ইসলাম আমার হৃদয়ের স্পন্দন: মার্কিন নও-মুসলিম আমিনা অ্যাসিলিমি

পবিত্রতা ও শান্তি-পিয়াসি মানুষ ধর্মমুখি হচ্ছেন। ধর্ম মানুষের প্রকৃতিগত বিষয়। তাই তা ইতিহাস ও ভৌগোলিক সীমারেখার গণ্ডিতে সীমিত নয়। বরং ধর্ম নানা জাতি, গোত্র ও শ্রেণীর মধ্যে গড়ে তোলে ঐক্য ও সম্পর্ক।

তাই যারা নিজের সত্য-পিয়াসি প্রকৃতির দিকে ফিরে যেতে চান ধর্ম তাদেরকে ফিরিয়ে দেয় পবিত্রতা ও শান্তি।

আর এমনই পবিত্রতা ও শান্তি পাচ্ছেন সর্বশেষ এবং পরিপূর্ণ ঐশী ধর্ম ইসলামের মধ্যে ‘আমিনা অ্যাসিলিমি’-র মত সত্য-পিয়াসি পশ্চিমা নাগরিকরা।

পেশায় সাংবাদিক মিসেস ‘আমিনা অ্যাসিলিমি’ ছিলেন একজন গোঁড়া খ্রিস্টান ও খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারক। পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি প্রচার করতেন খ্রিস্ট ধর্ম। তিনি মনে করতেন ইসলাম একটি কৃত্রিম ধর্ম এবং মুসলমানরা হল অনুন্নত ও পশ্চাদপদ একটি জাতি।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটারের একটি ভুল তার জীবনের মোড় পুরোপুরি বদলে দেয়। বর্তমানে তিনি বিশ্ব মুসলিম নারী সমিতির সভানেত্রী হিসেবে মুসলিম মহিলাদের অধিকার রক্ষার কাজে মশগুল।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর মার্কিন নও-মুসলিম ‘আমিনা অ্যাসিলিমি’ এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের মানুষ। এক সময়ের খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারক এই নারী আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু মানুষের মনে জ্বালাতে পেরেছেন ইসলামের প্রোজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত আলোর শিখা।

তিনি বলেছেন, “ইসলাম আমার হৃদয়ের স্পন্দন ও আমার শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত রক্ত-ধারা এবং আমার সমস্ত প্রেরণার উৎস হল এই ইসলাম। এ ধর্মের সুবাদে আমার জীবন হয়েছে অপরূপ সুন্দর ও অর্থপূর্ণ। ইসলাম ছাড়া আমি কিছুই নই।”

মার্কিন নও-মুসলিম ‘আমিনা অ্যাসিলিমি’ কম্পিউটারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নতুন টার্মের ক্লাসে ভর্তি হওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে গিয়ে একটি ভুল বিষয়ের ক্লাসে ভর্তি হন। কিন্তু এ সময় সফরে থাকায় তিনি তার ওই ভুল বুঝতে পারেননি।

পরে যখন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তখন জানতে পারেন যে ওই বিষয়ের ক্লাসে যোগ দেয়া ছাড়া তার জন্য অন্য কোনো উপায় নেই। আর ওই ক্লাসের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই আরব মুসলমান।

যদিও মিসেস অ্যাসিলিমি আরব মুসলমানদের ঘৃণা করতেন কিন্তু বৃত্তির অর্থ বাঁচানোর জন্য তাদের সহপাঠী হওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না তার। এ অবস্থায় তার মন খুব বিষণ্ণ হয়ে পড়ে।

কিন্তু তার স্বামী যখন বললেন, হয়ত স্রস্টা এটাই চেয়েছিলেন এবং তিনি হয়তো তোমাকে আরব মুসলমানদের মধ্যে খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারের জন্য মনোনীত করেছেন; তখন খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্য নিয়েই মিসেস অ্যাসিলিমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই ক্লাসে গেলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলমান সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ হলেই নানা অজুহাতে তাদের কাছে খ্রিস্ট ধর্মের দাওয়াত দিতেন মিসেস অ্যাসিলিমি। তিনি তাদের বলতেন, ঈসা মাসিহ’র অনুসরণের মাধ্যমে তারা যেন নিজেদের মুক্তি নিশ্চিত করেন।

কারণ, ঈসা মাসিহ মানুষকে মুক্তি দেয়ার জন্যই নিজেকে উতসর্গ করেছেন। অবশ্য তারাও অর্থাত আরব মুসলিম শিক্ষার্থীরাও বেশ ভদ্রতা ও সম্মান দেখিয়ে মিসেস অ্যাসিলিমির কথা শুনতেন।

কিন্তু তাদের মধ্যে এইসব কথার কোনো প্রভাব পড়ত না। এ অবস্থায় মিসেস অ্যাসিলিমি ভিন্ন পথ ধরতে বাধ্য হন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “আমি সিদ্ধান্ত নিলাম মুসলমানদের বই-পুস্তক দিয়েই তাদের কাছে এ ধর্মের ভুল চিন্তা-বিশ্বাস প্রমাণ করব।

এই উদ্দেশ্যে আমার বন্ধুদের বললাম তারা যেন আমার জন্য পবিত্র কুরআনের একটি কপিসহ কিছু ইসলামী বই-পুস্তক নিয়ে আসেন যাতে এটা দেখানো যায় যে ইসলাম ধর্ম একটি মিথ্যা ধর্ম এবং তাদের নবীও আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ নয়।”

এভাবে মার্কিন সাংবাদিক মিসেস অ্যাসিলিমি বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া পবিত্র কুরআন পড়া শুরু করেন। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে পাওয়া দুটি ইসলামী বইও পড়েন তিনি।

এ সময় তিনি ইসলামী বই-পুস্তক পড়ায় এত গভীরভাবে নিমজ্জিত হন যে দেড় বছরের মধ্যে তিনি ১৫টি ইসলামী বই পড়েন ও পবিত্র কুরআনও দুই বার পড়া শেষ করেন। চিন্তাশীল হয়ে ওঠা মিসেস অ্যাসিলিমি বদলে যেতে থাকেন।

মদপান ও শুকরের মাংস খাওয়া ছেড়ে দেন তিনি। সব সময়ই পড়া-শুনায় মশগুল থাকতেন এবং নারী ও পুরুষের অবাধ-মেলামেশার সুযোগ থাকত এমন সব পার্টি বা উৎসব অনুষ্ঠান বর্জনের চেষ্টা করতেন।

সে সময়কার অবস্থা প্রসঙ্গে মিসেস অ্যাসিলিমি বলেছেন, “কখনও ভাবিনি যে ইসলাম সম্পর্কে পড়াশুনা করতে গেলে বিশেষ ঘটনা ঘটবে এমনকি আমার প্রাত্যহিক জীবন-ধারাও বদলে যাবে।

সময়ও এটা কল্পনাও করতে পারিনি যে খুব শিগগিরই আমি আমার হৃদয়ের প্রশান্তির পাখাগুলো ও ঘুমিয়ে থাকা ঈমান নিয়ে ইসলামী বিশ্বাসের সৌভাগ্যের আকাশে উড্ডয়ন করব।”

এর পরের ঘটনা বলতে গিয়ে মিসেস অ্যাসিলিমি বলেছেন, আমার আচরণে কিছু পরিবর্তন আসা সত্ত্বেও নিজেকে তখনও খ্রিস্টানই মনে করতাম। একদিন একদল মুসলমানের সঙ্গে সংলাপের সময় আমি যতই তাদের প্রশ্ন করছিলাম তারা অত্যন্ত দৃঢ়তা ও দক্ষতার সঙ্গে সেসবের জবাব দিচ্ছিলেন।

পবিত্র কুরআন সম্পর্কে আমার অদ্ভুত সব মন্তব্য ও বক্তব্যের জন্য তারা আমাকে একটুও পরিহাস করেননি। এমনকি ইসলাম সম্পর্কে আমার তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য শুনেও তারা মোটেও দুঃখিত ও ক্রুদ্ধ হননি।

তারা বলতেন, জ্ঞান মুসলমানের হারানো সম্পদ। আর প্রশ্ন হল জ্ঞান অর্জনের একটি পথ। তারা যখন চলে গেলেন মনে হল আমার ভেতরে যেন কিছু একটা ঘটে গেছে।

এরপর থেকে মুসলমানদের সঙ্গে মার্কিন সাংবাদিক মিসেস অ্যাসিলিমির যোগাযোগ বাড়তে থাকে। আমি যখনই নতুন কোনো প্রশ্ন করতাম তখনই তারা আমার কাছে আরো কিছু নতুন প্রসঙ্গ তুলে ধরতেন।

এ অবস্থায় একদিন একজন মুসলিম আলেমের সামনে সাক্ষ্য দিলাম: “আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।–আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো প্রভু বা উপাস্য নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর রাসূল।”

মুসলমান হওয়ার পর হিজাব বা পর্দা বেছে নেন মিসেস অ্যাসিলিমি। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের ও সন্তানের মালিকানারও প্রশ্ন চলে আসে। এমনকি বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বিচারক তাকে তার দুই সন্তান ও ইসলামের মধ্যে যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বললে মহাদ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েন মিসেস অ্যাসিলিমি।

একজন মমতাময়ী মায়ের জন্য সন্তানের দাবী ত্যাগ করা তো দূরের কথা, তাদের কাছ থেকে একদিনের জন্য দূরে থাকাও অশেষ কঠিন। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইসলামের প্রতি ও মহান আল্লাহর প্রতি ভালবাসার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন মার্কিন নও-মুসলিম মিসেস অ্যাসিলিমি।

আসলে ওই অবস্থায় দুই বছর ধরে ইসলাম সম্পর্কে তার গবেষণা ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতাই তাকে শক্তি যুগিয়েছে। তার মনে পড়ে কুরআনে উল্লেখিত হযরত ইব্রাহীম (আ.)’র সন্তান কুরবানি দেয়ার জন্য আল্লাহর নির্দেশ পালনের ঘটনা।

মনে পড়ে কুরআনের এই আয়াত: “যে ব্যক্তি আল্লাহর ইচ্ছার অনুগত, সে কি ঐ ব্যক্তির সমান হতে পারে, যে আল্লাহর ক্রোধ অর্জন করেছে? বস্তুতঃ তার ঠিকানা হল দোযখ। আর তা কতইনা নিকৃষ্ট অবস্থান!”

মার্কিন নও-মুসলিম মিসেস অ্যাসিলিমি মুসলমান হওয়ার পর আমেরিকায় ইসলাম প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। কয়েক বছরের প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের জন্য আরবী ভাষায় ঈদের শুভেচ্ছার সরকারি স্ট্যাম্প প্রকাশ করতে মার্কিন সরকারকে সম্মত করেন।

মিসেস আমিনা অ্যাসিলিমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ও শহরে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে তার অনুভূতি তুলে ধরে বক্তব্য বা ভাষণ দিয়েছেন। হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে-আসা এইসব ভাষণ শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

এইসব প্রচেষ্টার অন্যতম সুফল হিসেবে একদিন তার দাদী ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর তার বাবা, মা ও বোনও মুসলমান হন।

এর কিছু কাল পর তার সাবেক স্বামীও জানান যে তিনি চান তাদের মেয়েরা মায়ের ধর্মই অনুসরণ করুক। তিনি মেয়েদেরকে কেড়ে নেয়ার জন্য সাবেক স্ত্রী তথা অ্যাসিলিমির কাছে ক্ষমাও চান। আর অ্যাসিলিমিও তাকে ক্ষমা করে দেন।

এভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের অপরাধে একদিন যারা তাকে ত্যাগ করেছিল তারা সবাই তাদের ভুল বুঝতে সক্ষম হয় ও সত্যকে স্বীকার করে নেয়। প্রাণপ্রিয় সন্তানদের ফিরে পাওয়াকে অ্যাসিলিমি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য আরও একটি বড় বিজয় বলে মনে করেন।

পৃথিবীর প্রথম জমিন হচ্ছে পবিত্র কাবাঘর

মুসলিম ইম্মাহর ভাষ্য মতে এটাকে বলা হয় বাইতুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর। কাবা শরিফ ও পবিত্র কাবাঘরও বলা হয়ে থাকে। এই পবিত্র কাবা ঘরের অভিমুখী হয়েই আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করেন পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলিম। সৃষ্টির সূচনা থেকেই মহান পবিত্র এই কাবাকে মহান আল্লাহ তার মনোনীত বান্দাদের মিলনস্থল করেছেন।

আমরা সকলেই জানি , ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। এ বিষয়ে পিএইচডি করেছেন ড. হুসাইন কামাল উদ্দীন আহমদ। তাঁর থিসিসের শিরোনাম হলো—‘ইসকাতুল কুররাতিল আরধিয়্যা বিন্ নিসবতে লি মাক্কাতিল মুকাররামা।’ (মাজাল্লাতুল বুহুসুল ইসলামিয়া, রিয়াদ : ২/২৯২)

ওই থিসিসে তিনি প্রাচীন ও আধুনিক দলিল-দস্তাবেজের আলোকে এ কথা প্রমাণ করেছেন যে কাবাই পৃথিবীর মেরুদণ্ড ও পৃথিবীর মধ্যস্থলে অবস্থিত। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পানিসর্বস্ব পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি এ কাবাকে কেন্দ্র করেই।

আরেকটি বিষয় হলো, মাটিতে রূপান্তর হওয়ার আগে কাবা সাদা ফেনা আকারে ছিল। সে সময় পৃথিবীতে পানি ছাড়া কিছু ছিল না। আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর। হাদিসের ভাষ্য মতে, কাবার নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় অন্য সব মহাদেশ। মাটি বিছানোর পর জমিন নড়তে থাকে। হেলতে থাকে।

এর জন্য মহান আল্লাহ পাহাড় সৃষ্টি করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয় (হেলে না যায়)।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১৫)

বৃদ্ধাশ্রমে নয় মা-বাবার জায়গা হোক হৃদয়ের মণিকোঠায়

অক্টোবর মাসে সারাবিশ্বে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। এ দিবসে বৃদ্ধ ও বয়স্ক মানুষের প্রতি সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া এ দিবসে বৃদ্ধাদেরকে উপহার ও মেসেজ ইত্যাদি প্রেরণ করা হয়।পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে অধিকাংশ মানুষই বৃদ্ধ মাতা-পিতার খোঁজখবর রাখে না। বৃদ্ধা নিবাসে পাঠিয়ে দেন।

সেখানে খাওয়া-দাওয়া পানাহার চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও ছেলেমেয়ে নাতি-নাতনি আপনজনের সাহচর্য থেকে বিরত হওয়ার কারণে মানসিকভাবে অনেক কষ্ট পান। তাদের জীবনযাত্রা হয়ে ওঠে দুর্বিসহ। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, গোটা বিশ্বের যতো আদর সোহাগ, মায়া-মমতা, প্রেম নিবেদন মানুষের মধ্যে জড়িয়ে আছে কোনো কোনো স্বার্থের খাতিরে।

স্বার্থহীন ভালোবাসা পাওয়া খুব কঠিন। প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসার মধ্যে লুকিয়ে আছে স্বার্থ। স্বার্থ জড়িয়ে আছে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার মধ্যেও। বন্ধু-বান্ধবের ভালোবাসার স্বার্থ আছে। স্বার্থ প্রতিটা পদে পদে। কিন্তু মধ্যগগনে সূর্যের মতো স্পষ্ট স্বার্থহীন ভালোবাসা একমাত্র মা- বাবার অন্তরে।

মা সন্তান জন্ম দেয়ার পর দুধ পান থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর যৌবনে পদার্পণ পর্যন্ত জীবনের পরতে পরতে স্নেহ-মমতা অক্লান্ত পরিশ্রম স্বার্থহীনভাবে মা-বাবার। স্নেহ-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন সন্তানকে।

প্রতিটা মা-বাবার স্বপ্ন আমার কষ্ট ক্লেশ পরিশ্রমের মাধ্যমে সন্তান একদিন বড় হবে। মানুষ হবে, দেশবরেণ্য হবে, শ্রেষ্ঠ হবে। আল্লাহওয়ালা হবে, দেশপ্রেমিক হবে। মা-বাবার ও দেশের সেবা করবে।

সে সন্তান একদিন বড় হয়ে মা-বাবাকে পাঠায় নার্সিংহোমে। মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, যখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যায়, তাদের রোগব্যাধি বাড়তে থাকে। স্মরণশক্তি কমতে থাকে, বুদ্ধি- বিবেচনায় ঘাটতি দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে

হতে পারে, দেখা দিতে পারে নানা রকম দুর্বলতা। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের ঘরে রেখে সেবা-যত্ন করা, চিকিৎসা করা, সম্মানজনক জীবন যাত্রার ব্যবস্থা করা প্রতিটা মানুষের অন্যতম ফরজ দায়িত্ব। হজরত ওয়াইস করনী রহমাতুল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর জমানার লোক।

তিনি মুসলিম ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নিকট দরখাস্ত পাঠালেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার খেদমতে হাজির হতে চাই। কিন্তু আমার মা অসুস্থ আমার খেদমত ছাড়া তার চলে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বললেন,মায়ের পাশে থাকো, মায়ের সেবা করো, আমার জিয়ারত লাভের দরকার নেই। সাহাবিদের মর্যাদা লাভ করার প্রয়োজন নেই। ওয়াইস করনী হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য করলেন,

সাহাবীদের মর্যাদাকে কোরবানি করে মায়ের সেবায় যত্নবান হলেন। সেই সেবার বদৌলতে আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে রাখলেন তার জন্য অফুরন্ত নিয়ামত আর দুনিয়াতে মহামানবদের কাতারে শামিল করে পুরস্কৃত করলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হজরত ওমর (রা.)-কে বললেন, কোনো এলাকা হতে যদি কোনো ব্যক্তি আসে তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিও। আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করবেন। হজরত ওমর (রা.) খুঁজতে খুঁজতে একসময় ওয়াইস করনীর সাক্ষাৎ পেলেন এবং বললেন, আপনি আমার জন্য দোয়া করেন।

ওয়াইস করনী জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার নিকট দোয়া চাওয়ার কারণ কী? খালিফা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, দোয়া চাওয়ার জন্য, আল্লাহ তায়ালা আপনার দোয়া কবুল করবেন। একজন জলিল কদর সাহাবি খলিফাতুল মুসলিমীনকে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিতে। ওয়াইস করনী (রহ.) এত সুমহান মর্যাদার

আসন লাভ করলেন একমাত্র মায়ের সেবার বদৌলতে। মুসলিম শরিফ হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলেন, আমি দু’টি কাজের জন্য আপনার হাতে শপথ গ্রহণ করতে এসেছি, আমি আমার দেশ ছেড়ে মদিনা- মনোয়ারা থাকতে চাই, আপনার পাশে থেকে
আল্লাহর পথে জিহাদ করতে চাই।

আর এরদ্বারা আমার নিয়ত হলো আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রতিদান লাভ করা। রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা- বাবা কেউ জীবিত আছেন? লোকটি বললেন, হ্যাঁ দু’জনে জীবিত।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সঙ্গে না থেকে তার নিকট গিয়ে তাদের সেবা-যত্ন করো এবং স্বদ্যব্যবহার করো। আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই প্রতিদান অবশ্যই পাবে। (মুসলিম শরিফ)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেন, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত। জিজ্ঞেস করলে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, যে মাতা-পিতাকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল। তারপর তাদের খেদমত করে জান্নাত লাভ করতে পারেনি।

হজরত আবু উমামা বাহেলী রহমতুল্লাহি বর্ণনা করেন, একব্যক্তি নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূল (সা.)! সন্তানের ওপর মাতা- পিতার হক কতটুকু? এরশাদ হলো, মাতা-পিতাই হলো তোমার জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম, ইবনে মাজাহ। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আমাদের প্রবীণ ও বয়স্কদের সম্মান করে না, তাদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন নয়, সে আমার উম্মত নয়।

বৃদ্ধাশ্রমে নয় মা-বাবার জায়গা হোক হৃদয়ের মণিকোঠায়

অক্টোবর মাসে সারাবিশ্বে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। এ দিবসে বৃদ্ধ ও বয়স্ক মানুষের প্রতি সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া এ দিবসে বৃদ্ধাদেরকে উপহার ও মেসেজ ইত্যাদি প্রেরণ করা হয়।পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে অধিকাংশ মানুষই বৃদ্ধ মাতা-পিতার খোঁজখবর রাখে না। বৃদ্ধা নিবাসে পাঠিয়ে দেন।

সেখানে খাওয়া-দাওয়া পানাহার চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও ছেলেমেয়ে নাতি-নাতনি আপনজনের সাহচর্য থেকে বিরত হওয়ার কারণে মানসিকভাবে অনেক কষ্ট পান। তাদের জীবনযাত্রা হয়ে ওঠে দুর্বিসহ। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, গোটা বিশ্বের যতো আদর সোহাগ, মায়া-মমতা, প্রেম নিবেদন মানুষের মধ্যে জড়িয়ে আছে কোনো কোনো স্বার্থের খাতিরে।

স্বার্থহীন ভালোবাসা পাওয়া খুব কঠিন। প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসার মধ্যে লুকিয়ে আছে স্বার্থ। স্বার্থ জড়িয়ে আছে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার মধ্যেও। বন্ধু-বান্ধবের ভালোবাসার স্বার্থ আছে। স্বার্থ প্রতিটা পদে পদে। কিন্তু মধ্যগগনে সূর্যের মতো স্পষ্ট স্বার্থহীন ভালোবাসা একমাত্র মা- বাবার অন্তরে।

মা সন্তান জন্ম দেয়ার পর দুধ পান থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর যৌবনে পদার্পণ পর্যন্ত জীবনের পরতে পরতে স্নেহ-মমতা অক্লান্ত পরিশ্রম স্বার্থহীনভাবে মা-বাবার। স্নেহ-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন সন্তানকে।

প্রতিটা মা-বাবার স্বপ্ন আমার কষ্ট ক্লেশ পরিশ্রমের মাধ্যমে সন্তান একদিন বড় হবে। মানুষ হবে, দেশবরেণ্য হবে, শ্রেষ্ঠ হবে। আল্লাহওয়ালা হবে, দেশপ্রেমিক হবে। মা-বাবার ও দেশের সেবা করবে।

সে সন্তান একদিন বড় হয়ে মা-বাবাকে পাঠায় নার্সিংহোমে। মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, যখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যায়, তাদের রোগব্যাধি বাড়তে থাকে। স্মরণশক্তি কমতে থাকে, বুদ্ধি- বিবেচনায় ঘাটতি দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে

হতে পারে, দেখা দিতে পারে নানা রকম দুর্বলতা। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের ঘরে রেখে সেবা-যত্ন করা, চিকিৎসা করা, সম্মানজনক জীবন যাত্রার ব্যবস্থা করা প্রতিটা মানুষের অন্যতম ফরজ দায়িত্ব। হজরত ওয়াইস করনী রহমাতুল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর জমানার লোক।

তিনি মুসলিম ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নিকট দরখাস্ত পাঠালেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার খেদমতে হাজির হতে চাই। কিন্তু আমার মা অসুস্থ আমার খেদমত ছাড়া তার চলে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বললেন,মায়ের পাশে থাকো, মায়ের সেবা করো, আমার জিয়ারত লাভের দরকার নেই। সাহাবিদের মর্যাদা লাভ করার প্রয়োজন নেই। ওয়াইস করনী হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য করলেন,

সাহাবীদের মর্যাদাকে কোরবানি করে মায়ের সেবায় যত্নবান হলেন। সেই সেবার বদৌলতে আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে রাখলেন তার জন্য অফুরন্ত নিয়ামত আর দুনিয়াতে মহামানবদের কাতারে শামিল করে পুরস্কৃত করলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হজরত ওমর (রা.)-কে বললেন, কোনো এলাকা হতে যদি কোনো ব্যক্তি আসে তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিও। আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করবেন। হজরত ওমর (রা.) খুঁজতে খুঁজতে একসময় ওয়াইস করনীর সাক্ষাৎ পেলেন এবং বললেন, আপনি আমার জন্য দোয়া করেন।

ওয়াইস করনী জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার নিকট দোয়া চাওয়ার কারণ কী? খালিফা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, দোয়া চাওয়ার জন্য, আল্লাহ তায়ালা আপনার দোয়া কবুল করবেন। একজন জলিল কদর সাহাবি খলিফাতুল মুসলিমীনকে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিতে। ওয়াইস করনী (রহ.) এত সুমহান মর্যাদার

আসন লাভ করলেন একমাত্র মায়ের সেবার বদৌলতে। মুসলিম শরিফ হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলেন, আমি দু’টি কাজের জন্য আপনার হাতে শপথ গ্রহণ করতে এসেছি, আমি আমার দেশ ছেড়ে মদিনা- মনোয়ারা থাকতে চাই, আপনার পাশে থেকে
আল্লাহর পথে জিহাদ করতে চাই।

আর এরদ্বারা আমার নিয়ত হলো আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রতিদান লাভ করা। রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা- বাবা কেউ জীবিত আছেন? লোকটি বললেন, হ্যাঁ দু’জনে জীবিত।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সঙ্গে না থেকে তার নিকট গিয়ে তাদের সেবা-যত্ন করো এবং স্বদ্যব্যবহার করো। আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই প্রতিদান অবশ্যই পাবে। (মুসলিম শরিফ)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেন, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত। জিজ্ঞেস করলে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, যে মাতা-পিতাকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল। তারপর তাদের খেদমত করে জান্নাত লাভ করতে পারেনি।

হজরত আবু উমামা বাহেলী রহমতুল্লাহি বর্ণনা করেন, একব্যক্তি নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূল (সা.)! সন্তানের ওপর মাতা- পিতার হক কতটুকু? এরশাদ হলো, মাতা-পিতাই হলো তোমার জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম, ইবনে মাজাহ। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আমাদের প্রবীণ ও বয়স্কদের সম্মান করে না, তাদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন নয়, সে আমার উম্মত নয়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.