হে আল্লাহ!মহামারি করোনা থেকে আপনি পুরো জাতিকে মুক্তি দিন

আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়াতে কখনো কখনো মহামারি আসে মানুষকে পরীক্ষার জন্য। আবার কখনো কখনো অবাধ্য মানুষকে শাস্তি দিতে। সে মহামারির কবলে পড়ে জীবন ও সহায়-সম্পদ হারান অপরাধী কিংবা নিরপরাধ সব মানুষ।

কুরআনুল কারিমে এমন আজাবকে (মহামারি) ভয় করার কথা বলা হয়েছ‘তোমরা এমন শাস্তি থেকে দূরে থাক, যা বিশেষভাবে তোমাদের মধ্যে যারা জালিম, (শুধু) তাদেরকেই আক্রমণ করবে না। আর জেনে রেখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে খুবই কঠোর।’ (সুরা আনফাল : আয়াত ২৫)

আল্লাহর পক্ষ থেকে যখন কোনো অঞ্চলে আজাব বা গজব আসে তখন তা ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ঈমানদার কিংবা বেঈমান সবাইকে আক্রমণ করে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে তা সুস্পষ্ট।

হাদিসে এসেছে-হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন আল্লাহ্‌ কোনো সম্প্রদায়ের উপর আজাব পাঠান তখন সেখানে বসবাসরত সবার উপরই সেই আজাব পতিত হয়। অবশ্য পরে প্রত্যেককে তার আমল অনুযায়ী উঠানো হবে।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)

উল্লেখিত হাদিসটি প্রমাণ করে যে, যখন আল্লাহ তাআলা কোনো সম্প্রদায়ের গোনাহের কারণে তাদের উপর কোনো আজাব দেন তখন তা ভালো-মন্দ সবার উপরই নেমে আসে।

মহামারি আক্রান্ত অঞ্চলে যদি কোনো নিরপরাধ ভালো মানুষও থাকে সেও ওই মহামারিতে আক্রান্ত হয়।হজরত যায়নাব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা বিশ্বনবিকে প্রশ্ন করেন, আমাদের মাঝে সৎ লোক থাকা অবস্থায়ও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উত্তরে বলেন, ‘হ্যাঁ’, যখন নোংরামির মাত্রা বেড়ে যাবে।

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে যে, যখন গর্হিত ও গোনাহের কাজ প্রকাশ পাবে তখন সবার ধ্বংস অনিবার্য হয়ে পড়বে। তবে সৎ ও মন্দ লোকের মৃত্যুর ব্যাপারে অংশীদারিত্ব, নেকি ও শাস্তির ব্যাপারে অংশীদারিত্বকে অপরিহার্য করবে না।

বরং তাদের প্রত্যেককে তাদের নিজ নিজ আমলের নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সৎ লোকের উপর আজাবের উদ্দেশ্য হবে তাদেরকে পবিত্র করা আর মন্দ লোকের জন্য শাস্তি দেয়া।’ (ফাতহুল বারী)সুতরাং চলমান মহামারি করোনাভাইরাসে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা- হে আল্লাহ! আপনি মহামারি করোনাভাইরাস থেকে মুসলিম উম্মাহকে মুক্তি দিন। মহামারি করোনাভাইরাসকে আপনি মানুষের ওপর থেকে তুলে নিন।

মহামারি কারোনায় এখন পর্যন্ত অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা আল্লাহর একান্ত প্রিয় বান্দা। তারাও রক্ষা পায়নি এ মহামারি থেকে। হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী তারা একদিকে পাবে শাহাদাতের মর্যাদা আবার অন্যদিকে পাবে তাদের আমল অনুযায়ী প্রতিদান।সুতরাং মহামারি করোনায় কে মারা গেল আর বেঁচে থাকলো।

কে ভালো লোক আর কে মন্দ লোক এসব বাচাই করার সুযোগ নেই। কোনো জাতির ওপর আল্লাহর আজাব নেমে এলে- কে ভালো, কে মন্দ তা পার্থক্য করা হয় না। এমনকি নেককার মানুষও বিপদ, আজাব ও মহামারি দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।

মুমিন ও কাফেরদে বিপদে রয়েছে পার্থক্য। কাফের অবাধ্য-অবিশ্বাসীদের জন্য বিপদ-আপদ আসে আজাবস্বরূপ। কিন্তু ঈমানদারের জন্য বিপদ-আপদ-মহামারি রহমতস্বরূপ।

হাদিসে এসেছে-হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যেসব বিপদ-আপদ আসে। আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা তার পাপ দূর করে দেন। এমনকি যদি (সামান্য) কাঁটাও তার শরীরে ফোটে, এর দ্বারাও।’ (বুখারি)

এমন ধারণা করা ঠিক নয়, কেননা মহামারিতে কোনো নেককার ব্যক্তি আক্রান্ত হবে না এ মর্মে কোনো দিকনির্দেশনা কুরআন এবং হাদিসে আসেনি। বরং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই সবচেয়ে বেশি রোগ যন্ত্রণা ভোগ করেছেন।

হাদিসে এসেছে-হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেয়ে বেশি রোগ যন্ত্রণা ভোগকারী অন্য কাউকেও দেখিনি।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্লেগ রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। জবাবে তিনি বলেন, এটি হচ্ছে এক ধরনের আজাব। আল্লাহ যার ওপর তা পাঠাতে ইচ্ছা করেন, পাঠিয়ে থাকেন। কিন্তু আল্লাহ এটিকে মুমিনদের জন্য রহমত বানিয়ে দেন।

অতএব প্লেগ রোগে কোনো বান্দা যদি ধৈর্য ধরে, এই বিশ্বাস নিয়ে নিজ শহরে অবস্থান করতে থাকে যে আল্লাহ তার জন্য যা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তা ছাড়া আর কোনো বিপদ তার ওপর আসবে না, তাহলে সেই বান্দার জন্য থাকবে শহিদের সমান সওয়াব।’ (বুখারি)তারপরও মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ- হে আল্লাহ! মহামারি করোনা থেকে আপনি পুরো জাতিকে হেফাজত করুন। আপনিই সেরা আরোগ্য ও নিরাপত্তা দানকারী। যেভাবে দোয়া করতে বলেছেন বিশ্বনবি-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্‌আলুকাল আ-ফিয়াতা ফিদ-দুন্‌ইয়া ওয়াল আখিরাহ।’ (তিরমিজি)
অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার কাছে দুনিয়া এবং পরকালের সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রশান্তি প্রার্থনা করছি।

উচ্চারণ :‘ ইয়া মুংযিলাশ-শিফায়ি ওয়া মুজহিবাদ দায়ি আংযিল আলা ওয়াঝায়িয়াশ-শিফায়ি, ইশফি আংতাশ-শাফি লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা শিফাআন লা ইয়ুগাদিরু সাক্বামা।’

অর্থ : হে সুস্থতা নাজিলকারী। হে রোগের প্রতিষেধক দানকারী। আমাদের জন (সব মহামারি) রোগ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার শেফা/চিকিৎসা নাজিল করুন। আপনি সুস্থতা দান করুন। আপনিই রোগ নিরাময়কারী। আপনি ছাড়া সুস্থতা দানকারী আর কেউ নেই। এমন সুস্থতা দান করুন, যাতে আমাকের মধ্যে আর কোনো রোগ অবশিষ্ট না থাকে।’

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাচি ওয়াল জুনুনি ওয়াল ঝুজামি ওয়া মিন সায়্যিয়িল আসক্বাম।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমি শ্বেত রোগ থেকে আশ্রয় চাই। মাতাল হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই। কুষ্ঠু রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। আর দুরারোগ্য ব্যাধি (যেগুলোর নাম জানিনা) থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

হে আল্লাহ! আপনি যুগে যুগে আপনার নবি-রাসুলদের অনেক রোগ-ব্যাধি দিয়েছেন। আবার তাদের আরোগ্য দান করেছেন। আপনিই সেরা আরোগ্য দানকারী। আপনার কাছেই প্রার্থনা। আপনি আপনার বান্দাদের প্রত

পৃথিবীর প্রথম জমিন হচ্ছে পবিত্র কাবাঘর

মুসলিম ইম্মাহর ভাষ্য মতে এটাকে বলা হয় বাইতুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর। কাবা শরিফ ও পবিত্র কাবাঘরও বলা হয়ে থাকে। এই পবিত্র কাবা ঘরের অভিমুখী হয়েই আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করেন পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলিম। সৃষ্টির সূচনা থেকেই মহান পবিত্র এই কাবাকে মহান আল্লাহ তার মনোনীত বান্দাদের মিলনস্থল করেছেন।

আমরা সকলেই জানি , ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। এ বিষয়ে পিএইচডি করেছেন ড. হুসাইন কামাল উদ্দীন আহমদ। তাঁর থিসিসের শিরোনাম হলো—‘ইসকাতুল কুররাতিল আরধিয়্যা বিন্ নিসবতে লি মাক্কাতিল মুকাররামা।’ (মাজাল্লাতুল বুহুসুল ইসলামিয়া, রিয়াদ : ২/২৯২)

ওই থিসিসে তিনি প্রাচীন ও আধুনিক দলিল-দস্তাবেজের আলোকে এ কথা প্রমাণ করেছেন যে কাবাই পৃথিবীর মেরুদণ্ড ও পৃথিবীর মধ্যস্থলে অবস্থিত। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পানিসর্বস্ব পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি এ কাবাকে কেন্দ্র করেই।

আরেকটি বিষয় হলো, মাটিতে রূপান্তর হওয়ার আগে কাবা সাদা ফেনা আকারে ছিল। সে সময় পৃথিবীতে পানি ছাড়া কিছু ছিল না। আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর। হাদিসের ভাষ্য মতে, কাবার নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় অন্য সব মহাদেশ। মাটি বিছানোর পর জমিন নড়তে থাকে। হেলতে থাকে।

এর জন্য মহান আল্লাহ পাহাড় সৃষ্টি করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয় (হেলে না যায়)।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১৫)

বৃদ্ধাশ্রমে নয় মা-বাবার জায়গা হোক হৃদয়ের মণিকোঠায়

অক্টোবর মাসে সারাবিশ্বে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। এ দিবসে বৃদ্ধ ও বয়স্ক মানুষের প্রতি সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া এ দিবসে বৃদ্ধাদেরকে উপহার ও মেসেজ ইত্যাদি প্রেরণ করা হয়।পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে অধিকাংশ মানুষই বৃদ্ধ মাতা-পিতার খোঁজখবর রাখে না। বৃদ্ধা নিবাসে পাঠিয়ে দেন।

সেখানে খাওয়া-দাওয়া পানাহার চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও ছেলেমেয়ে নাতি-নাতনি আপনজনের সাহচর্য থেকে বিরত হওয়ার কারণে মানসিকভাবে অনেক কষ্ট পান। তাদের জীবনযাত্রা হয়ে ওঠে দুর্বিসহ। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, গোটা বিশ্বের যতো আদর সোহাগ, মায়া-মমতা, প্রেম নিবেদন মানুষের মধ্যে জড়িয়ে আছে কোনো কোনো স্বার্থের খাতিরে।

স্বার্থহীন ভালোবাসা পাওয়া খুব কঠিন। প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসার মধ্যে লুকিয়ে আছে স্বার্থ। স্বার্থ জড়িয়ে আছে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার মধ্যেও। বন্ধু-বান্ধবের ভালোবাসার স্বার্থ আছে। স্বার্থ প্রতিটা পদে পদে। কিন্তু মধ্যগগনে সূর্যের মতো স্পষ্ট স্বার্থহীন ভালোবাসা একমাত্র মা- বাবার অন্তরে।

মা সন্তান জন্ম দেয়ার পর দুধ পান থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর যৌবনে পদার্পণ পর্যন্ত জীবনের পরতে পরতে স্নেহ-মমতা অক্লান্ত পরিশ্রম স্বার্থহীনভাবে মা-বাবার। স্নেহ-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন সন্তানকে।

প্রতিটা মা-বাবার স্বপ্ন আমার কষ্ট ক্লেশ পরিশ্রমের মাধ্যমে সন্তান একদিন বড় হবে। মানুষ হবে, দেশবরেণ্য হবে, শ্রেষ্ঠ হবে। আল্লাহওয়ালা হবে, দেশপ্রেমিক হবে। মা-বাবার ও দেশের সেবা করবে।

সে সন্তান একদিন বড় হয়ে মা-বাবাকে পাঠায় নার্সিংহোমে। মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, যখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যায়, তাদের রোগব্যাধি বাড়তে থাকে। স্মরণশক্তি কমতে থাকে, বুদ্ধি- বিবেচনায় ঘাটতি দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে

হতে পারে, দেখা দিতে পারে নানা রকম দুর্বলতা। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের ঘরে রেখে সেবা-যত্ন করা, চিকিৎসা করা, সম্মানজনক জীবন যাত্রার ব্যবস্থা করা প্রতিটা মানুষের অন্যতম ফরজ দায়িত্ব। হজরত ওয়াইস করনী রহমাতুল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর জমানার লোক।

তিনি মুসলিম ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নিকট দরখাস্ত পাঠালেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার খেদমতে হাজির হতে চাই। কিন্তু আমার মা অসুস্থ আমার খেদমত ছাড়া তার চলে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বললেন,মায়ের পাশে থাকো, মায়ের সেবা করো, আমার জিয়ারত লাভের দরকার নেই। সাহাবিদের মর্যাদা লাভ করার প্রয়োজন নেই। ওয়াইস করনী হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য করলেন,

সাহাবীদের মর্যাদাকে কোরবানি করে মায়ের সেবায় যত্নবান হলেন। সেই সেবার বদৌলতে আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে রাখলেন তার জন্য অফুরন্ত নিয়ামত আর দুনিয়াতে মহামানবদের কাতারে শামিল করে পুরস্কৃত করলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হজরত ওমর (রা.)-কে বললেন, কোনো এলাকা হতে যদি কোনো ব্যক্তি আসে তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিও। আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করবেন। হজরত ওমর (রা.) খুঁজতে খুঁজতে একসময় ওয়াইস করনীর সাক্ষাৎ পেলেন এবং বললেন, আপনি আমার জন্য দোয়া করেন।

ওয়াইস করনী জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার নিকট দোয়া চাওয়ার কারণ কী? খালিফা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, দোয়া চাওয়ার জন্য, আল্লাহ তায়ালা আপনার দোয়া কবুল করবেন। একজন জলিল কদর সাহাবি খলিফাতুল মুসলিমীনকে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিতে। ওয়াইস করনী (রহ.) এত সুমহান মর্যাদার

আসন লাভ করলেন একমাত্র মায়ের সেবার বদৌলতে। মুসলিম শরিফ হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলেন, আমি দু’টি কাজের জন্য আপনার হাতে শপথ গ্রহণ করতে এসেছি, আমি আমার দেশ ছেড়ে মদিনা- মনোয়ারা থাকতে চাই, আপনার পাশে থেকে
আল্লাহর পথে জিহাদ করতে চাই।

আর এরদ্বারা আমার নিয়ত হলো আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রতিদান লাভ করা। রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা- বাবা কেউ জীবিত আছেন? লোকটি বললেন, হ্যাঁ দু’জনে জীবিত।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সঙ্গে না থেকে তার নিকট গিয়ে তাদের সেবা-যত্ন করো এবং স্বদ্যব্যবহার করো। আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই প্রতিদান অবশ্যই পাবে। (মুসলিম শরিফ)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেন, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত। জিজ্ঞেস করলে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, যে মাতা-পিতাকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল। তারপর তাদের খেদমত করে জান্নাত লাভ করতে পারেনি।

হজরত আবু উমামা বাহেলী রহমতুল্লাহি বর্ণনা করেন, একব্যক্তি নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূল (সা.)! সন্তানের ওপর মাতা- পিতার হক কতটুকু? এরশাদ হলো, মাতা-পিতাই হলো তোমার জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম, ইবনে মাজাহ। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আমাদের প্রবীণ ও বয়স্কদের সম্মান করে না, তাদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন নয়, সে আমার উম্মত নয়।

বৃদ্ধাশ্রমে নয় মা-বাবার জায়গা হোক হৃদয়ের মণিকোঠায়

অক্টোবর মাসে সারাবিশ্বে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। এ দিবসে বৃদ্ধ ও বয়স্ক মানুষের প্রতি সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া এ দিবসে বৃদ্ধাদেরকে উপহার ও মেসেজ ইত্যাদি প্রেরণ করা হয়।পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে অধিকাংশ মানুষই বৃদ্ধ মাতা-পিতার খোঁজখবর রাখে না। বৃদ্ধা নিবাসে পাঠিয়ে দেন।

সেখানে খাওয়া-দাওয়া পানাহার চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও ছেলেমেয়ে নাতি-নাতনি আপনজনের সাহচর্য থেকে বিরত হওয়ার কারণে মানসিকভাবে অনেক কষ্ট পান। তাদের জীবনযাত্রা হয়ে ওঠে দুর্বিসহ। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, গোটা বিশ্বের যতো আদর সোহাগ, মায়া-মমতা, প্রেম নিবেদন মানুষের মধ্যে জড়িয়ে আছে কোনো কোনো স্বার্থের খাতিরে।

স্বার্থহীন ভালোবাসা পাওয়া খুব কঠিন। প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসার মধ্যে লুকিয়ে আছে স্বার্থ। স্বার্থ জড়িয়ে আছে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার মধ্যেও। বন্ধু-বান্ধবের ভালোবাসার স্বার্থ আছে। স্বার্থ প্রতিটা পদে পদে। কিন্তু মধ্যগগনে সূর্যের মতো স্পষ্ট স্বার্থহীন ভালোবাসা একমাত্র মা- বাবার অন্তরে।

মা সন্তান জন্ম দেয়ার পর দুধ পান থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর যৌবনে পদার্পণ পর্যন্ত জীবনের পরতে পরতে স্নেহ-মমতা অক্লান্ত পরিশ্রম স্বার্থহীনভাবে মা-বাবার। স্নেহ-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন সন্তানকে।

প্রতিটা মা-বাবার স্বপ্ন আমার কষ্ট ক্লেশ পরিশ্রমের মাধ্যমে সন্তান একদিন বড় হবে। মানুষ হবে, দেশবরেণ্য হবে, শ্রেষ্ঠ হবে। আল্লাহওয়ালা হবে, দেশপ্রেমিক হবে। মা-বাবার ও দেশের সেবা করবে।

সে সন্তান একদিন বড় হয়ে মা-বাবাকে পাঠায় নার্সিংহোমে। মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, যখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যায়, তাদের রোগব্যাধি বাড়তে থাকে। স্মরণশক্তি কমতে থাকে, বুদ্ধি- বিবেচনায় ঘাটতি দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে

হতে পারে, দেখা দিতে পারে নানা রকম দুর্বলতা। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের ঘরে রেখে সেবা-যত্ন করা, চিকিৎসা করা, সম্মানজনক জীবন যাত্রার ব্যবস্থা করা প্রতিটা মানুষের অন্যতম ফরজ দায়িত্ব। হজরত ওয়াইস করনী রহমাতুল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর জমানার লোক।

তিনি মুসলিম ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নিকট দরখাস্ত পাঠালেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার খেদমতে হাজির হতে চাই। কিন্তু আমার মা অসুস্থ আমার খেদমত ছাড়া তার চলে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বললেন,মায়ের পাশে থাকো, মায়ের সেবা করো, আমার জিয়ারত লাভের দরকার নেই। সাহাবিদের মর্যাদা লাভ করার প্রয়োজন নেই। ওয়াইস করনী হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য করলেন,

সাহাবীদের মর্যাদাকে কোরবানি করে মায়ের সেবায় যত্নবান হলেন। সেই সেবার বদৌলতে আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে রাখলেন তার জন্য অফুরন্ত নিয়ামত আর দুনিয়াতে মহামানবদের কাতারে শামিল করে পুরস্কৃত করলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হজরত ওমর (রা.)-কে বললেন, কোনো এলাকা হতে যদি কোনো ব্যক্তি আসে তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিও। আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করবেন। হজরত ওমর (রা.) খুঁজতে খুঁজতে একসময় ওয়াইস করনীর সাক্ষাৎ পেলেন এবং বললেন, আপনি আমার জন্য দোয়া করেন।

ওয়াইস করনী জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার নিকট দোয়া চাওয়ার কারণ কী? খালিফা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, দোয়া চাওয়ার জন্য, আল্লাহ তায়ালা আপনার দোয়া কবুল করবেন। একজন জলিল কদর সাহাবি খলিফাতুল মুসলিমীনকে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিতে। ওয়াইস করনী (রহ.) এত সুমহান মর্যাদার

আসন লাভ করলেন একমাত্র মায়ের সেবার বদৌলতে। মুসলিম শরিফ হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলেন, আমি দু’টি কাজের জন্য আপনার হাতে শপথ গ্রহণ করতে এসেছি, আমি আমার দেশ ছেড়ে মদিনা- মনোয়ারা থাকতে চাই, আপনার পাশে থেকে
আল্লাহর পথে জিহাদ করতে চাই।

আর এরদ্বারা আমার নিয়ত হলো আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রতিদান লাভ করা। রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা- বাবা কেউ জীবিত আছেন? লোকটি বললেন, হ্যাঁ দু’জনে জীবিত।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সঙ্গে না থেকে তার নিকট গিয়ে তাদের সেবা-যত্ন করো এবং স্বদ্যব্যবহার করো। আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই প্রতিদান অবশ্যই পাবে। (মুসলিম শরিফ)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেন, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত। জিজ্ঞেস করলে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, যে মাতা-পিতাকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল। তারপর তাদের খেদমত করে জান্নাত লাভ করতে পারেনি।

হজরত আবু উমামা বাহেলী রহমতুল্লাহি বর্ণনা করেন, একব্যক্তি নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূল (সা.)! সন্তানের ওপর মাতা- পিতার হক কতটুকু? এরশাদ হলো, মাতা-পিতাই হলো তোমার জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম, ইবনে মাজাহ। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আমাদের প্রবীণ ও বয়স্কদের সম্মান করে না, তাদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন নয়, সে আমার উম্মত নয়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.