হাত-পা নেই, তবুও রং পেনসিলে স্বপ্ন দেখে রাসেল

ম’গ’বা’জা’র ওয়ারলেস রেল গেটের পা’শে’ই উৎসুক জ’ন’তা’র ভিড় দেখে নিজেও এগিয়ে গে’লাম।দেখলাম হাত-

পা কাঁ’টা এ’ক’টি ছেলে তার অর্ধ দু হা’ত আর থু’থু’নি’তে ভর করে আর্ট পে’পা’রের উপর উঠে বসে

পেনসিল চড়াচ্ছিল।মনোযোগ নিয়ে অ’ন্যা’ন্য’দে’র মতো আমিও তার পে’ন’সি’ল ঘুরানো দে’খ’ছি’লা’ম।প্রথমে

ভা’বছিলাম হয়তো সে কোন ম্যাজিক দেখাবে।তাই অধীর আগ্রহে সে কি করছে তা দে’খ’তেছিলাম।যখন ছেলেটা

আর্ট পে’পা’রে একটু এ’কটু করে এ’ক’টা পুরো দৃশ্য একে ফে’ল’লো।তখন আ’মার কাছে বিষয়টা ম্যাজিকের মতোই

লা’গ’লো।ভা’ব’লাম হাত-পা কাঁটা একটা ছেলে কি’ভাবে এত সুন্দর ছবি আঁকতে পারে?আমি ২শ টাকা

দিয়ে ওর কাছ থেকে ছবিটা নিয়ে এ’সে’ছিলাম।এভাবেই হাত-পা হা’রা’নো এক শা’রীরিক প্র’তিবন্ধীর কর্মগুণের বর্ণনা

দি’য়ে’ছি’লে’ন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পো রেশনের (এফডিসি)পরিচালক সমিতির অফিস সেক্রেটারি

মো.র’বিউল ইসলাম শুভ।খোঁজ নিয়ে জানা গেল,ছেলে টার নাম মো.রাসেল ই’সলাম।১৯৯৬ সালে ব’রি’শা’ল

জে’লার উজিরপুরের বরাকোঠা ইউনিয়নের গড়িয়া গ্রামে রাসেলের জন্ম।শৈ’শবে বাবা-মা তাকে নিয়ে কা’জে’র

স’ন্ধা’নে ঢাকা আসলেও প’র’বর্তীতে তারা গ্রামে চলে যায়।কিন্তু রাসেল ঢাকায় থা’কতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করতো। আর

দ’শ’টি সুস্থ্য স্বা’ভা’বি’ক শিশুর মতোই কৈশরের দূ’র’ন্ত’প’না’য় বেড়ে উঠে রাসেল।কিন্তু সে যখন চতুর্থ

শ্রে’ণী’তে পড়ে(বয়স আ’নুমানিক ১০ বছর)তখন এক দমকা হাওয়ায় পাল্টে যায় তার জী’ব’নে’র গ’তিবেগ।

এরপর রা’সে’লের দুটো হাত ও একটি পা শরীর থেকে অ’র্ধে’ক’টা কেটে ফে’লতে হয়।বর্তমানে জীবন সংগ্রামী

রাসেল তার অসম্পন্ন শা’রী’রি’ক গঠন নিয়েও নিজের প্রায় প্র’তিটি কা’জই নিজে থেকে করার চেষ্টা করে।দূর থেকে দে’খ’লে যেন মনেই হ’য়’না রাসেল এ’ক’জন শারীরিক প্রতিবন্ধী।রাজধানীর মালিবাগ রে’ল’লা’ই’নের

পাশের বস্তিতে গিঞ্জি পরিবেশের একটি ছোট্ট বাসায় ভাই রুবেল ইসলাম ও ভাবি আকলিমা আ’ক’তা’রে’র সঙ্গে থাকে সে।প্রায় ২০ ব’ছ’র আগে রাসেল তার পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় আসে,যখন তার বয়স ছিলো আনুমানিক ৫

বছর।অ’ভা’বের সংসারে তাকে বিদ্যালয়ে পাঠানো কিংবা শি’ক্ষাব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব ছিল রাসেলের বাবার পক্ষে।তবুও স্ত্রী,চার ছেলে ও তিন ক’ন্যা’র সং’সা’রে রাসেলকে প’ড়া’নো’র সিদ্ধান্ত নেয় তার বাবা।ছে’লেকে

ভর্তিও ক’রি’য়ে’ছি’লো পশ্চিম মা’লিবাগের শিশু নীড় স্কুলে।কিন্তু অ’ভাবে পারেন নাই।কিভাবে সময় কাঁটে আর ছবি আঁকতে কে’ম’ন লাগে জা’ন’তে চা’ই’লে রাসেল জানায়,আ’মা’র কোন বন্ধু নেই।আমি কারো সাথে মিশি

না।আমি সব স’ম’য় একা এ’কা’ই থাকি।রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করি আর স’ম’য় পেলে রং পে’নসিল নিয়ে ছবি আঁকি।আ’মার ছবি আঁকা দেখে অনেকে খুঁশি হয়ে টাকা দেয়।কেউ কেউ টাকা দিয়ে ছবি বা’সায় নিয়ে

যায়।অ’নে’কে আ’বা’র রং পেনসিল ও কা’গজ কিনে দিয়ে আ’মা’কে ছবি আঁকতে বলে।ছবি আঁকতে আমার খুব ভালো লাগে।শা’রী’রি’ক প্র’তিবন্ধীতায় বদ্ধ জীবনে ভিক্ষাবৃত্তির প’রি’ব’র্তে সম্মানজনক কোন কাজ করতে

ইচ্ছে হয়,জা’ন’তে চা’ইলে রাসেল ব’লে’ন,আমি ছবি আঁকা নি’য়েই স্বপ্ন দেখি।ছবি আঁকার কাজ পেলে করব। আর কখনো সু’যো’গ পেলে একটা দোকান দিয়ে ব্যবসা করব।আমি নিজে থেকে দো’কা’নে’র সব কাজ করতে

পা’র’বো না।আমার ভাই রুবেল ভ্যান চালায়,ওকে নিয়ে আ’ম’রা দুই ভাই ব্যবসা ক’র’ব।নবীর শিক্ষা,ক’রোনা ভিক্ষা,মেহনত কর সবে শেখ হাবিবুর রহমানের ন’বী’র শিক্ষা কবিতার লা’ই’ন’টি হয়তো আমরা সকলেই মুখে

মুখে কিংবা বইয়ের পা’তা’য় প’ড়েছে।তাছাড়া,ভিক্ষাবৃত্তি হারাম না হলেও ই’স’লা’মে’র দৃ’ষ্টিতে সবচেয় ঘৃণ্যতম কাজ,এটাও স’ক’লে’র’ই জানা আছে।তবুও জীবিকার তা’গি’দে যদি ভিক্ষাবৃত্তি হয়ে ওঠে বেঁচে থা’কা’র শেষ

চেষ্টা,তখনও কি আ’ম’রা এটাকে ঘৃণা আর অবহেলার চোঁখে দে’খ’বো?মা’নবিকতা সম্পন্ন বেশিরভাগ মানুষের উত্তর হবে না।তা’হ’লে কি আ’ম’রা মা’ন’ব বিবেককে প্রশ্ন করতে পারিনা যে,কেনইবা আমরা সব ভিক্ষাবৃত্তিকে ঘৃ’ণি’ত পে’শায় ওজন করি,আর বেঁচে থাকার সংগ্রামে যে ভিক্ষাবৃত্তি তাও কি ঘৃ’ণি’ত পেশা হবে?