জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনায় মৃতদের জানাজা-দাফনে প্রস্তুত ৭০ জন আলেম

প্রাণঘা’তী করোনাভাইরাসে আক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা গেলে তার জানাজা ও দাফন সঠিক ইসলামী নিয়মে সম্পন্ন করতে এগিয়ে এসেছেন এক ঝাঁক আলেম। প্রাথমিকভাবে রাজধানী ঢাকায় এ কাজটি করার উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

মাওলানা গাজী ইয়াকুবের নেতৃত্বে কয়েকজন আলেম এ কাজে জ’ড়িত রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন এইচ এম লুৎফর রহমান, হিফজুর রহমান, সালমান বিন সাজিদ, নুরুননাবী নুর, কারী ওসামা বিন নিজাম ও মোহাম্মদ রাফী। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার আরো ৬০/৭০ জন আলেম এ কাজে অংশ নেয়ার আগ্রহ প্রকা’শ করেছেন।

এ ব্যাপারে মাওলানা গাজী ইয়াকুব গণমাধ্যমকে বলেন, করোনা আক্রা’ন্ত কোন রোগী মা’রা গেলে তাদের জানাজা-দাফনের প্রয়োজন হলে আমাদের মোবাইল নাম্বার ০১৯২০৭৮১৭৯২ নম্বরে ফোন করলে আমরা সেখানে পৌছে যাব। তার নামাজে জানাজা ও দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করব। কারো যদি কাফনের কাপড় প্রয়োজন হয় আমরা তারও ব্যবস্থা করবো।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি করোনাভাইরাসে আক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা যাওয়ার পর তিন-চার ঘণ্টা পর তার শরীরে আর জীবা’ণু থাকে না। এজন্য আমরা কেউ কল করলে তিন-চার ঘণ্টা পর তার জানাজা-দাফনের ব্যবস্থা করব।

মাওলানা ইয়াকুব বলেন, বিভিন্ন দেশে আমরা করোনাভাইরাসে আক্রা’ন্তদের জানাজা-দাফন নিয়ে স’ঙ্ক’টের কথা শুনেছি। এজন্য আমরা চাচ্ছি আমাদের দেশে যেন সে রকম না ঘ’টে। ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক যেন একজন মুসলমানের জানা’জা-দা’ফন হয় সেজন্য আমরা এ উদ্যো’গ নিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা ব্যক্তিগতভাবে এ উদ্যো’গ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬০/৭০ আলেম আমাকে ফোন করে এ কাজে থাকার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তারা বলছেন যেন প্রতিটি থানাভিত্তিক তাদের দাযিত্ব দেয়া হয়। আমরাও বিষয়টি বিবেচনা করছি।

১৫ জেলায় ছড়িয়েছে করোনা

নভেল করোনাভাইরাস দেশের ১৫ জেলায় ছড়িয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাইবান্ধা জেলাতে একই এলাকায় কম দূরত্বে একাধিক আক্রান্ত ব্যক্তি পাওয়া গেছে।

সোমবার নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এখন পর্যন্ত ১২৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আমার কাছে ১২১ জনের তথ্য আছে। এদিন তিনি দেশের ১৫টি জেলার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশের ১৫টি জেলায় কেইস পেয়েছি। ক্লাস্টার আমরা বলব, যেখানে একাধিক ব্যক্তি আছেন এবং এক জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ আছেন, সে জায়গাটা। এ ধরনের ব্যবস্থা (ক্লাস্টার) হতে পারে ঢাকা মহানগরী, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, গাইবান্ধায়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.