সাইকেল চালিয়ে মক্কায় পৌছে এক নারীর বিশ্বরেকর্ড!

বিশ্বের প্রথম নারী হিসেবে সাইকেল চালিয়ে মক্কায় পৌছে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন তিউনিশিয়ান নারী সারা হাবা। পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ৩ হাজার ২৮৩ কিলোমিটার বা ২০৪০ মাইল পথ সাইকেল চালিয়ে মক্কায় পৌছুছেন তিনি।

সারা হাবা একজন তিউনিশিয়ান সাইক্লিস্ট। তিউনিশিয়া থেকে সুদান ও মিসরের মরুভূমির পথ ব্যবহার করে মক্কায় পৌছতে তার মোট সময় লেগেছে ৫৩ দিন।

মাদ্রাসা নির্মাণে জমি দিলেন হিন্দু নারী

মাদ্রাসা নির্মাণের জন্যে জমি প্রয়োজন। চেষ্টা করেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এগিয়ে এলেন এক হিন্দু নারী। এমন সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির ঘটনা ঘটেছে নেপালে।

দেশটির গণমাধ্যম খবর হাব ডটকম-এ প্রকাশিত খবরে জানা যায়, বিষ্ণুমায়া প্রসাইন নামে নেপালের হিন্দু ধর্মীয় এক নারী সমাজকর্মী মুসলিম শিশুদের পড়াশোনার সুবিধার্থে মাদ্রাসা নির্মাণে জমি দান করেছেন। হিন্দু নারী সমাজকর্মীর মাদ্রাসার জন্য জমি দান করায় স্থানীয় মুসলিমসহ সব মানুষই তাকে স্বাগত জানিয়েছে।

খবর হাব ডটকম জানায়, মুসলিম শিশুরা যেন তাদের পড়াশোনা করতে পারে সে জন্য নেপালের পূর্বাঞ্চলীয় জাপা অঞ্চলে বসবাসকারী বিষ্ণুমায়া মাদ্রাসা নির্মাণে এ জমি দান করেন। নেপালি মুদ্রায় ১৫ লাখ রুপি মূল্যের একখণ্ড জমি দান করেন তিনি।

মাদ্রাসা প্রধান আফারুক খান জানান, ‘মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য ৮ কাঠা জমির প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় বাকী জমি অল্প মূল্যে ক্রয় করে দ্রুত মাদ্রাসা নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।’

বর্তমানে স্থানীয় মসজিদে মাদরাসাটির ৪টি ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে। এ মাদ্রাসাটি দ্বাদশ ক্লাস পর্যন্ত পরিচালনা করতে দ্বীনি দাতাদের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান আফারুক খান।

বিষ্ণুমায়া প্রসাইনের এ অনুদান নেপালের হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে মধুর সম্প্রীতির বন্ধনের পরিচয়ই ফুটে ওঠেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জমিদাত্রী হিন্দু সমাজকর্মীকে এ দানের জন্য অনুষ্ঠান করে তাকে সম্মান জানিয়েছেন।

এই এলাকায় প্রায় ১৫০টি মুসলিম পরিবারের বসবাস করে। জেলার মেয়র বোজরাজ সিতাওয়ালা বলেছেন, এই অঞ্চলে মুসলমানদের কোনও মাদ্রাসা নেই। আর এজন্য এই এলাকায় বসবাসরত মুসলিম শিশুদের শিক্ষার জন্য এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক বিজয়া বড়াল বলেছেন, মাদ্রাসাটি নির্মাণের ক্ষেত্রে হিন্দুদের অবদানের মাধ্যমে নেপালের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সামাজিক সহাবস্থান এবং ধর্মীয় সহনশীলতার পরিচয় ফুটে উঠেছে।

মাদ্রাসা বোর্ডের প্রধান এক অনুষ্ঠানে এই মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য যেসব দাতারা ইতিমধ্যে অনুদান দিয়েছেন তাদের সবার প্রশংসা করেছেন।

একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা দূর করার দুর্দান্ত ৭টি উপায়

যান্ত্রিক এই জীবনের গোলকধাধায় কখনো কখনো আমাদেরকে একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা গ্রাস করে ফেলে।

এর শেকড় প্রথমে অল্প বিস্তার করলেও পরে এটি ছড়িয়ে পড়ে আমাদের চেতনার রন্ধ্রে রন্ধ্রে। ধীরে ধীরে নিঃসঙ্গতার চাদর আমাদেরকে মুড়িয়ে ফেলে। আর এই চাদররের আবরণ ভেদ করা আমাদের জন্য রীতিমত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যার কারণে জীবনে নেমে হতাশা আর শোকের ছায়া।

জীবনে চলার পথে আমরা নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হই। সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে আবার চলতে হয় বহুদূর। দীর্ঘ এই চলার পথে দেখা যায় সম্পর্কের টানাপোড়া। ফাটল ধরে বন্ধুত্বে। যার দরূণ বেলা শেষে নিজেকে খুব একা মনে হয়। কেমন যেন মনে হয় মুদ্রার সুখের ওপিঠটা আমাদের জীবনে আর আসছেই না।

এই একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা একটি মানসিক সমস্যা। যা ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করতে থাকে। তাই মনে রাখতে হবে, একাকীত্বকে আপনি যত বেশি প্রশ্রয় দিবেন এটি ততই আপনাকে গ্রাস করতে থাকবে।

এ কারণেই এই নিবন্ধে একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা দূর করার চমৎকার কয়েকটি উপায় নিয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হবে যা আপনার জীবনকে উপভোগ করতে অনেকাংশেই সাহায্য করবে।

সমস্যার মূলোৎপাটন করুন

আপনার সমস্যার মূল বা উৎস নির্ণয় করুন। এটিই হবে আপনার প্রথম কাজ। আপনি যা অনুভব করছেন তা কি একাকিত্ব নাকি অন্য কোনো সমস্যা, তা আগে নির্ণয় করুন। কেননা সমস্যা উদঘাটন করতে না পারলে সমাধানও সম্ভব নয়।। তাই সমস্যার মূল খুঁজে বের করুন। এটি করতে পারলেই আপনার সমস্যার অর্ধেকটাই সমাধান হয়ে যাবে।

একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা কাটাতে সম্পর্ক গভীর করুন

নিঃসঙ্গতার মূল উৎসই হলো সম্পর্কে টানাপোড়া। বেশিরভাগ একাকীত্ব সম্পর্ক ভাঙ্গনের কারণেই হয়ে থাকে। মানুষের সাথে সম্পর্ক ভালো না থাকলে তারা আমাদের থেকে দূরে চলে যায়। ফলে তাদের সাথে যোগাযোগ না হওয়ায় দূরত্ব বেড়ে যায়। আবার আপন মানুষদের সাথে সম্পর্ক গভীর না হলে বা তাদের সাথে ভালো বোঝাপড়া না থাকলে তারাও একসময় পর হয়ে যায়।

তাদের থেকেও ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। যার কারণে নিজেকে বড় একা মনে হয়। এসময়ই দুঃখ আমাদেরকে গ্রাস করে নেয়। ফলে আমাদের জীবন হয়ে ওঠে কষ্টসাধ্য। তাই সম্পর্কগুলিকে দুর্বল হতে না দিয়ে আরো গভীরে রূপ দিতে হবে। তাহলেই আপন সম্পর্কের মানুষগুলি সুখে-দুঃখে সবসময়ই আমাদের পাশে থাকবে এবং তখন একা লাগার কোনো সুযোগ থাকবে না। একাকীত্ব দূর করার এটি একটি প্রধান উপায়।

ইতিবাচক হয়ে এগিয়ে যান

বর্তমানে অবস্থান করে অতীরের কোনো নেতিবাচক চিন্তা নিয়ে মগ্ন থাকা আমাদের চিন্তার সবচেয়ে বড় ভুল। এবং এই ভুলটা আমরা প্রতিনিয়তই করে আসছি। আর এই নেতিবাচক ভাবনাই আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

আর এসব কথা ভাবতে ভাবতেই মনের অজান্তেই নিজেকে একাকীত্বের দিকে আমরা ঠেলে দিই। তাই জীবনের নেতিবাচক ভাবনা বাদ দিয়ে ইতিবাচক দিকগুলিকে পুঁজি করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। ইতিবাচক চিন্তার শক্তি অনেক প্রবল। এটি আমাদেরকে খুব বেশি অনুপ্রাণিত করে এবং সফলতা অর্জনের পাশাপাশি একাকীত্বকেও দূরে সরিয়ে দেয়।

একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা দুর করতে শখগুলোকে জাগ্রত করুন

একাকীত্বকে প্রশ্রয় দিলে তা ক্রমেই আপনাকে একাকীত্বের চাদরে মুড়িয়ে ফেলবে। তাই একাকীত্বে ভুগলে নতুন কিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান। এক্ষেত্রে আপনার শখগুলিকে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাতে পারেন।

কেননা নিজের শখের কাজ করতে সকলেরই ভাল লাগে। ফলে একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা বোধটা চলে যায়। তাই আপনি যদি পশু-পাখি পালন, বাগান করা, অথবা রান্না করতে ভালোবাসেন তাহলে বেশি না ভেবে সেই শখের

কাজগুলো পুনরায় শুরু করে দিন। তাহলে আপনার একাকীত্বও কেটে যাবে এবং এতে ভালোভাবে সময় কাটানোর পাশাপাশি নিজের সৃজনশীলতাকে ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে।

ভ্রমণ করুন

একাধারে অনেকদিন এক স্থানে থাকার ফলে আমাদের মধ্যে একঘেয়ামি ভাব চলে আসে। যার ফলে শরীরে অসলতা আসে। সময়ের কাজ আর সময়ে হয় না এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কাজই সম্পন্ন হয় না। এর ফলশ্রুতিতে নিঃসঙ্গতা আমাদের জীবনে উঁকি দেয়। তখন জীবনের আনন্দের অনুভূতিগুলোই হারিয়ে যায়। একাকীত্ব থেকে সৃষ্টি হয় হতাশা।

তাই এই একঘেয়েমি ভাব কাটানোর জন্য ভ্রমন করা আমাদের জন্য খুবই জরুরী। ভ্রমন করার ফলে আমাদের মানসিক প্রশান্তি মেলে এবং আমাদের জ্ঞানের ভান্ডাওর প্রশস্ত হয়। একাকীত্ব দূর করার উপায় গুলোর মধ্যে এটি অনেক ফলদায়ক।

ছোটবেলার কথা স্মরণ করুন

প্রত্যেকের ছোটবেলার স্মৃতিগুলো খুব মধুর হয়ে থাকে। সাধারণত একাকীত্বে থাকলে মানুষের মন ভারাক্রান্ত থাকে। মনে প্রশান্তি থাকে না। এসময় আমাদের প্রয়োজন একটু হাসি, একটু আনন্দ। হাসি আর আনন্দই এসব রোগের বড় প্রতিষেধক। তাই আনন্দের জন্য ছোটবেলার স্মৃতি মনে করা যেতে পারে।

এর ফলে অচিরেই মুখের কোণে হাসি ফুটতে বাধ্য। কেননা নানান মজার স্মৃতি দিয়ে সাজানো ছিল আমাদের ছোটবেলা। তাই এসব সুখের স্মৃতি স্মরণ করলে তখন মন ভালো হয়ে যায়। আর নিজেকে একা লাগে না।

একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা কাটাতে বই পড়ার অভ্যাস করুন

বই আমাদের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। বইয়ের মত আপন এবং নিঃস্বার্থ বন্ধু আপনি দুনিয়ার কোথাও পাবেন না। যখন মানুষ নিঃসঙ্গতায় ভোগে তখন তারা কষ্টের সাগরে ডুবে সুখ হাতরে খুঁজে বেড়ায়। একাকীত্ব আমাদের স্বাভাবিক মানসিকতা ধ্বংস করে দেয়।

চিন্তাশক্তির পতন ঘটায়। একাকীত্ব যখন গ্রাস করে নিজেকে ভীষণ একা লাগে তখনই সময়ই বইকে বন্ধু ভেবে বই পড়ার অভ্যাস করার। এর ফলে সময়ও পলকে কেটে যায় এবং নিজেকে আর একা লাগে না। এভাবে বই পড়ার অভ্যাস জ্ঞান প্রদানের পাশাপাশি আপনার একাকীত্বকেও দূর করবে।