শতকোটি মজলুমের দোয়া আপনার জন্য রয়েছে : শিল্পী আসিফ

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

বাদ যাননি বিনোদন অঙ্গনের সেলিব্রেটিরা। গায়ক আসিফ আকবর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করেছেন। এক সময় সক্রিয়ভাবে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শিল্পী আসিফ আকবর।

পরে নিজেকে রাজনীতির মাঠ থেকে সরিয়ে নেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করলেন আসিফ।

তিনি সেখানে লেখেন, ‘প্রাণপ্রিয় আপোষহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আবারও বিজয়ীর বেশে আমাদের সামনে আসবেন ইনশাআল্লাহ। করোনার ভয়াল থাবা থেকে মহান আল্লাহ আপনাকে মুক্ত করবেন ইনশাআল্লাহ। শতকোটি মজলুমের দোয়া আপনার জন্য রয়েছে ম্যাডাম।

সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বৈরি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও আপনার সুস্থতা কামনায় আল্লাহর কাছে দোয়া চাইছেন। অনেক দিয়েছেন দেশকে। মাত্র বত্রিশ বছরে স্বামীহারা আপনি এই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ঝান্ডা সমুন্নত রেখেছেন।

আপনার কাছে আমরা দেশবাসী ঋণী। শুধু চাই আপনি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুন। কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে আপনার সুস্থতা। আপনার সুস্বাস্থ্য আর দীর্ঘায়ু কামনা করি প্রিয় দেশনেত্রী। মহান আল্লাহ আপনার সহায় হউন।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরার পর গত ১১ এপ্রিল থেকে গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন খালেদা জিয়া। ১৪ দিন পর আবার পরীক্ষা করা হলে তখনো তার করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ আসে।

এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৭ এপ্রিল রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। চেস্টের সিটি স্ক্যান ও কয়েকটি পরীক্ষার পর সেই রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সিসিইউতে আছেন খালেদা জিয়া।

৭৬ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শরীরে করোনা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার তোড়জোড় চলছে।

খোশ আমদেদ মাহে রমজানুল মোবারক!

খোশ আমদেদ মাহে রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের বাণী নিয়ে বিশ্বের মুসলমানদের দুয়ারে আবারও উপস্থিত হয়েছে পবিত্র রমজান। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মুসলমানরা এ তিন ধাপে ইবাদত-বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের প্রশান্তি লাভ করবে।

সারা বছর জ্ঞাত-অজ্ঞাতসারে তারা যে পাপ করেছে, তা থেকে ক্ষমা পাওয়ার মোক্ষম মাস হল এ রমজান। সিয়াম সাধনার দ্বারা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে তারা নাজাতের পথ খুঁজবে। হাজার রজনীর শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল কদর রমজান মাসকে করেছে বিশেষভাবে মহিমান্বিত। এ রাতেই রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) ওপর সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থ পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন।

কুরআনের শিক্ষা হল বিশ্বাসী মানুষকে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে অশেষ কল্যাণ দান করা। কৃচ্ছ্রসাধন ও আত্মসংযমের এ মাসে তাই সংসারি মানুষ আল্লাহর প্রদর্শিত পথে চলার ওয়াদা করে, তাদের সবরকম গুনাহ্ মাফ করে দেওয়ার আকুল প্রার্থনা জানায়।

এ মাসে আল্লাহ তার বান্দাদের কঠোর ত্যাগ, ধৈর্য, উদারতা ও সততা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। এবার করোনা পরিস্থিতে রমজানে তারাবির নামাজে এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি ওয়াক্তে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এছাড়া জুমার নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশ নিতে বলা হয়েছে। সবাইকে এ নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমানের উচিত করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি লাভের জন্য আল্লাহতায়ালার দরবারে মোনাজাত করা।

মহান আল্লাহ আমাদের এই বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা করুন। আমরা প্রতি বছরই দেখি, রমজানে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সততা আর ন্যায়নীতি ভুলে অতি মুনাফা লাভের প্রতিযোগিতায় নামে। তারা রমজান মাসকে মুনাফা লোটার প্রায় হাতিয়ার করে ফেলে।

জানা গেছে, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও এবারও রমজান ঘিরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে কারসাজি শুরু করেছে। যথেচ্ছভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর এই প্রবণতা আমাদের ব্যবসায়ীদের কৃচ্ছ্র আর আত্মশুদ্ধির বিপরীতে নিয়ে গেছে যেন। রমজানের সংযমের শিক্ষা অনুসরণের বদলে তারা যেন আরও সুযোগসন্ধানী ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এ বাস্তবতায় রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে সবচেয়ে কষ্টে আছে দরিদ্র মানুষ। গরিব-দুঃখীদের বিপদে সহায়তা করা রমজানের শিক্ষা। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও দায়িত্ব রয়েছে গরিবদের পাশে এসে দাঁড়ানোর।

এ পবিত্র মাসে দেশের সব মুসলমান ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী ত্যাগ ও কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির আদর্শকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।