টিভি দেখেই ঘরে পড়া যাবে তারাবির নামাজ

মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে পবিত্র রমজান মাসে দেশের মানুষ মসজিদে জমায়েত করে তারাবির নামাজের বিকল্প হিসেবে টেলিভিশনে তারাবির নামাজ সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তাব করেছেন সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী।

নিজের নির্বাচনী এলাকায় রমজান মাসে টেলিভিশনে তারাবির নামাজ সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের এই নেতা, তার উদ্যোগের সমালোচনা করছেন অনেকে।

সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, যেকোনও এক জায়গার নামাজ সম্প্রচার করা হলে, তার অডিওটি অনুসরণ করে খতম তারাবি পড়া যাবে। যেমন বিশ্ব ইজতেমায় যখন আখেরি মোনাজাত হয় তখন টেলিভিশনে তা সরাসরি দেখে অনেকে সেই মোনাজাতে অংশ নেন। আবার আমরা যখন নামাজ পড়ি, বেশিরভাগই লোকই কিন্তু ইমামকে দেখতে পান না। তখন আমরা মাইকের শব্দ অনুসরণ করে নামাজ শেষ করি।

যেভাবে টেলিভিশনের মাধ্যমে পড়া যেতে পারে নামাজ
সাবের হোসেন চৌধুরী মনে করছেন, এটি একটি ধারণা এবং বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিৎ।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই অন্তত রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়েন। তারাবি নামাজের পদ্ধতি অনুযায়ী – সুরার মাধ্যমে এবং খতম তারাবি – যাদের বাড়িতে কোনও হাফেজ নেই তাদের জন্য এটি খতম তারাবির বিকল্প হতে পারে। টেলিভিশনে সম্প্রচার হলে কারো টিভির স্ক্রিনে তাকানোর প্রয়োজন নেই। শুধু অডিও শুনলেই হবে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলছিলেন, মক্কায় তারাবির নামাজের সময় অডিও সরাসরি সম্প্রচার হয়। অনেকেই সেটি অনুসরণ করে নামাজ পড়েন। দেশে প্রযুক্তির দিক দিয়ে এটি অসম্ভব কিছু নয়।

তবে তিনি বলছেন, বিষয়টি ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী এবং ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী কতটুকু সঠিক, সেটা জানতে হবে। সেটা নিয়ে আরও চিন্তা হতে পারে, কথা হতে পারে।

এছাড়া কিছু সমস্যা নিয়েও বলেছেন তিনি। যেমন হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে কি হবে। সে সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয় তাহলে অডিও বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল থাকছে না। বরং ইন্টারনেট সংযোগের উপর নির্ভর করছে।

ধর্মীয় রীতি কী বলে?
ধারণাটি নিয়ে ধর্মীয় মত কী, সে নিয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদের একজন খতিব মিজানুর রহমান অবশ্য টেলিভিশনে নামাজ পড়ার বিষয়টি কতটা ইসলামী বিধিসম্মত, তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন।

তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমার সাথে এর পার্থক্যটা হল, মোনাজাত আর সালাত। টেলিভিশনে দেখে মোনাজাতে শরিক হওয়া নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। কিন্তু নামাজের বিষয়টি হল ইমামকে এক্তেদা ও অনুসরণ করতে হয়। এ ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর অধিকাংশ মুফতি মনে করেন টিভিতে দেখে নামাজের এক্তেদা করা ঠিক না।

তবে তিনি বলেন, এটা ঠিক যে ইমামকে দেখতে পাওয়ার বিষয়টা জরুরি না। মসজিদে প্রথম কাতারে যারা থাকেন তারা ছাড়া আর তো কেউ দেখতে পান না। পিছনের কাতার থেকে ইমামকে দেখে না কিন্তু শোনে। তবে তারা একই মসজিদের জামাতে থাকেন। এতটুকু পর্যন্ত ঠিক আছে।

”মুফতিগণ মনে করেন শুধু যন্ত্রের উপর নির্ভর করে নামাজ পড়লে সেটা সঠিক হব না।”

খতিব মিজানুর রহমান বলেন, তারাবির নামাজ মসজিদে পড়া ইসলামে বাধ্যতামূলক নয়। রমজান মাসে কোরআন শরীফ শোনার একটা সুযোগ হয়। মানুষের মধ্যে এই আগ্রহটা তৈরি হয়। এটা সুন্নত কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়।

তিনি আরও মনে করেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের এই পরিস্থিতিতে আমরাও বলছি নামাজ যার যার ঘরে পড়েন। বাড়িতে তারাবির নামাজ পড়লে বিষয়টা শরিয়া বিরোধী হবে না। তবে তার জন্য কোনও যন্ত্রের মাধ্যমে সম্প্রচারের প্রয়োজন নেই। বাড়ির পুরুষদের কেউ ইমামতি করলেই হবে।

কোভিড-19 সংক্রমণ রোধে, হাঁচি কাশি এড়াতে, লোক সমাগম থেকে দুরে থাকতে বলা হয়। বাংলাদেশে এখন পাঁচজনের বেশি একসাথে মসজিদে নামাজ না পড়ার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এস

হে আল্লাহ! মহামারি করোনা থেকে মুক্তি দিন

মরণব্যা’ধি করোনাভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারি। দুনিয়াতে কখনো কখনো মহামারি আসে মানুষকে পরীক্ষার জন্য। আবার কখনো কখনো অবাধ্য মানুষকে শাস্তি দিতে। সে মহামা’রির কবলে পড়ে জীবন ও সহায়-সম্পদ হারান অপরাধী কিংবা নিরপরাধ সব মানুষ। কুরআনুল কারিমে এমন আজাবকে (মহামা’রি) ভয় করার কথা বলা হয়েছে- ‘তোমরা এমন শাস্তি থেকে দূরে থাক, যা বিশেষভাবে তোমাদের মধ্যে যারা জা’লিম, (শুধু) তাদেরকেই আ’ক্রমণ করবে না। আর জেনে রেখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে খুবই কঠোর।’ (সুরা আনফাল : আয়াত ২৫)

আল্লাহর পক্ষ থেকে যখন কোনো অঞ্চলে আ’জাব বা গ’জব আসে তখন তা ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ঈমানদার কিংবা বেঈমান সবাইকে আ’ক্রমণ করে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে তা সুস্পষ্ট। হাদিসে এসেছে- হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন আল্লাহ্‌ কোনো সম্প্রদায়ের উপর আ’জাব পাঠান তখন সেখানে বসবাসরত সবার উপরই সেই আজা’ব পতিত হয়। অবশ্য পরে প্রত্যেককে তার আমল অনুযায়ী উঠানো হবে।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)

উল্লেখিত হাদিসটি প্রমাণ করে যে, যখন আল্লাহ তাআলা কোনো সম্প্রদায়ের গোনাহের কারণে তাদের উপর কোনো আজাব দেন তখন তা ভালো-মন্দ সবার উপরই নেমে আসে। মহামা’রি আক্রা’ন্ত অঞ্চলে যদি কোনো নিরপরাধ ভালো মানুষও থাকে সেও ওই মহামা’রিতে আক্রা’ন্ত হয়।

হজরত যায়নাব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা বিশ্বনবিকে প্রশ্ন করেন, আমাদের মাঝে সৎ লোক থাকা অবস্থায়ও কি আমরা ধ্বং’স হয়ে যাব? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উত্তরে বলেন, ‘হ্যাঁ’, যখন নোংরামির মাত্রা বেড়ে যাবে।

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে যে, যখন গ’র্হিত ও গো’নাহের কাজ প্রকাশ পাবে তখন সবার ধ্বংস অনিবা’র্য হয়ে পড়বে। তবে সৎ ও মন্দ লোকের মৃ’ত্যুর ব্যাপারে অংশীদারিত্ব, নেকি ও শাস্তির ব্যাপারে অংশীদারিত্বকে অপরিহার্য করবে না। বরং তাদের প্রত্যেককে তাদের নিজ নিজ আমলের নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সৎ লোকের উপর আজাবের উদ্দেশ্য হবে তাদেরকে পবিত্র করা আর মন্দ লোকের জন্য শাস্তি দেয়া।’ (ফাতহুল বারী)

সুতরাং চলমান মহামা’রি করোনাভাইরাসে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা- হে আল্লাহ! আপনি মহামা’রি করোনা থেকে মুসলিম উম্মাহকে মুক্তি দিন। মহামা’রি করোনাকে আপনি মানুষের ওপর থেকে তুলে নিন।

মহামা’রি কারোনায় এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬১ হাজার ৯১৯ জনের প্রাণহা’নি ঘটেছে। এদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা আল্লাহর একান্ত প্রিয় বান্দা। তারাও রক্ষা পায়নি এ মহামা’রি থেকে। হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী তারা একদিকে পাবে শাহাদাতের মর্যাদা আবার অন্যদিকে পাবে তাদের আমল অনুযায়ী প্রতিদান।

সুতরাং মহামা’রি করোনায় কে মা’রা গেল আর বেঁচে থাকলো। কে ভালো লোক আর কে মন্দ লোক এসব বাচাই করার সুযোগ নেই। কোনো জাতির ওপর আল্লাহর আজাব নেমে এলে- কে ভালো, কে মন্দ তা পার্থক্য করা হয় না। এমনকি নেককার মানুষও বিপদ, আজাব ও মহামারি দ্বারা আক্রা’ন্ত হতে পারে।

মুমিন ও কাফেরদে বিপদে রয়েছে পার্থক্য। কাফের অবাধ্য-অবিশ্বাসীদের জন্য বিপদ-আপদ আসে আজাবস্বরূপ। কিন্তু ঈমানদারের জন্য বিপদ-আপদ-মহামা’রি রহমতস্বরূপ। হাদিসে এসেছে- হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যেসব বিপদ-আপদ আসে। আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা তার পাপ দূর করে দেন। এমনকি যদি (সামান্য) কাঁটাও তার শরীরে ফোটে, এর দ্বারাও।’ (বুখারি)

এমন ধারণা করা ঠিক নয়, কেননা মহামা’রিতে কোনো নেককার ব্যক্তি আক্রান্ত হবে না এ মর্মে কোনো দিকনির্দেশনা কুরআন এবং হাদিসে আসেনি। বরং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই সবচেয়ে বেশি রোগ যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। হাদিসে এসেছে- হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেয়ে বেশি রোগ যন্ত্রণা ভোগকারী অন্য কাউকেও দেখিনি।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্লেগ রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। জবাবে তিনি বলেন, এটি হচ্ছে এক ধরনের আজাব। আল্লাহ যার ওপর তা পাঠাতে ইচ্ছা করেন, পাঠিয়ে থাকেন। কিন্তু আল্লাহ এটিকে মুমিনদের জন্য রহমত বানিয়ে দেন। অতএব প্লেগ রোগে কোনো বান্দা যদি ধৈর্য ধরে, এই বিশ্বাস নিয়ে নিজ শহরে অবস্থান করতে থাকে যে আল্লাহ তার জন্য যা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তা ছাড়া আর কোনো বিপদ তার ওপর আসবে না, তাহলে সেই বান্দার জন্য থাকবে শহিদের সমান সওয়াব।’ (বুখারি)

তারপরও মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ- হে আল্লাহ! মহামা’রি করোনা থেকে আপনি পুরো জাতিকে হেফাজত করুন। আপনিই সেরা আরোগ্য ও নিরাপত্তা দানকারী। যেভাবে দোয়া করতে বলেছেন বিশ্বনবি-
– اَللَّهمَّ اِنِّيْ اَسْاَلكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্‌আলুকাল আ-ফিয়াতা ফিদ-দুন্‌ইয়া ওয়াল আখিরাহ।’ (তিরমিজি)
অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার কাছে দুনিয়া এবং পরকালের সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রশান্তি প্রার্থনা করছি।

– يَا مُنْزِلَ الشِّفَآءِ وَ مُذْهِبَ الدَّآءِ اَنْزِلْ عَلٰى وَجَعِيَ الشِّفَآءِ. اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمَاً
উচ্চারণ :‘ ইয়া মুংযিলাশ-শিফায়ি ওয়া মুজহিবাদ দায়ি আংযিল আলা ওয়াঝায়িয়াশ-শিফায়ি, ইশফি আংতাশ-শাফি লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা শিফাআন লা ইয়ুগাদিরু সাক্বামা।’

অর্থ : হে সুস্থতা নাজিলকারী। হে রোগের প্রতিষে’ধক দানকারী। আমাদের জন (সব মহামা’রি) রোগ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার শেফা/চিকিৎসা নাজিল করুন। আপনি সুস্থতা দান করুন। আপনিই রোগ নিরাময়কারী। আপনি ছাড়া সুস্থতা দানকারী আর কেউ নেই। এমন সুস্থতা দান করুন, যাতে আমাকের মধ্যে আর কোনো রোগ অবশিষ্ট না থাকে।’

– اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَ الْجُنُوْنِ وَ الْجُذَامِ وَمِنْ سَىِّءِ الْاَسْقَامِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাচি ওয়াল জুনুনি ওয়াল ঝুজামি ওয়া মিন সায়্যিয়িল আসক্বাম।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমি শ্বেত রোগ থেকে আশ্রয় চাই। মা’তাল হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই। কুষ্ঠু রোগে আক্রা’ন্ত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। আর দুরারোগ্য ব্যাধি (যেগুলোর নাম জানিনা) থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

পরিশেষে…
হে আল্লাহ! আপনি যুগে যুগে আপনার নবি-রাসুলদের অনেক রোগ-ব্যা’ধি দিয়েছেন। আবার তাদের আরোগ্য দান করেছেন। আপনিই সেরা আরোগ্য দানকারী। আপনার কাছেই প্রার্থনা। আপনি আপনার বান্দাদের প্রতি রহমত নাজিল করুন। মহামা’রি করোনা থেকে মুক্তি দিন। আমিন।-জাগো নিউজ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.