সালাম দিয়ে ইরাক সফর শেষ করলেন পোপ

আরবিতে ‘সালাম’ দিয়ে ইরাক সফর শেষ করলেন ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ নেতা পোপ ফ্রান্সিস। সোমবার বাগদাদ বিমানবন্দর ছেড়ে ভ্যাটিকানের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগে বিমান থেকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়ে বিদায় নেন তিনি।

ইরাকি প্রেসিডেন্ট বাহরাম সালিহ বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে পোপকে বিদায় জানান।

ইরাক সফর শেষে বিদায়ের আগে ভাষণে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘ইরাক সবসময় আমার সাথে, আমার হৃদয়ে থাকবে।’

আরবিতে ‘সালাম, সালাম, সালাম’ বলে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

ভ্যাটিকানের কোনো ধর্মগুরুর ইরাকে প্রথমবারের মতো এই সফরে মসুলসহ চারটি শহর ভ্রমণ করেন পোপ ফ্রান্সিস। উগ্রবাদি সংগঠন আইএসের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হওয়া মসুলের ধ্বং’সস্তু’পে দাঁড়িয়ে পোপ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা দিয়ে, সবাইকে একসাথে ও নিরাপদে থাকার আহ্বান জানান।

পোপের ইরাক সফর উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছিল। পোপের গাড়ি বহরকে মেশিনগানবাহী সামরিক ট্রাকের নিরাপত্তা বেষ্ট’নী দিয়ে নিয়ে যায়।

রোববার মসুলে যাওয়ার পর সেখানকার মুসলিম ও খৃস্টান বাসিন্দারা আইএসের নিষ্ঠুর শাসনামলে তাদের জীবন কেমন ছিল সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালে আইএসের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় শহরটির খৃস্টান বাসিন্দার সাথে সাথে বিরোধী মুসলিমদের হত্যা করে উগ্রবাদি সংগঠনটির সদস্যরা।

২০১৭ সালে ইরাকি বাহিনী ও তাদের সহযোগী আন্তর্জাতিক বাহিনী ধ্বং’সাত্মক এক যু’দ্ধের পর শহরটি মুক্ত করে। এ সময় পুরনো শহরটির বেশিরভাগ অঞ্চলই সম্পূর্ণ ধ্বং’স হয়ে যায়।

পোপ এ শহরটি ভ্রমণের সময় বলেন, ‘সভ্যতার সূতিকাগার এই দেশ কতই না নিষ্ঠুর যে, এক বর্বর আঘাতে প্রাচীন উপাসনার স্থান ধ্বং’স করা হয়েছে এবং মুসলমান, খ্রিস্টান, ইয়াজিদি ও অন্য ধর্মের কয়েক হাজার ব্যক্তিকে জোর করে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে বা হ’ত্যা করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজকে আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, ভ্রাতৃহ’ত্যার চেয়ে সহমর্মিতা দীর্ঘস্থায়ী, ঘৃণার চেয়ে আশা বেশি শক্তিশালী, যু’দ্ধের চেয়ে শান্তি বেশি শক্তিশালী।’

এছাড়া পোপ ফ্রান্সিস হেলিকপ্টারে করে কারাকোশ ও ইরবিল সফরে যান। এসব শহরে তিনি উষ্ণ অভ্যর্থনা পান।

এর আগে শুক্রবার তিনদিনের সফরে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে পৌঁছেন পোপ ফ্রান্সিস। করোনা সং’ক্রমণ শুরু হওয়ার পর এটিই পোপ ফ্রান্সিসের প্রথম বিদেশ সফর।

অপরদিকে, ইরাকে পোপ ফ্রান্সিসের এই সফরের মাধ্যমে প্রথম কোনো ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু দেশটিতে সফরে এলেন।

শনিবার ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজাফে দেশটির শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী আল-সিস্তানির সাথে সাক্ষাত করেন পোপ ফ্রান্সিস। ৫০ মিনিটের একান্ত বৈঠকের পর উভয় নেতা ইরাকের মুসলমান ও খ্রিস্টান উভয়কে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা দেন।

পরে ইসলাম ও খ্রিস্ট উভয় ধর্মের পবিত্র পুরুষ হিসেবে বিবেচিত নবী ইবরাহীমের জন্মস্থান উর পরিদর্শন করেন পোপ। সেখানে উভয় ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের অংশগ্রহণে এক আন্তঃধর্মীয় সভায় অংশ নেন।