হিন্দুরা ভারতে মুসলিম গণহত্যায় মেতেছে : এরদোয়ান

0

ভারতের নয়াদিল্লিতে গেল তিনদিনের সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। দিল্লিজুড়ে এখনও জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা।আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২০০ চেয়ে বেশি মানুষ।

এমন অবস্থায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনে ভারতের ক্ষমতাসীন সরকার বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। এএফপির বরাতে ইন্দোনেশিয়ার গণমাধ্যম জাকার্তা পোস্ট এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক ভাষণে তিনি নয়াদিল্লির সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনায় ভারতের সমালোচনা করে দ্রুত এই গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানান।

এরদোয়ান বলেন, ভারত বর্তমানে এমন একটি দেশে পরিণত হয়েছে, যেখানে ব্যাপক আকারে গণহত্যা চলছে। কোন গণহত্যা? মুসলিম গণহত্যা। কারা করছে? হিন্দুরা। এ সময় তিনি আরও বলেন, এসব মানুষ কিভাবে বিশ্ব শান্তির পক্ষে কাজ করবে! কোনোভাবেই সম্ভব না। তাদের জনসংখ্যা অনেক বেশি। তারা বলে তারা অনেক শক্তিশালী, কিন্তু এটা তো শক্তি না।

এর আগে নাগকিত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে দেশটির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবকের কর্মী-সমর্থকদের সংঘাত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রুপ নেয়। গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে মুসলিমবিদ্বেষী কট্টরপন্থী হিন্দুরা বেছে বেছে নয়াদিল্লির বেশ কিছু এলাকায় মুসলিমদের বাড়ি-ঘর, দোকানপাট ও মসজিদে হামলা এবং অগ্নিসংযোগ করে।

নয়াদিল্লিতে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া শিশুরাও দাঙ্গাবাজদের কবল থেকে রক্ষা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, শিশুদের ধাতব লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশে মারধর করা হয়েছে। তুর্কি এই প্রেসিডেন্ট বলেন, এ ধরনের মানুষ কীভাবে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে? এটা অসম্ভব।

এর আগে, বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নয়াদিল্লিতে মুসলিম নিপীড়ন বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্ট হয়েও নিয়মিত নাতিদের কুরআন শিক্ষা দেন এরদোগান!

তুরস্কের এই প্রেসিডেন্টের ৩০ পারা কুরআনের হাফেজ তা জানেন না অনেকেই। শুধু তাই নয়, বর্তমানে পৃথিবীতে তিনি একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট এবং পবিত্র কুরআনে হাফেজ। পার্লামেন্টে মাঝে মাঝেই তিনি নামাজের ইমামতি করেন এবং তুরস্কে অনেক মসজিদে তিনি ইমামতি করেছেন।

প্রেসিডেন্টের উদ্যোগে প্রতি বছর কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং এতে মুসলিম দেশের অনেক হাফেজই অংশ গ্রহণ করে থাকে। পবিত্র হজও পালন করেছেন তিনি। তার সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ শেয়ারও হচ্ছে।

এবার তুরস্কের বহুল প্রচারিত পত্রিকা ইয়েনী সাফাক শুক্রবার এরদোগান এবং তার নাতীকে একটি ছবি নিয়ে ছাপিয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে- এই সামান্য অবসরের সময়ে এরদোগান তার নাতীকে কুরআন শিখাচ্ছেন।

ইয়েনী সাফাক পত্রিকার প্রতিবেদন লিখেছে, এরদোগানের মেয়ের জামাই ও তুরস্কের জ্বালানী এবং খনিজ সম্পদমন্ত্রী বেরাক আলবাইরাকের ছেলে আহমেদ আকিফ আলবাইরাকের প্রিয় সময় তার নানার সাথে কাটানো সময়গুলো!

গভীর রাতে কিংবা একদম ভোরে হয়তো কিছুটা সময় মিলে। যে সময়টা উনি পরিবারের সাথে কাটান। সময়ে পেলেই এরদোগান তার নাতীকে কুরআন শিখাচ্ছেন।

মহানবী আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা: এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়িব এরদোগান বলেছেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ ও অনুসরণের ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা। বুধবার রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত একটি সভায় কীর্তিমান ঐতিহাসিক নেতাদের সম্পর্কে এক যুবকের করা প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এরদোগান বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষদের মধ্যে এমন অনেক মহান নেতা আছেন, যারা তার সময়ের কীর্তিমান পুরুষ হিসেবে গোটা বিশ্বেই প্রভাব সৃষ্টি করেছেন এবং আজও তারা ইতিহাসের উদাহরণ। তুর্কি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ও আধুনিক তুরস্কের রূপকার মুস্তফা কামাল আতাতুর্কও এমনি একজন মহান নেতা।

কাতারের আমির শায়েখ তামিম বিন হামদ আস সানিকেও বর্তমান সময়ের অন্যতম গ্রহণযোগ্য নেতার স্বীকৃতি দিয়েছেন এরদোগান। এরদোগান বলেন, শায়েখ তামিম প্রগতিশীল একজন যুবক নেতা, তার সবচে’ বড় গুণ হল, তিনি সবসময় দরিদ্র দেশসমূহের পাশে দাঁড়ান।

তবে ইউরোপের বিস্তৃত ভূখণ্ডে আদর্শিক কোন নেতাই নেই বলে মন্তব্য করেন এরদোগান। ‘আমি ইউরোপ জুড়ে বর্তমানে বাস্তবিক কোন নেতা দেখিনা।’ যোগ করেন এরদোগান।
প্রাক্তন জার্মান চ্যান্সেলর জেরহার্ড শ্রয়েডারকে একজন সফল নেতা আখ্যা দিয়ে এরদোগান বলেন, নেতৃত্বের গুণ খুব ভালভাবেই রপ্ত করতে পেরেছিলেন তিনি, আর সত্যবাদিতায় সে ওপরের সারির মহান এক নেতা ছিলেন।

কুরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই মুসলমান হয়েছেন কানাডার অধ্যাপক

কানাডার সাবেক খ্রিস্টধর্ম প্রচারক ছিলেন অধ্যাপক ড. গ্যারি মিলার। তিনি পবিত্র কুরআনের মধ্যে ভুল খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন। কুরআনের ভুল বের করে যাতে ইসলাম ও কুরআন বিরোধী প্রচারণা চালানো সহজ হয় সেজন্য তিনি এ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কুরআন পড়ার পর তার ভিতরে অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। ফলে নিজেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হন। ইসলাম গ্রহণের পর তার দেয়া হয়েছে আবদুল আহাদ উমার।

অধ্যাপক ড. গ্যারি মিলার বলেন, আমি একদিন কুরআন সংগ্রহ করে তা পড়া শুরু করলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম কুরআন নাযিল হয়েছিল আরবের মরুচারীদের মধ্যে। তাই এতে নিশ্চয় মরুভূমি সম্পর্কে কথা থাকবে। কুরআন নাযিল হয়েছিল ১৪০০ বছর আগে। তাই খুব সহজেই এতে অনেক ভুল খুঁজে পাব ও সেসব ভুল মুসলিমদের সামনে তুলে ধরব।

কিন্তু কুরআন পড়ার পরে বুঝলাম আমার এসব ধারণা ঠিক নয়, বরং আমি অনেক আকর্ষণীয় তথ্য পেলাম। বিশেষ করে সূরা নিসার ৮২ নম্বর আয়াতটি আমাকে গভীর ভাবনায় নিমজ্জিত করে। সেখানে আল্লাহ বলেন, এরা কী লক্ষ্য করে না কুরআনের প্রতি? এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে নাযিল হতো, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখা যেত’।

এরপর আরো গভীরভাবে কুরআন অধ্যয়ন করলেন গ্যারি মিলার। আর তার এই অধ্যয়নই তাকে নিয়ে গেল ইসলামের পথে। ইসলামের দোষ খুঁজতে গিয়ে তিনি হয়ে গেলেন একজন মুসলিম তথা মহাসত্যের কাছে সমর্পিত একজন।

তিনি বলেছেন, আমি খুব বিস্মিত হয়েছি যে কুরআনে ঈসার (আ.) মাতা মারিয়ামের নামে একটি বড় পরিপূর্ণ সূরা রয়েছে। আর এ সূরায় তার এত ব্যাপক প্রশংসা ও সম্মান করা হয়েছে যে এত প্রশংসা বাইবেলেও দেখা যায় না। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর নাম মাত্র ৫ বার এসেছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.