সকল মসজিদে ২৪ ঘণ্টা কুরআন তেলাওয়াতের নির্দেশ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষজন তারা তাদের ধর্মীয় আচারবিধি মেনে প্রার্থনা করছেন। গির্জায় যেমন খ্রিস্টানরা এ ব্যাপারে প্রার্থনা জানাচ্ছে তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে মুসলিমরা বিশ্বশান্তি কামনায় সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ করছেন।

সেই পথেই এগিয়ে এল মুসলিম প্রধান আফ্রিকান দেশ মৌরিতানিয়া। মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য দেশব্যাপী বিরতিহীন কুরআন তেলাওয়াত চালু করেছে মৌরতানিয়া সরকার।

জানা যায়, দেশটির ধর্মমন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনার ভিত্তিতে মৌরতানিয়ার প্রতিটি মসজিদে লাউডস্পিকারে ২৪ ঘণ্টা কুরআন তেলাওয়াত চালু রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ সপ্তাহের মাঝামাঝিতে সমগ্র মৌরিতানিয়া ইমামদের নিকট প্রেরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনা থেকে মুক্তি এবং দেশ জাতি ও বিশ্ববাসীর জন্য মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য কামনায় পবিত্র কুরআনে কারিমের তেলাওয়াত চালু করা হয়েছে।

সরকারের নির্দেশনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধর্মমন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসলাম আল মাকারি তার ফেরিফাইড ফেজবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে মসজিদ সংশ্লিষ্টদের তা কার্যকর করার আহবান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো মৌরতানিয়ায়ও করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে- এরই প্রেক্ষিতে দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ যোগাযোগ ব্যবস্থাও সীমিত রাখা হয়েছে। পুবের কলম।

দুধের সন্তানকে বাসায় রেখে হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. আয়শা সিদ্দিকা

নাটোর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আয়শা সিদ্দিকা আশা। আউটডোর মেডিকেল অফিসার হিসেবে গাইনি বিভাগে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতেন। বর্তমানে দেশের এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নিয়মিত করোনা কেয়ারের রোগীদের সেবা দিচ্ছেন তিনি। দুধের সন্তানদের বাসায় রেখে রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত হাসপাতালে ছুটে যান হাসপাতালে।

ডা. আয়শা সিদ্দিকা আশার দুই সন্তান। বড় সন্তানের বয়স ৩ বছর আর ছোট সন্তানের বয়স ১১ মাস। দুটি সন্তানই অসুস্থ। তারপরেও তাদের বাসায় রেখে হাসপাতালে রোগী দেখতে যান আশা। নাটোরের এই চিকিৎসক দুই সন্তানসহ পরিবারের জন্য দোয়া চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একজন সেবাগ্রহীতা ইয়াসিনপুর কলেজের অধ্যক্ষ সাজেদুর রহমান বলেন, বমর্তমান এই সময়ে ভয়ে অনেক চিকিৎসক হাসপাতালে আসছেন না। কিন্তু ডাক্তার আশা অসুস্থ দুই সন্তানকে বাসায় রেখে করোনা ইউনিটে আসা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তার এই মমত্ববোধ সত্যিই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন তিনি।

ডা. আয়শা সিদ্দিকা আশা জানান, ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি সকলের মঙ্গলকামনা করে অসুস্থ দুই সন্তানের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। চলমান এই পরিস্থিতিতে কোন ভাবে কর্তব্যের অবহেলা করার সুযোগ নেই। তিনি নিজে যতক্ষণ সুস্থ থাকবেন করোনা ইউনিটের রোগীদের সেবা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসকদের যতটা সম্ভব নিরাপত্তার মধ্যে থেকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। নাটোরে করোনা উপসর্গ বেশ কিছু রোগী পেয়েছি। সদর হাসপাতালের করোনা আইসোলেশনেও রেখেও রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ১৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.