ছয় বছর আগে মারা যাওয়া মেয়ের সঙ্গে কথা বললেন মা

১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০ প্রযুক্তির সাহায্যে মৃ’ত মেয়ের সঙ্গে কথা বললেন মা , প্রযুক্তির সহায়তায় ছয় বছর আগে মৃ’ত মেয়ের সঙ্গে মায়ের সাক্ষাতের আয়োজন করেছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা। ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০ তে আয়োজন করা মৃ’ত মেয়ে ও মায়ের কথোপকথন এবং আদরের হৃদয়বিদারক একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে অনলাইনে।

– খবর আরব নিউজের

আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে লিউকোমিয়ায় মা’রা যাওয়া ছোট্ট শিশু না-ইয়নকে প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তবতায় মায়ের সামনে আনা হয়। সেখানে মা ঝাং-জি-সাং মেয়ের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি আদর করেন। এ সময় মৃ’ত মেয়েকে পেয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন মা ও তার সাথে মনের কথা বলেন ও মেয়েও তার প্রতিটা কথার উত্তর দিচ্ছেন ও মায়ের সাথে মাঠে হাটা হাটি করছেন মেয়ে একসাথে টেবলে বসে গল্প করছেন মেয়ে মার সাথে।

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি টেলিভিশনে এ ভার্চুয়াল রিয়েলিটির এই স্প’র্শ কাতর ভিডিও প্রচার করে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গ্রিন স্ক্রিন কক্ষে মা ঝাং-জি ভিআর বক্স ও গ্লাভস পরে মেয়েকে ডাকছেন। এ সময় ভার্চুয়ালি মা দেখতে পান, তার ডাক শুনে মৃ’ত মেয়ে কয়েকটি পাথরের টুকরোর পাশ থেকে দৌড়ে আসে। এ সময় মেয়ে বলে, মা, তুমি কোথায় ছিলে? তোমাকে আমার খুব মনে পড়ে। আমাকে তোমার মনে পড়ে?’ এমন প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগেই বাস্তবে কেঁদে ফেলেন মা। প্রতিত্তোরে মা বলেন, তোমাকে আমার খুব মনে পড়ে। ওই সময় মেয়েকে ছুঁয়ে আদর করেন ওই মা। এমন হৃদয়’বিদারক দৃশ্য দেখে উপস্থিত প্রযুক্তিবিদরাও কেঁদে ফেলেন।

প্রযুক্তিবিদরা জানিয়েছেন, প্রথমে না-ইয়ানের ছবি নিয়ে এনিমেশন তৈরি করা হয়। পরে সেই এনিমেশনকে ভিআর বক্স ও সেন্সর হ্যান্ড গ্লাভসে সংযুক্ত করা হয়।

তবে ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেকেই এ ধরনের ভার্চুয়াল রিয়ালিটির কড়া সমালোচনা করেছেন। অনেকেই পুরো বিষয়টিকে মানুষের আবেগ নিয়ে প্র’তারণা হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে মনে করেছেন, এতে করে যদি সন্তানহারা এক মা মনে কিছুটা শান্তি পান তাতে দোষ কী?

কোরআন নিজ হাতে লিখে শেষ করলেন ৭৬ বছরের এই বৃদ্ধা

৭৬ বছরের এই বৃদ্ধার পুরো নাম জায়নাব আব্দুল গনি মুহাম্মাদ হুসাইন। মিশরের মিনিয়া প্রদেশের আল-তালিন গ্রামের অধিবাসী তিনি। সাত বছরের কর্মসাধনায় তিনি পবিত্র কোরআন হাতে লিখে এর ৩০টি পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছেন।

জানা গেছে এই বৃদ্ধা মাত্র ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। তবুও জীবনের শে`ষ প্রান্তে এসে নিজ হাতে পবিত্র কোরআনের ৩০টি পাণ্ডুলিপি লিখেছেন তিনি। এমন রেকর্ড আর কারও নেই। এক্ষেত্রে তিনি অনন্যতার পরিচয় দিয়েছেন।

নিজের লিখিত কোরআন হাতে জায়নাব আব্দুল গনিকে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখা যায়। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার পাঁচ ছেলে এবং দুই মেয়ে রয়েছে। আমার পিতা সম্পূর্ণ কোরআনের হাফেজ ছিলেন। তিনি এডুকেশন সেক্টরে কাজ করতেন।

তিনি জানান, আমি প্রায় ৭ বছর পূর্বে এই লেখার কাজ আরম্ভ করি। সম্পূর্ণ কোরআন হেফজ করার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সময়স্বল্পতা ও আনুসাঙ্গিক বিভিন্ন কারণে পরিনি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৬ পারা মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছি। এ জন্য আমার সবসময় খুব দুঃ`খবোধ কাজ করে।

বৃদ্ধা বলেন, কিন্তু আমাদের এলাকার একজন নারী আমাকে পবিত্র কোরআন নিজ হস্তাক্ষরে লেখার জন্য পরামর্শ দেন। তার পরামর্শ আমাকে বেশ অনুপ্রাণিত করে। এরপর থেকে আমি প্রতি রাতে ঘুম থেকে উঠে প্রথম ৬ দিনে এক হাজার আয়াত লিখি।

এতে আমার আগ্রহ বেড়ে যায়। তাই সম্পূর্ণ কোরআন লেখায় মনোনিবেশ করি। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমি মাত্র ২৫ দিনে সম্পূর্ণ কোরআন হাতে লিখে শেষ করতে পেরেছি।

এই বৃদ্ধা জানান, তাঁর সন্তান ঈমান ওমরার যাওয়ার সময় সঙ্গে করে একখণ্ড পাণ্ডুলিপি নিয়ে যাবে। তিনি আশা করছেন, কোরআনের বিশেষজ্ঞরা তার তৈরিকৃত এই পাণ্ডুলিপিটি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করবেন।

ইসলামের জন্য গান-বাজনা ছেড়ে দিবেন জনপ্রিয় শিল্পী আতিফ আসলাম

সঙ্গীত পাড়ার সবচেয়ে আলোচিত টপিক এখন, পাকিস্তানের বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আতিফ আসলাম আর গান করছেন না। জনপ্রিয় সাংবাদিক ও কলামিষ্ট হামিদ মীর এক সাক্ষাৎকারে আতিফ আসলামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, শোন যাচ্ছে আপনি আর মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে থাকছেন না? জবাবে আতিফ বললেন, বিষয়টি একান্তই আমার ব্যক্তিগত।

তবে আমি এই অস্থায়ী বিশ্বে বেঁচে থাকাকালীন ধার্মিক হয়ে বেঁচে থাকতে চাই। সঙ্গীতটা একেবারেই ছেড়ে দিব বিষয়টা এমন নয়, তাজেদারে হারাম ও আল্লাহ ৯৯ নামের সঙ্গীতধর্মী কাজগুলো হয়তো বেশি করবো সামনে।

আতিফ আরো জানান, সঙ্গীত মানুষকে খুব প্রভাবিত করে সুতরাং আমার গান দ্বারা মানুষ ভালোর দিকে প্রভাবিত হোক আমি এমনটা চাই। সম্প্রতি তাজেদারে হারাম, আজান ও আল্লাহর ৯৯ নাম নিয়ে সঙ্গীত করে বিশ্বব্যাপি ভালো সাড়া পেয়েছে ন আতিফ আসলাম। ভাবা হচ্ছে, নতুন ধরনের এই ধর্মীয় সাড়া বর্তমান সিন্ধান্ত গ্রহণের নেপথ্যে ভূমিকা পালন করছে।

বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ জাপানী তরুণীর

একসময় হতাশায় ছিলাম। ভাবতাম জীবন মানে পড়াশুনা, কাজ, বিয়ে এবং সংসার। কিন্তু মুসলিম হওয়ার পর জীবনের মর্ম বুঝেছি। আল্লাহর এবাদতের জন্য এখন আমার এ জীবন। এই কথা গুলো বলেছেন জাপানি এক তরুণী যিনি বৌদ্ধ ধর্মানুসারী ছিলেন পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

জাপানি ওই তরুণীর নাম নুর আরিসা মরিয়ম। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তবে শিশুকাল থেকে বেড়ে উঠেছেন টোকিওতে।

ইসলাম গ্রহণের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, টোকিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার মেজর বিষয় ছিল মালেশিয়ান স্টাডিজ। এবং এতে একটি লেকচারে একজন হিজাবি মুসলিম নারীর বিষয় পড়ানো হয়।এসময় আমি ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারি এরপর অনেক মুসলিমদের সঙ্গে আমি দেখা করি এবং একপর্যায়ে আবিষ্কার করি শান্তির জন্য ধর্ম হল ইসলাম।

আরিসার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিসয়টি ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি তার মা। তবে একপর্যায়ে তিনি তা মেনে নেন। আরিসা বলেন, আমি জানি আমার জীবনে এখনও অনেক সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ আছে। কিন্তু এসব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ আল্লাহর দেয়া পরীক্ষা।

আজানের সুমধুর ধ্বনি আমাকে ইসলামের পথ দেখিয়েছে : অ্যালান রুনি

জীবনে কখনো কোনো মুসলিমের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়নি স্কটল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দা শ্বেতাঙ্গ অ্যালান রুনির।

কিন্তু হঠাৎ একদিন তার কানে ভেসে এলো আজানের সুমধুর ধ্বনি। এটা তাকে বিমোহিত করে। এরপর তিনি পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন শুরু করেন। অবশেষে তিনি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

তার ইসলাম গ্রহণের কাহিনী নিয়ে ব্রিটেনের ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকায় এক নিবন্ধ লিখেছেন রুনি।

আসুন তার বয়ানেই শুনি সেই মনোমুগ্ধকর কাহিনী:

‘তুরস্ক ভ্রমণকালে আমি একটি সৈকতে ছিলাম। সে সময় স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে। আমি এটা শুনলাম এবং নিজের ভেতরে নতুন কিছু অনুভব করতে লাগলাম। এটা আমাকের আধ্যাত্মিকতার সন্ধান করতে অনুপ্রাণিত করলো।

দেশে ফিরে আমি স্থানীয় একটি লাইব্রেরিতে গিয়ে পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন শুরু করলাম। অধ্যয়ন করার সময় আমি ঈশ্বরকে বলতাম আমি যে যাত্রা শুরু করেছি তাতে তোমার পথনির্দেশনা চাই।

কোরআন অধ্যয়নের সময় আমি বহুবার প্রার্থনা করেছি।

পবিত্র কোরআন আমাকে বিমোহিত করে। এটা বিস্ময়কর একটি গ্রন্থ যেখানে আমি দেখতে পাই যে আমাদের নিজের সম্পর্কে অনেক কথা বলা হয়েছে যা আমার মধ্যে নেই। আমি নিজেকে কিছুটা বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেই।

আমি জানতাম আমি যে কোনো সময় কোরআন অধ্যয়ন শেষ বন্ধ করে দিয়ে এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি টানতে পারি। কিন্তু আমি জানতাম এটা করা হলে তা হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেড়ে যাওয়া।

এবং আমি জানতাম যে এই প্রক্রিয়ার শেষ হলো আমি একজন মুসলিম হবো। কাজেই আমি অধ্যয়ন অব্যাহত রাখলাম। আমি তিনবার কোরআন অধ্যয়ন করলাম। আমি প্রতিটি বিষয়ে স্বস্তি অনুভব করলাম।

আমি অনলাইনে খোঁজাখুঁজি করে সময় কাটাতে লাগলাম যাতে আমার মত কারো অভিজ্ঞতা হয়েছে কিনা তা জানা। কিন্তু দেখলাম ইসলামের পথে প্রত্যেকের যাত্রাই অতুলনীয়।

এই প্রক্রিয়ায় আমার ১৮ মাস সময় লাগলো। কারো এর চেয়ে বেশি সময় লাগে, কারো লাগে কম সময়। তবে আমি এটা নিজেই করলাম, কারো সহায়তা ছাড়াই। তখন পর্যন্ত আমি কোনো মুসলিমের সাথে সাক্ষাৎ করিনি।

১৮ মাস পরে আমি নিজেকে মুসলিম হিসেবে ভাবতে লাগলাম। আমি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি, রোজা রাখি এবং কোরআনের নির্দেশ অনুসারে পানাহার করি।

পরে আমি দেখতে পাই আমার শহরে ছোট একটি মসজিদ আছে। আমি নিজেই সেখানে গেলাম, দরজায় কড়া নাড়লাম এবং নিজের পরিচয় দিলাম।

তারা প্রথমে আমাকে দেখে বিস্মিত হলো এবং আমাকে তাদের সম্প্রদায়ে স্বাগত জানালো। শুরু থেকেই তারা আমাকে গ্রহণ করলো এবং এখন আমি এই সম্প্রদায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অবশ্যই, আমার এখনো অনেক কিছু শেখার আছে।

পবিত্র কোরআনের শিক্ষা মানলে আপনি নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখতে পারবেন।

আমি এখন একজন শ্বেতাঙ্গ, মধ্যবয়সী স্কটিশ মুসলিম এবং এটা নিয়ে আমি সুখী।’