দেশে করোনায় ২৪ ঘন্টায় প্রাণহানি ৪, নতুন করে শনাক্ত ২৯: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে করোনাভাইরাসে রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত আরও ২৯ জনের নমুনায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মারা গেছে ৪ জন।
এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো মোট ১১৭। আর প্রাণহানি হলো ১৩ জনের।

সোমবার (৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সনাক্ত হওয়া পর এটিই একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।

এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন বাহিনীসহ ১৮ টি মন্ত্রণালয় নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাঁদের সবার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। আগে করোনা শনাক্তে একটামাত্র প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো, এখন ল্যাবের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে। আজ থেকে প্রতি উপজেলায় ১০ জন করে নমুনা পরীক্ষার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। আরও কিট আসছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, করোনা থেকে দেশকে মুক্ত করতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। লকডাউন করেও ঢিলেঢালা ভাবে চলছে সবকিছুই। বাজারগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বেশি। এছাড়া পোশাক শ্রমিকরা দলে দলে ঢাকায় আসছে, মসজিদে মুসুল্লিতে উপস্থিতি কমছে না।

এছাড়াও হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যে সব ডাক্তাররা প্রাইভেটে রোগী দেখা বন্ধ করেছেন, সারাদেশে তাঁদের তালিকা করে পরবর্তীতে দেখা হবে কি ব্যবস্থা নেয়া যায়।

মহামারীর সময় আল্লাহর প্রতি অবিচল থাকতে হবে: ডা. জাকির নায়েক

যখন কোনো মানুষের জীবনে বিপর্যয় এসে হাজির হয়, তখন সেটা হয় একটা পরীক্ষা, নয়তো সেটা একটা শাস্তি। শাস্তি হলে এ সম্পর্কে সূরা হুদের অধ্যায় ১১, আয়াত ৮২তে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আয়াতে আল্লাহ সুবহানু তায়ালা বলেছেন, ‘দুই জনপদকে উল্টে দেয়া হয়েছিল।

কউমে লুত এবং তাদের লোকজনদের ওপর ক্রমাগত কঙ্কর বর্ষণ করা হয়।’ কারণ এটা ছিল শাস্তি। যদি এটা শাস্তি হয়, তা হলে আমাদের উচিত আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তওবা করা। মানুষ খারাপ কাজ করা বন্ধ করবে, পাপ থেকে বিরত থাকবে এবং প্রতিজ্ঞা করবে যে আর কখনো এমন কাজ করবে না। আর যদি মানুষ সেই ক্ষতিটা পূরণ করার সুযোগ পায়, তাহলে সেটা পূরণ করার চেষ্টা করবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে।

আর যদি এটা হয় আমাদের জন্য একটা পরীক্ষা, আল্লাহ সুবহানুতায়ালা সে সম্পর্কে বলেছেন সূরা বাকারার অধ্যায় নাম্বার দুই, আয়াত নম্বর ১৫৫ এ। এতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের আমি পরীক্ষা করব, ভয় এবং ক্ষুধা দিয়ে, ধন-সম্পদের ক্ষতি দিয়ে, জীবনহানি আর ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দিয়ে।

আর শুভ সংবাদ দাও তাদের যারা ধৈর্যশীল ও অধ্যবসায়ী।’ এরপর অন্য জায়গায় সূরা বাকারার অধ্যায় নাম্বার ২, আয়াত ১৬৫তে বলা হয়েছে, ‘বিপদে পড়লে তারা বলে, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’ আমরা তার কাছ থেকে এসেছি, তার কাছেই ফিরে যাবো। এখানে তাদের কথা বলা হয়েছে যারা বিশ্বাসী।

যদি কোনো রকম বিপর্যয় আসে, যদি সে ভুল করে অথবা যদি সে কোনো পাপ কাজ করে, তা হলে তওবা করবে আর ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যদি পরীক্ষা করা হয়, তা হলে সে ধৈর্য ধরে থাকবে। আর বলবে, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। যেমন ধরুন, একজন লোক হয়তো মারা গেল অথবা সে অসুস্থ হয়ে পড়ল, তখন আমরা বলব, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।’

আর পবিত্র কুরআনের সূরা তওবার অধ্যায় নাম্বার ৯, আয়াত নাম্বর ৫১তে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ যা নির্দিষ্ট করেছেন সেটা ব্যতীত আমাদের আর কোনো কিছুই হবে না। আল্লাহ আমাদের রক্ষাকারী। আর মুমিনদের বলো, তারা যেন আল্লাহ সুবহানুতায়ালার ওপর নির্ভরশীল হয়।’

এরপর আরো রয়েছে সূরা তাগাবুনের অধ্যায় নাম্বার ৬৪, আয়াত নাম্বার ১১ এ। এতে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালার অনুমতি ব্যতীত কোনো বিপদই কখনো মানুষের ওপর আপতিত হয় না। আর কেউ আল্লাহকে বিশ্বাস করলে, আল্লাহ তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন।’

এরপর সূরা জুম্মার অধ্যায় নাম্বার ৩৯, আয়াত নাম্বার ১০তে বলা আছে, ‘যারা ধৈর্যের সাথে অধ্যবসায়ী হয়, তাদের জন্য রয়েছে অপরিমিত পুরস্কার। এরপর পবিত্র কুরআনে সূরা বাকারার অধ্যায় নাম্বার দুই, আয়াত নাম্বার ১৫৩তে বলা হয়েছ, ‘হে মোমিনগণ আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো, ধৈর্য, অধ্যবসায় ও নামাজের মাধ্যমে।

নিশ্চয়ই আল্লাহ আছেন তাদের সাথে যারা ধৈর্যশীল ও অধ্যবসায়ী।’ তা হলে এই মহামারীর সময়ে আমরা হবো, ধৈর্যশীল ও অধ্যবসায়ী। সহিহ মুসলিমের খণ্ড নাম্বার ৪, হাদিস নাম্বার ৭১৩৮তে বলা হয়েছে : ‘নবী মোহাম্মদ সা: বলেছেন, বিশ্বাসীদের কাজগুলো বেশ অদ্ভুত। যদি তার জীবনে ভালো কিছু ঘটে, সে আল্লাহ তায়ালাকে কৃতজ্ঞতা জানায়।

আর যদি সে বিপদে পড়ে, তখন সে ধৈর্যশীল ও অধ্যবসায়ী হয়। তার জন্য পরকালে ভালো জিনিস অপেক্ষা করছে।’ তাহলে যদি আমাদের মাঝে কোনো রকমের বিপর্যয় আসে, যদি আমাদের কোনো ভুল থাকে, আমরা তা শুধরে নেবো এবং ধৈর্যের সাথে এবং অধ্যবসায়ের সাথে তা মোকাবেলা করব। কারণ, আল্লাহ বলেছেন, তোমরা আল্লাহ সুবহানুতায়ালার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো ধৈর্য, অধ্যবসায় ও নামাজের মাধ্যমে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে আছেন, যারা ধৈর্যশীল ও অধ্যবসায়ী।

সূরা বাকারার ২১৬ নাম্বার আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এটা হতে পারে, তোমরা যেটা অপছন্দ করো সেটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর যেটা পছন্দ করো, সেটা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ সবকিছু জানেন, আর তোমরা জানো না।’ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘এটা সম্ভব তোমরা যেটা অপছন্দ করো, সেটাই কল্যাণকর, আর যেটা পছন্দ করো, সেটা অকল্যাণকর।’

যেমন ধরুণ, একজন খুবই ধার্মিক লোক আল্লাহ সুবহানুতায়ালার কাছে দোয়া করল তাকে যেন আল্লাহ একটা মোটরসাইকেল কেনার তৌফিক দেন। তাতে তার যাতায়াতে সুবিধা হবে। আর আল্লাহ সেই দোয়া কবুল করলেন না। আপনি হয়তো বলবেন, সে খুব ধার্মিক লোক।

তার দোয়া কেন আল্লাহ কবুল করলেন না। আসলে আল্লাহ সুবহানুতায়ালা জানেন, যদি লোকটার মোটরসাইকেল থাকে, সে অ্যাকসিডেন্ট করতে পারে এবং আর পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জানো না।’

একবার খুব ধনী একজন ব্যবসায়ী লন্ডনের ফ্লাইট ধরার জন্য এয়ারপোর্টে যাচ্ছিলেন। একটি ব্যবসায়িক চুক্তি করার জন্য। যে চুক্তিটা করলে তার লাভ হবে একশ’ কোটি রুপি। যখন তিনি এয়ারপোর্টের দিকে যাচ্ছিলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাস্তায় খুব বড় একটা ট্রাফিক জ্যাম ছিল।

আর তিনি সময়মতো এয়ারপোর্টে পৌঁছাতে পারলেন না। তিনি যখন এয়ারপোর্টে পৌঁছালেন, ততক্ষণে সেই ফ্লাইটটা রওনা দিয়ে দিয়েছে। তিনি ফ্লাইট মিস করলেন। তিনি তখন মন খারাপ করে বললেন, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে একটা ঘটনা। বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় গাড়িতে যে রেডিওটা ছিল, তাতে তিনি লেটেস্ট খবরটা শুনলেন।

যে ফ্লাইটটি তিনি ধরতে যাচ্ছিলেন, সেটি ক্রাস করেছে। আর সেই ফ্লাইটে যতজন যাত্রী ছিল, তারা সবাই মারা গেছেন। তখন সেই ব্যবসায়ীই বললেন, এ ঘটনাটাই হলো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ একটা ঘটনা। কিছুক্ষণ আগে তিনি ট্রাফিক জ্যামকে দোষারোপ করে বলছিলেন, এর কারণে তার একশ’ কোটি রূপি ক্ষতি হয়ে গেল।

আর সেই ঘটনাই কিছুক্ষণ পরে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ ঘটনা হয়ে গেল। তিনি ট্রাফিক জ্যামকে তখন ধন্যবাদ জানালেন। কারণ, এর কারণেই তার জীবনটা বেঁচে গেছে। পবিত্র কুরআনের কথা হলো, ‘আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জানো না।’ একশ’ কোটি রুপির চেয়ে ওই ব্যবসায়ীর জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।

অনেক সময় মোমিন যে দোয়া করে, আল্লাহ সে দোয়া কবুল করেন না। পবিত্র কুরআনের সূরা সূরার ২৭ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আল্লাহ তায়ালা যদি তার সব বান্দাহকে জীবনের সব উপকরণ ও প্রাচুর্য্য দিতেন, তা হলে তারা অবশ্যই পৃথিবীতে বিপর্যয়ের সৃষ্টি করতো।’ কিন্তু আল্লাহ তার ইচ্ছেমতো পরিমাণেই উপকরণ দেন। কারণ তিনি জানেন, তিনি কী দিয়েছেন।

সূরা বাকারার ১৮৬ নম্বার আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যখন মানুষ আমার সম্পর্কে তোমাকে প্রশ্ন করবে, তখন তাদের বলুন, আমি তাদের অতি নিকটেই আছি। তাদের খুব কাছেই আছি। আর আমি আমার বান্দাহদের সব আহ্বানই শুনতে পাই।’ পবিত্র কোরআনের সূরা গাফিরের সাত নাম্বার আয়াতে উল্লেখ আছে,

‘তোমার প্রতিপালক বলেন, আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সারা দেবো। আল্লাহ অনেক সময় প্রশ্নের উত্তর না দেয়ার মাধ্যমে উত্তর দিয়ে থাকেন। কারণ, আল্লাহ জানেন, তোমাদের জন্য কোনটি ভালো আর কোনটি খারাপ।’

অনেক সময় অধার্মিক বা বিধর্মীরা নকল ঈশ্বরের কাছে অনেক কিছু প্রার্থনা করে এবং সেটা পেয়ে যায়। কারণ আল্লাহ তাদের বস্তুগত চাহিদা পূরণ করে থাকেন। কারণ, তিনি জানেন তারা যেটা প্রার্থনা করছে এতে তারা ভবিষ্যতে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পরকালের জীবনে এসবের কারণে তারা শুধু ক্ষতিগ্রস্তই হবে।

সত্যিকারের বিশ্বাসীদের ক্ষেত্রে এসব চাওয়া কোনো ব্যাপারই নয়। সে ধনী না গরিব এটা বিশ্বাসীদের কাছে কোনো বিষয় নয়। এটা সুসময় না দুঃসময় এটা মোমিনের কাছে ধর্তব্য নয়। কারণ তারা আল্লাহ সুবাহানুতায়ালাকে বিশ্বাস করে। সত্যিকারের বিশ্বাসী সব সময়ই বলে, আলহামদুলিল্লাহ। যে ঘটনাই ঘটে থাকুক, আলহামদুলিল্লাহ।

বিশ্বাসীরা বলেন, সব প্রশংসাই আল্লাহর। এমনকি যদি তার ক্ষতিও হয়, সে বলবে আলহামদুলিল্লাহ। কারণ সে আল্লাহকে বিশ্বাস করে এবং এটাও বিশ্বাস করে যে, ভবিষ্যতে তার জন্য কল্যাণকর কিছুই অপেক্ষা করছে। ইহকালে, না হয় পরকালে। এক কথায় সত্যিকারের বিশ্বাসী বিশ্বাস করে যে, যা কিছু হয়েছে তা আল্লাহর তরফ থেকেই হয়েছে।

ডা: জাকির নায়েকের ভিডিও ক্লিপ থেকে অনুলিখন করা

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.