ভালোবাসার দিনে কিডনি দিয়ে স্ত্রীর প্রাণ বাঁচালেন স্বামী

ভালোবাসার জন্যে মানুষ কি না করে? এবার স্ত্রীকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিয়ে দিলেন স্বামী। ভ্যালেন্টাইনস ডে-কে সাক্ষী রেখে হলো অঙ্গদান। এভাবেই এই বিশেষ দিন এবং ২৩তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করলেন তারা।

অটোইমিউনো কিডনি ডিজিজে ভুগছিলেন ভারতের আহমেদাবাদের রিতাবেন। গত ৩ বছর ধরে তিনি এই রোগের শিকার। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই শরীরে। ফলে কোনও কঠিন রোগের মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না।

এই রোগের ফলে শরীরের কোনও কোনও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কখনও কখনও মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। রিতাবেনের ক্ষেত্রে কিডনিতে বাসা বেঁধেছে এই রোগ।

ফলে অস্ত্রোপচার ছাড়া কোনও উপায় ছিল না চিকিৎসকদের কাছে। চিকিৎসকরা জানান যে, এই ভ্যালেন্টাইনস ডে-র দিন তারা অস্ত্রোপচার করবেন। চিকিৎসকদের কথায় স্ত্রীকে নিজের একটা কিডনি দানের জন্য রাজি হয়ে যান রিতাবেনের স্বামী বিনোদ।

তিনি বলেন, গত ৩ বছর ধরে স্ত্রীকে কষ্ট পেতে দেখছি৷ স্ত্রীর বয়স ৪৪ বছর। ও দীর্ঘায়ু হোক, আমি তাই চাই। সে জন্য নিজের একটা কিডনি দান করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এর মাধ্যমে সমাজেও এক বার্তা দিতে চাই। সবাই যেন নিজের সঙ্গীকে সম্মান করেন এবং প্রয়োজনে একে অপরের পাশে দাঁড়ান।

স্বামীর প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্ত্রীও। তিনি বলেন যে এমন স্বামী থাকার ফলে তিনি মনে জোর পাচ্ছেন এবং নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করছেন।

তিনি বলেন, আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতো। আমার স্বামী জানান যে তিনি আমায় কিডনি দান করবেন।

একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা দূর করার দুর্দান্ত ৭টি উপায়

যান্ত্রিক এই জীবনের গোলকধাধায় কখনো কখনো আমাদেরকে একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা গ্রাস করে ফেলে।

এর শেকড় প্রথমে অল্প বিস্তার করলেও পরে এটি ছড়িয়ে পড়ে আমাদের চেতনার রন্ধ্রে রন্ধ্রে। ধীরে ধীরে নিঃসঙ্গতার চাদর আমাদেরকে মুড়িয়ে ফেলে। আর এই চাদররের আবরণ ভেদ করা আমাদের জন্য রীতিমত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যার কারণে জীবনে নেমে হতাশা আর শোকের ছায়া।

জীবনে চলার পথে আমরা নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হই। সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে আবার চলতে হয় বহুদূর। দীর্ঘ এই চলার পথে দেখা যায় সম্পর্কের টানাপোড়া। ফাটল ধরে বন্ধুত্বে। যার দরূণ বেলা শেষে নিজেকে খুব একা মনে হয়। কেমন যেন মনে হয় মুদ্রার সুখের ওপিঠটা আমাদের জীবনে আর আসছেই না।

এই একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা একটি মানসিক সমস্যা। যা ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করতে থাকে। তাই মনে রাখতে হবে, একাকীত্বকে আপনি যত বেশি প্রশ্রয় দিবেন এটি ততই আপনাকে গ্রাস করতে থাকবে।

এ কারণেই এই নিবন্ধে একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা দূর করার চমৎকার কয়েকটি উপায় নিয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হবে যা আপনার জীবনকে উপভোগ করতে অনেকাংশেই সাহায্য করবে।

সমস্যার মূলোৎপাটন করুন

আপনার সমস্যার মূল বা উৎস নির্ণয় করুন। এটিই হবে আপনার প্রথম কাজ। আপনি যা অনুভব করছেন তা কি একাকিত্ব নাকি অন্য কোনো সমস্যা, তা আগে নির্ণয় করুন। কেননা সমস্যা উদঘাটন করতে না পারলে সমাধানও সম্ভব নয়।। তাই সমস্যার মূল খুঁজে বের করুন। এটি করতে পারলেই আপনার সমস্যার অর্ধেকটাই সমাধান হয়ে যাবে।

একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা কাটাতে সম্পর্ক গভীর করুন

নিঃসঙ্গতার মূল উৎসই হলো সম্পর্কে টানাপোড়া। বেশিরভাগ একাকীত্ব সম্পর্ক ভাঙ্গনের কারণেই হয়ে থাকে। মানুষের সাথে সম্পর্ক ভালো না থাকলে তারা আমাদের থেকে দূরে চলে যায়। ফলে তাদের সাথে যোগাযোগ না হওয়ায় দূরত্ব বেড়ে যায়। আবার আপন মানুষদের সাথে সম্পর্ক গভীর না হলে বা তাদের সাথে ভালো বোঝাপড়া না থাকলে তারাও একসময় পর হয়ে যায়।

তাদের থেকেও ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। যার কারণে নিজেকে বড় একা মনে হয়। এসময়ই দুঃখ আমাদেরকে গ্রাস করে নেয়। ফলে আমাদের জীবন হয়ে ওঠে কষ্টসাধ্য। তাই সম্পর্কগুলিকে দুর্বল হতে না দিয়ে আরো গভীরে রূপ দিতে হবে। তাহলেই আপন সম্পর্কের মানুষগুলি সুখে-দুঃখে সবসময়ই আমাদের পাশে থাকবে এবং তখন একা লাগার কোনো সুযোগ থাকবে না। একাকীত্ব দূর করার এটি একটি প্রধান উপায়।

ইতিবাচক হয়ে এগিয়ে যান

বর্তমানে অবস্থান করে অতীরের কোনো নেতিবাচক চিন্তা নিয়ে মগ্ন থাকা আমাদের চিন্তার সবচেয়ে বড় ভুল। এবং এই ভুলটা আমরা প্রতিনিয়তই করে আসছি। আর এই নেতিবাচক ভাবনাই আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

আর এসব কথা ভাবতে ভাবতেই মনের অজান্তেই নিজেকে একাকীত্বের দিকে আমরা ঠেলে দিই। তাই জীবনের নেতিবাচক ভাবনা বাদ দিয়ে ইতিবাচক দিকগুলিকে পুঁজি করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। ইতিবাচক চিন্তার শক্তি অনেক প্রবল। এটি আমাদেরকে খুব বেশি অনুপ্রাণিত করে এবং সফলতা অর্জনের পাশাপাশি একাকীত্বকেও দূরে সরিয়ে দেয়।

একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা দুর করতে শখগুলোকে জাগ্রত করুন

একাকীত্বকে প্রশ্রয় দিলে তা ক্রমেই আপনাকে একাকীত্বের চাদরে মুড়িয়ে ফেলবে। তাই একাকীত্বে ভুগলে নতুন কিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান। এক্ষেত্রে আপনার শখগুলিকে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাতে পারেন।

কেননা নিজের শখের কাজ করতে সকলেরই ভাল লাগে। ফলে একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা বোধটা চলে যায়। তাই আপনি যদি পশু-পাখি পালন, বাগান করা, অথবা রান্না করতে ভালোবাসেন তাহলে বেশি না ভেবে সেই শখের

কাজগুলো পুনরায় শুরু করে দিন। তাহলে আপনার একাকীত্বও কেটে যাবে এবং এতে ভালোভাবে সময় কাটানোর পাশাপাশি নিজের সৃজনশীলতাকে ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে।

ভ্রমণ করুন

একাধারে অনেকদিন এক স্থানে থাকার ফলে আমাদের মধ্যে একঘেয়ামি ভাব চলে আসে। যার ফলে শরীরে অসলতা আসে। সময়ের কাজ আর সময়ে হয় না এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কাজই সম্পন্ন হয় না। এর ফলশ্রুতিতে নিঃসঙ্গতা আমাদের জীবনে উঁকি দেয়। তখন জীবনের আনন্দের অনুভূতিগুলোই হারিয়ে যায়। একাকীত্ব থেকে সৃষ্টি হয় হতাশা।

তাই এই একঘেয়েমি ভাব কাটানোর জন্য ভ্রমন করা আমাদের জন্য খুবই জরুরী। ভ্রমন করার ফলে আমাদের মানসিক প্রশান্তি মেলে এবং আমাদের জ্ঞানের ভান্ডাওর প্রশস্ত হয়। একাকীত্ব দূর করার উপায় গুলোর মধ্যে এটি অনেক ফলদায়ক।

ছোটবেলার কথা স্মরণ করুন

প্রত্যেকের ছোটবেলার স্মৃতিগুলো খুব মধুর হয়ে থাকে। সাধারণত একাকীত্বে থাকলে মানুষের মন ভারাক্রান্ত থাকে। মনে প্রশান্তি থাকে না। এসময় আমাদের প্রয়োজন একটু হাসি, একটু আনন্দ। হাসি আর আনন্দই এসব রোগের বড় প্রতিষেধক। তাই আনন্দের জন্য ছোটবেলার স্মৃতি মনে করা যেতে পারে।

এর ফলে অচিরেই মুখের কোণে হাসি ফুটতে বাধ্য। কেননা নানান মজার স্মৃতি দিয়ে সাজানো ছিল আমাদের ছোটবেলা। তাই এসব সুখের স্মৃতি স্মরণ করলে তখন মন ভালো হয়ে যায়। আর নিজেকে একা লাগে না।

একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা কাটাতে বই পড়ার অভ্যাস করুন

বই আমাদের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। বইয়ের মত আপন এবং নিঃস্বার্থ বন্ধু আপনি দুনিয়ার কোথাও পাবেন না। যখন মানুষ নিঃসঙ্গতায় ভোগে তখন তারা কষ্টের সাগরে ডুবে সুখ হাতরে খুঁজে বেড়ায়। একাকীত্ব আমাদের স্বাভাবিক মানসিকতা ধ্বংস করে দেয়।

চিন্তাশক্তির পতন ঘটায়। একাকীত্ব যখন গ্রাস করে নিজেকে ভীষণ একা লাগে তখনই সময়ই বইকে বন্ধু ভেবে বই পড়ার অভ্যাস করার। এর ফলে সময়ও পলকে কেটে যায় এবং নিজেকে আর একা লাগে না। এভাবে বই পড়ার অভ্যাস জ্ঞান প্রদানের পাশাপাশি আপনার একাকীত্বকেও দূর করবে।