জান্নাতের প্রথম খাবার হবে মাছের কলিজা

আরবি ‘জান্নাত’ শব্দের অর্থ বাগবাগিচা ও উদ্যান। ইসলামের পরিভাষায় জান্নাত বলতে এমন স্থানকে বোঝায়, যা আল্লাহ পরকালে তাঁর অনুগত বান্দাদের পুরস্কার হিসেবে দান করবেন। নানা রকম ফুলে সুশোভিত, সুরম্য অট্টালিকা সংবলিত মনোমুগ্ধকর এক বাগান, যার পাদদেশে প্রবাহিত বিভিন্ন ধরনের নদীনালা ও ঝরনাধারা।

যেখানে চিরবসন্ত বিরাজমান। আল্লাহর বিশ্বাসী বান্দারা সেদিন মহান আল্লাহর খুব নৈকট্যলাভে ধন্য হবে এবং তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করবে। তবে জান্নাতের অনন্ত সুখী জীবন লাভের জন্য পৃথিবীতে আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা আবশ্যক।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনের কাছ থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ কিনে নিয়েছেন, তাদের জন্য জান্নাত রয়েছে এর বিনিময়ে।’ (সুরা : তওবা, আয়াত : ১১১)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা অগ্রণী হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও জান্নাত লাভের প্রয়াসে, যা প্রশস্ত আকাশ ও পৃথিবীর মতো; যা প্রস্তুত করা হয়েছে তাদের জন্য, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলদের প্রতি ঈমান এনেছে। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন। আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২১)

নানা ধরনের ফল : জান্নাতিদের খাবারদাবারে থাকবে বিভিন্ন পদ ও প্রকার। তাদের পান করতে দেওয়া হবে সুপেয় পানীয় ও শরবত। কোরআনে জান্নাতিদের খাবারদাবারের সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আমি তাদের দেব ফলমূল এবং মাংস, যা তারা চাইবে। (সুরা : তুর, আয়াত : ২১)

তিনি আরো বলেন, ‘সেখানে আছে ফলফলাদি, খেজুর ও আনার।’ (সুরা : আর রহমান, আয়াত : ৬৮)

সুপেয় পানীয় : যেসব সৌভাগ্যবান মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে, দয়াময় আল্লাহ তাদের খাঁটি মধু, দুধ ও শরাবের নহর থেকে পান করার সৌভাগ্য দান করবেন। আল্লাহ বলেন, ‘মুত্তাকিদের (আল্লাহভীরু) যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হলো : তাতে আছে নির্মল পানির নহর, আছে দুধের নহর, যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়,

আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সুরার নহর, আছে পরিশোধিত মধুর নহর এবং সেখানে তাদের জন্য থাকবে বিবিধ ফলফলাদি। আর তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে ক্ষমা। (সুরা : মুহাম্মাদ, আয়াত : ১৫)

নেশামুক্ত মদ : প্রশ্ন হতে পারে, মদ ও শরাব তো নাপাক ও ময়লাযুক্ত; এসব অরুচিকর পানীয় জান্নাতিদের কেন দেওয়া হবে? উত্তর হলো, পৃথিবীর যেকোনো কিছুই মান ও গুণের দিক থেকে জান্নাতি কোনো বস্তুর সমান নয়; বরং জান্নাতের সব কিছুই সব ধরনের ত্রুটিমুক্ত।

জান্নাত ও জান্নাতের নিয়ামতগুলো মানুষের কল্পনাতীত। কোরআনে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সুরাপূর্ণ পাত্রে, শুভ্র উজ্জ্বল, যা হবে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু, তাতে ক্ষতিকর কিছু থাকবে না এবং তারা মাতালও হবে না।’ (সুরা : আস-সাফফাত, আয়াত : ৪৫-৪৭)

প্রথমে দেওয়া হবে মাছের কলিজা : এক ইহুদি পাদ্রি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করল, জান্নাতিদের প্রথমে কী খাবার দেওয়া হবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, জান্নাতিদের মাছের কলিজার পাশে যে মাংস থাকে তা পরিবেশন করা হবে। ইহুদি আবারও জিজ্ঞেস করল, এরপর কী পরিবেশন করা হবে?

রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, এরপর জান্নাতিদের জন্য জান্নাতে পালিত গরুর গোশত পরিবেশন করা হবে। ইহুদি এবার বলল, খাওয়ার পর পানীয় হিসেবে কী কী পরিবেশন করা হবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) এবার বলেন, সালসাবিল নামক ঝরনার পানি পরিবেশন করা হবে জান্নাতিদের। (সহিহ মুসলিম)