ইসলামী সংগঠন ‘আনসার ইন্টারন্যাশনাল’ নিষিদ্ধ করলো জার্মানি

হামাস ও আল-শাবাবের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনকে অর্থ সহায়তা করার সন্দেহে আনসার ইন্টারন্যাশনাল ও তার সহযোগী কয়েকটি সংগঠনকে জার্মানিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট জেহোফার এ কথা জানান৷

বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে তার মুখপাত্র স্টিভ অল্টার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর সম্পর্কে এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘‘এই নেটওয়ার্ক বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সন্ত্রাসবাদে অর্থ সহায়তা দেয়৷”

‘‘সন্ত্রাসকে মোকাবেলা করতে হলে অর্থের উৎসমুখ বন্ধ করতে হবে” জেহোফারের এমন বক্তব্যের উল্লেখ করে অল্টার আরো জানান, ড্যুসেলডর্ফভিত্তিক সংগঠন আনসার ইন্টারন্যাশাল সিরিয়ার আল নুসরা ফ্রন্ট, ফিলিস্তিনের হামাস এবং সোমালিয়ার আল-শাবাবের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করে বলে অভিযোগ রয়েছে ৷ হামাস ইউরোপীয় ইউনিয়নে কালো তালিকাভুক্ত৷

আনসার ইন্টারন্যাশনাল ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করার আগে বুধবার সকালে জার্মানির রাইনলান্ড-পালাটিনেট, বাডেন-ভ্যুর্টেনবার্গ, বাভারিয়ান, বার্লিন, ব্রান্ডেনবুর্গ, হামবুর্গ, নর্থ রাইন-ভেস্টফালিয়া, লোয়ার সাক্সনি, শ্লেসভিগ-হোলস্টাই এবং হেসে রাজ্যে অভিযান চালায় পুলিশ৷ অভিযানের সময় ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়্৷

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আনসার ইন্টারন্যাশনাল ও তার সহায়তায় নানাভাবে কর্মরত আনিস বেন-হাতিরা ফাউন্ডেশন, দ্য সোমালি কমিটি ফর ইনফর্মেশন অ্যান্ড অ্যাডভাইস ইন ডার্মশ্টাড, উম্মা শপ এবং বেটার ওয়ার্ল্ড অ্যাপিল-এর কর্মীরা রয়েছেন৷

খোশ আমদেদ মাহে রমজানুল মোবারক!

খোশ আমদেদ মাহে রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের বাণী নিয়ে বিশ্বের মুসলমানদের দুয়ারে আবারও উপস্থিত হয়েছে পবিত্র রমজান। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মুসলমানরা এ তিন ধাপে ইবাদত-বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের প্রশান্তি লাভ করবে।

সারা বছর জ্ঞাত-অজ্ঞাতসারে তারা যে পাপ করেছে, তা থেকে ক্ষমা পাওয়ার মোক্ষম মাস হল এ রমজান। সিয়াম সাধনার দ্বারা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে তারা নাজাতের পথ খুঁজবে। হাজার রজনীর শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল কদর রমজান মাসকে করেছে বিশেষভাবে মহিমান্বিত। এ রাতেই রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) ওপর সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থ পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন।

কুরআনের শিক্ষা হল বিশ্বাসী মানুষকে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে অশেষ কল্যাণ দান করা। কৃচ্ছ্রসাধন ও আত্মসংযমের এ মাসে তাই সংসারি মানুষ আল্লাহর প্রদর্শিত পথে চলার ওয়াদা করে, তাদের সবরকম গুনাহ্ মাফ করে দেওয়ার আকুল প্রার্থনা জানায়।

এ মাসে আল্লাহ তার বান্দাদের কঠোর ত্যাগ, ধৈর্য, উদারতা ও সততা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। এবার করোনা পরিস্থিতে রমজানে তারাবির নামাজে এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি ওয়াক্তে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এছাড়া জুমার নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশ নিতে বলা হয়েছে। সবাইকে এ নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমানের উচিত করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি লাভের জন্য আল্লাহতায়ালার দরবারে মোনাজাত করা।

মহান আল্লাহ আমাদের এই বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা করুন। আমরা প্রতি বছরই দেখি, রমজানে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সততা আর ন্যায়নীতি ভুলে অতি মুনাফা লাভের প্রতিযোগিতায় নামে। তারা রমজান মাসকে মুনাফা লোটার প্রায় হাতিয়ার করে ফেলে।

জানা গেছে, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও এবারও রমজান ঘিরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে কারসাজি শুরু করেছে। যথেচ্ছভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর এই প্রবণতা আমাদের ব্যবসায়ীদের কৃচ্ছ্র আর আত্মশুদ্ধির বিপরীতে নিয়ে গেছে যেন। রমজানের সংযমের শিক্ষা অনুসরণের বদলে তারা যেন আরও সুযোগসন্ধানী ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এ বাস্তবতায় রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে সবচেয়ে কষ্টে আছে দরিদ্র মানুষ। গরিব-দুঃখীদের বিপদে সহায়তা করা রমজানের শিক্ষা। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও দায়িত্ব রয়েছে গরিবদের পাশে এসে দাঁড়ানোর।

এ পবিত্র মাসে দেশের সব মুসলমান ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী ত্যাগ ও কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির আদর্শকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।