চলে গেলেন আল্লামা যাহিদ কাউসারির সর্বশেষ ছাত্র শায়খ মুহাম্মাদ আমিন সিরাজ

তুরস্কের প্রবীণ আলেম, আল্লামা যাহিদ কাউসারি রাহিমাহুল্লাহর সর্বশেষ ছাত্র, শায়খ মুহাম্মাদ আমিন সিরাজ শুক্রবার দিবাগত রাতে ইস্তাম্বুলে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তুরস্কে ইসলামি পুনর্জাগরণের পেছনে যেসকল ধর্মীয় নেতৃত্বের বেশ প্রভাব ছিলো; শায়খ মুহম্মাদ আমিন সিরাজ ছিলেন তাদের অন্যতম একজন৷

তার হাতে হাজার হাজার আলেম তৈরি হয়েছেন তুরস্কে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ইলম অন্বেষণকারীগণ ইস্তাম্বুল গিয়ে তার নিকট হাদিস পাঠ করে ইজাযত লাভ করেছেন।

ইলমুল হাদিস শিক্ষাদান এবং হাদিস-শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে রয়েছে শায়খের অসামান্য অবদান। বিগত বছর তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান শায়খের বাসগৃহে গিয়ে সাক্ষাত করেন এবং তার হাতে প্রেসিডেন্ট এরদোগান চুমু খান; যেই দৃশ্য মিডিয়ায় বেশ আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছিলো তখন।

শায়খ মুহাম্মাদ আমিন সিরাজ রাহিমাহুল্লাহর পড়ালেখা শুরু হয়ে ইস্তাম্বুলের জামে আল ফাতিহ থেকে৷ ১৯৫০ সনে উচ্চশিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি মিসরের জামেয়া আযহারে গিয়ে ভর্তি হন।

সেখানে তাঁর সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ড. শায়খ ইউসুফ আল কারযাবি হাফিযাহুল্লাহ।

বিগত শতাব্দীর বিদগ্ধ হাদিস বিশারদ আল্লামা মুহাম্মাদ যাহিদ কাউসারি রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ১৩৭১ হিজরি) এর সর্বশেষ শাগরেদ ছিলেন শায়খ আমিন সিরাজ।

(আল্লামা কাউসারির ইন্তেকালের মাত্র বিশ দিন পূর্বে তিনি হাদিসের ইজাযত লাভ করেছিলেন।শায়খ আবদুল মাজিদ তুরকুমানির তথ্য মতে, আল্লামা যাহিদ কাউসারির আরেকজন শিষ্য এখনও জীবিত আছেন।

তিনি হলেন ভারতের আল্লামা হাবিবুর রহমান আযমি রাহিমাহুল্লাহর ছেলে মাওলানা রশিদ আহমদ হাফিযাহুল্লাহ।)

সেজন্য শায়খের প্রতি উলামা ও তালিবুলইলমদের বিশেষ একটা আকর্ষণ ছিলো। এছাড়া তিনি আল্লামা হাসান মুহাম্মাদ মাশশাত আল মালিকি, আল্লামা মুহাম্মাদ ইয়াসিন আল ফাদানি, আল্লামা সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদবি রাহিমাহুমুল্লাহ প্রমুখ মনীষীর সান্নিধ্য ও শিষ্যত্ব লাভে ধন্য হয়েছিলেন।