নওমুসলিম এক নারীর ঈমানদীপ্ত কথা

দ্বীন-ইসলামের হেফাযত ও মুসলিম মিল্লাতের সুরক্ষার জন্য কুরবানী ও আত্মত্যাগের বিকল্প নেই। যুগে যুগে বহু গুণীজন এ কুরবানীর নাযরানা পেশ করে গেছেন। যারা কুরবানী করেছেন তাঁরা সফল হয়েছেন।

এমনই একজনের ঘটনা- আমেরিকার কোনো এক মহকুমার সেক্রেটারী ছিলেন এক নারী। ধর্মে খ্রিস্টান। হঠাৎ কী মনে করে তিনি বিভিন্ন ধর্মের বই-পুস্তক নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করলেন।

একপর্যায়ে ইসলামকেই তার কাছে সত্য মনে হল। সত্য যখন উদ্ভাসিত হয়েছে- ব্যস, কালিমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেলেন। ইসলাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য ছুটে গেলেন মুসলমানদের কাছে। মুসলমানগণ যদ্দুর বলার বললেন।

সাথে সাথে এ-ও বলে দিলেন যে, ইসলাম নারীকে পর্দার কথা বলে। সে রাতেই তিনি বোরকার ব্যবস্থা করলেন। পরদিন সকালে অফিসে গেলেন পর্দা করে- বোরকা-আবৃত হয়ে। অফিসে প্রবেশ করতেই সবাই হকচকিয়ে গেল।

কালো কাপড়ে ঢাকা এ আবার কে? জিজ্ঞাসা করল, কে তুমি? : আমি অমুক; মুসলমান হয়েছি। : মুসলিম নারীগণ কালো কাপড়ে ঢাকা থাকে নাকি?! : হ্যাঁ, বোরকা পরেই থাকা উচিত। : আমেরিকায় তো অনেক মুসলিম নারী রয়েছে।

কই তারা তো খ্রিস্টান নারীদের মতই পর্দা ছাড়া থাকে! ইসলামে পর্দার বিধান থাকলে তারাও তো পর্দা করত। : কেউ যদি মুসলমান হয়েও তার নবীর কথা না মানে, তাহলে আমার কী করার আছে? আমি তো ব্যস, যে নবীকে মেনে নিয়েছি তাঁর কথা মতই চলব।

এ অবস্থায় তো আমরা তোমাকে অফিস করতে দিতে পারি না। : কুছ পরোয়া নেহি। রুজির ব্যবস্থা তোমরা কর না; আল্লাহই করেন। মানুষ যখন সঠিক পথে চলতে চায়, তখন আল্লাহ তাআলা তার সামনে রাস্তা খুলে দেন।

শরীয়ত মোতাবেক হালালের গ-িতে থেকে কেউ যদি পথ চলতে শুরু করে, তাহলে আল্লাহ পাকের দরবারে আশা, অন্য সকল পথের যাত্রী অপেক্ষা সে শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হবে। আল্লাহ তাআলার ওয়াদা- هُوَ الّذِیْۤ اَرْسَلَ رَسُوْلَهٗ بِالْهُدٰی وَ دِیْنِ الْحَقِّ لِیُظْهِرَهٗ عَلَی الدِّیْنِ كُلِّهٖ وَ لَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُوْنَ. তিনি সেই সত্তা, যিনি স্বীয় রাসূলকে প্রেরণ করেছেন হেদায়েত ও সত্য ধর্ম দিয়ে, যাতে একে তিনি সকল ধর্মের উপর বিজয়ী করেন।

যদিও মুশরিক সম্প্রদায় তা অপছন্দ করে। -সূরা ছফ (৬১) : ৯ তাই সহীহ তরিকা অবলম্বনকারী ব্যক্তি ভুল পথের অনুসারী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হয়েই থাকে। যাইহোক, আমেরিকাপ্রবাসী জার্মান নাগরিক এ নারী উচ্চ সম্মানের পদ ও পদবী ছেড়ে ভিন্ন কর্ম গ্রহণ করলেন।

পেটের দায়ে এখন তিনি মানুষের ঘর-বাড়িতে আয়া-বুয়ার কাজ করতে লাগলেন। এতে যা জোটে তাতেই দিনগুজরান করতে থাকলেন। আল্লাহর কী হুকুম! একদিন তিনি বাইতুল্লাহ যিয়ারতের উদ্দেশ্যে হজ্বের সফরে রওনা হয়ে গেলেন।

সেখানে আমাদের পরিচিত ইংরেজী শিক্ষিত এক ভাই তার মেযবান হলেন। তারা যথাসাধ্য তার একরাম করলেন। আদর-যত্নের সাথে মেহমানদারি করলেন। আল্লাহর ঘরের সামনে বসে তিনি খুব দুআ করতেন।

জারজার হয়ে কাঁদতেন- হে আল্লাহ! আমি তোমার মেহমান! আমার কী যোগ্যতা অছে- তোমার ঘরের মেহমান হব? আর সামর্থ্য বলতে তো আমার কিছুই নেই। কেবল তুমিই দয়া ও অনুগ্রহ করে তোমার দরবারে এনেছো। ফলে খ্রিস্টানের ঘরে জন্ম নিয়েও আমি আজ বাইতুল্লাহর ছায়ায়।

এ সবই তোমার করুণা হে আল্লাহ! মদীনা মুনাওয়ারায় রওজায়ে আতহারে দাঁড়িয়ে দুরূদ ও সালাম পেশ করে কেঁদে কেঁদে বললেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার এক নগণ্য উম্মত। উম্মতের জন্য আপনার দিলে যে দরদ ও ব্যথা ছিল আল্লাহ যেন আমাকেও তা দান করেন।

তারপর তিনি আমাদের এ ভারত উপমহাদেশে আগমন করেন। এখানকার মুসলিমসমাজের সাথে মেশেন ও ইসলামী কৃষ্টি-কালচার শেখেন। এখান থেকেই কুরআন শেখা শুরু করেন। পরে পাকিস্তান গিয়ে নামায-তিলাওয়াত পুরোপুরি শিখে নেন।

সেখানকার মুসলিমগণ তাকে বলেন- বোন, তুমি আমাদের এখানেই থেকে যাও। এখানে তোমার একটা বিবাহের বন্দোবস্ত করে দেই। তিনি বললেন, এখানে তো কুরআন শেখানোর মত, দ্বীন শেখানোর মত অনেক বোনই রয়েছেন।

কিন্তু আমেরিকায় আল্লাহর দ্বীনের যে কী এতিমী হালত! সেখানে কুরআন শেখানোর মত কাউকে পাওয়া বেজায় ভার। আর নারীদের মাঝে কুরআনের খেদমত! তা তো বহু দূরের কথা! এজন্য আমাকে আমেরিকায়ই যেতে হবে।

সেখানে কুরআনের খেদমত করতে হবে। আমি চাই, সারাজীবন দ্বীনের খাদেম হয়ে থাকতে। আল্লাহর কী শান! এদিকে আমেরিকান এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক ভারত পাকিস্তান সফর করলেন। সে আমাদের এখানে এতেকাফও করেছিল।

দাওয়াতের কাজে প্রভাবিত হয়ে সে নিয়ত করে নিয়েছে যে, গোটা জীবন এ কাজ নিয়েই থাকবে। দেশে গিয়ে সে সিদ্ধান্ত নিল, একমাত্র দ্বীনদার নারীকেই সে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে গ্রহণ করবে। ওদিকে ঐ নারী পাক্কা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন, কোনো দ্বীনদার সঙ্গী পেলে তবেই সংসার পাতব।

বহুজন বহুভাবে তাকে বুঝাল- দেখ, আমেরিকার পরিবেশে দ্বীনদার পাত্র পাওয়া খুবই মুশকিল। সে সাফ সাফ জানিয়ে দিল, মুশকিল হোক বা আসান; দ্বীনদার পাত্র পেলে তবেই বিবাহ বসব। শুনে রাখ, আমার আল্লাহর খাজানায় কোনো কমতি নেই।

মুসলমানদের থেকে আমি নামায পড়ে আল্লাহর কাছে চাইতে শিখেছি। তাই আল্লাহর কাছেই চেয়ে যাচ্ছি। উভয়েই আপন আপন জায়গা থেকে দুআ জারি রাখল। আপনজন পরিচিতজনদের জানিয়ে দিল, আগে দ্বীনদারি দেখতে হবে, তারপর স্ট্যাটাস।

দ্বীনদারি ব্যতীত শুধু দুনিয়াদারির কোনো মূল্য নেই। উভয়ের বসবাস নিউইয়র্কে। মেয়ে জার্মানী বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ পরিবারের সন্তান। আর ছেলে কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের। উভয়কে যখন উভয়ের সংবাদ ও সন্ধান দেওয়া হল, ছেলের জন্য তো এটা ছিল আকাশের চাঁদ পাওয়া

কিন্তু মেয়ের জন্য এরকম একটা ছেলেকে মেনে নেওয়া বাহ্যত খুবই মুশকিল ছিল। তবে বাস্তব কথা হল- মেয়ের প্রশ্ন ছিল একটিই। বল, ছেলে দ্বীনদার কি না? যখন তিনি জানতে পারলেন, ছেলে দ্বীনদার। তাবলীগেও সময় লাগিয়েছে। রাজি হয়ে গেলেন।

আশপাশ থেকে আওয়াজ উঠল, কীভাবে তুমি এমন একটি ছেলের কাছে নিজেকে সঁপে দিতে যাচ্ছো? তার জবাব ছাফ- কালো হয়েছে তাতে কী? সে যদি দ্বীনের উপর চলে আল্লাহ তাআলা তো কিয়ামতের দিন উজ্জ্বল নূরানী চেহারা দান করবেন।

দুনিয়ার এ কয়েকদিন তার চামড়া কালো থাকলে কী যায় আসে? কিয়ামতের দিন যখন আজীবনের জন্য তার চেহারা চক

সুসংবাদ নিয়ে এলো মাহে রমজান!

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের গণনায় মাসের সংখ্যা ১২টি। তার মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মর্যাদার মাস হলো মাহে রমজান। এটা ফযিলাতের মাস, গুনাহ মাফের মাস, সবচেয়ে বেশি সওয়াব অর্জনের মাস।

মাহে রমজানকে বলা হয় মুসলমানদের জন্য নেকি অর্জন করার মৌসুম। মাহে রমজানের প্রধান আমল হলো ফরজ রোজা। রোজা ফার্সি শব্দ, যার অর্থ ‘বিরত থাকা’।

আরবিতে বলা হয় সিয়াম, অর্থ ‘বিরত থাকা’, ‘আত্মসংযম করা’ ইত্যাদি। পরিভাষায় সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পানাহার, দাম্পত্য মিলন ও রোজা ভঙ্গ হওয়ার সকল বিষয় থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম।

আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে মুমিনগণ তোমাদের ওপর রোজার বিধান দেওয়া হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য ও বিধান দেওয়া হয়েছিল। যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পারো। (সূরা বাকারা:১৮৩) রমজান মাস আসে মানুষের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে।

তাইতো রাসুল (সা:) বলেন, রমজান মাস যখন আগমন করে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃংখলাবদ্ধ করা হয়। (নাসায়ী, আল মুসতাদরাক) এই মাস মুমিনের অতীতের গুনাহ সমূহকে মুছে দেয়। রাসুল (সা:) বলেন,

যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াব অর্জনের নিয়তে রমজানের সিয়াম পালন করবে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (বোখারী ও মুসলিম) রমজান মাস সহানুভূতির মাস। রমজান মাস এলে রাসূল (সা:) দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের প্রতি দান সদকা করতে উৎসাহিত করেছেন।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, রাসূল (সা:) লোকদের মধ্যে অতিদানশীল ছিলেন। বিশেষ করে রমজান মাস এলে তার দানশীলতা অনেক বেড়ে যেত। (বুখারী ও মুসলিম) রমজানে কোন রোজাদারকে ইফতার করানোর কারণে অনেক নেকি লাভ হয়। রাসুল (সা:) বলেন,

যদি কেউ রোজাদারকে ইফতার করায়, তাহলে সে উক্ত রোজাদারের সমপরিমাণ নেকি লাভ করবে, তবে রোজাদারের নেকি একটুও কমবে না। (তিরমিজি) রমজান মাসে নফলের বিনিময় ফরজ সমতুল্য এবং একটি ফরজের বিনিময় সত্তরটা ফরজের নেকি দেওয়া হয়। এমনকি প্রতিটি ভালো কাজের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

কিন্তু মাহে রমজানের রোজা সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, রোজা আমার জন্য আর উহার প্রতিদান আমিই দিব। (বুখারী) ফযিলতের মাস এই মাহে রমজানেই সমস্ত পৃথিবীবাসীর জন্য হেদায়েতের মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, রমজান মাস।

এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী রূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে তারা যেন এই মাসে সিয়াম পালন করে। (সূরা বাকারা:১৮৫) সিয়াম সাধনার মাধ্যমে একজন রোজাদার নিজের মধ্যে আত্মসমালোচনার অভ্যাস গড়ে তোলেন।

কাজেই নিজেই নিজের ভুলত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। ফলে তিনি আত্মশুদ্ধি অর্জনে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলে করিম (সা:) ঘোষণা করেছেন;

যে লোক ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে রমজানের রোজা পালন করবে তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমাদ)।

এই মাসেই লাইলাতুল কদর অর্থাৎ কদরের রাত, যে রাত হাজার মাস থেকেও উত্তম। (সূরা কদর:২) তাইতো এই মাস অন্য সকল মাস থেকে ফজিলত পূর্ণ। পরিশেষে বলা যায়, আসুন সারা পৃথিবীব্যাপী করোনা ভাইরাস নামক মহামারি থেকে মুক্তি পেতে মিথ্যা, গীবত, চোগলখুরী, পরনিন্দা, অশ্লীলতা ও সকল খারাপ কাজ পরিহার করে তাকওয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে মাহে রমজানের ফজিলত অর্জনের চেষ্টা করি।

আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাদেরকে তৌফিক দান করুন। আমীন।

জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে এলো মাহে রমজান!

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের গণনায় মাসের সংখ্যা ১২টি। তার মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মর্যাদার মাস হলো মাহে রমজান। এটা ফযিলাতের মাস, গুনাহ মাফের মাস, সবচেয়ে বেশি সওয়াব অর্জনের মাস।

মাহে রমজানকে বলা হয় মুসলমানদের জন্য নেকি অর্জন করার মৌসুম। মাহে রমজানের প্রধান আমল হলো ফরজ রোজা। রোজা ফার্সি শব্দ, যার অর্থ ‘বিরত থাকা’।

আরবিতে বলা হয় সিয়াম, অর্থ ‘বিরত থাকা’, ‘আত্মসংযম করা’ ইত্যাদি। পরিভাষায় সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পানাহার, দাম্পত্য মিলন ও রোজা ভঙ্গ হওয়ার সকল বিষয় থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম।

আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে মুমিনগণ তোমাদের ওপর রোজার বিধান দেওয়া হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য ও বিধান দেওয়া হয়েছিল। যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পারো। (সূরা বাকারা:১৮৩) রমজান মাস আসে মানুষের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে।

তাইতো রাসুল (সা:) বলেন, রমজান মাস যখন আগমন করে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃংখলাবদ্ধ করা হয়। (নাসায়ী, আল মুসতাদরাক) এই মাস মুমিনের অতীতের গুনাহ সমূহকে মুছে দেয়। রাসুল (সা:) বলেন,

যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াব অর্জনের নিয়তে রমজানের সিয়াম পালন করবে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (বোখারী ও মুসলিম) রমজান মাস সহানুভূতির মাস। রমজান মাস এলে রাসূল (সা:) দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের প্রতি দান সদকা করতে উৎসাহিত করেছেন।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, রাসূল (সা:) লোকদের মধ্যে অতিদানশীল ছিলেন। বিশেষ করে রমজান মাস এলে তার দানশীলতা অনেক বেড়ে যেত। (বুখারী ও মুসলিম) রমজানে কোন রোজাদারকে ইফতার করানোর কারণে অনেক নেকি লাভ হয়। রাসুল (সা:) বলেন,

যদি কেউ রোজাদারকে ইফতার করায়, তাহলে সে উক্ত রোজাদারের সমপরিমাণ নেকি লাভ করবে, তবে রোজাদারের নেকি একটুও কমবে না। (তিরমিজি) রমজান মাসে নফলের বিনিময় ফরজ সমতুল্য এবং একটি ফরজের বিনিময় সত্তরটা ফরজের নেকি দেওয়া হয়। এমনকি প্রতিটি ভালো কাজের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

কিন্তু মাহে রমজানের রোজা সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, রোজা আমার জন্য আর উহার প্রতিদান আমিই দিব। (বুখারী) ফযিলতের মাস এই মাহে রমজানেই সমস্ত পৃথিবীবাসীর জন্য হেদায়েতের মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, রমজান মাস।

এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী রূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে তারা যেন এই মাসে সিয়াম পালন করে। (সূরা বাকারা:১৮৫) সিয়াম সাধনার মাধ্যমে একজন রোজাদার নিজের মধ্যে আত্মসমালোচনার অভ্যাস গড়ে তোলেন।

কাজেই নিজেই নিজের ভুলত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। ফলে তিনি আত্মশুদ্ধি অর্জনে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলে করিম (সা:) ঘোষণা করেছেন;

যে লোক ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে রমজানের রোজা পালন করবে তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমাদ)।

এই মাসেই লাইলাতুল কদর অর্থাৎ কদরের রাত, যে রাত হাজার মাস থেকেও উত্তম। (সূরা কদর:২) তাইতো এই মাস অন্য সকল মাস থেকে ফজিলত পূর্ণ। পরিশেষে বলা যায়, আসুন সারা পৃথিবীব্যাপী করোনা ভাইরাস নামক মহামারি থেকে মুক্তি পেতে মিথ্যা, গীবত, চোগলখুরী, পরনিন্দা, অশ্লীলতা ও সকল খারাপ কাজ পরিহার করে তাকওয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে মাহে রমজানের ফজিলত অর্জনের চেষ্টা করি।

আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাদেরকে তৌফিক দান করুন। আমীন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.