করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে ‘ওড়না-হিজাব’ পরার পরামর্শ দিলেন ট্রাম্প

মহামারী করোনাভাইরাস করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে ‘হিজাব-নিকাব’ পরার পরামর্শ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ পরামর্শ দেন।

মাস্কের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে বাজারে এর ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এজন্য মাস্ক না পেলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘কাপড়ের ঘনত্বের বিচারে স্কার্ফ (হিজাব-নিকাব) মাস্কের ভালো বিকল্প।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ রোগের সংক্রমণ বিষয়ে আগে যা ভাবতাম তার বদল ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গবেষণায় দেখা গেছে, কোনও লক্ষণ ছাড়াই অনেকে করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। তাই মাস্ক পরাই ভালো কাজ।’

তবে একইসঙ্গে মাস্ক পরার প্রতি নিজের অনীহার কথা জানান তিনি। ট্রাম্পের যুক্তি, ‘ভালো অফিসে বসে মাস্ক পরে কাজ করা কার্যত অসম্ভব। তাই আমি এটা আমি পালন করতে রাজি নই।’

এ সময় বিষয়টিকে ঐচ্ছিক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। আমেরিকায় বর্তমানে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৮। এর মধ্যে সাত হাজার ১৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশ আজ আরেকটি রানা প্লাজার দ্বারপ্রান্তে : ডক্টর তুহিন মালিক

সবাই যখন বউ বাচ্চা নিয়ে নিরাপদ ঘরে। তাদের খাবার যোগানের দায় তখন ৪০ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিক নামের নব্য ক্রীতদাসের! যে ক্রীতদাসরা এতটা দিন ধরে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার যোগান দিয়েছে। অথচ আজ সেকেন্ড হোম আর বেগমপাড়ার প্রাসাদের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সেই ক্রীতদাসের জীবনকে নির্বিচারে বলি দেয়া হচ্ছে।

পোষাক শিল্প অবশ্যই বাঁচাতে হবে। কিন্তু তা কোনভাবেই শ্রমিকের জীবনের বিনিময়ে নয়। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর ভিতরে পুড়ে মরে নয়। রানা প্লাজার মত বিল্ডিং ধ্বসে শ্রমিকের প্রাণ দিয়ে নয়। করোনা মৃত্যুর মুখে শ্রমিকদের জীবনকে ঠেলে দিয়ে নয়।

রাষ্ট্রের অর্থনীতি কিংবা মালিকের মুনাফার সামনে শ্রমিক নামের ক্রীতদাসের জীবনটা যে কতটা মূল্যহীন, তা প্রমানের জন্য আজকের ঘটনাই কি যথেস্ট নয়? সংবিধানে প্রতিটা নাগরিকের জীবনের মূল্য সমান হলেও, আজ কোথায় সেই সাংবিধানিক নিশ্চয়তা?

মালিকরা বলছে, তাদের অর্ডার বাতিল হয়েছে ৩ বিলিয়ন ডলারের। অথচ বছরে মোট পোশাক রপ্তানি হয় ৩৪ বিলিয়ন ডলারের। তারমানে ৯০% অর্ডার এখনও বহাল আছে। যা থেকে নিশ্চিতভাবে মুনাফা থাকবে। সাথে শ্রমিকদের বেতন বাবদ সরকার পাঁচ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, মালিকরা কি এতটাই নিঃস্ব সর্বশান্ত হয়ে গেলেন যে, শ্রমিকের বেতনের জন্য তাদের কাছে কোন টাকাই নাই? তাহলে শ্রমিকদের বেতন বাবদ সরকার পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ কার জন্য দিলো?

সরকারের আগাগোড়াই ব্যবসায়ী দিয়ে গড়া। বানিজ্য মন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী এমপিরা সব বড় বড় গার্মেন্টস ওয়ালা। কি সুন্দর চালাকি! সরকার পরিস্কার বলে দিচ্ছে, এই দায় তারা নিবে না! সিদ্ধান্ত নিবে বিজিএমইএ। অন্যদিকে বিজিএমইএ আর বিকেএমইএ বলে দিলো, এই দায় তাদেরও না।

সিদ্ধান্ত নিবে মালিকরা। গার্মেন্টস মালিক চাইলে গার্মেন্টস খোলা বা বন্ধ রাখতে পারবে! আর এদিকে এইসব দায়হীনতার সুযোগে মালিকরা দেখলো, ক্রীতদাসের মৃত্যুতে কারোই যখন কোন দায় নেই। তাহলে হোক না আরেকটা রানা প্লাজা! চাকরী হারানোর ভয়ে দাসরা তো দাসত্ব করবেই।

দেশের সবকিছু বন্ধ। গণপরিবহনও বন্ধ। অথচ দলে দলে গার্মেন্টস শ্রমিকরা ঢাকার পথে ছুটছে পায়ে হেঁটেই। এদের জন্য নেই কোন সামাজিক দুরত্বের থিওরী! নেই কোন কোয়ারেন্টাইনের সবক। মানুষ হলে না এটা প্রযোজ্য হবে। এরা সব আধুনিক ক্রীতদাস।

মরলে মরুক। মুনাফা যে হতেই হবে! শিল্পের চাকা চলতে হবেই। রেমিটেন্সের দরজা কোনভাবেই বন্ধ করা যাবে না। প্রবৃত্তির সূচক উর্ধে রাখতেই হবে। জীবনের আগে মুনাফার জয় হতেই হবে। মুনাফাখোররা যাতে না ভুলে যে, যাদেরকে আজ আপনারা জোড় করে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দিচ্ছেন। কালকে এই ক্রীতদাসের সংক্রামন আপনাদের রাজপ্রাসাদে হানা দিবেই।

ডক্টর তুহিন মালিক
আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ