নিরপরাধ মুসলমানদের ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আইনি লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা

দিল্লির দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফ’তার নিরপরাধ মুসলমানদের ন্যায়’বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আইনি লড়াই অব্যা’হত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হি’ন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি।

বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, নিম্নআদালত ও দিল্লি হাইকোর্ট মোট ৩০ জনকে জামিন দিয়েছেন এবং কারাগার থেকে নিরপরাধীদের মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে একজন অভি’যুক্তকে কারাগার থেকে মু’ক্তিও দেয়া হয়েছে।

দিল্লির দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক আরও ২৪ জনের জামিনের জন্য কাজ করছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি শ্রীশ কেটের বেঞ্চ, আ’সামি রেহান পারধনের জামিন মঞ্জুর করেছেন। এ ছাড়া আরশাদ কাইয়ুম, ইরশাদ আহমেদ, মোহাম্মদ রেহান, রিয়াসত আলী, শাহ আলম, রশিদ সাইফী ও জুবায়ের আহমেদকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয়া হয়েছে।

দিল্লি হাইকোর্ট এবং নিম্নআদালত ২৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত জামানতে অভিযু’ক্তদের জামিন দেন। যদিও পাবলিক প্রসিকিউটর অভি’যুক্তদের জামিনে মুক্তি দেয়ার বিরোধিতা করেছিলেন।

তিনি আদালতকে বলেছিলেন যে, আসামিদের জামিনে মুক্তি শান্তি বি’ঘ্নি’ত করতে পারে। তবে আদালত আসামিদের আইনজীবীদের যুক্তির সঙ্গে একমত হয়ে অভি’যুক্তদের জামিন মঞ্জুর করেন।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পক্ষে অ্যাডভোকেট জহির-উদ-দ্বার বাবর চৌহান ও তার সহকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট দীনেশ আদালতকে বলেছিলেন যে, এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিট দায়ের করা হয়েছে।

অথচ এসব অভিযোগ প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণিত নয়। সুতরাং তাদের জামিনে মুক্তি দেয়া উচিত। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিপজ্জ’নক অ’স্ত্র নিয়ে দাঙ্গা, উত্তেজনাপূর্ণ পদার্থের সাহায্যে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা অগ্নিসংযোগ, অবৈধ জমায়েত দেখিয়ে মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ।

এদিকে এ মামলায় বিনা অপরাধে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন অনেক মুসলিম। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের মাধ্যমে দিল্লি হাইকোর্ট ও দায়রা আদালত এ পর্যন্ত ৩০টি জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছে।

প্রসঙ্গত দিল্লির দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রে’ফতার কয়েকশ মুসলমানের পক্ষে লড়াই করছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।
সংগঠনটির সভাপতি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তিনি বলেছেন, নিরপরাধীদের প্রতি ন্যায়বিচার না করা পর্যন্ত আমাদের আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি ইনসানিয়াত উর্দূ অবলম্বনে- মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ