হেফাজত নেতা মামুনুল হক ‘জঘন্য ব্যক্তি’ : ডা. জাফরুল্লাহ

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ‘জঘন্য ব্যক্তি’ বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আমার মতে মামুনুল হক একটা জঘন্য ব্যক্তি, ‘নাস্তিকের কোনো বাঁচার অধিকার নেই’ উনি যেসব কথা বার্তা বলেন, এই দেশ কি উনি করেছেন? আমরা করেছি। এই দেশের জন্য আমার ভাই প্রাণ দিয়েছে, আপনার বোন প্রাণ দিয়েছেন, তাদের দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশ।

মামুনুল হকের দ্বারা বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়নি। মামুনুল হকরা এজেন্ট প্রভোকেটর। যখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুড়ছে তখন উনি ফূর্তি করতে গেছেন রিসোর্টে। ওই নারী তার ন্যায্য স্ত্রী কিনা প্রমাণ দিতে হবে। তাদের অনেকে নারী নির্যাতনের সাথে জড়িত।’

অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের মতাদর্শ, রাজনীতি, কিংবা কর্মকাণ্ড কোনটাকেই সমর্থন করেন না বলে সাফ জানান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমরা হেফাজতকে সমর্থন করি না, করবো না। তাদের সাথে আমাদের কোন সর্ম্পক নেই, কোনভাবেই না।’
ধর্মের নামে হেফাজত নেতারা দেশে সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছেন এমন অভিযোগ তুলে সংগঠনটির বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থান নেয়ার দাবি জানান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
তিনি বলেন, আমার মনে হয় সরকার এখনও হেফাজতের বিষয়ে নমনীয়। আরও আগে হেফাজতের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিলে তারা এতো বাড়তে পারতো না।

হেফাজতকে সঠিক মানবিক ইসলামের পথে আসার আহ্বান জানিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আজকে শুধু লম্বা শার্ট পরলে ইসলাম হয় না। মনের দিক থেকে অন্তরের দিক থেকে রাসূল (সা:) কে অনুসরণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সহিংসতার ঘটনায় শুধু হেফাজতের লাঠিয়ালদের নয়, যারা নিশ্চুপ ছিলো বা দায়িত্বে অবহেলা করেছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

হেফাজত নেতাকর্মীদের হামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সোমবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে বাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের হামলাকে একাত্তরে মার্চ মাসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চালানো বর্বরতার সঙ্গে তুলনাও করেন মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।

তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া গিয়ে আমরা যে দৃশ্য দেখেছি তা শুধু একাত্তরের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার কর্মী রুমী আমাতুল্লাহ বলেন, হেফাজতসহ সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তিনি বলেন, ঢাকায় বায়তুল মোকাররমে হেফাজত ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করলেও, পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থা কেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাদের পুনরায় হামলার আভাস পায়নি? এমনকি হামলার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জান-মালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, সবখানে হেফাজতের তাণ্ডব। রেলস্টেশনে আগুন দেয়া থেকে ভূমি অফিস পোড়ানো পর্যন্ত। আমরা এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না।

রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য হাসনাত কাইয়ুম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতার ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত তদন্ত করে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
অন্যদিকে হেফাজতের সহিংসতার ঘটনায় হাজারো অজ্ঞাতনামা আসামি না করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন ও মামলা করার দাবি জানান গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।

২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায় হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীরা। পুরো জেলাশহর জুড়ে চালানো হামলায় শতাধিক সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা, বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়।

হেফাজত কর্মীদের সেই হা*মলা থেকে বাদ পড়েনি রেল স্টেশন, ভূমি অফিস, ট্রেন, পুলিশ লাইন, সদর থানা, হাইওয়ে থানা ও টোল প্লাজা। এমনকি হা*মলায় দেশের সংস্কৃতির অন্যতম তীর্থস্থান সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে হেফাজত।

ভয়াবহ সেই হা*মলার ৭ দিনের মাথায় হেফাজত ইসলামের সেই তাণ্ডবের সমালোচনা করে সোমবার রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করেন ১৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক।