রোজাদারদের মাঝে নিজ হাতে ইফতার বিতরণ করলেন হিন্দু তরুণী

নিজে ইফতার বানিয়ে রোজাদারদের মাঝে বিতরণ করেন হিন্দু তরুণী। ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করছেন তিলোত্তমা
তিলোত্তমা শিকদার অনেকেরই পরিচিত মুখ। বিশেষ করে ছাত্রলীগের সবাই তাকে চেনেন। তিনি ডাকসুর সদস্যও। ছাত্রলীগের রাজনীতি করার পাশাপাশি ডাকসুর নেত্রী হওয়ায় বিভিন্ন সময় আলোচনায় ছিলেন তিনি।

এবারের রমজান মাসে অন্যরকম এক মানবিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী তিলোত্তমা শিকদার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তিলোত্তমা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীদের উপ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। থাকেন কবি সুফিয়া কামাল হলে

করোনাভাইরাস ঠেকাতে লকডাউন ঘোষণার ৩-৪ দিন আগে চলে যান নিজ শহর বরিশালে। ভাবতে পারেননি এতদিন লকডাউন থাকবে; তাই চাইলেও এখন ঢাকায় আসতে পারছেন না তিনি

এরই মধ্যে গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে রমজান মাস। লকডাউনে নিম্নআয়ের অনেক মানুষ সেহরি না খেয়েই রোজা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। অনিশ্চিত তাদের ইফতারের আয়োজন। এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডাকসুর সদস্য ছাত্রলীগ নেত্রী তিলোত্তমা শিকদার।

প্রথম রমজান থেকে নিজের বাসায় রান্না শুরু করেছেন ইফতার। বাসায় তৈরি করা ইফতার নিয়ে ছুটছেন বরিশাল শহরের বিভিন্ন এলাকায়। প্রথম রমজান থেকে শুরু করা এই ইফতার আয়োজন চলবে শেষ রমজান পর্যন্ত। সনাতন ধর্মাবলম্বী একটি মেয়ের এমন মানবিক উদ্যোগ যেন সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত।

শুধু তাই নয়; লকডাউনের কারণে বিপদে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিলোত্তমা শিকদার। ঢাবির ছাত্রদের মধ্যে যারা লকডাউনের কারণে টিউশনি বা বিকল্প আয়ের পথ হারিয়ে বিপদে পড়েছেন তাদের নাম সংগ্রহ করে সহযোগিতা করছেন তিলোত্তমা।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিকাশে টাকা পাঠাচ্ছেন তিনি। নিজ হল এবং আশপাশে যারা বিভিন্ন বাসায় আটকা পড়েছেন; তাদের জন্য ১০ কেজি চাল, দুই কেজি ডাল, দুই লিটার তেল ও আটা উপহার হিসেবে পাঠাচ্ছেন তিলোত্তমা। ফোনে এবং বিকাশে টাকা পাঠিয়ে এসব উপহার সামগ্রী কিনে তা পাঠিয়ে দিচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রীদের বাসায়।

ইতোমধ্যে ২১ জন ছাত্রী এবং ১১ জন ছাত্রকে দুই হাজার টাকা করে বিকাশে পাঠিয়েছেন তিনি; যেন তারা করোনাভাইরাসের সংকটে মনোবল না হারায়।

এসব বিষয়ে জাগো নিউজের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তিলোত্তমা শিকদার।

তিলোত্তমা বলেন, ভেবেছিলাম ঢাকায় ফিরব। কিন্তু লকডাউনের কারণে আটকা পড়েছি। আটকা পড়লেও সহপাঠী, ছোট ভাই-বোনদের বিপদে পাশে আছি। ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চাইলে সবসময় মানুষের পাশে থাকা যায়। এজন্য মানবিক হওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, লকডাউনের শুরুতে বিপদে পড়ে আমার নিজ হল অর্থাৎ কবি সুফিয়া কামাল হলের কিছু ছাত্রী। আমি সবাইকে জানাই; যাদের সমস্যা হচ্ছে আমাকে বলার জন্য। আমি গোপনে সহায়তা পৌঁছে দেব। সেখান থেকে প্রায় ১০০ জনের নাম আসে। আমি যেহেতু এখানে আটকা পড়েছি; তাই সংগঠনের ছোট দুই ভাই এবং এক বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় গোপনে ১০০ জনের কাছে খাদ্যসামগ্রী পাঠাই। এরপর আরও বেশ কিছু বার্তা পেয়েছি; যারা বিভিন্ন মেসে আটকা পড়েছে তাদের। তাদেরও সহায়তা করেছি। পাশাপাশি পরিচিতদের মাধ্যমে অনেকের জন্য গোপনে খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছি।

তিলোত্তমা শিকদার বলেন, এর মধ্যে এমন কিছু ছাত্র-ছাত্রীর খবর পেয়েছি; যারা টিউশনি করে লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজের পরিবার চালায়। এমন ২১ জন ছাত্রী এবং ১১ জন ছাত্রকে বিকাশে দুই হাজার টাকা করে দিয়েছি। যদিও এই টাকা কিছুই না। কিন্তু আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু পেরেছি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। এসব ছাত্র-ছাত্রীর অনেকেই এখন পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে রয়েছেন।

তিলোত্তমা আরও বলেন, বেশি মেসেজ পাচ্ছি মেয়েদের। কারণ মেয়েরা সবার কাছে সমস্যার কথা বলতে পারে না। যারা শেয়ার করেছে তাদের কাছে ভালোবাসার উপহার পৌঁছে গেছে। ইতোমধ্যে ডাকসু থেকে শিক্ষার্থী সহায়তার ফান্ড চালু হয়েছে। আমার কাছে যারা সাহায্য চেয়েছেন সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। শেষ পর্যন্ত সবার পাশে থাকতে চাই আমি। ঢাবির সব শিক্ষার্থী নিরাপদে থাকুন, এটাই চাই। করোনার ভয় কেটে যাবে। আবার আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরব- সেটাই প্রত্যাশা।

তিলোত্তমা বলেন, এরই মধ্যে শনিবার থেকে শুরু হলো রমজান মাস। ধর্মপ্রাণ মুসলমান একটা বছর অপেক্ষা করে রমজানের জন্য। কিন্তু এবার রমজানের আগে থেকেই শুরু হয়ে গেল করোনা। এর প্রভাব পড়েছে রমজানের ওপর। এ অবস্থায় করোনার সংকটের কারণে অনেকের বাসায় ইফতারের ব্যবস্থা নেই। অনেকের ঘরে খাবার নেই। তাই প্রথম রমজান থেকে বাসায় ইফতার তৈরি করে রাস্তায় বের হয়েছি। সামাজিক দূরত্ব মেনে শতাধিক মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছি শনিবার।

তিনি বলেন, এই ইফতার বিতরণ আমার কাছে জীবনের অন্যতম আনন্দের এক মুহূর্ত মনে হয়েছে। কারণ এসব মানুষ ইফতার পেয়ে যে খুশি হয়েছেন তা দেখে আমার মন ভরে গেছে। আমার জীবন ধন্য হয়ে গেছে। আমার মন চায় এসব মানুষকে আরও দেয়ার, আরও সহযোগিতা করার। যদি প্রতিদিন এক হাজার মানুষকে ইফতার দিতে পারতাম আরও বেশি তৃপ্তি পেতাম। মনের তৃপ্তির জন্য এবার পুরো মাস দরিদ্র মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করব। ইফতার বিতরণ করতে গিয়ে এমন কিছু মানুষ পেয়েছি যারা সাহরি না খেয়েই রোজা রেখেছেন। আমি চেষ্টা করছি, আমার আয়োজনটা আরেকটু বড় করার।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় জাগো নিউজকে বলেন, খুবই ভালো কাজ করছেন তিলোত্তমা। এলাকার মানুষের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করেছেন। ঢাবির ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতা করছেন। ছাত্রলীগের সবাইকে তার মতো এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। সূত্রঃ জাগোনিউজ

করোনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে রোজা রাখুন

রমজান মাসে রোজা পালন করছেন পুরো বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রমজান মাস মুসলিমদের কাছে অন্যতম পবিত্র একটি মাস। এই মাসে মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের খাবার ও পানাহার থেকে বিরত থাকেন। প্রতি বছরই রমজান মাসকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।

তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ ছাড়াও রমজান মাসের স্বাস্থ্যগত কিছু সুফলও রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, রমজানের এক মাস রোজা রাখা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ সুফল বয়ে আনে। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার মুসল্লিদের কাছে রমজানের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে এ বছর প্রাণঘা’তী করোনার কারণে প্রতি বছরের মতো উৎসবের আমেজ আর চোখে পড়ছে না। বিশ্বের কোথাও মুসল্লিদের মধ্যে রমজানের কোনো আমেজ নেই।

গত ২৩ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রমজান শুরু হয়েছে। বেশ কিছু দেশে তার একদিন পরে শুরু হয়েছে রমজান। মহান আল্লাহ তা’লা এই মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। সে কারণে এই মাসে রোজা রাখা ছাড়াও মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করেন এবং নফল নামাজ আদায় করেন।

রমজান মাস মুসল্লিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে, তারা দরিদ্রদের পাশে এগিয়ে আসে, তাদের কষ্টের সমান ভাগিদার হয়। এই মাসে মুসল্লিরা বেশি বেশি দান করেন, দরিদ্রদের খাবার দেন। রমজানে মসজিদগুলোও মুসল্লিদের সমাগমে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যদিও এ বছর একেবারেই ভিন্ন চিত্র দেখছে বিশ্বের মুসল্লিরা।

মানুষ থেকে মানুষে প্রাণঘা’তী করোনা। সে কারণে এই ভাইরাসের সং’ক্র’মণ থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং অপ্রয়ো’জনে বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সে কারণে ইতোমধ্যে অনেক দেশে মসজিদে নামাজ আদায়ের ওপর নিষে’ধা’জ্ঞা আনা হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য আজান দেওয়া হলেও মুসল্লিরা এখন আর দলে দলে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে পারছেন না।

করোনার হানায় বিশ্বব্যাপী মসজিদগুলো বন্ধ, চলছে কারফিউ, একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায়ের ওপরও নিষে’ধা’জ্ঞা আনা হয়েছে। ফলে এবারের রমজানে ঘরে বসেই নামাজ আদায় করতে হচ্ছে এবং লোকজন শুধু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই ইফতার করতে পারছেন। এবার আর অন্যদের সঙ্গে ইফতার ভাগাভাগি করে খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না মুসল্লিরা। সে কারণে এবারের রমজান বিশ্বের মুসল্লিদের কাছে একেবারেই নি’ষ্প্রা’ণ, একেবারেই ভিন্ন।

এ তো গেল রমজানের সামাজিক বন্ধন আর ভ্রাতৃত্বের কথা। এবার রমজানের স্বাস্থ্যগত সুফলগুলোর কথা জানি। চিকিৎসকরা বলছেন, রোজা রাখলে শরীরে অনেক ধরনের সুফল ঘটে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রোজা আমাদের রোগ প্রতিরো’ধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। শরীরে সাধারণ প্রদাহ কমাতেও সহায়তা করে রোজা। আমরা রোজা রাখলে বাইরে থেকে শরীরে কোনো পুষ্টি প্রবেশ করতে পারে না।

এ সময় শরীরের ভেতরেই শ’ক্তি সং’র’ক্ষণের একটি প্র’ক্রিয়া তৈরি হয়। এক্ষেত্রে শ’ক্তি সংর’ক্ষণের জন্য শরীর তার ভেতরে থাকা পুরাতন এবং ক্ষ’তিগ্র’স্ত রোগ প্রতিরো’ধক কো’ষগুলোকে পুনরায় ব্যবহার করে। এই প্রক্রিয়ায় আমরা যখন রোজা শেষ করি তখন আমাদের শরীরের ওই পুরোনো ও ক্ষ’তিগ্র’স্ত কোষগুলো আরও বেশি নতুন ও স্বাস্থ্যকর রো’গ প্রতিরো’ধক কোষে পরিণত হয়।

এই নতুন কোষগুলো আরও দ্রুতগতিতে এবং বেশি দক্ষভাবে বিভিন্ন ধরনের সং’ক্র’মণের সঙ্গে যু’দ্ধ করতে পারে। ফলে দেহের রো’গ প্রতিরো’ধ ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়। বেশ কিছু গবেষণা বলছে, অন্যান্য উপবাসের চেয়ে রোজা রাখার স্বাস্থ্যগত বেশ কিছু সুফল রয়েছে। তবে সারাদিন রোজা রাখার পর তেলে ভাজা খাবারগুলো কখনওই রোগ প্রতিরো’ধ ক্ষ’মতা বাড়াতে সহায়তা করে না। রোজা রাখার পর আমাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

করোনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে রোজা রাখুন

রমজান মাসে রোজা পালন করছেন পুরো বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রমজান মাস মুসলিমদের কাছে অন্যতম পবিত্র একটি মাস। এই মাসে মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের খাবার ও পানাহার থেকে বিরত থাকেন। প্রতি বছরই রমজান মাসকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।

তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ ছাড়াও রমজান মাসের স্বাস্থ্যগত কিছু সুফলও রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, রমজানের এক মাস রোজা রাখা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ সুফল বয়ে আনে। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার মুসল্লিদের কাছে রমজানের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে এ বছর প্রাণঘা’তী করোনার কারণে প্রতি বছরের মতো উৎসবের আমেজ আর চোখে পড়ছে না। বিশ্বের কোথাও মুসল্লিদের মধ্যে রমজানের কোনো আমেজ নেই।

গত ২৩ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রমজান শুরু হয়েছে। বেশ কিছু দেশে তার একদিন পরে শুরু হয়েছে রমজান। মহান আল্লাহ তা’লা এই মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। সে কারণে এই মাসে রোজা রাখা ছাড়াও মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করেন এবং নফল নামাজ আদায় করেন।

রমজান মাস মুসল্লিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে, তারা দরিদ্রদের পাশে এগিয়ে আসে, তাদের কষ্টের সমান ভাগিদার হয়। এই মাসে মুসল্লিরা বেশি বেশি দান করেন, দরিদ্রদের খাবার দেন। রমজানে মসজিদগুলোও মুসল্লিদের সমাগমে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যদিও এ বছর একেবারেই ভিন্ন চিত্র দেখছে বিশ্বের মুসল্লিরা।

মানুষ থেকে মানুষে প্রাণঘা’তী করোনা। সে কারণে এই ভাইরাসের সং’ক্র’মণ থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং অপ্রয়ো’জনে বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সে কারণে ইতোমধ্যে অনেক দেশে মসজিদে নামাজ আদায়ের ওপর নিষে’ধা’জ্ঞা আনা হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য আজান দেওয়া হলেও মুসল্লিরা এখন আর দলে দলে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে পারছেন না।

করোনার হানায় বিশ্বব্যাপী মসজিদগুলো বন্ধ, চলছে কারফিউ, একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায়ের ওপরও নিষে’ধা’জ্ঞা আনা হয়েছে। ফলে এবারের রমজানে ঘরে বসেই নামাজ আদায় করতে হচ্ছে এবং লোকজন শুধু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই ইফতার করতে পারছেন। এবার আর অন্যদের সঙ্গে ইফতার ভাগাভাগি করে খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না মুসল্লিরা। সে কারণে এবারের রমজান বিশ্বের মুসল্লিদের কাছে একেবারেই নি’ষ্প্রা’ণ, একেবারেই ভিন্ন।

এ তো গেল রমজানের সামাজিক বন্ধন আর ভ্রাতৃত্বের কথা। এবার রমজানের স্বাস্থ্যগত সুফলগুলোর কথা জানি। চিকিৎসকরা বলছেন, রোজা রাখলে শরীরে অনেক ধরনের সুফল ঘটে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রোজা আমাদের রোগ প্রতিরো’ধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। শরীরে সাধারণ প্রদাহ কমাতেও সহায়তা করে রোজা। আমরা রোজা রাখলে বাইরে থেকে শরীরে কোনো পুষ্টি প্রবেশ করতে পারে না।

এ সময় শরীরের ভেতরেই শ’ক্তি সং’র’ক্ষণের একটি প্র’ক্রিয়া তৈরি হয়। এক্ষেত্রে শ’ক্তি সংর’ক্ষণের জন্য শরীর তার ভেতরে থাকা পুরাতন এবং ক্ষ’তিগ্র’স্ত রোগ প্রতিরো’ধক কো’ষগুলোকে পুনরায় ব্যবহার করে। এই প্রক্রিয়ায় আমরা যখন রোজা শেষ করি তখন আমাদের শরীরের ওই পুরোনো ও ক্ষ’তিগ্র’স্ত কোষগুলো আরও বেশি নতুন ও স্বাস্থ্যকর রো’গ প্রতিরো’ধক কোষে পরিণত হয়।

এই নতুন কোষগুলো আরও দ্রুতগতিতে এবং বেশি দক্ষভাবে বিভিন্ন ধরনের সং’ক্র’মণের সঙ্গে যু’দ্ধ করতে পারে। ফলে দেহের রো’গ প্রতিরো’ধ ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়। বেশ কিছু গবেষণা বলছে, অন্যান্য উপবাসের চেয়ে রোজা রাখার স্বাস্থ্যগত বেশ কিছু সুফল রয়েছে। তবে সারাদিন রোজা রাখার পর তেলে ভাজা খাবারগুলো কখনওই রোগ প্রতিরো’ধ ক্ষ’মতা বাড়াতে সহায়তা করে না। রোজা রাখার পর আমাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।