিন্ন সময় সীমান্তে পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আ্যমনেস্টি। টেকনাফ এবং উখিয়ায় ৩০টির বেশি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়ে আছেন তারা।

অনটারিও ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট এজেন্সির (ওআইডিএ) তথ্য মতে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত ২৪ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে। আগুনে নিক্ষেপ করা হয় ৩৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে।

এই গোষ্ঠীটির এক লাখ ১৪ হাজারে মতো মানুষের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। একই সময়ে ১৮ নারীকে ধর্ষণ করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশ। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় এক লাখ ১৫ হাজার ঘরবাড়ি।

ইসলামের জন্য গান-বাজনা ছেড়ে দিবেন জনপ্রিয় শিল্পী আতিফ আসলাম

সঙ্গীত পাড়ার সবচেয়ে আলোচিত টপিক এখন, পাকিস্তানের বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আতিফ আসলাম আর গান করছেন না। জনপ্রিয় সাংবাদিক ও কলামিষ্ট হামিদ মীর এক সাক্ষাৎকারে আতিফ আসলামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, শোন যাচ্ছে আপনি আর মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে থাকছেন না? জবাবে আতিফ বললেন, বিষয়টি একান্তই আমার ব্যক্তিগত।

তবে আমি এই অস্থায়ী বিশ্বে বেঁচে থাকাকালীন ধার্মিক হয়ে বেঁচে থাকতে চাই। সঙ্গীতটা একেবারেই ছেড়ে দিব বিষয়টা এমন নয়, তাজেদারে হারাম ও আল্লাহ ৯৯ নামের সঙ্গীতধর্মী কাজগুলো হয়তো বেশি করবো সামনে।

আতিফ আরো জানান, সঙ্গীত মানুষকে খুব প্রভাবিত করে সুতরাং আমার গান দ্বারা মানুষ ভালোর দিকে প্রভাবিত হোক আমি এমনটা চাই। সম্প্রতি তাজেদারে হারাম, আজান ও আল্লাহর ৯৯ নাম নিয়ে সঙ্গীত করে বিশ্বব্যাপি ভালো সাড়া পেয়েছে ন আতিফ আসলাম। ভাবা হচ্ছে, নতুন ধরনের এই ধর্মীয় সাড়া বর্তমান সিন্ধান্ত গ্রহণের নেপথ্যে ভূমিকা পালন করছে।

বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ জাপানী তরুণীর

একসময় হতাশায় ছিলাম। ভাবতাম জীবন মানে পড়াশুনা, কাজ, বিয়ে এবং সংসার। কিন্তু মুসলিম হওয়ার পর জীবনের মর্ম বুঝেছি। আল্লাহর এবাদতের জন্য এখন আমার এ জীবন। এই কথা গুলো বলেছেন জাপানি এক তরুণী যিনি বৌদ্ধ ধর্মানুসারী ছিলেন পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

জাপানি ওই তরুণীর নাম নুর আরিসা মরিয়ম। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তবে শিশুকাল থেকে বেড়ে উঠেছেন টোকিওতে।

ইসলাম গ্রহণের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, টোকিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার মেজর বিষয় ছিল মালেশিয়ান স্টাডিজ। এবং এতে একটি লেকচারে একজন হিজাবি মুসলিম নারীর বিষয় পড়ানো হয়।এসময় আমি ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারি এরপর অনেক মুসলিমদের সঙ্গে আমি দেখা করি এবং একপর্যায়ে আবিষ্কার করি শান্তির জন্য ধর্ম হল ইসলাম।

আরিসার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিসয়টি ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি তার মা। তবে একপর্যায়ে তিনি তা মেনে নেন। আরিসা বলেন, আমি জানি আমার জীবনে এখনও অনেক সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ আছে। কিন্তু এসব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ আল্লাহর দেয়া পরীক্ষা।

আজানের সুমধুর ধ্বনি আমাকে ইসলামের পথ দেখিয়েছে : অ্যালান রুনি

জীবনে কখনো কোনো মুসলিমের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়নি স্কটল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দা শ্বেতাঙ্গ অ্যালান রুনির।

কিন্তু হঠাৎ একদিন তার কানে ভেসে এলো আজানের সুমধুর ধ্বনি। এটা তাকে বিমোহিত করে। এরপর তিনি পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন শুরু করেন। অবশেষে তিনি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

তার ইসলাম গ্রহণের কাহিনী নিয়ে ব্রিটেনের ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকায় এক নিবন্ধ লিখেছেন রুনি।

আসুন তার বয়ানেই শুনি সেই মনোমুগ্ধকর কাহিনী:

‘তুরস্ক ভ্রমণকালে আমি একটি সৈকতে ছিলাম। সে সময় স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে। আমি এটা শুনলাম এবং নিজের ভেতরে নতুন কিছু অনুভব করতে লাগলাম। এটা আমাকের আধ্যাত্মিকতার সন্ধান করতে অনুপ্রাণিত করলো।

দেশে ফিরে আমি স্থানীয় একটি লাইব্রেরিতে গিয়ে পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন শুরু করলাম। অধ্যয়ন করার সময় আমি ঈশ্বরকে বলতাম আমি যে যাত্রা শুরু করেছি তাতে তোমার পথনির্দেশনা চাই।

কোরআন অধ্যয়নের সময় আমি বহুবার প্রার্থনা করেছি।

পবিত্র কোরআন আমাকে বিমোহিত করে। এটা বিস্ময়কর একটি গ্রন্থ যেখানে আমি দেখতে পাই যে আমাদের নিজের সম্পর্কে অনেক কথা বলা হয়েছে যা আমার মধ্যে নেই। আমি নিজেকে কিছুটা বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেই।

আমি জানতাম আমি যে কোনো সময় কোরআন অধ্যয়ন শেষ বন্ধ করে দিয়ে এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি টানতে পারি। কিন্তু আমি জানতাম এটা করা হলে তা হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেড়ে যাওয়া।

এবং আমি জানতাম যে এই প্রক্রিয়ার শেষ হলো আমি একজন মুসলিম হবো। কাজেই আমি অধ্যয়ন অব্যাহত রাখলাম। আমি তিনবার কোরআন অধ্যয়ন করলাম। আমি প্রতিটি বিষয়ে স্বস্তি অনুভব করলাম।

আমি অনলাইনে খোঁজাখুঁজি করে সময় কাটাতে লাগলাম যাতে আমার মত কারো অভিজ্ঞতা হয়েছে কিনা তা জানা। কিন্তু দেখলাম ইসলামের পথে প্রত্যেকের যাত্রাই অতুলনীয়।

এই প্রক্রিয়ায় আমার ১৮ মাস সময় লাগলো। কারো এর চেয়ে বেশি সময় লাগে, কারো লাগে কম সময়। তবে আমি এটা নিজেই করলাম, কারো সহায়তা ছাড়াই। তখন পর্যন্ত আমি কোনো মুসলিমের সাথে সাক্ষাৎ করিনি।

১৮ মাস পরে আমি নিজেকে মুসলিম হিসেবে ভাবতে লাগলাম। আমি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি, রোজা রাখি এবং কোরআনের নির্দেশ অনুসারে পানাহার করি।

পরে আমি দেখতে পাই আমার শহরে ছোট একটি মসজিদ আছে। আমি নিজেই সেখানে গেলাম, দরজায় কড়া নাড়লাম এবং নিজের পরিচয় দিলাম।

তারা প্রথমে আমাকে দেখে বিস্মিত হলো এবং আমাকে তাদের সম্প্রদায়ে স্বাগত জানালো। শুরু থেকেই তারা আমাকে গ্রহণ করলো এবং এখন আমি এই সম্প্রদায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অবশ্যই, আমার এখনো অনেক কিছু শেখার আছে।

পবিত্র কোরআনের শিক্ষা মানলে আপনি নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখতে পারবেন।

আমি এখন একজন শ্বেতাঙ্গ, মধ্যবয়সী স্কটিশ মুসলিম এবং এটা নিয়ে আমি সুখী।’