ফেনীতে ত্রাণের চাল ছিনিয়ে নিলো ছাত্রলীগ নেতা

ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের ডোমরা এলাকায় ত্রাণের চাল লুটে নিয়েছে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের গরীব, অসহায় ও হতদরিদ্রদের ডোমরা দোকান ঘরের সামনে সারিবদ্ধ করে সরকারি বরাদ্ধের ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছিল। ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বাহার ও ইউপি সদস্য হাসান শরীফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এসময় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ প্রচার সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন শাহীন ও তার ১০-১৫ জন সহযোগি অতর্কিত হানা দিয়ে বিতরণ চলাকালে পিকআপ থেকে জোরপূর্বক তিন বস্তা পরিমাণ চাল নিয়ে যায়।

ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হাসান শরীফ জানান, কয়েকজন এসে চাল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে চেয়ারম্যান বাহার তাৎক্ষণিক চাল কিনে ১৬ জনকে সমপরিমাণ চাল বিতরণ করেন। তবে কারা চাল নিয়েছে তিনি তাদের নাম বলতে রাজি হননি।

বালিগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বাহার চাল ছিনতাইয়ের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন শাহীন জানায়, এ সম্পর্কে তার কিছুই জানা নেই। দোকানের সামনে মেম্বারের সাথে মুখোশ পরিহিত অপরিচিত এক যুবকের বাকবিতণ্ডা হতে দেখেছি। দুইজনকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে না পেরে এরপর সেখান থেকে চলে যাই।

জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরীন সুলতানা বলেন, তিনি বিষয়টি খোঁজখবর নেবেন।

দুধের সন্তানকে বাসায় রেখে হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. আয়শা সিদ্দিকা

নাটোর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আয়শা সিদ্দিকা আশা। আউটডোর মেডিকেল অফিসার হিসেবে গাইনি বিভাগে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতেন। বর্তমানে দেশের এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নিয়মিত করোনা কেয়ারের রোগীদের সেবা দিচ্ছেন তিনি। দুধের সন্তানদের বাসায় রেখে রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত হাসপাতালে ছুটে যান হাসপাতালে।

ডা. আয়শা সিদ্দিকা আশার দুই সন্তান। বড় সন্তানের বয়স ৩ বছর আর ছোট সন্তানের বয়স ১১ মাস। দুটি সন্তানই অসুস্থ। তারপরেও তাদের বাসায় রেখে হাসপাতালে রোগী দেখতে যান আশা। নাটোরের এই চিকিৎসক দুই সন্তানসহ পরিবারের জন্য দোয়া চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একজন সেবাগ্রহীতা ইয়াসিনপুর কলেজের অধ্যক্ষ সাজেদুর রহমান বলেন, বমর্তমান এই সময়ে ভয়ে অনেক চিকিৎসক হাসপাতালে আসছেন না। কিন্তু ডাক্তার আশা অসুস্থ দুই সন্তানকে বাসায় রেখে করোনা ইউনিটে আসা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তার এই মমত্ববোধ সত্যিই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন তিনি।

ডা. আয়শা সিদ্দিকা আশা জানান, ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি সকলের মঙ্গলকামনা করে অসুস্থ দুই সন্তানের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। চলমান এই পরিস্থিতিতে কোন ভাবে কর্তব্যের অবহেলা করার সুযোগ নেই। তিনি নিজে যতক্ষণ সুস্থ থাকবেন করোনা ইউনিটের রোগীদের সেবা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসকদের যতটা সম্ভব নিরাপত্তার মধ্যে থেকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। নাটোরে করোনা উপসর্গ বেশ কিছু রোগী পেয়েছি। সদর হাসপাতালের করোনা আইসোলেশনেও রেখেও রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ১৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.