টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে মাটির ব্যাংকে জমানো সব টাকা করোনা তহবিলে দিয়ে দিলো ছোট্ট মেয়েটি

ছয় বছরের মেয়ে। বয়স তার খেলনা খেলার। কিন্তু এই বয়সে খেলনা কেনার জন্য টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে তিল তিল করে জমানোর পয়সা স্বেচ্ছায় “করোনা ভাইরাস” বিপ’র্যয়ের মো’কাবিলার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ত্রান তহবিলে তুলে দিল ছয় বছরের দেবাঙ্কিতা। উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙ্গার ৬ বছর বয়সী ছোট্ট দেবাঙ্কিতা ব্যানার্জীর মানসিকতা দেখে তাজ্জব সকলেই।

একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যমে পড়া এই মেয়ে গানের সঙ্গে যুক্ত। বিগত দিনগুলোতে গানের অনষ্ঠানে পাওয়া টাকা দিয়ে পূজোর আগে বহু গরীব ছেলে মেয়েকে নতুন পোশাকও দিয়েছে এই একরত্তি মেয়ে। সম্প্রতি করোনার থা’বায় যখন জুবুথুবু গোটা বিশ্ব, যার জেরে লকডাউন জা’রি হয়েছে গোটা দেশে। গৃহব’ন্দী সকলেই। এ সময় এ রাজ্যের মানুষ যাতে সুস্থ স্বাভাবিক ছন্দে আগের মতো ফিরে আসতে পারে তাই তাদের সাহায্যার্থে ত্রাণ তহবিল খুলেছি মুখ্যমন্ত্রী।

ত্রাণ তহবিলে সঞ্চিত দশ হাজার টাকা তুলে দেয় দেবাঙ্কিতা। প্রতিনিয়তই ঠাকুরের কাছে মাথা ঠুকছে সে। যাতে করোনার থা’বা থেকে মানুষ মুক্তি পায় সেই প্রার্থনাই তার। বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। এখন গৃহব’ন্দী সে নিজেও। তাই বাকিদেরও ঘরের বাইরে যেতে বারণ করছে। দেবাঙ্কিতা জানিয়েছে, বার্ষিক পরীক্ষার পর খেলনা কিনবে বলে তার গানের অনুষ্ঠান থেকে জমানো টাকা তিল তিল করে এক জায়গায় করেছিল সে। কিন্তু সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের জেরে তার মন কেঁদে উঠেছিল।

খেলনা না কিনে খেলনা কেনার জন্য জমানো ১০০০০ টাকা পুরোটাই তুলে দিল মুখ্যমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে। অন্যান্য ব্যক্তিদের দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা তার। তারাও মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসেন সে কথাও জানিয়েছে দেবাঙ্কিতা। ছোট্ট মেয়ের এই ধরনের মন মানসিকতা দেখে খুশী তার অভিভাবক থেকে শুরু করে তার প্রতিবেশীরাও।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.