রোজার মাসে এক মুসলিম সৈন্যের খোদাভীতি দেখে ইসলাম গ্রহণ করলেন ব্রিটিশ কর্নেল

রোজা ইসলামের অন্যতম একটি মূল ভিত্তি। অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রে লৌকিকতার সুযোগ থাকলেও রোজার ক্ষেত্রে তার সুযোগ নেই। রোজা হয় একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। তাই এর মাধ্যমে তাকওয়ার মাপকাঠিতে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানো সম্ভব। মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছানোর এক কাক্সিক্ষত মাধ্যম হলো রোজা। প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থ সব মুসলমানের জন্য রোজা রাখা ফরজ।

আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো’ (সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৩)। রোজা যেমন মানুষকে দেয় শারীরিক সুস্থতা, তেমনি মানসিকভাবেও রাখে প্রফুল্ল।

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশ^জুড়েই যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, রোজা এ সময়ে মুমিনদের মানসিক প্রশান্তি ও দৃঢ়তা এনে দিতে সক্ষম। আর কিভাবে তা মুমিনদের মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে তার একটি বাস্তব নমুনা ব্রিটিশশাসিত ভারতীয় উপমহাদেশের একটি ঘটনা থেকেই বোঝা যায়।

ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনীর কর্নেল এলবার্ট রেমস এল সি তখন আটক কেল্লায় (বর্তমানে পাকিস্তানের আটক জেলায় অবস্থিত) দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেদিন কর্নেল এল সি তার অফিসে বসে কাজ করছিলেন। হঠাৎ তার দৃষ্টি চলে যায় খোলা জানালা পথে সামনের প্যারেড গ্রাউন্ডে।

তিনি সেখানে দেখেন একজন ইন্ডিয়ান সৈন্যকে শাস্তি স্বরূপ প্যারেড গ্রাউন্ডে দৌড়ানো হচ্ছে। তাকে শাস্তি দেয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছে এক শিখ সৈন্য। শাস্তি স্বরূপ ইন্ডিয়ান সৈন্যটির পিঠে বেঁধে দেয়া হয়েছে ইটের একটি বিরাট বোঝা। খড়তপ্ত দুপুরে সৈন্যটিকে দৌড়ানো হচ্ছে পূর্ণ গতিতে। দৌড়াতে দৌড়াতে যখনই তার দেহের গতিতে কিছুটা শিথিল ভাব আসে, তখনই তার পিঠে নেমে আসে শিখ সৈন্যের লিকলিকে বেত। এভাবে দৌড় চলতে থাকে এক ঘণ্টা ধরে।

বেলা ৩টা বেজে যায়। তাকে থামিয়ে দেয় শিখ সৈন্যটি। ছুটি দেয় কিছুক্ষণের জন্য। কর্নেল এল সি হাতের কাজ রেখে এ দৃশ্য দেখছিলেন মনোযোগের সাথে। ইন্ডিয়ান সৈন্যটি ছুটি পাওয়া মাত্রই দৌড়ে গেল পানির নলের দিকে। হাত দুটি কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে মুখে পানি নিলো। কিন্তু পানি পান না করে মুখে নিয়ে এমনভাবে নাড়াচড়া করল যেন পানি গলার নিচে নেমে না যায়।

এভাবে তিনবার মুখে পানি নিলো অথচ পান না করে ফেলে দিলো। এরপর মুখ পরিষ্কার করল তিনবার। তারপর হাত দুটি কনুই পর্যন্ত ধুয়ে ভেজা হাত দিয়ে মাথায় বুলাল। সবশেষে তিনবার পা ধুয়ে তাড়াহুড়ো করে চলে এলো প্যারেড গ্রাউন্ডে।

জলন্ত চুলার মতো উত্তপ্ত মাটিতে পশ্চিমমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। উঠা-বসা করল নির্দিষ্ট নিয়মে, নির্দিষ্ট সংখ্যক বার। এই উঠা-বসা শেষ না হতেই মৃত্যু ফেরেশতার রূপ নিয়ে সেই শিখ সৈন্যটি তার পেছনে দাঁড়িয়ে গেল লিকলিকে বেত হাতে নিয়ে।

সুতরাং সেই ইন্ডিয়ান সৈন্যটি আগের মতোপূর্ণ গতিতে দৌড়াতে লাগল। ভেঙে গেল কর্নেল এল সির ধৈর্যের বাঁধ। নিজ অফিস কক্ষ থেকে বের হয়ে তিনি চলে গেলেন ইন্ডিয়ান ইউনিটের দফতরে। দেখা করলেন সমপর্যায়ের অফিসারের সাথে। বললেন, সামনের ওই প্যারেড গ্রাউন্ডে এক দেশী সৈন্যকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। কী অপরাধ তার? এত প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও লোকটি এক ঢোক পানি পান করেনি।

তিনি দেশী সৈন্যটির সৎ সাহসের প্রশংসা করলেন এবং তার অপরাধ ক্ষমা করে দেয়ার সুপারিশ করলেন। সেই সাথে অনুরোধ জানালেন, সেই সৈন্যকে তার কাছে নিয়ে আসার জন্য। তার অনুরোধে সৈন্যটিকে তার কাছে নিয়ে আসা হলো।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে কি জন্য এই শাস্তি দেয়া হচ্ছে? সৈন্যটি উত্তর দিলো, আজ সকালে পিটি মেসে পৌঁছতে আমার দু’-তিন মিনিট দেরি হয়েছে। আমাদের কমান্ডার একজন শিখ ক্যাপ্টেন, তিনি মুসলমানদের ব্যাপারে খুব বাড়াবাড়ি করে থাকেন। আমাদের সামান্য কোনো ত্রুটি পেলেই ভীষণ শাস্তির ব্যবস্থা করেন। কর্নেল এল সির দ্বিতীয় প্রশ্ন, এত প্রচণ্ড গরম আর কঠিন শাস্তি ভোগের পরও কি তোমার পানি পিপাসা লাগেনি? আমি তো তোমাকে পানি পান করতে দেখলাম না!

বরং দেখলাম তুমি মুখে পানি নিয়ে আবার ফেলে দিচ্ছ! সৈন্যটি বলল, আমি যেহেতু একজন মানুষ এত প্রচণ্ড গরমে পানির তৃষ্ণা জাগবে এই তো স্বাভাবিক।

তবে আমি একজন মুসলমানও। এখন রমজান মাস। আর এ মাসটিতে মুসলমানরা রোজা রাখে, আমিও রেখেছি। তাই প্রচণ্ড পিপাসা সত্ত্বে¡ও আমি পানি পান করিনি। কর্নেল এল সি বললেন, দেখোÑ তুমি যদি এই অবস্থায় পানি পান করতে তাহলে কেউ তো দেখত না। কাজেই অসুবিধা কী ছিল? সৈন্যটি জবাব দিলো, আমি যদি এই অবস্থায় পানি পান করতাম তাহলে কোনো মানুষ হয়তো আমাকে দেখত না বা দেখলেও বাধা দিত না।

কিন্তু আমার সৃষ্টিকর্তা মহান রাব্বুল আলামিন তো দেখতেন। কারো সাধ্য নাই যে, তার নিজস¦ কর্মকাণ্ড আল্লাহ পাকের দৃষ্টির আড়ালে করবে কিংবা গোপন রাখবে। এ কথা শুনে কর্নেল এল সি অবাক হয়ে গেলেন। এ ঘটনা তাকে এমনভাবে নাড়া দেয় যে, শেষ পর্যন্ত তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

(কেন মুসলমান হলাম, দ্বিতীয় খণ্ড) এভাবেই রোজা মুমিনদের তাকওয়া বৃদ্ধি করে বাস্তবিক অর্থেই নানা প্রতিকূল পরিবেশেও দিয়ে থাকে মানসিক প্রশান্তি। তাই সারা বিশে^র এই ক্রান্তিলগ্নে, মানবিকতা যখন অধঃপতিত, উৎকণ্ঠিত-বিচলিত মানবসমাজ, এই মুহূর্তে সেই সৈন্যর মতো ঈমানি দৃঢ়তা আর সিয়াম সাধনা মুমিন হৃদয়ে এনে দিতে পারে অনাবিল প্রশান্তি। রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের সুমহান বাণী নিয়ে শুরু হয়েছে মাহে রমজান। মহান আল্লাহ রমজানকে কেন্দ্র করে সব বালা-মুসিবত দূরীভূত করে পুরো বিশ^কে তার রহমতের চাদরে আবৃত করুন। আমিন।

লেখক: খতিব, জান্নাতুল মাওয়া জামে মসজিদ, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড, গাজীপুর সিটি

পৃথিবীর প্রথম জমিন হচ্ছে পবিত্র কাবাঘর

মুসলিম ইম্মাহর ভাষ্য মতে এটাকে বলা হয় বাইতুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর। কাবা শরিফ ও পবিত্র কাবাঘরও বলা হয়ে থাকে। এই পবিত্র কাবা ঘরের অভিমুখী হয়েই আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করেন পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলিম। সৃষ্টির সূচনা থেকেই মহান পবিত্র এই কাবাকে মহান আল্লাহ তার মনোনীত বান্দাদের মিলনস্থল করেছেন।

আমরা সকলেই জানি , ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। এ বিষয়ে পিএইচডি করেছেন ড. হুসাইন কামাল উদ্দীন আহমদ। তাঁর থিসিসের শিরোনাম হলো—‘ইসকাতুল কুররাতিল আরধিয়্যা বিন্ নিসবতে লি মাক্কাতিল মুকাররামা।’ (মাজাল্লাতুল বুহুসুল ইসলামিয়া, রিয়াদ : ২/২৯২)

ওই থিসিসে তিনি প্রাচীন ও আধুনিক দলিল-দস্তাবেজের আলোকে এ কথা প্রমাণ করেছেন যে কাবাই পৃথিবীর মেরুদণ্ড ও পৃথিবীর মধ্যস্থলে অবস্থিত। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পানিসর্বস্ব পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি এ কাবাকে কেন্দ্র করেই।

আরেকটি বিষয় হলো, মাটিতে রূপান্তর হওয়ার আগে কাবা সাদা ফেনা আকারে ছিল। সে সময় পৃথিবীতে পানি ছাড়া কিছু ছিল না। আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর। হাদিসের ভাষ্য মতে, কাবার নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় অন্য সব মহাদেশ। মাটি বিছানোর পর জমিন নড়তে থাকে। হেলতে থাকে।

এর জন্য মহান আল্লাহ পাহাড় সৃষ্টি করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয় (হেলে না যায়)।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১৫)

বৃদ্ধাশ্রমে নয় মা-বাবার জায়গা হোক হৃদয়ের মণিকোঠায়

অক্টোবর মাসে সারাবিশ্বে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। এ দিবসে বৃদ্ধ ও বয়স্ক মানুষের প্রতি সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া এ দিবসে বৃদ্ধাদেরকে উপহার ও মেসেজ ইত্যাদি প্রেরণ করা হয়।পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে অধিকাংশ মানুষই বৃদ্ধ মাতা-পিতার খোঁজখবর রাখে না। বৃদ্ধা নিবাসে পাঠিয়ে দেন।

সেখানে খাওয়া-দাওয়া পানাহার চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও ছেলেমেয়ে নাতি-নাতনি আপনজনের সাহচর্য থেকে বিরত হওয়ার কারণে মানসিকভাবে অনেক কষ্ট পান। তাদের জীবনযাত্রা হয়ে ওঠে দুর্বিসহ। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, গোটা বিশ্বের যতো আদর সোহাগ, মায়া-মমতা, প্রেম নিবেদন মানুষের মধ্যে জড়িয়ে আছে কোনো কোনো স্বার্থের খাতিরে।

স্বার্থহীন ভালোবাসা পাওয়া খুব কঠিন। প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসার মধ্যে লুকিয়ে আছে স্বার্থ। স্বার্থ জড়িয়ে আছে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার মধ্যেও। বন্ধু-বান্ধবের ভালোবাসার স্বার্থ আছে। স্বার্থ প্রতিটা পদে পদে। কিন্তু মধ্যগগনে সূর্যের মতো স্পষ্ট স্বার্থহীন ভালোবাসা একমাত্র মা- বাবার অন্তরে।

মা সন্তান জন্ম দেয়ার পর দুধ পান থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর যৌবনে পদার্পণ পর্যন্ত জীবনের পরতে পরতে স্নেহ-মমতা অক্লান্ত পরিশ্রম স্বার্থহীনভাবে মা-বাবার। স্নেহ-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন সন্তানকে।

প্রতিটা মা-বাবার স্বপ্ন আমার কষ্ট ক্লেশ পরিশ্রমের মাধ্যমে সন্তান একদিন বড় হবে। মানুষ হবে, দেশবরেণ্য হবে, শ্রেষ্ঠ হবে। আল্লাহওয়ালা হবে, দেশপ্রেমিক হবে। মা-বাবার ও দেশের সেবা করবে।

সে সন্তান একদিন বড় হয়ে মা-বাবাকে পাঠায় নার্সিংহোমে। মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, যখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যায়, তাদের রোগব্যাধি বাড়তে থাকে। স্মরণশক্তি কমতে থাকে, বুদ্ধি- বিবেচনায় ঘাটতি দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে

হতে পারে, দেখা দিতে পারে নানা রকম দুর্বলতা। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের ঘরে রেখে সেবা-যত্ন করা, চিকিৎসা করা, সম্মানজনক জীবন যাত্রার ব্যবস্থা করা প্রতিটা মানুষের অন্যতম ফরজ দায়িত্ব। হজরত ওয়াইস করনী রহমাতুল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর জমানার লোক।

তিনি মুসলিম ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নিকট দরখাস্ত পাঠালেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার খেদমতে হাজির হতে চাই। কিন্তু আমার মা অসুস্থ আমার খেদমত ছাড়া তার চলে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বললেন,মায়ের পাশে থাকো, মায়ের সেবা করো, আমার জিয়ারত লাভের দরকার নেই। সাহাবিদের মর্যাদা লাভ করার প্রয়োজন নেই। ওয়াইস করনী হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য করলেন,

সাহাবীদের মর্যাদাকে কোরবানি করে মায়ের সেবায় যত্নবান হলেন। সেই সেবার বদৌলতে আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে রাখলেন তার জন্য অফুরন্ত নিয়ামত আর দুনিয়াতে মহামানবদের কাতারে শামিল করে পুরস্কৃত করলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হজরত ওমর (রা.)-কে বললেন, কোনো এলাকা হতে যদি কোনো ব্যক্তি আসে তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিও। আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করবেন। হজরত ওমর (রা.) খুঁজতে খুঁজতে একসময় ওয়াইস করনীর সাক্ষাৎ পেলেন এবং বললেন, আপনি আমার জন্য দোয়া করেন।

ওয়াইস করনী জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার নিকট দোয়া চাওয়ার কারণ কী? খালিফা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, দোয়া চাওয়ার জন্য, আল্লাহ তায়ালা আপনার দোয়া কবুল করবেন। একজন জলিল কদর সাহাবি খলিফাতুল মুসলিমীনকে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিতে। ওয়াইস করনী (রহ.) এত সুমহান মর্যাদার

আসন লাভ করলেন একমাত্র মায়ের সেবার বদৌলতে। মুসলিম শরিফ হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলেন, আমি দু’টি কাজের জন্য আপনার হাতে শপথ গ্রহণ করতে এসেছি, আমি আমার দেশ ছেড়ে মদিনা- মনোয়ারা থাকতে চাই, আপনার পাশে থেকে
আল্লাহর পথে জিহাদ করতে চাই।

আর এরদ্বারা আমার নিয়ত হলো আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রতিদান লাভ করা। রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা- বাবা কেউ জীবিত আছেন? লোকটি বললেন, হ্যাঁ দু’জনে জীবিত।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সঙ্গে না থেকে তার নিকট গিয়ে তাদের সেবা-যত্ন করো এবং স্বদ্যব্যবহার করো। আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই প্রতিদান অবশ্যই পাবে। (মুসলিম শরিফ)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেন, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত। জিজ্ঞেস করলে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, যে মাতা-পিতাকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল। তারপর তাদের খেদমত করে জান্নাত লাভ করতে পারেনি।

হজরত আবু উমামা বাহেলী রহমতুল্লাহি বর্ণনা করেন, একব্যক্তি নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূল (সা.)! সন্তানের ওপর মাতা- পিতার হক কতটুকু? এরশাদ হলো, মাতা-পিতাই হলো তোমার জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম, ইবনে মাজাহ। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আমাদের প্রবীণ ও বয়স্কদের সম্মান করে না, তাদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন নয়, সে আমার উম্মত নয়।

বৃদ্ধাশ্রমে নয় মা-বাবার জায়গা হোক হৃদয়ের মণিকোঠায়

অক্টোবর মাসে সারাবিশ্বে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। এ দিবসে বৃদ্ধ ও বয়স্ক মানুষের প্রতি সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া এ দিবসে বৃদ্ধাদেরকে উপহার ও মেসেজ ইত্যাদি প্রেরণ করা হয়।পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে অধিকাংশ মানুষই বৃদ্ধ মাতা-পিতার খোঁজখবর রাখে না। বৃদ্ধা নিবাসে পাঠিয়ে দেন।

সেখানে খাওয়া-দাওয়া পানাহার চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও ছেলেমেয়ে নাতি-নাতনি আপনজনের সাহচর্য থেকে বিরত হওয়ার কারণে মানসিকভাবে অনেক কষ্ট পান। তাদের জীবনযাত্রা হয়ে ওঠে দুর্বিসহ। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, গোটা বিশ্বের যতো আদর সোহাগ, মায়া-মমতা, প্রেম নিবেদন মানুষের মধ্যে জড়িয়ে আছে কোনো কোনো স্বার্থের খাতিরে।

স্বার্থহীন ভালোবাসা পাওয়া খুব কঠিন। প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসার মধ্যে লুকিয়ে আছে স্বার্থ। স্বার্থ জড়িয়ে আছে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার মধ্যেও। বন্ধু-বান্ধবের ভালোবাসার স্বার্থ আছে। স্বার্থ প্রতিটা পদে পদে। কিন্তু মধ্যগগনে সূর্যের মতো স্পষ্ট স্বার্থহীন ভালোবাসা একমাত্র মা- বাবার অন্তরে।

মা সন্তান জন্ম দেয়ার পর দুধ পান থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর যৌবনে পদার্পণ পর্যন্ত জীবনের পরতে পরতে স্নেহ-মমতা অক্লান্ত পরিশ্রম স্বার্থহীনভাবে মা-বাবার। স্নেহ-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন সন্তানকে।

প্রতিটা মা-বাবার স্বপ্ন আমার কষ্ট ক্লেশ পরিশ্রমের মাধ্যমে সন্তান একদিন বড় হবে। মানুষ হবে, দেশবরেণ্য হবে, শ্রেষ্ঠ হবে। আল্লাহওয়ালা হবে, দেশপ্রেমিক হবে। মা-বাবার ও দেশের সেবা করবে।

সে সন্তান একদিন বড় হয়ে মা-বাবাকে পাঠায় নার্সিংহোমে। মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, যখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যায়, তাদের রোগব্যাধি বাড়তে থাকে। স্মরণশক্তি কমতে থাকে, বুদ্ধি- বিবেচনায় ঘাটতি দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে

হতে পারে, দেখা দিতে পারে নানা রকম দুর্বলতা। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের ঘরে রেখে সেবা-যত্ন করা, চিকিৎসা করা, সম্মানজনক জীবন যাত্রার ব্যবস্থা করা প্রতিটা মানুষের অন্যতম ফরজ দায়িত্ব। হজরত ওয়াইস করনী রহমাতুল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর জমানার লোক।

তিনি মুসলিম ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নিকট দরখাস্ত পাঠালেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার খেদমতে হাজির হতে চাই। কিন্তু আমার মা অসুস্থ আমার খেদমত ছাড়া তার চলে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বললেন,মায়ের পাশে থাকো, মায়ের সেবা করো, আমার জিয়ারত লাভের দরকার নেই। সাহাবিদের মর্যাদা লাভ করার প্রয়োজন নেই। ওয়াইস করনী হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য করলেন,

সাহাবীদের মর্যাদাকে কোরবানি করে মায়ের সেবায় যত্নবান হলেন। সেই সেবার বদৌলতে আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে রাখলেন তার জন্য অফুরন্ত নিয়ামত আর দুনিয়াতে মহামানবদের কাতারে শামিল করে পুরস্কৃত করলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হজরত ওমর (রা.)-কে বললেন, কোনো এলাকা হতে যদি কোনো ব্যক্তি আসে তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিও। আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করবেন। হজরত ওমর (রা.) খুঁজতে খুঁজতে একসময় ওয়াইস করনীর সাক্ষাৎ পেলেন এবং বললেন, আপনি আমার জন্য দোয়া করেন।

ওয়াইস করনী জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার নিকট দোয়া চাওয়ার কারণ কী? খালিফা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, দোয়া চাওয়ার জন্য, আল্লাহ তায়ালা আপনার দোয়া কবুল করবেন। একজন জলিল কদর সাহাবি খলিফাতুল মুসলিমীনকে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিতে। ওয়াইস করনী (রহ.) এত সুমহান মর্যাদার

আসন লাভ করলেন একমাত্র মায়ের সেবার বদৌলতে। মুসলিম শরিফ হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলেন, আমি দু’টি কাজের জন্য আপনার হাতে শপথ গ্রহণ করতে এসেছি, আমি আমার দেশ ছেড়ে মদিনা- মনোয়ারা থাকতে চাই, আপনার পাশে থেকে
আল্লাহর পথে জিহাদ করতে চাই।

আর এরদ্বারা আমার নিয়ত হলো আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রতিদান লাভ করা। রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা- বাবা কেউ জীবিত আছেন? লোকটি বললেন, হ্যাঁ দু’জনে জীবিত।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সঙ্গে না থেকে তার নিকট গিয়ে তাদের সেবা-যত্ন করো এবং স্বদ্যব্যবহার করো। আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই প্রতিদান অবশ্যই পাবে। (মুসলিম শরিফ)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেন, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত। জিজ্ঞেস করলে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, যে মাতা-পিতাকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল। তারপর তাদের খেদমত করে জান্নাত লাভ করতে পারেনি।

হজরত আবু উমামা বাহেলী রহমতুল্লাহি বর্ণনা করেন, একব্যক্তি নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূল (সা.)! সন্তানের ওপর মাতা- পিতার হক কতটুকু? এরশাদ হলো, মাতা-পিতাই হলো তোমার জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম, ইবনে মাজাহ। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আমাদের প্রবীণ ও বয়স্কদের সম্মান করে না, তাদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন নয়, সে আমার উম্মত নয়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.