সুযোগ পেলে রাজনীতিতে আসবেন সাকিব

আপাতত নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে খেলায় ফিরতে চান সাকিব আল হাসান। তবে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে নামার সুযোগ পেলে তা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

হাসতে হাসতে বলেছেন, ‘‘সুযোগ না পেলে আফসোসও করবো না।’’

জার্মানভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ডয়চে ভেলে বাংলার ইউটিউব চ্যানেল ‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যত পরিকল্পনা, দলের অবস্থা, রাজনীতি ও তাকে ঘিরে নানা সমালোচনা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন সাকিব।

বর্তমানে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মেডিসনে আছেন তিনি। সেখানে গত ২৪ এপ্রিল সাকিবের দ্বিতীয় কন্যার জন্ম হয়৷ সাকিব মেয়ের নাম রেখেছেন ‘ইররাম’। বলেন, ইররাম শব্দের অর্থ জান্নাত।

করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনের এই সময়ে পরিবার ও দুই মেয়েকে সময় দিচ্ছেন জানিয়ে সাকিব বলেন, ‘‘প্রথম মেয়ে জন্মের সময় কাছে থাকতে পারিনি।

তেমন সময়ও দিতে পারিনি। এবার সেটা সম্ভব হচ্ছে। অবশ্যই খুব কঠিন সময় পার করছি। তবে আমি সব সময় খারাপের মধ্যও ভালো কিছু খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করি।

মেয়ের জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে ছিলাম। বাচ্চাকে সময় দিচ্ছি তবে খেলতে পারছি না এটা নিয়ে মনের ভেতর তো অস্বস্তি আছেই। যদিও পরিস্থিতির কারণে এখন কোনো খেলাই হচ্ছে না। কবে খেলা শুরু হবে সেটাও অনিশ্চিত। আমার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরো ৫-৬ মাস আছে। তার আগে খেলা শুরু হয়ে গেলে আমি তো খেলতে পারবো না।’’

নিষেধাজ্ঞায় পড়ার এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘‘খেলতে পারছি না, বা আরো কয়েক মাস খেলতে পারবো না এটা মনে হলে খারাপ তো লাগেই। কিন্তু এ ঘটনা আমার জন্য একটা বড় শিক্ষাও। অনেক কিছু ঘটে যেটা আমরা গুরুত্ব দেই না বা অবহেলা করি। এটা আসলে ঠিক না। এখন এ শিক্ষা আমার হয়েছে।’’

মাঠের পারফমেন্সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার কারণে খেলা নিয়ে সাকিবকে সমালোচিত হতে হয়নি। বরং মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় তিনি অনেক বেশি সমালোচিত হয়েছেন। সম্প্রতি তার একটি প্রতিষ্ঠানে বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের পর এই ক্রিকেটার বেশ হন। সে ঘটনার দীর্ঘ জবাবও তিনি দিয়েছেন।

নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠার নিয়ে চাপে আছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, ‘‘এখনো আমি ব্যবসায় পুরোপুরি জড়াইনি। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার নাম আছে সেগুলোর দায়িত্ব তো আমাকে নিতেই হবে। আস্তে আস্তে এ বিষয়ে শিখছি। যেসব ঘাটতি আছে সেগুলো কিভাবে কাটিয়ে উঠা যায় সেগুলো নিয়েও ভাবছি।

‘‘আমি নিজের সমালোচনা স্বাভাবিকভাবেই নেই, নেতিবাচক মনে করি না। বরং এ সমালোচনা আমাকে আরো ভালো মানুষ হতে সহায়তা করেছে।’’

করোনা সংকটকালে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতে ‘সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন’ গঠন করেছেন। এই ফাউন্ডেশন মূলত খেলাধূলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কাজ করবে বলে জানান তিনি। নিজের সন্তুষ্টির জন্য তিনি এ ফাউন্ডেশন গঠন করেছেন।

খেলোয়াড়দের অধিকার নিয়ে সব সময় সচেতন সাকিব উল্টো স্রোতে হেঁটে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে নিজেদের দাবি দাওয়া জানাতে রীতিমত সংবাদ সম্মেলন ডেকে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন।

বোর্ড সেই সব দাবি পূরণ করেছে কিনা প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, ‘‘বেসিক বেশিরভাগ দাবিই পূরণ করা হয়েছে। যেগুলো হয়নি সেগুলো পূরণে সময় লাগবে। ওটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’’

অনেকের ধারণা বোর্ডের সঙ্গে ওই ঝামেলার কারণে সাকিবকে নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হয়েছে। বা বোর্ড তার বিষয়টি আরেকটু ভালোভাবে ট্যাকেল করতে পারতো কিনা এমন প্রশ্নে কিছুটা হেসে সাকিব বলেন, ‘‘অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট স্বাধীন ভাবে কাজ করে। সংস্থাটি আইসিসির অধীনে হলেও স্বাধীন। তাই এরকম ধারণা যাদের আছে তাদের এ ধারণা না রাখাই ভালো।’’

খেলায় ফিরতে মুখিয়ে থাকা সাকিব কিভাবে ফিটনেস ধরে রাখছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘‘ঘরবন্দি এ সময়ে সবাই মানসিক চাপে আছে। আমিও এখন মানসিকভাবে নিজেকে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছি।’’

খেলায় ফেরার পর সাকিবকে অধিনায়ক হিসেবে দেখতে চান কিনা? ডয়চে ভেলে বাংলার একটি জরিপে ৩৯ শতাংশ দর্শক ‘হ্যাঁ’ এবং ৬৯ শতাংশ দর্শক ‘না’ এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ‘না’ তে ভোট দেওয়া দর্শকরা মনে করেন অধিনায়কত্বের চাপ না নিয়ে বরং সাকিবের উচিত মাঠে সেরা পারফরমেন্স দেওয়ার দিকে বেশি মনযোগ দেওয়া।

এ বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘‘আগে খেলায় ফিরতে চাই। বাকিটা পরে। যেখান থেকে আমার খেলাটা বন্ধ হয়েছে আমি ঠিক সেখান থেকে আবার শুরু করতে চাই, আমার কাছে এটাই এখন একমাত্র চ্যালেঞ্জ। খেলায় ফেরাটা আমার কাছে সবচেয়ে জরুরি।’’

২০২৩ সালের বিশ্বকাপ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘একটা পরিকল্পনা তো সবারই থাকে। যদি সুযোগ পাই, সুস্থ থাকি এবং খেলতে পারি তবে তো খুব ভালো। দলও ভালো করবে বলে আমি মনে করি। ২০১৯ সালেও আমাদের ভালো সুযোগ ছিল, ছোট ভুলে হয়তো সেটা সম্ভব হয়নি। কিন্তু পরের বিশ্বকাপ এই উপমহাদেশ। তাই আমাদেরকে অন্য দলের ভয় করা উচিত হবে বলেই আমি মনে করি।’’

নিজের সাফল্য সবসময় দারুণ উপভোগ করেন। নিজের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন। এ প্রসঙ্গে ২০১৯ বিশ্বকাপে হঠাৎ করেই তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা নিয়ে বলেন, ‘‘দলের ভারসাম্য রাখতে চার বা পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতাম। তবে মনে হত উপরে ব্যাট করলে আরো রান করতে পারবো। সেটা হলে তো নিচের দিকের ব্যাটসম্যানদের উপর চাপই পড়বে না।

‘‘তাই আমি চ্যালেঞ্জ নিয়েই তিন নম্বরে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলাম। সিদ্ধান্ত ভালো বা খারাপ তা বলবো না। দুইটাই ভালো বা দুইটাই খারাপ। তবে কি কারণে সিন্ধান্ত নিচ্ছি সেটাই আসল। উদ্দেশ্য ভালো না খারাপ। যদি ভালোর জন্য নেন এবং সবাই যদি সেটা বিশ্বাস করে তবে খারাপ হলেও সেটা ভালো হয়ে যাবে। আর সবাই বিশ্বাস না করলে ঠিক সিদ্ধান্তও খারাপ হয়ে যায়।’’

ওয়ানডে দলের নতুন অধিনায়ক তামিম ইকবাল সম্পর্কে সাকিব বলেন, ‘‘তামিম এর আগে ক্যাপ্টেন বা ভাইস ক্যাপ্টেন ছিল। ও একজন ভালো কোচ পেয়েছে। এছাড়া এখন দল পুনর্গঠনের কাজ চলছে। ও নিজের মত দল গড়ে নিতে পারবে। তাই আমি মনে করি ও অনেক ভালো করবে।’’

বর্তমান দলের কী কী ঘাটতি আছে এবং কী কী করলে দল আরো উন্নতি করতে পারবে এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘‘বিশ্বকাপের পর প্রতিটি দলই একটা ট্রানজেকশনের মধ্য দিয়ে যায়। সিনিয়র অনেকে বিদায় নেন, নতুন খেলোয়াড় আসেন। তাই স্বাভাবিক ভাবেই দল নতুন করে গড়ে তুলতে এক দেড় বছর সময় লেগে যায়। আমাদের দল ঠিক ট্রাকেই আছে। সময় দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’’

অনুর্ধ্ব ১৯ দলের বিশ্বকাপ জয় খুবই অসাধারণ ঘটনা এবং তারা জাতীয় দলের হয়েও দেশের জন্য বিশ্বকাপ নিয়ে আসতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন সাকিব। বলেন, ‘‘ওরা জানে কিভাবে বিশ্বকাপ জিততে হয়। ওরা অনেক ভালো খেলবে।’’

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ছেড়ে মার্কিন মুলুকে পাড়ি জমানোর ইচ্ছা নেই জানিয়ে সাকিব বলেন, সুযোগ পেলে তিনিও মাশরাফীর মত রাজনীতিতে যোগ দিতে চান। ‘‘সব আসলে সময়ের উপর ছেড়ে দিতে হবে। কাল কী হবে তা কেউ জানে না। তবে ভবিষ্যতে সুযোগ আসলে অবশ্যই ওয়েলকাম করবো। কিন্তু সুযোগ না আসলে কোনো আফসোস থাকবে না।’’

২০১৯ সালে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন কিনা তা নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি এ ক্রিকেটার। বলেন, ‘‘কিছু জিনিস গোপন থাকাই ভালো। তাহলে মানুষের আমাকে নিয়ে আগ্রহ থাকবে।’’

অবসরের পর নিজের ফাউন্ডেশন নিয়ে জোরেশোরে কাজ করতে চান। এছাড়া, কৃষিখাতে আগ্রহ থাকায় এটা নিয়ে কাজ করতে চান জানিয়ে বলেন, ছোট বেলায় ধান কাটতে গিয়ে হাত কেটে ফেলছিলেন।

পৃথিবীর প্রথম জমিন হচ্ছে পবিত্র কাবাঘর

মুসলিম ইম্মাহর ভাষ্য মতে এটাকে বলা হয় বাইতুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর। কাবা শরিফ ও পবিত্র কাবাঘরও বলা হয়ে থাকে। এই পবিত্র কাবা ঘরের অভিমুখী হয়েই আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করেন পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলিম। সৃষ্টির সূচনা থেকেই মহান পবিত্র এই কাবাকে মহান আল্লাহ তার মনোনীত বান্দাদের মিলনস্থল করেছেন।

আমরা সকলেই জানি , ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। এ বিষয়ে পিএইচডি করেছেন ড. হুসাইন কামাল উদ্দীন আহমদ। তাঁর থিসিসের শিরোনাম হলো—‘ইসকাতুল কুররাতিল আরধিয়্যা বিন্ নিসবতে লি মাক্কাতিল মুকাররামা।’ (মাজাল্লাতুল বুহুসুল ইসলামিয়া, রিয়াদ : ২/২৯২)

ওই থিসিসে তিনি প্রাচীন ও আধুনিক দলিল-দস্তাবেজের আলোকে এ কথা প্রমাণ করেছেন যে কাবাই পৃথিবীর মেরুদণ্ড ও পৃথিবীর মধ্যস্থলে অবস্থিত। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পানিসর্বস্ব পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি এ কাবাকে কেন্দ্র করেই।

আরেকটি বিষয় হলো, মাটিতে রূপান্তর হওয়ার আগে কাবা সাদা ফেনা আকারে ছিল। সে সময় পৃথিবীতে পানি ছাড়া কিছু ছিল না। আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর। হাদিসের ভাষ্য মতে, কাবার নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় অন্য সব মহাদেশ। মাটি বিছানোর পর জমিন নড়তে থাকে। হেলতে থাকে।

এর জন্য মহান আল্লাহ পাহাড় সৃষ্টি করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয় (হেলে না যায়)।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১৫)

বৃদ্ধাশ্রমে নয় মা-বাবার জায়গা হোক হৃদয়ের মণিকোঠায়

অক্টোবর মাসে সারাবিশ্বে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। এ দিবসে বৃদ্ধ ও বয়স্ক মানুষের প্রতি সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া এ দিবসে বৃদ্ধাদেরকে উপহার ও মেসেজ ইত্যাদি প্রেরণ করা হয়।পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে অধিকাংশ মানুষই বৃদ্ধ মাতা-পিতার খোঁজখবর রাখে না। বৃদ্ধা নিবাসে পাঠিয়ে দেন।

সেখানে খাওয়া-দাওয়া পানাহার চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও ছেলেমেয়ে নাতি-নাতনি আপনজনের সাহচর্য থেকে বিরত হওয়ার কারণে মানসিকভাবে অনেক কষ্ট পান। তাদের জীবনযাত্রা হয়ে ওঠে দুর্বিসহ। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, গোটা বিশ্বের যতো আদর সোহাগ, মায়া-মমতা, প্রেম নিবেদন মানুষের মধ্যে জড়িয়ে আছে কোনো কোনো স্বার্থের খাতিরে।

স্বার্থহীন ভালোবাসা পাওয়া খুব কঠিন। প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসার মধ্যে লুকিয়ে আছে স্বার্থ। স্বার্থ জড়িয়ে আছে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার মধ্যেও। বন্ধু-বান্ধবের ভালোবাসার স্বার্থ আছে। স্বার্থ প্রতিটা পদে পদে। কিন্তু মধ্যগগনে সূর্যের মতো স্পষ্ট স্বার্থহীন ভালোবাসা একমাত্র মা- বাবার অন্তরে।

মা সন্তান জন্ম দেয়ার পর দুধ পান থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর যৌবনে পদার্পণ পর্যন্ত জীবনের পরতে পরতে স্নেহ-মমতা অক্লান্ত পরিশ্রম স্বার্থহীনভাবে মা-বাবার। স্নেহ-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন সন্তানকে।

প্রতিটা মা-বাবার স্বপ্ন আমার কষ্ট ক্লেশ পরিশ্রমের মাধ্যমে সন্তান একদিন বড় হবে। মানুষ হবে, দেশবরেণ্য হবে, শ্রেষ্ঠ হবে। আল্লাহওয়ালা হবে, দেশপ্রেমিক হবে। মা-বাবার ও দেশের সেবা করবে।

সে সন্তান একদিন বড় হয়ে মা-বাবাকে পাঠায় নার্সিংহোমে। মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, যখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যায়, তাদের রোগব্যাধি বাড়তে থাকে। স্মরণশক্তি কমতে থাকে, বুদ্ধি- বিবেচনায় ঘাটতি দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে

হতে পারে, দেখা দিতে পারে নানা রকম দুর্বলতা। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের ঘরে রেখে সেবা-যত্ন করা, চিকিৎসা করা, সম্মানজনক জীবন যাত্রার ব্যবস্থা করা প্রতিটা মানুষের অন্যতম ফরজ দায়িত্ব। হজরত ওয়াইস করনী রহমাতুল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর জমানার লোক।

তিনি মুসলিম ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নিকট দরখাস্ত পাঠালেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার খেদমতে হাজির হতে চাই। কিন্তু আমার মা অসুস্থ আমার খেদমত ছাড়া তার চলে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বললেন,মায়ের পাশে থাকো, মায়ের সেবা করো, আমার জিয়ারত লাভের দরকার নেই। সাহাবিদের মর্যাদা লাভ করার প্রয়োজন নেই। ওয়াইস করনী হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য করলেন,

সাহাবীদের মর্যাদাকে কোরবানি করে মায়ের সেবায় যত্নবান হলেন। সেই সেবার বদৌলতে আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে রাখলেন তার জন্য অফুরন্ত নিয়ামত আর দুনিয়াতে মহামানবদের কাতারে শামিল করে পুরস্কৃত করলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হজরত ওমর (রা.)-কে বললেন, কোনো এলাকা হতে যদি কোনো ব্যক্তি আসে তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিও। আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করবেন। হজরত ওমর (রা.) খুঁজতে খুঁজতে একসময় ওয়াইস করনীর সাক্ষাৎ পেলেন এবং বললেন, আপনি আমার জন্য দোয়া করেন।

ওয়াইস করনী জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার নিকট দোয়া চাওয়ার কারণ কী? খালিফা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, দোয়া চাওয়ার জন্য, আল্লাহ তায়ালা আপনার দোয়া কবুল করবেন। একজন জলিল কদর সাহাবি খলিফাতুল মুসলিমীনকে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিতে। ওয়াইস করনী (রহ.) এত সুমহান মর্যাদার

আসন লাভ করলেন একমাত্র মায়ের সেবার বদৌলতে। মুসলিম শরিফ হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলেন, আমি দু’টি কাজের জন্য আপনার হাতে শপথ গ্রহণ করতে এসেছি, আমি আমার দেশ ছেড়ে মদিনা- মনোয়ারা থাকতে চাই, আপনার পাশে থেকে
আল্লাহর পথে জিহাদ করতে চাই।

আর এরদ্বারা আমার নিয়ত হলো আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রতিদান লাভ করা। রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা- বাবা কেউ জীবিত আছেন? লোকটি বললেন, হ্যাঁ দু’জনে জীবিত।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সঙ্গে না থেকে তার নিকট গিয়ে তাদের সেবা-যত্ন করো এবং স্বদ্যব্যবহার করো। আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই প্রতিদান অবশ্যই পাবে। (মুসলিম শরিফ)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেন, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত। জিজ্ঞেস করলে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, যে মাতা-পিতাকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল। তারপর তাদের খেদমত করে জান্নাত লাভ করতে পারেনি।

হজরত আবু উমামা বাহেলী রহমতুল্লাহি বর্ণনা করেন, একব্যক্তি নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূল (সা.)! সন্তানের ওপর মাতা- পিতার হক কতটুকু? এরশাদ হলো, মাতা-পিতাই হলো তোমার জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম, ইবনে মাজাহ। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আমাদের প্রবীণ ও বয়স্কদের সম্মান করে না, তাদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন নয়, সে আমার উম্মত নয়।

বৃদ্ধাশ্রমে নয় মা-বাবার জায়গা হোক হৃদয়ের মণিকোঠায়

অক্টোবর মাসে সারাবিশ্বে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। এ দিবসে বৃদ্ধ ও বয়স্ক মানুষের প্রতি সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া এ দিবসে বৃদ্ধাদেরকে উপহার ও মেসেজ ইত্যাদি প্রেরণ করা হয়।পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে অধিকাংশ মানুষই বৃদ্ধ মাতা-পিতার খোঁজখবর রাখে না। বৃদ্ধা নিবাসে পাঠিয়ে দেন।

সেখানে খাওয়া-দাওয়া পানাহার চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও ছেলেমেয়ে নাতি-নাতনি আপনজনের সাহচর্য থেকে বিরত হওয়ার কারণে মানসিকভাবে অনেক কষ্ট পান। তাদের জীবনযাত্রা হয়ে ওঠে দুর্বিসহ। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, গোটা বিশ্বের যতো আদর সোহাগ, মায়া-মমতা, প্রেম নিবেদন মানুষের মধ্যে জড়িয়ে আছে কোনো কোনো স্বার্থের খাতিরে।

স্বার্থহীন ভালোবাসা পাওয়া খুব কঠিন। প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসার মধ্যে লুকিয়ে আছে স্বার্থ। স্বার্থ জড়িয়ে আছে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার মধ্যেও। বন্ধু-বান্ধবের ভালোবাসার স্বার্থ আছে। স্বার্থ প্রতিটা পদে পদে। কিন্তু মধ্যগগনে সূর্যের মতো স্পষ্ট স্বার্থহীন ভালোবাসা একমাত্র মা- বাবার অন্তরে।

মা সন্তান জন্ম দেয়ার পর দুধ পান থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর যৌবনে পদার্পণ পর্যন্ত জীবনের পরতে পরতে স্নেহ-মমতা অক্লান্ত পরিশ্রম স্বার্থহীনভাবে মা-বাবার। স্নেহ-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন সন্তানকে।

প্রতিটা মা-বাবার স্বপ্ন আমার কষ্ট ক্লেশ পরিশ্রমের মাধ্যমে সন্তান একদিন বড় হবে। মানুষ হবে, দেশবরেণ্য হবে, শ্রেষ্ঠ হবে। আল্লাহওয়ালা হবে, দেশপ্রেমিক হবে। মা-বাবার ও দেশের সেবা করবে।

সে সন্তান একদিন বড় হয়ে মা-বাবাকে পাঠায় নার্সিংহোমে। মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, যখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যায়, তাদের রোগব্যাধি বাড়তে থাকে। স্মরণশক্তি কমতে থাকে, বুদ্ধি- বিবেচনায় ঘাটতি দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে

হতে পারে, দেখা দিতে পারে নানা রকম দুর্বলতা। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের ঘরে রেখে সেবা-যত্ন করা, চিকিৎসা করা, সম্মানজনক জীবন যাত্রার ব্যবস্থা করা প্রতিটা মানুষের অন্যতম ফরজ দায়িত্ব। হজরত ওয়াইস করনী রহমাতুল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর জমানার লোক।

তিনি মুসলিম ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নিকট দরখাস্ত পাঠালেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার খেদমতে হাজির হতে চাই। কিন্তু আমার মা অসুস্থ আমার খেদমত ছাড়া তার চলে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বললেন,মায়ের পাশে থাকো, মায়ের সেবা করো, আমার জিয়ারত লাভের দরকার নেই। সাহাবিদের মর্যাদা লাভ করার প্রয়োজন নেই। ওয়াইস করনী হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য করলেন,

সাহাবীদের মর্যাদাকে কোরবানি করে মায়ের সেবায় যত্নবান হলেন। সেই সেবার বদৌলতে আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে রাখলেন তার জন্য অফুরন্ত নিয়ামত আর দুনিয়াতে মহামানবদের কাতারে শামিল করে পুরস্কৃত করলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হজরত ওমর (রা.)-কে বললেন, কোনো এলাকা হতে যদি কোনো ব্যক্তি আসে তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিও। আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করবেন। হজরত ওমর (রা.) খুঁজতে খুঁজতে একসময় ওয়াইস করনীর সাক্ষাৎ পেলেন এবং বললেন, আপনি আমার জন্য দোয়া করেন।

ওয়াইস করনী জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার নিকট দোয়া চাওয়ার কারণ কী? খালিফা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, দোয়া চাওয়ার জন্য, আল্লাহ তায়ালা আপনার দোয়া কবুল করবেন। একজন জলিল কদর সাহাবি খলিফাতুল মুসলিমীনকে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিতে। ওয়াইস করনী (রহ.) এত সুমহান মর্যাদার

আসন লাভ করলেন একমাত্র মায়ের সেবার বদৌলতে। মুসলিম শরিফ হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলেন, আমি দু’টি কাজের জন্য আপনার হাতে শপথ গ্রহণ করতে এসেছি, আমি আমার দেশ ছেড়ে মদিনা- মনোয়ারা থাকতে চাই, আপনার পাশে থেকে
আল্লাহর পথে জিহাদ করতে চাই।

আর এরদ্বারা আমার নিয়ত হলো আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রতিদান লাভ করা। রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা- বাবা কেউ জীবিত আছেন? লোকটি বললেন, হ্যাঁ দু’জনে জীবিত।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সঙ্গে না থেকে তার নিকট গিয়ে তাদের সেবা-যত্ন করো এবং স্বদ্যব্যবহার করো। আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই প্রতিদান অবশ্যই পাবে। (মুসলিম শরিফ)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেন, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত। জিজ্ঞেস করলে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, যে মাতা-পিতাকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল। তারপর তাদের খেদমত করে জান্নাত লাভ করতে পারেনি।

হজরত আবু উমামা বাহেলী রহমতুল্লাহি বর্ণনা করেন, একব্যক্তি নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূল (সা.)! সন্তানের ওপর মাতা- পিতার হক কতটুকু? এরশাদ হলো, মাতা-পিতাই হলো তোমার জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম, ইবনে মাজাহ। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আমাদের প্রবীণ ও বয়স্কদের সম্মান করে না, তাদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন নয়, সে আমার উম্মত নয়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.