বিপদে যদি একজন মানুষও পাশে দাঁড়ায়, সেটি তিনি

তাকে দেখতাম দূর থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে আমরা ছিলাম সবচেয়ে বেয়াদব গ্রু’প। কিন্তু তার সাথে কোনদিন একটু মজা করার সাহসও হতো না আমাদের। সুচিত্রা সেনের সতো স্নিগ্ধ সৌন্দর্য, ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট, অতি বনেদী পরিবারের মেয়ে- শাহনাজ হুদা-কে মনে হতো ধ’রা ছোঁয়ার বাইরের কোন মানুষ।

আমি যখন তৃতীয় বর্ষ-এ তিনি আমাদের শিক্ষক হলেন। স’রাস’রি ক্লাস পাইনি, পরীক্ষা হলে এলেন একদিন গা’র্ড দিতে। আমার কাছাকাছি এক সহপাঠী (এখন বিশাল ও নামী ব্যক্তি আইনের ভূবনে) নকল করছে দেখে চিৎ’কার করে ডাকলাম তাকে। তিনি আসতে আসতে সে নকল ছু’ড়ে মা’রলো জানালা দিয়ে। কিছু না পেয়ে তিনি উ’ল্টো ব’কা দিলেন আমাকে। খুব মন খারাপ করে তার থেকে দূরে দূরে থাকলাম। এটা তো ছিলো, আরো কিছু কারণে আমি নিজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়ার অনেক বছর পর্যন্ত ঠিকমতো কথা হতো না আমাদের।

আর এখন! মনে হয় কোন মানুষকে খু’ন করে ফেললেও যাকে সব বলতে পারবো সেটি তিনি। মনে হয় নিজের সব সম্পদ কারো কাছে রেখে ম’রে যেতে হলে সেটি হবেন তিনি। আরো কত কিছু মনে হয় আমার, শ্রদ্ধায় আর ভালোবাসায়। কয়েকমাস আগে তার স্বামী আমাদের প্রিয় রাজ্জাক ভাই মা’রা গেলেন হঠাৎ। পারিবারিক কবরস্থানে স্ত’ব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। আমার দু’চোখ ভরা পানি। রাজ্জাক ভাইয়ের জন্য, শাহনাজ আপার জন্যও।

তাকে শুধু আমি ভালোবাসি না। আমাদের আইন বিভাগে শিক্ষক, কর্মচারী, ছাত্রছাত্রী সবার সবচেয়ে প্রিয় তিনি। অসম্ভব দায়িত্বশীল, দানশীল, স্নেহপ্রবণ, ন্যায়পরায়ণ আর স্প’ষ্টভাষী মানুষ হিসেবে তাকে চিনি আমরা। তিনি কাউকে বলেন না, তবু কিভাবে যেন সবাই জেনে যায় কারো বিপ’দে যদি একজন মানুষও পাশে দাঁড়ায়- সেটি তিনি।

শাহনাজ আপার সারল্যও তুলনাহীন। তার একটা গল্প বলে শেষ করি। দেশে তখন চাঁ’দাবা’জির ম’হোৎ’সব চলছে। শীর্ষ স’ন্ত্রা’সী ‘কালা জাহাঙ্গীর’ পরিচয় দিয়ে তাকে ফোন করেছে একজন।

তিনি অবাক : কি নাম? কালা জাহাঙ্গীর! এটা আবার কেমন নাম? নাম শুনেননি! কালা জাহাঙ্গীর হ’তভ’ম্ব! না তো? ফোন করেছেন কেন? সত্যি শুনেননি? কি মুশকিল! শুনলে বলবো না কেন? অন্য পাশ নিরু’ত্তর। শাহনাজ আপা বির’ক্ত হয়ে বললেন : ফোন করেছেন কেন? সেটা বলেন। ‘কালা জাহাঙ্গীর’ কিছু বলে না। কি আর বলবে সে!

শাহনাজ আপা আমাদের এ গল্পটা বলেন পরদিন। আমরা তাকে বলি কি ডে’ঞ্জারা’স লোক কালা জাহাঙ্গীর! তিনি কিছুতে বুঝতে পারেন না, তাকে কেন ফোন করেছিল সে! এরকম একটু একটু বোকা দেখে তাকে আমরা আরো বেশি ভালোবাসি। (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

পবিত্র রমাজানে ১০ মিলিয়ন মানুষকে সহায়তা পাঠাবে তুরস্ক

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে দশ মিলিয়ন মানুষকে সহায়তা পাঠাবে তুরস্কের আল হেলাল আল আহমার বা তুর্কিশ রেড ক্রিসেন্ট। এই সংবাদ জানিয়েছে ইয়ানী শাফাক।

তুরস্কের আল হেলাল আল আহমারের প্রধান করীম কিনিক জানিয়েছেন, সারা বিশ্বে যুদ্ধ বিধ্বস্ত, দরীদ্র অঞ্চলের মানুষদের কাছে এই সহায়তা পাঠানো হবে। লকডাউনের কারণে, অন‍্যান‍্য বছরের থেকে এবছর তুরস্কের মানুষের জন্য একটু বেশী সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তুরস্কের আল হেলাল আল আহমার এবারে ফিলিস্তীন, বসনিয়া হারজেগোভিনা, সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ , রাখাইন সহ ১৬ টি দেশে সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে রমজান শুরু হয়ে ২৩ মে তে সমাপ্ত হবার কথা রয়েছে। গতবছর ৩৮ টি দেশ ও ৪০০ টি অঞ্চলে সহায়তা পাঠিয়েছিল তুরস্কের আল হেলাল আল আহমার। এবছর রমজান সহায়তার জন্য ২০৭ মিলিয়ন তুর্কি লিরা ( ৩২ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার) বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন করীম কিনিক।

তুরস্কে এবছর ৬ লক্ষ দশ হাজার পরিবারকে (২.৫ মিলিয়ন জনগণ) সহায়তা রমজান সহায়তা দেবে উক্ত সংস্থা। এছাড়া লকডাউন সহ বিভিন্ন কারণে ঘরে থাকা তিন মানুষের জন্য ৩ মিলিয়ন ইফতার , সেহরী ও খাবারের আয়োজন করার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। এছাড়া করোনা ভাইরাস ও বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দিনরাত পরিশ্রম করা ৪০০০ জন স্টাফকে ইফতার দেওয়া হবে।

এছাড়া ৫ লক্ষ ৫০ হাজার পরিবার কে ব্যাক্তিগত পার্সোনাল কেয়ার প‍্যাক ও স্যানিটাইজার বিতরণ সহ ২ লক্ষ ৫০ হাজার পরিবার কে মাসিক ৫৮ আমেরিকান ডলার অনুদান প্রদান করার কথা ঘোষণা করেছে আল হেলাল আল আহমার। এছাড়া নিত‍্যপ্রয়োজনী দ্রব্যের জন‍্য তুরস্কে একটি কোড নাম্বার দেওয়া হবে যাতে মেসেজের মাধ্যমে জনগণ প্রয়োজনীয় দ্রব্য পেতে পারেন।

জাতি শুধু ডাক্তার মঈনকে নয় এক নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসককে হারালো : ড. শিরীন শারমিন

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

স্পীকার ডা. মঈন উদ্দিনের রুহর মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

এক শোক বিবৃতিতে স্পীকার জানান, ডা. মঈন উদ্দিনের মৃত্যুতে জাতি এক নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসককে হারালো।
দেশের ক্রান্তি লগ্নে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় এই মহৎপ্রাণ চিকিৎসক নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে মানুষের সেবা করেছেন তা সকলের জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।

এছাড়া, ডা. মঈন উদ্দিনের মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি এবং চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশকে বিনামূল্যে করোনার ওষুধ দেবে জাপান

করোনা মহামা’রির এই দুঃ’সময়ে জাপানের ফুজিফিল্ম তয়োমা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের উৎপাদন করা এভিগান রোগটি প্র’তিরোধে আশার আলো যোগাচ্ছে। তবে করোনাভাইরাসের বি’রুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য জাপানের এই ওষুধটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি। ওষুধটি প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে করোনায় আক্রা’ন্ত বাংলাদেশিরা সীমিত আকারে বিনামূল্যে এই ওষুধটি পাবে বলে জানিয়েছে জাপান।

জাপানের টোকিও’তে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের কাউন্সেলর এবং দূতালয় প্রধান (এইচওসি) ড. জিয়াউল আবেদিন শনিবার (১১ এপ্রিল) বলেন, জাপান সরকার বাংলাদেশকে জানিয়েছে যে, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সীমিত আকারে বিনামূল্যে এভিগান দেবে তারা।

ক‚টনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মার্চের ২০ তারিখে জাপান সরকারকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, করোনা প্র’তিরোধে জাপানের উৎপাদিত এভিগান ওষুধ দিয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করা হোক। জবাবে জাপান সরকার জানায় যে, আপাতত সীমিত আকারে (সর্বনি¤œ ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ১০০টি) বিনামূল্যে এই ওষুধ বাংলাদেশকে দেওয়া হবে।

টোকিও’র একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওষুধটির কার্যকারিতা এবং পার্শ্ব প্রতি’ক্রিয়াসহ সার্বিক বিষয়ে এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শেষে কম-বেশি ৫০টি দেশকে সীমিত আকারে এই ওষুধ দেবে জাপান। কমবেশি ৫০টি দেশে করোনা আক্রা’ন্তের ঘটনায় এভিগান ব্যবহারের ফলাফলগুলো একত্র করে ওষুধটির কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।

এরপর যদি দেখা যায় যে, করোনার আগ্রা’সী আ’ক্র’মণ ঠে’কাতে এভিগান কার্যকর, তখনই ওষুধটি প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করবে জাপান। তবে সেটা কখনই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হবে না বলে গত মার্চে জাপান সরকার ষ্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। তারা বলেছে যে, আক্রা’ন্ত দেশগুলোকে এই ওষুধ বিনামূল্যে দিয়ে সহায়তা করা হবে।

দেশি-বিদেশি একাধিক জার্নাল ঘেঁটে দেখা গেছে, করোনা প্রতিরো’ধে এখনও কার্যকর প্রমাণিত কোনো টিকা বা ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তবে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত এভিগান, আরবিডল, ইন্টারফেরন আলফা টুবি, ফেভিপিরাভির, লোপিনাভির, ক্লোরোনকুইনিন, রেমডেসিভিরসহ প্রায় ডজনখানক ওষুধ করোনা প্র’তিরো’ধে পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়। যার মধ্যে এভিগান এখন পর্যন্ত করোনা বিরু’দ্ধে যু’দ্ধে এগিয়ে থাকার আশা জোগাচ্ছে।

জাপানের ফুজিফিল্ম তয়োমা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ২০১৪ সাল থেকে ইনফ্লুঞ্জো চিকিৎসার জন্য এভিগান উৎপাদন করছে। গত ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনা আ’ক্র’মণ করার পর চীন সরকার গত মার্চে জানায় যে, জাপানের এভিগান ওষুধটি করোনা প্র’তিরোধে ভালো কাজ করছে।

চীনের কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণমন্ত্রী কাতসুনোবু কাতো বলেন, করোনার বিরু’দ্ধে এভিগান কতোটুকু কার্যকর তা পরীক্ষা করে দেখবে জাপান।’ জাপানের মন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত এভিগান নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে জাপান। তথ্য সূত্রঃ-আমাদেরসময়.কম

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.