ইসলাম গ্রহণ করে রাস্তায় রাত কাটাতে হয়েছে

একই সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তাঁর আচার-ব্যবহারে আমূল পরিবর্তনের বিষয়টি পরিবারের দৃষ্টিগোচর হয় এবং তাঁর ওপর নজরদারি শুরু করে। বিভিন্ন সময় তাঁর ঘরে অ’ভিযান চালাত।

মুসলিম হওয়ায় পরিবারচ্যু’ত : একদিন শাদাবের পরিবার তাঁর ব্যাগে তাসবিহ, টুপি ও নামাজের বই পায়। তাঁকে স্থানীয় একটি মসজিদে প্রবেশ করতে দেখেছে বলে পরিবারকে এলাকার মানুষ জানায়।

অতঃপর পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকলে ২৩ বছর বয়সে শাদাবকে পরিবারচ্যু’ত করা হয়। শাদাব তখন বেকার, না খেয়ে রাস্তাঘাটে, পার্কের বেঞ্চে বা দোকানের সিঁড়িতে রাত কাটাতেন। কিছুদিন পর স্থানীয় একটি মসজিদে শাদাব প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করেন।

আল্লাহর অনুগ্রহের দিকে ছুটে চলা : আত্মিক প্রশান্তির জন্য শাদাব কোরআন তিলাওয়াত করতেন। পবিত্র কোরআন পাঠ শুরুর পর তাঁর ইসলাম গ্রহণের যাত্রা আরো সুদৃঢ় হয়।

শাদাব বলেন, ‘আমি শুনেছি, আপনি আল্লাহর দিকে হেঁটে চললে, আল্লাহ আপনার দিকে ছুটে আসবেন। আমি শুধু হামাগুঁড়ি দিয়েছি। আর তখনই আল্লাহ আমার জন্য শুধু পথ উন্মোচন করেননি; বরং ইসলামের মৌলিক বিধিবিধান বোঝার সুযোগও তৈরি করেছেন।’

ইসলামের প্রতি গভীর ভালোবাসা : শাদাবের একজন মুসলিম বন্ধুর ঘরে শাদাব আশ্রয় নেন। শাদাব তাঁদের নিজের পরিবার বলে মনে করেন। কিছুদিন পর শাদাব একটি চাকরি জুটিয়ে নেন। কিন্তু সে চাকরির অভিজ্ঞতাও খুব মধুর ছিল না।

অফিসে সিদ্ধার্থ ও বাইরে শাদাব নামে নিজের পরিচয় দেন। অফিসের নিরিবিলি স্থানে নামাজ আদায় করেন। আর বিভিন্ন সময় গভীর মনোযোগ দিয়ে মসজিদের খুতবা শোনেন।

ফলে ইসলামের সঙ্গে শাদাবের সম্পর্ক প্রতিদিন গভীর হতে থাকে। ইসলামী জীবনযাপনে শাদাব এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েন যে হাঁটতে গিয়ে আজান শুনলে অজান্তেই টুপির জন্য পকেটে তাঁর হাত চলে যায়। কিন্তু নিজেকে শাদাব সামলে নিতেন।

মুসলিম বন্ধুদের বিস্ময় : শাদাবের মুসলিম বন্ধুরা ইসলাম গ্রহণের খবর পায়। তারা শাদাবের সিদ্ধান্তকে ‘নিজের হাতে কব’র খনন’তুল্য বলে অবিহিত করে। কেননা সাম্প্রতিককালে ভারতে মুসলিমদের অবস্থানের কথা কারো অজানা নয় এবং তাঁর নিজেরও রয়েছে চাক্ষুষ বহু তিক্ত অভিজ্ঞতা।