আজানের সুর আমাকে ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে : মার্কিন সংগীতশিল্পী

0

প্রশ্ন : প্রথমেই আপনার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাই, আপনি ২০১৩ সালে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কিসের প্রভাবে আপনি ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন?

উত্তর : আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারে আমাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে মুসলমানের জীবনপ্রণালী, যা একটি মুসলিম দেশে সফর করার সময় দেখেছিলাম। ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করার পর আমি মরক্কো সফরে যাই। গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে সেখানে গিয়েছিলাম। পুরো গ্রীষ্মে মরক্কোয় ছিলাম।

তখন যে বিষয়টি আমাকে প্রথম আকর্ষণ করে তা হলো আজানের ধ্বনি। যেখানেই যেতাম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান শুনতে পেতাম। আমি জানতে পারলাম, আজানের মাধ্যমে সবাইকে নামাজের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিষয়টি আমাকে পুলকিত করে। সত্যি বলতে আজানের সুরই আমাকে প্রথম ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে।

তিনি বলেন, তা ছাড়া অন্যের প্রতি মরক্কোর মানুষের সম্মানবোধও আমাকে স্পর্শ করে। আমি অনুভব করি, এখানকার পরিবেশ ও প্রকৃতির আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মুসলিমদের রীতি-নীতির সম্পর্কে জানার প্রচণ্ড আগ্রহ জন্মাল আমার ভেতর। ইসলাম ও মুসলমান সম্পর্কে পড়তে শুরু করলাম। কিছু পড়ার পর ইসলামের সৌন্দর্য আমাকে বিস্মিত করল। ধীরে ধীরে ইসলামের দিকে ঝুঁকে গেলাম এবং একপর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করলাম।

প্রশ্ন : জেনিফার! আপনি ২০১৩ সালে আরবের প্রসিদ্ধ সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান ‘Arabs Got Talent’-এ সেরা শিল্পী মনোনীত হয়েছিলেন। এরপর হঠাৎ করেই অন্তত তিন বছর সব রকম সংগীত থেকে আড়ালে চলে গেলেন। এই আড়ালে থাকার কোনো কারণ ছিল?

উত্তর : যদি আমার শব্দ চয়ন ঠিক হয়, তাহলে এটাকে আমি আধ্যাত্মিক সফর বলব। যখনই আপনার কোলে নতুন অতিথির আগমন হবে, স্বাভাবিকই আপনার জীবনে তখন বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তো সব কিছু গোছগাছ করার জন্য আমার একটি বিরতির প্রয়োজনও ছিল। আর এই আড়ালে থাকার আরেকটি কারণ, যেন অর্থবহ একটি নতুন ও সুন্দর জীবনে প্রবেশ করতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ! আমার বিশ্বাস, আমি লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

প্রশ্ন : আপনার কোরআন তিলাওয়াত শুনে ভক্তরা আপনার কণ্ঠকে ঐশীস্বর আখ্যা দেন। কোরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে আপনি কোন শায়েখের তিলাওয়াত বেশি অনুসরণ করেন এবং কার তিলাওয়াত বেশি শোনা হয়?

উত্তর : অনুসরণের বিষয়ে বলব, হয়তো যে কারো তিলাওয়াতের সঙ্গে আমার তিলাওয়াত মিলে যেতে পারে, তবে আক্ষরিক অর্থে আমার তিলাওয়াতের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে। আমি বলব, এটা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। আমি মিসরের বিখ্যাত কারি শায়খ সিদ্দিক আল মিনশাবির তিলাওয়াত খুব বেশি শুনি। সুন্দর ও হৃদয়গ্রাহী তিলাওয়াতে তিনি অদ্বিতীয়। মিনশাবির কণ্ঠে সুরা ইউসুফ ও সুরা তাকবির শুনতে আমার অসম্ভব ভালো লাগে।

প্রশ্ন : আপনি একাধিক দেশ সফর করেছেন। সবচেয়ে পছন্দের জায়গা কোনটি? যেখানে বারবার যেতে মন চায়?

উত্তর : মক্কা-মদিনার চেয়ে আমার কাছে বেশি প্রিয় আর কোনো জায়গা নেই। মক্কা-মুকাররমায় পবিত্র কাবা শরিফ জিয়ারত করা আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত।

প্রশ্ন : মরক্কো এসে সাঈদ নামের স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়েছেন এবং আপনাদের কোল আলোকিত করে ‘কমার’ (চাঁদ) নামের এক কন্যাসন্তানের জন্ম হওয়ার খবর শুনেছি—ব্যাপারটি কি এমনই?

উত্তর : হ্যাঁ, হ্যাঁ…।

প্রশ্ন : ‘কমার’ নামটি কি আপনার পছন্দ?

উত্তর: অবশ্যই আমার। ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে আগে থেকেই এই সুন্দর নামটি আমি মেয়ের জন্য পছন্দ করে রেখেছি। আমার মেয়ের মুখ আমার কাছে কমারের (চাঁদ) মতোই উজ্জ্বল ও সুন্দর। যখন আমার মেয়েকে গর্ভে ধারণ করি, তখনই সিদ্ধান্ত নেই, যদি আমার মেয়ে হয়, তবে তার নাম ‘কমার’ রাখব।

প্রশ্ন : প্রথমেই আপনার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাই, আপনি ২০১৩ সালে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কিসের প্রভাবে আপনি ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন?

উত্তর : আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারে আমাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে মুসলমানের জীবনপ্রণালী, যা একটি মুসলিম দেশে সফর করার সময় দেখেছিলাম। ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করার পর আমি মরক্কো সফরে যাই। গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে সেখানে গিয়েছিলাম। পুরো গ্রীষ্মে মরক্কোয় ছিলাম। তখন যে বিষয়টি আমাকে প্রথম আকর্ষণ করে তা হলো আজানের ধ্বনি। যেখানেই যেতাম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান শুনতে পেতাম। আমি জানতে পারলাম, আজানের মাধ্যমে সবাইকে নামাজের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিষয়টি আমাকে পুলকিত করে। সত্যি বলতে আজানের সুরই আমাকে প্রথম ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে।

তিনি বলেন, তা ছাড়া অন্যের প্রতি মরক্কোর মানুষের সম্মানবোধও আমাকে স্পর্শ করে। আমি অনুভব করি, এখানকার পরিবেশ ও প্রকৃতির আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মুসলিমদের রীতি-নীতির সম্পর্কে জানার প্রচণ্ড আগ্রহ জন্মাল আমার ভেতর। ইসলাম ও মুসলমান সম্পর্কে পড়তে শুরু করলাম। কিছু পড়ার পর ইসলামের সৌন্দর্য আমাকে বিস্মিত করল। ধীরে ধীরে ইসলামের দিকে ঝুঁকে গেলাম এবং একপর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করলাম।

প্রশ্ন : জেনিফার! আপনি ২০১৩ সালে আরবের প্রসিদ্ধ সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান ‘Arabs Got Talent’-এ সেরা শিল্পী মনোনীত হয়েছিলেন। এরপর হঠাৎ করেই অন্তত তিন বছর সব রকম সংগীত থেকে আড়ালে চলে গেলেন। এই আড়ালে থাকার কোনো কারণ ছিল?

উত্তর : যদি আমার শব্দ চয়ন ঠিক হয়, তাহলে এটাকে আমি আধ্যাত্মিক সফর বলব। যখনই আপনার কোলে নতুন অতিথির আগমন হবে, স্বাভাবিকই আপনার জীবনে তখন বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তো সব কিছু গোছগাছ করার জন্য আমার একটি বিরতির প্রয়োজনও ছিল। আর এই আড়ালে থাকার আরেকটি কারণ, যেন অর্থবহ একটি নতুন ও সুন্দর জীবনে প্রবেশ করতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ! আমার বিশ্বাস, আমি লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

প্রশ্ন : আপনার কোরআন তিলাওয়াত শুনে ভক্তরা আপনার কণ্ঠকে ঐশীস্বর আখ্যা দেন। কোরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে আপনি কোন শায়েখের তিলাওয়াত বেশি অনুসরণ করেন এবং কার তিলাওয়াত বেশি শোনা হয়?

উত্তর : অনুসরণের বিষয়ে বলব, হয়তো যে কারো তিলাওয়াতের সঙ্গে আমার তিলাওয়াত মিলে যেতে পারে, তবে আক্ষরিক অর্থে আমার তিলাওয়াতের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে। আমি বলব, এটা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। আমি মিসরের বিখ্যাত কারি শায়খ সিদ্দিক আল মিনশাবির তিলাওয়াত খুব বেশি শুনি। সুন্দর ও হৃদয়গ্রাহী তিলাওয়াতে তিনি অদ্বিতীয়। মিনশাবির কণ্ঠে সুরা ইউসুফ ও সুরা তাকবির শুনতে আমার অসম্ভব ভালো লাগে।

প্রশ্ন : আপনি একাধিক দেশ সফর করেছেন। সবচেয়ে পছন্দের জায়গা কোনটি? যেখানে বারবার যেতে মন চায়?

উত্তর : মক্কা-মদিনার চেয়ে আমার কাছে বেশি প্রিয় আর কোনো জায়গা নেই। মক্কা-মুকাররমায় পবিত্র কাবা শরিফ জিয়ারত করা আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত।

প্রশ্ন : মরক্কো এসে সাঈদ নামের স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়েছেন এবং আপনাদের কোল আলোকিত করে ‘কমার’ (চাঁদ) নামের এক কন্যাসন্তানের জন্ম হওয়ার খবর শুনেছি—ব্যাপারটি কি এমনই?

উত্তর : হ্যাঁ, হ্যাঁ…।

প্রশ্ন : ‘কমার’ নামটি কি আপনার পছন্দ?

উত্তর: অবশ্যই আমার। ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে আগে থেকেই এই সুন্দর নামটি আমি মেয়ের জন্য পছন্দ করে রেখেছি। আমার মেয়ের মুখ আমার কাছে কমারের (চাঁদ) মতোই উজ্জ্বল ও সুন্দর। যখন আমার মেয়েকে গর্ভে ধারণ করি, তখনই সিদ্ধান্ত নেই, যদি আমার মেয়ে হয়, তবে তার নাম ‘কমার’ রাখব।

কুরআনের সৌন্দর্য আমাকে বিমুগ্ধ করছে: জাপানি নওমুসলিম নাকাতা

আধ্যাত্মিক পরিবেশের আকর্ষণ আমাকে টেনে নিল মসজিদের ভেতরে। আমি ধীরে ধীরে পা ফেলছিলাম। আমার কানে ভেসে আসছিল এক বিশেষ আহ্বান বা সুসংবাদ। তাতে বলা হল যে তুমি শিগগিরই সত্যকে খুঁজে পাবে।’ –এ কথাগুলো বলেছেন জাপানি নওমুসলিম নারী ‘কাওয়ারায়ি নাকাতা’। তিনি সত্যকে পেয়েছিলেন অনেক চড়াই-উৎরাইয়ের পর। নাকাতা কখনও ভাবেননি যে সত্যকে এভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে

জাপানি নওমুসলিম নারী ‘কাওয়ারায়ি নাকাতা’ কখনও স্রস্টা সম্পর্কে তেমন মনোযোগ দিয়ে ভাবনা-চিন্তা করেননি। এমন ভাবনার দরকার ছিল বলেও ভাবেননি কখনও। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আমার জীবনের সব কিছুই চলছিল ভালভাবে। আমি সৌভাগ্য অনুভব করতাম। কখনও আল্লাহর অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিনি।

কিন্তু হঠাৎ আবিস্কার করি যে, আমার জীবন পুনরাবৃত্তিতে একঘেয়ে হয়ে আছে ও জীবনের কোনো অর্থ নেই। তখন থেকেই সত্যকে খুঁজতে থাকি। নানা ধর্মের প্রচারকরা আমার বাসায় এসেছেন বেশ কয়েকবার। সে সময় খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারের জন্য একজন মহিলা নিয়মিত আমার বাসায় আসতেন। তিনি আমাকে বাইবেল শেখাতেন ও আমিও খুব আগ্রহ নিয়ে তা শিখতাম। কিন্তু আমি যার খোঁজ করছিলাম তা পেলাম না।”

নওমুসলিম মিসেস নাকাতা আরো বলেছেন: ‘আমি বসবাস করতাম কিয়েটো নামক ঐতিহাসিক শহরে। এই শহরে রয়েছে নানা ধরনের উপাসনালয়। আমাদের বাসভবনের কাছেই ছিল একটি ইবাদতকেন্দ্র বা উপাসনালয়। আমি প্রতিদিন সকালে সেখানে যেতাম ও প্রার্থনা করতাম। তিন মাস ধরে প্রতিদিন এই প্রার্থনা অব্যাহত রেখেছিলাম। সত্যের সন্ধানেই এই প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। দোয়ায় মনোযোগ নিবিষ্ট বা কেন্দ্রীভুত করা ছিল বেশ কঠিন।

তবে তা ছিল খুবই আনন্দদায়ক। কিন্তু কিছুদিন পরই অনুভব করলাম যে আমার ভেতরের জগত ও বাইরের বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক ব্যবধান। তাই আমি হতাশ হয়ে পড়ছিলাম। অথচ আমি উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে জীবন যাপন করতে আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমার প্রচেষ্টায় কোনো ফল হয়নি।’

এর কিছুকাল পর নওমুসলিম মিসেস নাকাতা জীবনের গতিপথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। পড়াশোনা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি ফ্রান্সে যান। আর এখানেই ঘটে তার জীবনে যুগান্তকারী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ প্রসঙ্গে নাকাতা বলেছেন:

‘ফ্রান্সে পরিচিত হই এক মুসলমানের সঙ্গে। তিনি নিজের ধর্ম ইসলামকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন ও সমস্ত শক্তি আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে এ ধর্মের পক্ষে কথা বলতেন। তার ওই দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস দেখে আমার নিজের জন্য অনুশোচনা হত। কারণ, আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম।

আর এ জন্য অনেক গবেষণা ও পড়াশুনার পর যখন হতাশায় ডুবে ছিলাম তখন দেখলাম যে এই মুসলমান ইসলামকে ভালবাসতেন গভীরভাবে ও এর ছায়াতলে মানসিক প্রশান্তি অনুভব করছেন। তাই আমি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে গবেষণার সিদ্ধান্ত নিলাম যাতে এ ধর্মের অনুসারীদের এত গভীর আত্মিক প্রশান্তির উৎস সম্পর্কে জানতে সক্ষম হই। সে সময় পর্যন্ত অনেক ধর্ম আমাকে আকৃষ্ট করলেও ইসলামের প্রতি একবারও আকৃষ্ট হইনি।’

জাপানি নওমুসলিম মিসেস নাকাতা ফরাসি ভাষায় অনূদিত পবিত্র কুরআনের একটি কপি সংগ্রহ করেন ও তা পড়তে থাকেন। এ মহাগ্রন্থ পড়ার সময় তিনি অনুভব করেন যে, এ আসমানি বই পড়ার জন্য কারো সাহায্য নেয়া জরুরি। ফলে হঠাৎ বিদ্যুতের মতই নাকাতার মাথায় এক ঝলকের মধ্যে ভেসে উঠল সেই মুসলিম মহিলার মুখখানি। ফলে তিনি মুসলমানদের ইবাদত-কেন্দ্র তথা মসজিদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নাকাতা এ প্রসঙ্গে বলেছেন:

‘অবশেষে একদিন মসজিদে গেলাম। মসজিদের পরিবেশ ছিল আমার জন্য এক অচেনা ও অপরিচিত জগত। কিন্তু বিস্ময়কর এক প্রশান্তি অনুভব করলাম। মসজিদটি ছিল এক বিশেষ আধ্যাত্মিক সুরভিতে ভরপুর।

নীরবতা সেই পরিবেশকে করেছিল আরো প্রাণস্পর্শী ও মধুর। প্রাণজুড়ানো সেই আধ্যাত্মিক পরিবেশের আকর্ষণ আমাকে টেনে নিল মসজিদের ভেতরে। ধীরে ধীরে পা ফেলছিলাম। আমার কানে ভেসে আসছিল এক বিশেষ আহ্বান বা সুসংবাদ। তাতে বলা হল যে তুমি শিগগিরই সত্যকে খুঁজে পাবে।’

এ সময় মসজিদের বারান্দায় বই-পুস্তকের একটি ছোট্ট দোকান দেখলাম। কাছে গিয়ে বিক্রেতাকে বললাম:

‘আমি এমন একজনকে খুঁজছি যে ইসলামকে আমার কাছে পরিচিত করবে। সে আমাকে মসজিদের লাইব্রেরিতে নিয়ে গেল। সেখানে পৌঁছে দেখলাম যে একদল মুসলিম মহিলার জন্য ধর্ম বিষয়ক ক্লাস চলছিল এবং তা মাত্র কিছুক্ষণ আগে শেষ হল। সেই প্রথম আমি হিজাব পরিহিতা কোনো মুসলিম নারীকে দেখেছিলাম।

তারা আমার প্রস্তাব শুনে খুব খুশি হয়ে আমাকে স্বাগত জানালেন। তারা ছিলেন সবাই সক্রিয়, প্রাণোচ্ছ্বল ও প্রফুল্ল। তাদের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী প্যারিসে যে কয়েকটি বৈঠক হতো তাতে উপস্থিত হতাম। মুসলমানদের এইসব বৈঠকে আমার উপস্থিতি ধীরে ধীরে আমার মানসিকতাকে বদলে দেয় এবং বেশ কিছু বই পড়ার পর ইসলাম সম্পর্কে আমার ধারণা বদলে যায়।

আমি বুঝতে পারলাম যে ইসলামে কোনো কিছুই জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয় না। ইসলাম জীবন যাপনের যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পথ দেখায়। কোনো কোনো ধর্ম বা মতবাদ সব ধরনের বস্তুগত, জৈবিক বা পার্থিব চাহিদাকে উপেক্ষা করে কেবল পারলৌকিক বিষয়কে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু ইসলাম আত্মা ও শরীরের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে বলে। অর্থাৎ ইসলাম আত্মিক ও শারীরিক উভয় চাহিদাকেই গুরুত্ব দেয়।’

জাপানি নওমুসলিম মিসেস নাকাতা ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণার পর এ ধর্ম সম্পের্ক নানা বাস্তবতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ইসলাম অর্থ আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ।

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রত্যেক মানুষের মূল্য নির্ভর করে তার ঈমান ও সৎ কর্ম সম্পাদনের ওপর। যখন খ্রিস্ট ধর্মের পেছনে ছুটতাম তখন এ ধর্মের পক্ষ থেকে বলা হত যে আমাদের পাপগুলো জন্মগত।

অথচ এ কথা আত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে মোটেই যৌক্তিক বা বোধগম্য নয়। কিন্তু ইসলাম বলে সব মানুষই জন্মগতভাবে পবিত্র ও নিরপরাধ; আর পরবর্তীকালে প্রত্যেক মানুষ নিজেই তার পাপের জন্য দায়ী। আর এ কথা খুবই যৌক্তিক। ইসলাম খুবই সহজ ও স্বচ্ছ ধর্ম। এ ধর্মে কোনো জটিল তত্ত্ব নেই।’

জাপানি নওমুসলিম মিসেস নাকাতা মুসলমানদের সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বেশ আনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করছিলেন। যেসব মুসলিম মহিলা তাকে পথ প্রদর্শন বা গাইড করছিলেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন নাকাতা এবং মুসলমানদের প্রথা ও রীতিগুলো রপ্ত করে নেন তাদের কাছে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন:

‘আমি তাদের সঙ্গে মসজিদে যেতাম ও তাদের চাল-চলন বা গতিবিধি খুব আগ্রহ নিয়ে লক্ষ্য করতাম। অনেক সময় তাদের সম্মান দেখানোর জন্য তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নামাজের অঙ্গভঙ্গিগুলো করে যেতাম যদিও নিজেও বুঝতাম না যে নামাজ আদায় করছি। মুসলমানদের আলোচনা অনুষ্ঠানগুলোতেও অংশগ্রহণ করতে থাকি।

যেসব বক্তব্য শুনতাম সেসবকে আমার হৃদয় যেন শুকনো মাটি বা বালির দ্রুত পানি শুষে নেয়ার মতই গ্রহণ করত। এসব বক্তব্য আমাকে দিত আধ্যাত্মিক আনন্দ। ধীরে ধীরে অনুভব করলাম যে বহু বছর ধরে আমি যে সত্যের সন্ধান করছি তা পেয়েছি। অবশ্য এ জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। যতই ইসলাম সম্পর্কে বেশি তথ্য জানছিলাম ততই এ ধর্মকে গ্রহণের ইচ্ছাও আমার মধ্যে জোরদার হচ্ছিল। অবশেষে এই সাক্ষ্য দিলাম যে, আল্লাহ এক এবং মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর রাসূল। ‘

নামাজ মিসেস নাকাতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার মতে নামাজ মানুষের বিশ্বাস বা ঈমানকে সুদৃঢ় করে। মুসলমান হওয়ার পর প্রথম নামাজ আদায়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে নাকাতা বলেছেন:

‘যখন প্রথমবার সিজদার উদ্দেশ্যে কপাল মাটিতে রাখলাম এক ও দয়ালু আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে তখন আমার মধ্যে দেখা দিয়েছিল অসাধারণ অনুভূতি এবং নিজের মাথা জমিন থেকে ওঠাতে পারছিলাম না। যখনই সিজদায় যেতাম তখনই আল্লাহর অস্তিত্বকে ও ঈমান বা বিশ্বাসের অর্থকে বেশি মাত্রায় অনুভব করতাম। আর এটা ছিল এক সুন্দর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা যা আমি অন্য ধর্মগুলোর মধ্যে পাইনি।’

জাপানি নওমুসলিম মিসেস নাকাতা কিছুকাল পর মিশরে যান আরবী ভাষা ও ইসলামী শিক্ষা আরো ভালোভাবে রপ্ত করার জন্য। আরবী ভাষা ভালোভাবে বোঝার পর নাকাতা কুরআনের বাণীর অর্থগুলো আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করতে থাকেন: তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আরবী ভাষা মোটামুটি বোঝার পর কুরআনের সৌন্দর্য আমাকে বিমুগ্ধ করছে। কুরআনের বিষয়বস্তুগুলো ছাড়াও এর সুরও অশেষ সৌন্দর্যে ভরপুর।

কুরআন বার বার পড়লেও ক্লান্ত হওয়া তো দূরের কথা বরং আমার অন্তর যেন সৌভাগ্যের সাগরে অবগাহন করতে থাকে। মহান আল্লাহ আমাকে এই সৌভাগ্য নসিব করেছেন বলে আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ এবং আমি ইসলামকে আমার দেশের জনগণের কাছে তুলে ধরছি। যে সৌভাগ্য কেবল এক আল্লাহকে চেনা ও জানার মাধ্যমে পাওয়া যায় সে সৌভাগ্য তারাও অর্জন করুক- এই আমার প্রার্থনা। আমি সুনিশ্চিত যে আল্লাহর ওপর ভরসার সুবাদে সব কিছুই ঠিক হয়ে যাবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.