সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা

সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা
সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। শনিবার (৩ এপ্রিল) সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজ বাসভবনে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

মহামা’রি করোনা ভাইরাসে দেশে গতকাল শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় মা’রা গেছেন আরও ৫০ জন। এ নিয়ে মৃ’তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১৫৫ জনে।

এছাড়া দেশের ইতিহাসে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৮৩০ জন করোনা রো’গী শনা’ক্ত হয়। এ নিয়ে দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৪ জনে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) দেশে আরও ৬ হাজার ৪৬৯ জনের দে’হে করোনা শনাbক্ত হয়। এছাড়া আক্রা’ন্তদের মধ্যে মা’রা যান আরও ৫৯ জন।

মহামারি আকার ধারণ করা করোনায় গত কয়েকদিনের ধারাবাহিক শনাক্ত ও মৃ’ত্যু ভয়ঙ্ক’র রূপ ধারণ করার পর সরকার এমন কঠিন সিদ্ধা’ন্ত নিল।

ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা:)কে উদ্দেশ করে নোং’রা, বিদ্বে’ষপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্য করার দায়ে সৌরভ চৌধুরী (২৪) নামের চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর এক শিক্ষার্থীকে গ্রে’ফতা’র করেছে পুলিশ।

রবিবার(২১ মার্চ) ভোর ৪ ঘটিকায় চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার (রাউজান- রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম’র নেতৃত্বে রাউজান থানা পুলিশের দল চট্টগ্রাম মহানগরীর উত্তর নালাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আট’ক করে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত রাত ৩টা ৩০ ঘটিকায় ২০/৩০ জন পুলিশ সদস্য উত্তর নালাপাড়ার ১৩৫ নং বাসাটি (হাজী ইয়াকুব মঞ্জিল) ঘিরে ফেলে। পরবর্তীতে পূর্বসংবাদের ভিত্তিতে ওই ভবনের ৭ তলায় অভিযান চালিয়ে ব্যবহৃত স্মার্টফোনসহ সৌরভকে আট’ক করে নিয়ে যায় তারা।

এ সময় সার্কেল এএসপি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল হারুন এবং সেকেন্ড অফিসার অজয় দেব। আট’ক সৌরভ চৌধুরীর বিরু’দ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে রাউজান থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মা’মলা দায়ের করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ১৯ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহম্মদ (স:)-কে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ চৌধুরী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি এই কটূ’ক্তি করেন। তার এমন উগ্র আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চুয়েটের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।

চুয়েট আড্ডাবাজ নামক একটি গ্রুপ থেকে তার কটূ’ক্তি সম্বলিত স্ক্রিনশট ভাইরাল হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার বহিষ্কার ও তার বিরু’দ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

শিক্ষার্থীদের থেকে জানা যায়, তিনি শিক্ষাজীবনে অত্য’ন্ত মেধাবী একজন ছাত্র। তিনি বর্তমানে পুরকৌশল বিভাগের সর্বোচ্চ সিজিপিএ ধারণ করছেন।

পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শহীদুল ইসলাম বলেন, তিনি হয়তো এখন শিক্ষক হবেন, পরে বিভাগীয় প্রধান কিংবা ডিন হবেন, কোনো হলের প্রভোস্ট কিংবা ছাত্র কল্যাণ এর পরিচালক হিসেবেও তাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। অথবা সরকারী বড় কোন দপ্তরের কোন নীতিনির্ধারক এর পদে বসলেন।

কিন্তু তার যে ধরনের মন মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখলাম তাতে অদূর ভবিষ্যতে আমরা, বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশের জনগণ ভালো কিছু আশা করতে পারছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, আমরা বিষয়টি ইতিমধ্যেই জেনেছি,আমি নিজেও চুয়েট আড্ডাবাজে মুসলিম অমুসলিম সবার বক্তব্য পড়েছি। তারা তাদের ক্ষু’ব্ধ মনোভাব প্রকাশ করার পাশাপাশি তার শা’স্তির দাবিও জানিয়েছে।

এসব বিষয়ে আসলে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নাই। তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে আগামীকাল শৃ’ঙ্খলা কমিটির আলোচনা সভা হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে গ্রে’ফতা’র অভিযা’নের নেতৃত্বে থাকা চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার (রাউজান- রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, ফেসবুকে ধর্মীয় উষ্কা’নিমূলক ও রাষ্ট্রবিরো’ধী মন্তব্য করায় গতরাতে আ’সামি সৌরভ চৌধুরীর বিরু’দ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মা’মলা করা হয়। এই প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম নগরের নালাপাড়া এলাকা থেকে আমরা তাকে গ্রে’ফতা’র করি।

উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে নবী করিম(স:)-কে নিয়ে কটূ’ক্তি করায় রায়হান রোমান নামের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে চুয়েট প্রশাসন।

ঘর, বাড়ি ও আবাসস্থল মানুষের মৌলিক প্রয়োজনগুলোর অন্যতম। মানবজীবনে শান্তি ও স্থিতির জন্য ঘরবাড়ি অপরিহার্য। পবিত্র কোরআনেও ঘরবাড়ির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের ঘরকে করেন তোমাদের জন্য আবাসস্থল এবং তিনি তোমাদের জন্য পশুর চামড়ার তাঁবুর ব্যবস্থা করেন—তোমরা তাকে সহজ মনে কর ভ্রমণকালে ও অবস্থানকালে।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ৮০)

মানবিক এই প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে ছিলেন না নবী-রাসুলগণ। তাঁরাও মানবিক প্রয়োজন মেটাতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। তবে তাঁদের ঘরবাড়ি ছিল প্রদর্শন ও অর্থহীন জৌলুসমুক্ত।

প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)ও নিজের জন্য আবাস তৈরি করেছিলেন; যে ঘর মানুষকে মনে করিয়ে দেয় এই জীবন চিরদিনের জন্য নয়, বরং মুমিনের জন্য পরকালীন জীবনই প্রকৃত আবাস।

মদিনায় রাসুল (সা.)-এর বাড়ি

মদিনায় হিজরত করার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে নববি নির্মাণ করেন। মসজিদের পাশেই তাঁর দুই স্ত্রীর জন্য নির্মাণ করেন দুটি কক্ষ, যার একটি সাওদা বিনতে জামআ (রা.) ব্যবহার করতেন এবং অন্যটি আয়েশা (রা.)।

নির্মাণকালে কক্ষ দুটি ছিল মসজিদের পূর্ব দিকে। তখন কিবলা ছিল বায়তুল মোকাদ্দাস। কিবলা পরিবর্তন হওয়ার পর কক্ষ দুটি পশ্চিম দিকের দেয়ালের ওপাশে এবং নামাজের স্থান থেকে বাম পাশে চলে যায়। অন্য কক্ষগুলো পরবর্তী সময় প্রয়োজন অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়। তবে মসজিদের দেয়াল ও ঘরগুলোর মধ্যে পাঁচ গজের মতো দূরত্ব ছিল।

মসজিদে নববির পাশের ও সংলগ্ন ভূমির মালিক ছিলেন হারিস ইবনে নোমান (রা.)। সেখানে তাঁর বাড়ি ছিল। কিন্তু তিনি তা মহানবী (সা.)-এর প্রয়োজনে ছেড়ে দেন। তিনি উপহার হিসেবে ছেড়ে দিলেও রাসুল (সা.) তাঁকে উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করেন। তাঁর পুরো বাড়িই রাসুল (সা.) ও তাঁর পবিত্র স্ত্রীদের জন্য ব্যবহৃত হতো। (আল ওয়াফা বি-আহওয়ালিল মোস্তফা, পৃষ্ঠা-২৬০)

সেখানে মোট ৯টি ঘর নির্মাণ করা হয়। অবকাঠামোতে কাঁচা ইট ও খেজুরের ডাল ব্যবহার করা হয়। চারটি ঘরের সামনে পাথরের দেয়াল বা বেড়া ছিল। অন্যগুলোর সামনে শক্ত মাটির দেয়াল ছিল, যেন কেউ সহজেই ঢুকে যেতে না পারে। প্রতিটি ঘরের ছিল দরজা ও জানালা।

হাদিসের বর্ণনা থেকে পাওয়া যায়, আয়েশা (রা.)-এর ঘরে এক পাল্লাবিশিষ্ট কাঠের দরজা ছিল এবং তার সামনে পর্দা ঝোলানো থাকত। কোনো কোনো ঘরের সামনে ছোট কক্ষও ছিল। সে ক্ষেত্রে মূল কক্ষে লাকড়ির তৈরি দরজা থাকত এবং ছোট কক্ষের দরজায় পর্দা ঝোলানো থাকত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘরে সাধারণ পশমের তৈরি কাপড়ের পর্দা ব্যবহৃত হতো।

স্ত্রীদের জন্য তৈরি ঘরগুলো ছিল অপ্রশস্ত। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতের বেলা নামাজ আদায়ের সময় আয়েশা (রা.)-এর হাতের তালু তাঁর পায়ের নিচে পড়েছিল—এ থেকেই ঘরের উচ্চতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। হাসান বসরি (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি উসমান (রা.)-এর শাসনামলে রাসুল (সা.)-এর স্ত্রীদের ঘরে প্রবেশ করেন। তিনি তাঁর হাত দিয়ে ছাদ স্পর্শ করেন।

ঘরের আসবাব

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘর সম্পর্কে জানার পর তাঁর ঘরের জিনিসপত্র সম্পর্কে জানা যেতে পারে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিছানা ছিল চামড়ার তৈরি এবং তার ভেতরে ছিল খেজুরগাছের ছাল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৫৬)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, তাঁর ব্যবহৃত বালিশও ছিল চামড়ার তৈরি, যার ভেতরে ছিল খেজুরগাছের ছাল। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪১৪৬)

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর বর্ণনায়ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘরের আসবাবের বিবরণ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) একটি চাটাইয়ের ওপর শুয়ে ছিলেন। চাটাইয়ের ওপর কিছুই ছিল না। তাঁর মাথার নিচে ছিল খেজুরের ছালভর্তি চামড়ার বালিশ।

আমি তাঁর শরীরে চাটাইয়ের দাগ দেখে কেঁদে ফেললাম। তিনি বলেন, কাঁদছ কেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! কায়সার ও কিসরা ভোগ-বিলাসে মত্ত অথচ আপনি আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে তাদের জন্য পার্থিব জীবন ও আমাদের জন্য পরকাল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৯১৩)

এ ছাড়া মহানবী (সা.) খেজুর পাতার ছোট চাটাইয়ের ওপর নামাজ আদায় করতেন। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৬৫৬)

এ ছাড়াও রাসুল (সা.)-এর ঘরে একটি চেয়ার, চামড়ার মশক ও লাল রঙের চামড়ার তাঁবু থাকার বর্ণনা পাওয়া যায়।

বেছে নিয়েছিলেন কৃচ্ছ্রের জীবন

রাসুলুল্লাহ (সা.) সাদাসিধে ও কৃচ্ছ্রের জীবন নিজেই বেছে নিয়েছিলেন; যেন উম্মত পার্থিব জীবনের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে জানতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমার ও দুনিয়ার দৃষ্টান্ত একজন আরোহীর মতো—যে একটি গাছের নিচে ছায়া গ্রহণ করে, বিশ্রাম করে এবং তাকে ছেড়ে চলে যায়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৩৭৭)

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিছানা দেখে একজন আনসারি নারী তাঁর জন্য তুলার একটি বিছানা পাঠালে তিনি তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং বলেন, ‘আমি যদি আল্লাহর কাছে প্রতিদান চাইতাম, তবে তিনি আমাকে পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ-রৌপ্য দান করতেন।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ১৩৯৫)

উল্লেখ্য, মক্কায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিজস্ব কোনো ঘর বা বাড়ি ছিল না। খাদিজা (রা.)-কে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত দাদা ও চাচার সঙ্গে থাকতেন এবং বিয়ের পর খাদিজা (রা.)-এর বাড়িতেই থাকতেন।