হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হলেন একই পরিবারের ৩ সদস্য

ইসলাম শান্তির ধর্ম, আর এ ধর্মে রয়েছে মানুষের জন্য কল্যাণকর জীবন ব্যবস্থা। এমন আত্ম-উপলব্ধি থেকে পবিত্র মাহে রমজানে কুমিল্লা জেলার বুড়িচ উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের মোকাম গ্রামে একই পরিবারের ৩ জন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

আজ বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লার বিজ্ঞ রোটারী কার্যালয়ে তারা স্ব-শরীরে গিয়ে অ্যাফিডেভিটের করে একই পরিবারের ৩ জন সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এ খবরটি জানাজানি হলে বুড়চিং উপজেলা দিনব্যাপী ব্যাপক সাড়া দেখা যায়।

সূত্রে জানা গেছে, বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের মোকাম গ্রামের মৃত: মনোরঞ্জন চন্দ্র শীলের ছেলে বাদল চন্দ্রশীল ইসলাম(৩৭) ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বুধবার সপরিবারে আদালতে গিয়ে নাম পরিবর্তনে করে বর্তমান নাম মোঃ আল আমিন , স্ত্রী শীপ্রা রানী শীল স্থলে জান্নাতুল ফেরদৌস (২৫),ছেলে অর্ক চন্দ্র শীল স্থলে মেহেদী হাসান(৭) নাম রেখে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

পবিত্র মাহে রমজানে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার ৭নং মোকাম ইউনিয়নের মোকাম গ্রামের শীল বাড়ির একই পরিবারের ৩ জন সেচ্ছায় ইসলাম ধর্মগ্রহণ করায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিমরা তারা শান্তি পথে আসাতে সু-স্বাগতম জানিয়েছে।

তীব্র গরমের মধ্যে রহমতের বৃষ্টি পবিত্র কাবা শরীফে!

এবার তীব্র গরমের মধ্যে রমজান মাসের রোজা পালন করছেন সৌদি আরবের মুসলিমরা। এরই মধ্যে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ শুরু হয় কাবা প্রাঙ্গণে। গতকাল (২৭ এপ্রিল) জোহর ও আসর নামাজের সময় বৃষ্টিস্নাত কাবা প্রাঙ্গণের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

পবিত্র মসজিদুল হারামের কাবা প্রাঙ্গণে সব সময় মুসল্লিদের ভিড় থাকে। করোনাকালেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে ওমরাহ পালন ও নামাজ আদায়। প্রবল বৃষ্টি মুসল্লিদের দেহ ও মনে তৈরি করে অনাবিল প্রশান্তি। বৃষ্টিতে ভিজে মুসল্লিদের ওমরাহ পালন ও নামাজ আদায় করতে দেখা যায়।

প্রবল বৃষ্টি বর্ষণে তীব্র গরম থেকে ক্ষণিকের জন্য মুক্তি মেলে মুসল্লিদের। সবার মধ্যে তৈরি হয় ভিন্ন রকম অনুভূতি। বৃষ্টিস্নাত কাবা ঘরের দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করেন মসজিদুল হারামে অবস্থানকারীরা।

এদিকে করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রমজানের প্রথম ১০ দিনে ১৫ লাখের বেশি মুসল্লি পবিত্র মসজিদুল হারামে নামাজ আদায় করেছেন ও ওমরাহ পালন করেছেন। করোনা টিকা নেওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে তাঁরা পবিত্র মসজিদুল হারামে প্রবেশ করেন।

সূত্র: আরব নিউজ

খোশ আমদেদ মাহে রমজানুল মোবারক!

খোশ আমদেদ মাহে রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের বাণী নিয়ে বিশ্বের মুসলমানদের দুয়ারে আবারও উপস্থিত হয়েছে পবিত্র রমজান। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মুসলমানরা এ তিন ধাপে ইবাদত-বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের প্রশান্তি লাভ করবে।

সারা বছর জ্ঞাত-অজ্ঞাতসারে তারা যে পাপ করেছে, তা থেকে ক্ষমা পাওয়ার মোক্ষম মাস হল এ রমজান। সিয়াম সাধনার দ্বারা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে তারা নাজাতের পথ খুঁজবে। হাজার রজনীর শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল কদর রমজান মাসকে করেছে বিশেষভাবে মহিমান্বিত। এ রাতেই রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) ওপর সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থ পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন।

কুরআনের শিক্ষা হল বিশ্বাসী মানুষকে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে অশেষ কল্যাণ দান করা। কৃচ্ছ্রসাধন ও আত্মসংযমের এ মাসে তাই সংসারি মানুষ আল্লাহর প্রদর্শিত পথে চলার ওয়াদা করে, তাদের সবরকম গুনাহ্ মাফ করে দেওয়ার আকুল প্রার্থনা জানায়।

এ মাসে আল্লাহ তার বান্দাদের কঠোর ত্যাগ, ধৈর্য, উদারতা ও সততা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। এবার করোনা পরিস্থিতে রমজানে তারাবির নামাজে এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি ওয়াক্তে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এছাড়া জুমার নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশ নিতে বলা হয়েছে। সবাইকে এ নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমানের উচিত করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি লাভের জন্য আল্লাহতায়ালার দরবারে মোনাজাত করা।

মহান আল্লাহ আমাদের এই বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা করুন। আমরা প্রতি বছরই দেখি, রমজানে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সততা আর ন্যায়নীতি ভুলে অতি মুনাফা লাভের প্রতিযোগিতায় নামে। তারা রমজান মাসকে মুনাফা লোটার প্রায় হাতিয়ার করে ফেলে।

জানা গেছে, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও এবারও রমজান ঘিরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে কারসাজি শুরু করেছে। যথেচ্ছভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর এই প্রবণতা আমাদের ব্যবসায়ীদের কৃচ্ছ্র আর আত্মশুদ্ধির বিপরীতে নিয়ে গেছে যেন। রমজানের সংযমের শিক্ষা অনুসরণের বদলে তারা যেন আরও সুযোগসন্ধানী ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এ বাস্তবতায় রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে সবচেয়ে কষ্টে আছে দরিদ্র মানুষ। গরিব-দুঃখীদের বিপদে সহায়তা করা রমজানের শিক্ষা। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও দায়িত্ব রয়েছে গরিবদের পাশে এসে দাঁড়ানোর।

এ পবিত্র মাসে দেশের সব মুসলমান ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী ত্যাগ ও কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির আদর্শকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।