মনোবল হারাবেন না, দেওয়া হবে বিশেষ সম্মানী: চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গোটা দেশবাসী চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে আছে। তাই করোনার ক্রান্তিকালে মনোবল হারাবেন না। তিনি বলেছেন, যেসব সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যক্ষভাবে করোনাভাইরাস রোগীদের নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের বিশেষ সম্মানী দেওয়া হবে।

বাংলা নববর্ষ পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আজ সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং মৃত্যুঝুঁকি উপেক্ষা করে একেবারে সামনের কাতারে থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের পেশাটাই এ রকম চ্যালেঞ্জের। এই ক্রান্তিকালে মনোবল হারাবেন না। গোটা দেশবাসী আপনাদের পাশে রয়েছে।’

ভাষণের শুরুতে সরকারপ্রধান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশ ও বিদেশে থাকা সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

দেশবাসীর পক্ষ থেকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যেসব সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যক্ষভাবে করোনাভাইরাস রোগীদের নিয়ে কাজ করছেন, ইতিমধ্যেই তাঁদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিশেষ সম্মানী দেওয়া হবে। এ জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বিমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বীমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে পদমর্যদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য থাকছে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবীমা এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনবীমা বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৭৫০ কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুরক্ষা সরঞ্জামের কোনো ঘাটতি নেই। নিজেকে সুরক্ষিত রেখে স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাবেন, এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। একই সঙ্গে সাধারণ রোগীরা যাতে কোনোভাবেই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

করোনাভাইরাসের কারণে পয়লা বৈশাখে বাইরের কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে গভীর আঁধার আমাদের বিশ্বকে গ্রাস করেছে, সে আঁধার ভেদ করে বেরিয়ে আসতে হবে নতুন দিনের সূর্যালোকে। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষায় তাই বলতে চাই: ‘মেঘ দেখ কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে, হারা শশীর হারা হাসি, অন্ধকারেই ফিরে আসে।’

পয়লা বৈশাখের আনন্দময় আয়োজনের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এদিন রাজধানীতে রমনা পার্ক, চারুকলা চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ নগরীর নানা স্থান মানুষের ভিড়ে মুখর থাকে। গ্রামীণ মেলা, হালখাতাসহ নানা অনুষ্ঠানে গোটা দেশ মেতে ওঠে। এবার সবাইকে অনুরোধ করব, কাঁচা আম, জাম, পেয়ারা, তরমুজসহ নানা মৌসুমি ফল সংগ্রহ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে বসেই নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করুন। আপনারা বিনা কারণে ঘরের বাইরে যাবেন না। অযথা কোথাও ভিড় করবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।’

দেশের মানুষকে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভয় মানুষের প্রতিরোধক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। কেউ আতঙ্ক ছড়াবেন না। সবাইকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। সরকার সব সময় আপনার পাশে আছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এ সংকটকালে এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যে আঁধার চারপাশকে ঘিরে ধরেছে, তা একদিন কেটে যাবেই।

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গোটা দেশবাসী চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে আছে। তাই করোনার ক্রান্তিকালে মনোবল হারাবেন না। তিনি বলেছেন, যেসব সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যক্ষভাবে করোনাভাইরাস রোগীদের নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের বিশেষ সম্মানী দেওয়া হবে।

বাংলা নববর্ষ পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আজ সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং মৃত্যুঝুঁকি উপেক্ষা করে একেবারে সামনের কাতারে থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের পেশাটাই এ রকম চ্যালেঞ্জের। এই ক্রান্তিকালে মনোবল হারাবেন না। গোটা দেশবাসী আপনাদের পাশে রয়েছে।’

ভাষণের শুরুতে সরকারপ্রধান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশ ও বিদেশে থাকা সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

দেশবাসীর পক্ষ থেকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যেসব সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যক্ষভাবে করোনাভাইরাস রোগীদের নিয়ে কাজ করছেন, ইতিমধ্যেই তাঁদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিশেষ সম্মানী দেওয়া হবে। এ জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বিমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বীমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে পদমর্যদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য থাকছে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবীমা এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনবীমা বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৭৫০ কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুরক্ষা সরঞ্জামের কোনো ঘাটতি নেই। নিজেকে সুরক্ষিত রেখে স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাবেন, এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। একই সঙ্গে সাধারণ রোগীরা যাতে কোনোভাবেই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

করোনাভাইরাসের কারণে পয়লা বৈশাখে বাইরের কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে গভীর আঁধার আমাদের বিশ্বকে গ্রাস করেছে, সে আঁধার ভেদ করে বেরিয়ে আসতে হবে নতুন দিনের সূর্যালোকে। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষায় তাই বলতে চাই: ‘মেঘ দেখ কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে, হারা শশীর হারা হাসি, অন্ধকারেই ফিরে আসে।’

পয়লা বৈশাখের আনন্দময় আয়োজনের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এদিন রাজধানীতে রমনা পার্ক, চারুকলা চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ নগরীর নানা স্থান মানুষের ভিড়ে মুখর থাকে। গ্রামীণ মেলা, হালখাতাসহ নানা অনুষ্ঠানে গোটা দেশ মেতে ওঠে। এবার সবাইকে অনুরোধ করব, কাঁচা আম, জাম, পেয়ারা, তরমুজসহ নানা মৌসুমি ফল সংগ্রহ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে বসেই নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করুন। আপনারা বিনা কারণে ঘরের বাইরে যাবেন না। অযথা কোথাও ভিড় করবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।’

দেশের মানুষকে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভয় মানুষের প্রতিরোধক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। কেউ আতঙ্ক ছড়াবেন না। সবাইকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। সরকার সব সময় আপনার পাশে আছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এ সংকটকালে এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যে আঁধার চারপাশকে ঘিরে ধরেছে, তা একদিন কেটে যাবেই।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের ২৫০ কোটিরও বেশি মানুষ আজ ঘরবন্দী। কোথাও লকডাউন, কোথাও গণছুটি আবার কোথাও কারফিউ জারি করে মানুষকে ঘরবন্দী করা হয়েছে। বাংলাদেশেও একটানা ৩২ দিন সাধারণ ছুটি বলবৎ হয়েছে। দেশের সিংহভাগ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ছোটখাটো কারখানা বন্ধ। গণপরিবহন ও বিমান চলাচল স্থগিত। আমদানি-রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। প্রবাসীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। স্থবিরতা নেমে এসেছে রেমিট্যান্স–প্রবাহে। এই সংকট কত দিন থাকবে এবং তা অর্থনীতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, তা জানা নেই। তবু সরকার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।

করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব উত্তরণে চারটি মূল কার্যক্রম নির্ধারণের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী, যা চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট তিন মাসে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। চারটি কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—১. সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা। এ ক্ষেত্রে কর্মসৃজনকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। ২. আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল রাখা এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখাই হলো আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্য। ৩. সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি। এর মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগণ, দিনমজুর এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা হবে। ৪. মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা। অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব উত্তরণে মুদ্রা সরবরাহ এমনভাবে বাড়ানো হবে, যেন মুদ্রাস্ফীতি না ঘটে।

কৃষিতে জোর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

গোপনে দান করলে আরশের নিচে ছায়া পাওয়া যাবে কিয়ামতের দিন !

যে ব্যক্তি গোপনে দান-খয়রাত করে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন সুশীতল ছায়াতলে স্থান দেবেন।

এ ছাড়া আরও ছয় প্রকারের লোককে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁর সুশীতল ছায়াতলে স্থান দেবেন। সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবি হযরত আবু হুরাইরা (রা:) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, সাত ধরণের লোককে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁর সুশীতল ছায়াতলে স্থান দেবেন।

যে দিন তাঁর ছায়া ব্যতিত আর কোন ছায়াই থাকবেনা। সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিরা হলেন- ১.ন্যায়বিচারক বা শাসক বা নেতা । ২.মহান আল্লাহর ইবাদতে মশগুল যুবক। ৩.মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তি।

৪.যে দুই ব্যক্তি শুধু মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষে পরস্পর বন্ধুত্ব করে ও ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং এজন্যই তারা আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ৫. এমন পুরুষ, যাকে কোন উচ্চ বংশের সুন্দুরী নারী অসৎ কাজের দিকে ডেকেছে; কিন্তু সে জানিয়ে দিয়েছে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।

৬. যে ব্যক্তি এত গোপনে দান-খয়রাত করে যে, তার ডান হাত কি করছে বাম হাতও তা জানতে পারেনি এবং ৭. এমন ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর যিকির করে এবং দু’ চোখ থেকে পানি ঝরে (ক্রন্দন করে) (বুখারী ও মুসলিম)

প্রসঙ্গত, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, মানবতার মুক্তির দূত, সাইয়্যেদুল মুরসালিন খাতামুননাবিয়ীন হযরত মুহাম্মদ (সা:)কে আল্লাহ ছোবাহানাহু তায়ালা বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন- তোমাদের জন্য রাসুলের জীবনীর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। তাঁর প্রতিটি কথা, কাজ, অনুমোদন, নির্দেশনা, আদেশ, নিষেধ ও উপদেশ দুনিয়া-আখেরাতের কল্যাণের বার্তাবাহী।

আল্লাহই রক্ষা করতে পারেন, সুস্থতা দানের মালিক একমাত্র আল্লাহ

মুফতি মুহাম্মাদ ইসমাঈল : রোগে আক্রান্ত হওয়া, অভাবে পতিত হওয়া, ঋণগ্রস্ত হওয়া ও বেকার হওয়াসহ হাজারো পেরেশানিতে মানুষ ভোগে। এ পেরেশানি দুই ধরনের—

এক. পেরেশানি আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তিস্বরূপ এসে থাকে। পাপ-নাফরমানির প্রকৃত শাস্তি তো বান্দা পরকালেই পাবে। কিন্তু মানুষ যখন সীমাহীন অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়, তখন আল্লাহ ইহকালেও আজাবের কিছু নমুনা প্রকাশ করে দেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘(পরকালের) বড় শাস্তির পূর্বে আমি অবশ্যই তাদের (ইহকালে) সামান্য শাস্তি আস্বাদন করাব, যেন তারা (মন্দ কাজ থেকে) প্রত্যাবর্তন করে।’ (সুরা : সাজদা, আয়াত : ২১)

দুই. পেরেশানির মাধ্যমে বান্দার মর্যাদা উন্নীত হতে থাকে। এর বিনিময়ে তাকে সওয়াব দেওয়া হয়, নৈকট্যশীল করা হয়। পেরেশানি শাস্তিস্বরূপ, নাকি কল্যাণময় বুঝব কিভাবে?
রোগ-ব্যা’ধিসহ নানাবিধ পেরেশানিতে পতিত হয়ে কিছু মানুষ আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া ছেড়ে দেয়। অ’ভিযোগ করে এবং বলে—(নাউজু বিল্লাহ) এ রোগব্যা’ধি ও পেরেশানির জন্য আমিই বাকি ছিলাম? আমাকে কেন রোগব্যা’ধি দেওয়া হচ্ছে? আমার ওপরই এত পেরেশানি কেন? এবং আল্লাহর প্রদত্ত হুকুম-আহকাম পরিত্যাগ করে। আগে নামাজ পড়ত, এখন নামাজ পড়ে না। আগে জিকির-আজকার করত, এখন করে না। পেরেশানি থেকে বাঁচার জন্য দুনিয়াবি সব উপকরণ অবলম্বন করে। কিন্তু আল্লাহর কাছে তাওবা-ইস্তিগফার করে না, দোয়া করে না। বুঝতে হবে, এ পেরেশানি তাদের ওপর শাস্তিস্বরূপ এসেছিল।

আবার কিছু মানুষ রোগব্যা’ধিসহ নানাবিধ পেরেশানিতে পতিত হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়। কোনোরূপ অ’ভিযোগ করে না; বরং দোয়া করে—হে আল্লাহ আমি দুর্বল, এ রোগব্যা’ধি ও পেরেশানির কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই, অনুগ্রহ করে আমাকে এর থেকে নাজাত দিন। অসুস্থতার নিয়ামতকে সুস্থতার নিয়ামতে পরিণত করে দিন। এবং ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। নাফরমানি ছেড়ে দেয়। বুঝতে হবে, এ পেরেশানি তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য, তাদের সওয়াব দেওয়ার জন্য ও আরো নৈকট্যশীল করার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছিল। ইরশাদ হয়েছে, ‘অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জীবনের ক্ষতি এবং ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের। যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাব।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৫-১৫৬)

সুস্থতা বিরাট নিয়ামত
সুস্থতা আল্লাহর এক বিরাট নিয়ামত। ব্যক্তি ও জাতির উন্নতির জন্য সুস্থতা জরুরি। সুখী ও সক্রিয় জীবনযাপনের জন্য সুস্বাস্থ্য আবশ্যক। অসুস্থ ব্যক্তির কোনো কিছুই ভালো লাগে না। প্রবাদ আছে, ‘সুস্থতাই সব সুখের মূল’। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে গণিমত মনে করো।’ আরেক হাদিসে আছে, ‘দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে অসংখ্য মানুষ প্রতারিত। সুস্থতা ও অবসর।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)

ইসলামে স্বাস্থ্য পরিচর্যার তাগিদ
ইসলাম স্বাস্থ্য পরিচর্যার তাগিদ দিয়েছে। স্বাস্থ্য রক্ষার নানামুখী গাইডলাইন দিয়েছে। স্বাস্থ্য পরিচর্যার দুটি মৌলিক দিক রয়েছে। প্র’তিরোধমূলক ও প্রতিষে’ধকমূলক। এ দুটির ব্যাপারেই ইসলামের মৌলিক নির্দেশনা রয়েছে। স্বাস্থ্য রক্ষা ও সুস্থতার জন্য প্র’তিরোধমূলক বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্রয়োজনীয় পানাহার ও বিশ্রামসহ স্বাস্থ্যবিষয়ক যাবতীয় সতর্কতা অবলম্বন। আর প্র’তিষেধকমূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে—উপযুক্ত চিকিৎসা ও সেবা-শুশ্রূষা ইত্যাদি।

সুস্থতা দানের মালিক একমাত্র আল্লাহ
ছোট-বড় কত রোগে মানুষ আ’ক্রা’ন্ত হয়। সুন্নত হিসেবে ডাক্তারের কাছে যায়। ওষুধ সেবন করে। কিন্তু ডাক্তার বা ওষুধ শেফা দিতে পারে না, শেফা দেন একমাত্র আল্লাহ। কেননা একই ওষুধ, একই অসুস্থতা। একজন সুস্থ হয়, আরেকজন সুস্থ হয় না। একজনের জন্য ওষুধ কার্যকর হয়, আরেকজনের জন্য কার্যকর হয় না। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা এ কথাও বলে থাকেন, একজন রোগীকে কোনো অসুস্থতার কারণে এক ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়, সে সুস্থও হয়। ছয় মাস পর সে আবার একই রোগে আ’ক্রা’ন্ত হয়, তাকে আবার সেই ওষুধই দেওয়া হয়। কিন্তু এবার সে সুস্থ হয় না, ওষুধ কাজ করে না। কেন হয় না? কারণ—এ ওষুধ তার শরীরের জন্য ফিট নয় এবং তাতে আল্লাহর হুকুম নেই, তাঁর ইচ্ছা নেই। ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো দুর্দশা দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূরকারী কেউ নেই।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৭)

কোরআনে ইবরাহিম (আ.)-এর কথা বর্ণিত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন আমি অসুস্থ হই তখন তিনিই আমাকে সুস্থতা দান করেন।’ (সুরা : শুআরা, আয়াত : ৮০)

তাই কোনো রোগব্যাধি আ’ক্র’মণ করলে আরোগ্য লাভের জন্য আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। যদিও সুন্নত হিসেবে চিকিৎসাও চালিয়ে যেতে হবে। দোয়া এবং দাওয়া দুটিই জরুরি। তবে ঈমানদারের জন্য আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহ সবাইকে আজাব ও গজব থেকে হেফাজতে রাখুন।

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া আম্বরশাহ আল ইসলামিয়া, কারওয়ান বাজার, ঢাকা।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.