ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে ১১২ মুসলিম প্রার্থীর জয়

ভারতের চার রাজ্য ও এক কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে শেষ হওয়া সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে মোট ১১২ মুসলিম প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত পন্ডিচেরির ৮২৪ আসনে প্রায় দুই মাস কয়েক ধাপে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর রোববার ফল ঘোষণা করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে মোট ২৯৪ আসনে ৪২ জন মুসলিম প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৩০ ভাগ মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই রাজ্যে ৫৯ জন মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

গত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ৩২ প্রার্থী, কংগ্রেস থেকে ১৮ প্রার্থী, বামপন্থী আট ও ফরোয়ার্ড ব্লক থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই বছর নির্বাচনে শুধু একজন প্রার্থী ছাড়া বাকি সবাই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের বাইরে একমাত্র রাষ্ট্রীয় সেক্যুলার মজলিস পার্টির (আরএসএমপি) ব্যানারে সদ্যগঠিত ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) প্রার্থী মোহাম্মদ নওশাদ সিদ্দিকি দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ভাঙড় আসন থেকে জয় লাভ করেন।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ জেলায় দুইটি আসনে ভোট গণনা এখনো স্থগিত রয়েছে। এই দুই আসনে ফল ঘোষণা হলে আরো মুসলিম আসন বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

অপরদিকে ৩৫ ভাগ মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত আসামে ৩২ জন মুসলিম প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। ১২৬ আসনের আসাম বিধানসভায় এবারই প্রথম সরকারি দলে কোনো মুসলিম সদস্য নেই।

নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস থেকে ১৬ এবং অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট থেকে ১৬ মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

দক্ষিণের কেরালা রাজ্যের বিধানসভায় ১৪০ সদস্যের মধ্যে ৩২ মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২৭ ভাগ মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত কেরালায় এর আগের নির্বাচনে ২৯ জন মুসলিম সদস্য ছিলেন।

কেরালায় নির্বাচিত মুসলিম সদস্যদের ১৫ জন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল), নয় জন বামপন্থী, তিনজন কংগ্রেস, তিনজন স্বতন্ত্র ও একজন করে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লীগ ও ন্যাশনাল সেক্যুলার কনফারেন্স থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া পাঁচ ভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত তামিলনাড়ুর বিধানসভায় মোট পাঁচজন মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিধানসভার মোট ২৩৪ আসনে নির্বাচিত পাঁচ মুসলিম সদস্যের তিনজন দ্রাবিড় মুননেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) থেকে তিনজন ও একজন করে কংগ্রেস ও লিবারেশন প্যানথার পার্টি (ভিসিকে) থেকে নির্বাচিত হন।

ছয় ভাগ মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত কেন্দ্র শাসিত পন্ডিচেরি অঞ্চলের বিধানসভার ৩০ আসনে মাত্র একজন মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত সদস্য ডিএমকে দলীয় প্রার্থী এ এম এইচ নাজিম সাউথ কারাইকাল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

সূত্র : মুসলিম মিরর

খোশ আমদেদ মাহে রমজানুল মোবারক!

খোশ আমদেদ মাহে রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের বাণী নিয়ে বিশ্বের মুসলমানদের দুয়ারে আবারও উপস্থিত হয়েছে পবিত্র রমজান। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মুসলমানরা এ তিন ধাপে ইবাদত-বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের প্রশান্তি লাভ করবে।

সারা বছর জ্ঞাত-অজ্ঞাতসারে তারা যে পাপ করেছে, তা থেকে ক্ষমা পাওয়ার মোক্ষম মাস হল এ রমজান। সিয়াম সাধনার দ্বারা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে তারা নাজাতের পথ খুঁজবে। হাজার রজনীর শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল কদর রমজান মাসকে করেছে বিশেষভাবে মহিমান্বিত। এ রাতেই রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) ওপর সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থ পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন।

কুরআনের শিক্ষা হল বিশ্বাসী মানুষকে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে অশেষ কল্যাণ দান করা। কৃচ্ছ্রসাধন ও আত্মসংযমের এ মাসে তাই সংসারি মানুষ আল্লাহর প্রদর্শিত পথে চলার ওয়াদা করে, তাদের সবরকম গুনাহ্ মাফ করে দেওয়ার আকুল প্রার্থনা জানায়।

এ মাসে আল্লাহ তার বান্দাদের কঠোর ত্যাগ, ধৈর্য, উদারতা ও সততা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। এবার করোনা পরিস্থিতে রমজানে তারাবির নামাজে এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি ওয়াক্তে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এছাড়া জুমার নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশ নিতে বলা হয়েছে। সবাইকে এ নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমানের উচিত করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি লাভের জন্য আল্লাহতায়ালার দরবারে মোনাজাত করা।

মহান আল্লাহ আমাদের এই বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা করুন। আমরা প্রতি বছরই দেখি, রমজানে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সততা আর ন্যায়নীতি ভুলে অতি মুনাফা লাভের প্রতিযোগিতায় নামে। তারা রমজান মাসকে মুনাফা লোটার প্রায় হাতিয়ার করে ফেলে।

জানা গেছে, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও এবারও রমজান ঘিরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে কারসাজি শুরু করেছে। যথেচ্ছভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর এই প্রবণতা আমাদের ব্যবসায়ীদের কৃচ্ছ্র আর আত্মশুদ্ধির বিপরীতে নিয়ে গেছে যেন। রমজানের সংযমের শিক্ষা অনুসরণের বদলে তারা যেন আরও সুযোগসন্ধানী ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এ বাস্তবতায় রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে সবচেয়ে কষ্টে আছে দরিদ্র মানুষ। গরিব-দুঃখীদের বিপদে সহায়তা করা রমজানের শিক্ষা। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও দায়িত্ব রয়েছে গরিবদের পাশে এসে দাঁড়ানোর।

এ পবিত্র মাসে দেশের সব মুসলমান ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী ত্যাগ ও কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির আদর্শকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।