ভিসি’র ঘুমে ব্যাঘাত, যোগীর রাজ্যে সরানো হলো মসজিদের মাইক

মাইকে আজানের শব্দে কাঁচা ঘুম ভে’ঙে যাচ্ছে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সঙ্গীতা শ্রীবাস্তবের! মাননীয়া ভিসির নাকি সারা দিনই বরবাদ হয়ে যাচ্ছে ভোরের ওই আজান শুনে।

ঘুম পুরো হচ্ছে না বলে সারা দিন ক্লান্তি ভাব, মাথা ধরে থাকছে সর্বক্ষণ। ভয়ঙ্কর ক্ষ’তি হচ্ছে তার কাজেরও। এই অ’ভিযো’গ নিয়ে হস্তক্ষেপের দাবি করে গত ৩ মার্চ প্রয়াগরাজের জেলাশাসক ভানুচন্দ্র গোস্বামীকে চিঠিও লিখেছিলেন তিনি।

সপ্তাহদুয়েক আগেকার সেই চিঠির কথা বুধবার প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি কোনও জাত বা ধর্মের বি’রু’দ্ধে নই। কিন্তু এতে তো বাকিদের শা’ন্তিভ’ঙ্গ হচ্ছে। অন্যের অসুবিধা না-করে ওরা তো মাইক ছাড়াও আজান দিতে পারেন!

আমাদের সংবিধান কিন্তু সব ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা বলে। এর প্রতিফলন কথায় এবং কাজে থাকাটাই কাম্য।’ চিঠি ভাইরাল হওয়ার পরে এ দিনই বিশ্ববিদ্যালয় লাগোয়া ওই মসজিদ কর্তৃপক্ষ সাউন্ড কমিয়ে দিয়েছেন মাইকের। ভিসি’র কথা ভেবে একটি মাইকের অভিমুখও ঘোরানো হয়েছে বলে জানান তারা।

চিঠিতে ভিসি লিখেছিলেন, তার আপত্তি আজানে নয়, মাইকের শ’ব্দদূ’ষণে। ঘুমের সঙ্গে কোনও রকম আপসে নারাজ তিনি এবং আরও অনেকেই। যেমন মাইকে আজানকে সরাসরি গু’ন্ডাগিরির তকমা দিয়ে বছর চারেক আগে সরব হয়েছিলেন সঙ্গীতশিল্পী সোনু নিগম। এ নিয়ে সমাজের নানা অংশে হইচই শুরু হওয়ায় শেষমেশ অবশ্য ক্ষমাও চান সোনু।

তবু পাঁচ ওয়াক্তের মধ্যে বিশেষত ভোরের ওই তিন মিনিটের আজান নিয়ে আপত্তি উত্তরোত্তর যেন বেড়েই চলেছে দেশে। গত বছর লকডাউনের সময়েও যোগীরাজ্যের তিন জেলা থেকে এমন আপত্তি উঠে এসেছিল।

কড়া হয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। পরে এর পাল্টা একাধিক জনস্বার্থ মামলার রায় দিতে গিয়ে মে-র মাঝামাঝি এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানায়- আজান বন্ধের নির্দেশ দেয়া সম্ভব নয়, তবে প্রশাসনের আগাম অনুমতি ছাড়া মাইক ব্যবহার করা যাবে না।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ডিএম-কে লেখা চিঠিতে হাইকোর্টের এই রায়ের প্রতিলিপিও তুলে ধরেন ভিসি সঙ্গীতা। সেই রায়, যা বেরোনোর পরে এলাহাবাদ হাইকোর্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে তসলিমা নাসরিন টুইট করেছিলেন- ‘আজান ঠিক আছে।

কিন্তু মাইকের শব্দদূষণ মেনে নেয়া যায় না। ১৪০০ বছর আগে কি মাইক ছিল? তাহলে!’