চালকবিহীন বাস চালু করল তুরস্ক; প্রথম যাত্রা করলেন এরদোগান

নিজস্ব তৈরি প্রথম চালকবিহীন ইলেকট্রিক বাস নামাল তুরস্ক। বাসটির টেস্ট ড্রাইভে প্রথম অংশ নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

বাসের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কারসান আতাক ইলেকট্রিক’। তুরস্কের গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘কারসান’ এটি তৈরি করে।

সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) চালকবিহীন এই বাসটি চালু করা হয়।

এ সময় এরদোয়ান বলেন, স্বয়ংক্রিয় বাস প্রস্তুতকারীরা তুরস্কের অগ্রযাত্রাকে উৎসাহিত করেছে এবং বিশ্বব্যাপী তুর্কি ব্র্যান্ডের প্রসারে এ উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে।

আধুনিক প্রযুক্তি করায়ত্ত করার পথে বেশ দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের নেতৃত্বে চালকবিহীন মেট্রো, ড্রোন, চালকবিহীন যুদ্ধ হেলিকপ্টারের পর এবার দেশটির রাস্তায় নামল চালকবিহীন বাস।

‘বিএমডব্লিউ ২২০-কেডাব্লিউএইচ লি-লন’ ব্যাটারির বদান্যতায় ইলেকট্রিক বাসটি কোনো বিঘ্ন ছাড়াই একটানা ৩০০ কিলোমিটার চলতে পারবে। বাসটি এসির মাধ্যমে পাঁচ ঘণ্টায় ব্যাটারি চার্জ করতে পারবে, ডিসির মাধ্যমে পারবে তিন ঘণ্টায়। ৮ দশমিক ৩ মিটার দীর্ঘ বাসটি ৫০ জন যাত্রী বহনে সক্ষম।

‘কারসান’-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাসটির ব্যাপকভিত্তিক উৎপাদন শুরু করে দিয়েছেন তারা।

আরও সংবাদ

ইহুদিবাদী ইসরাইলি ড্রোন ভূপাতিত করল ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইহুদিবাদী ইসরাইলের একটি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ড্রোনটি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উপর গোয়েন্দা মিশন পরিচালনা করছিল।

গতকাল (রোববার) ড্রোনটি যখন গাজা উপত্যকার উত্তর সীমান্তের বেইত হানুন ক্রসিং পয়েন্ট থেকে চিত্র গ্রহণ করছিল তখন সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। আরবি ভাষার বার্তা সংস্থা প্যালেস্টাইন টুডে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গাজা উপত্যকার আকাশে ড্রোন পাঠানোর ঘটনা জোরদার করেছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। সামরিক আগ্রাসনের আগে সাধারণত এ ধরনের গোয়েন্দা মিশন পরিচালনা করা হয়।

গত বছর ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা গুলি করে ইসরাইলের দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। গতমাসে গাজার বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুঁড়ে ইহুদিবাদী ইসরাইলের একটি ড্রোন ধ্বংস করে।

গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইল ২০০৫ সালের সেনা প্রত্যাহার করে। এরপর ২০০৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে হামাস ফিলিস্তিনের ক্ষমতায় এলে তার পরপরই ইহুদিবাদী ইসরাইল গাজা উপত্যকার ওপর সামরিক আগ্রাসন চালায়। ওই বছরই গাজার উপর সর্বাত্মক অবরোধ দেয় ইসরাইল যা এখনো বহাল রয়েছে।

আরও পড়ুন

প্রথমবার কঠিন জ্বালানী-চালিত রকেট উন্মোচন করল ইরান

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত কৃত্রিম উপগ্রহ বহনে সক্ষম একটি রকেট উন্মোচন করেছে। ‘জুলজানাহ’ নামের রকেটটি ২২০ কেজি ওজনের যেকোনো স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহকে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫০০ কিলোমিটার উচ্চতায় স্থাপন করতে পারবে।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাকাশ বিভাগের মুখপাত্র আহমাদ হোসেইনি বলেছেন, রকেটটিতে সর্বাধিক শক্তিশালী কঠিন জ্বালানী ইঞ্জিন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানি বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো কঠিন জ্বালানী ব্যবহার করে মহাকাশে রকেট পাঠাতে সক্ষম হলেন।

তিনি বলেন, “এ যাবতকালের মধ্যে আবিষ্কৃত সর্বাধিক শক্তিশালী কঠিন জ্বালানী ইঞ্জিন প্রযুক্তি আয়ত্বে আনার পর ইরানি বিশেষজ্ঞরা এই প্রথমবারের মতো কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপক বাহন বা রকেটের পরীক্ষা চালালেন।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে তিন ধাপের এই রকেট বিশ্বের যেকোনো আধুনিক রকেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।

হোসেইনি বলেন, পরীক্ষামূলক কয়েকটি পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর রকেটটির সাহায্যে কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করা হবে। তিনি জানান, কঠিন জ্বালানী ইঞ্জিন প্রযুক্তি আয়ত্ব করার ফলে এখন মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠাতে ব্যয় কমবে এবং রকেটের গতি বাড়বে।

ইরান এতদিন তরল জ্বালানী চালিত বেশ কয়েক ধরনের রকেট ব্যবহার করে ভূপৃষ্ঠের কক্ষপথে একাধিক কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমবারের মতো একটি সামরিক স্যাটেলাইট ভূপৃষ্ঠের কক্ষপথে স্থাপন করে।