ইসরায়েলে চীনা রাষ্ট্রদূতের মরদেহ উদ্ধার

ইসরায়েলে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত দু ওয়েই’র মরদেহ তেল আবিবে তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ইসরায়েলের পুলিশ ও গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আজ রবিবার দুপুরে বিবিসি এ খবর প্রকাশ করেছে। মৃত্যুকালে দু ওয়েই’র বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। তার মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি।

সম্প্রতি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চীনের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তার দাবি, চীন করোনা নিয়ে তথ্য গোপন করেছে। তার বক্তব্যকে ‘অ্যাবসার্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন দু ওয়েই।

গত ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে ইসরায়েলে নিয়োগ পান দু ওয়েই। এর আগে ইউক্রেনে চীনা দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দু ওয়েই বিবাহিত, তার স্ত্রী ও একটি সন্তান আছে। তবে তারা ঘটনার সময় ইসরায়েলে ছিলেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

পৃথিবীর প্রথম জমিন হচ্ছে পবিত্র কাবাঘর

মুসলিম ইম্মাহর ভাষ্য মতে এটাকে বলা হয় বাইতুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর। কাবা শরিফ ও পবিত্র কাবাঘরও বলা হয়ে থাকে। এই পবিত্র কাবা ঘরের অভিমুখী হয়েই আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করেন পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলিম। সৃষ্টির সূচনা থেকেই মহান পবিত্র এই কাবাকে মহান আল্লাহ তার মনোনীত বান্দাদের মিলনস্থল করেছেন।

আমরা সকলেই জানি , ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। এ বিষয়ে পিএইচডি করেছেন ড. হুসাইন কামাল উদ্দীন আহমদ। তাঁর থিসিসের শিরোনাম হলো—‘ইসকাতুল কুররাতিল আরধিয়্যা বিন্ নিসবতে লি মাক্কাতিল মুকাররামা।’ (মাজাল্লাতুল বুহুসুল ইসলামিয়া, রিয়াদ : ২/২৯২)

ওই থিসিসে তিনি প্রাচীন ও আধুনিক দলিল-দস্তাবেজের আলোকে এ কথা প্রমাণ করেছেন যে কাবাই পৃথিবীর মেরুদণ্ড ও পৃথিবীর মধ্যস্থলে অবস্থিত। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পানিসর্বস্ব পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি এ কাবাকে কেন্দ্র করেই।

আরেকটি বিষয় হলো, মাটিতে রূপান্তর হওয়ার আগে কাবা সাদা ফেনা আকারে ছিল। সে সময় পৃথিবীতে পানি ছাড়া কিছু ছিল না। আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর। হাদিসের ভাষ্য মতে, কাবার নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় অন্য সব মহাদেশ। মাটি বিছানোর পর জমিন নড়তে থাকে। হেলতে থাকে।

এর জন্য মহান আল্লাহ পাহাড় সৃষ্টি করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয় (হেলে না যায়)।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১৫)

বৃদ্ধাশ্রমে নয় মা-বাবার জায়গা হোক হৃদয়ের মণিকোঠায়

অক্টোবর মাসে সারাবিশ্বে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। এ দিবসে বৃদ্ধ ও বয়স্ক মানুষের প্রতি সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া এ দিবসে বৃদ্ধাদেরকে উপহার ও মেসেজ ইত্যাদি প্রেরণ করা হয়।পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে অধিকাংশ মানুষই বৃদ্ধ মাতা-পিতার খোঁজখবর রাখে না। বৃদ্ধা নিবাসে পাঠিয়ে দেন।

সেখানে খাওয়া-দাওয়া পানাহার চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও ছেলেমেয়ে নাতি-নাতনি আপনজনের সাহচর্য থেকে বিরত হওয়ার কারণে মানসিকভাবে অনেক কষ্ট পান। তাদের জীবনযাত্রা হয়ে ওঠে দুর্বিসহ। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, গোটা বিশ্বের যতো আদর সোহাগ, মায়া-মমতা, প্রেম নিবেদন মানুষের মধ্যে জড়িয়ে আছে কোনো কোনো স্বার্থের খাতিরে।

স্বার্থহীন ভালোবাসা পাওয়া খুব কঠিন। প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসার মধ্যে লুকিয়ে আছে স্বার্থ। স্বার্থ জড়িয়ে আছে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার মধ্যেও। বন্ধু-বান্ধবের ভালোবাসার স্বার্থ আছে। স্বার্থ প্রতিটা পদে পদে। কিন্তু মধ্যগগনে সূর্যের মতো স্পষ্ট স্বার্থহীন ভালোবাসা একমাত্র মা- বাবার অন্তরে।

মা সন্তান জন্ম দেয়ার পর দুধ পান থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর যৌবনে পদার্পণ পর্যন্ত জীবনের পরতে পরতে স্নেহ-মমতা অক্লান্ত পরিশ্রম স্বার্থহীনভাবে মা-বাবার। স্নেহ-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন সন্তানকে।

প্রতিটা মা-বাবার স্বপ্ন আমার কষ্ট ক্লেশ পরিশ্রমের মাধ্যমে সন্তান একদিন বড় হবে। মানুষ হবে, দেশবরেণ্য হবে, শ্রেষ্ঠ হবে। আল্লাহওয়ালা হবে, দেশপ্রেমিক হবে। মা-বাবার ও দেশের সেবা করবে।

সে সন্তান একদিন বড় হয়ে মা-বাবাকে পাঠায় নার্সিংহোমে। মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, যখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যায়, তাদের রোগব্যাধি বাড়তে থাকে। স্মরণশক্তি কমতে থাকে, বুদ্ধি- বিবেচনায় ঘাটতি দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে

হতে পারে, দেখা দিতে পারে নানা রকম দুর্বলতা। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের ঘরে রেখে সেবা-যত্ন করা, চিকিৎসা করা, সম্মানজনক জীবন যাত্রার ব্যবস্থা করা প্রতিটা মানুষের অন্যতম ফরজ দায়িত্ব। হজরত ওয়াইস করনী রহমাতুল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর জমানার লোক।

তিনি মুসলিম ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নিকট দরখাস্ত পাঠালেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার খেদমতে হাজির হতে চাই। কিন্তু আমার মা অসুস্থ আমার খেদমত ছাড়া তার চলে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বললেন,মায়ের পাশে থাকো, মায়ের সেবা করো, আমার জিয়ারত লাভের দরকার নেই। সাহাবিদের মর্যাদা লাভ করার প্রয়োজন নেই। ওয়াইস করনী হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য করলেন,

সাহাবীদের মর্যাদাকে কোরবানি করে মায়ের সেবায় যত্নবান হলেন। সেই সেবার বদৌলতে আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে রাখলেন তার জন্য অফুরন্ত নিয়ামত আর দুনিয়াতে মহামানবদের কাতারে শামিল করে পুরস্কৃত করলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হজরত ওমর (রা.)-কে বললেন, কোনো এলাকা হতে যদি কোনো ব্যক্তি আসে তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিও। আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করবেন। হজরত ওমর (রা.) খুঁজতে খুঁজতে একসময় ওয়াইস করনীর সাক্ষাৎ পেলেন এবং বললেন, আপনি আমার জন্য দোয়া করেন।

ওয়াইস করনী জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার নিকট দোয়া চাওয়ার কারণ কী? খালিফা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, দোয়া চাওয়ার জন্য, আল্লাহ তায়ালা আপনার দোয়া কবুল করবেন। একজন জলিল কদর সাহাবি খলিফাতুল মুসলিমীনকে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিতে। ওয়াইস করনী (রহ.) এত সুমহান মর্যাদার

আসন লাভ করলেন একমাত্র মায়ের সেবার বদৌলতে। মুসলিম শরিফ হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলেন, আমি দু’টি কাজের জন্য আপনার হাতে শপথ গ্রহণ করতে এসেছি, আমি আমার দেশ ছেড়ে মদিনা- মনোয়ারা থাকতে চাই, আপনার পাশে থেকে
আল্লাহর পথে জিহাদ করতে চাই।

আর এরদ্বারা আমার নিয়ত হলো আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রতিদান লাভ করা। রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা- বাবা কেউ জীবিত আছেন? লোকটি বললেন, হ্যাঁ দু’জনে জীবিত।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সঙ্গে না থেকে তার নিকট গিয়ে তাদের সেবা-যত্ন করো এবং স্বদ্যব্যবহার করো। আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই প্রতিদান অবশ্যই পাবে। (মুসলিম শরিফ)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেন, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত। জিজ্ঞেস করলে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, যে মাতা-পিতাকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল। তারপর তাদের খেদমত করে জান্নাত লাভ করতে পারেনি।

হজরত আবু উমামা বাহেলী রহমতুল্লাহি বর্ণনা করেন, একব্যক্তি নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূল (সা.)! সন্তানের ওপর মাতা- পিতার হক কতটুকু? এরশাদ হলো, মাতা-পিতাই হলো তোমার জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম, ইবনে মাজাহ। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আমাদের প্রবীণ ও বয়স্কদের সম্মান করে না, তাদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন নয়, সে আমার উম্মত নয়।

বৃদ্ধাশ্রমে নয় মা-বাবার জায়গা হোক হৃদয়ের মণিকোঠায়

অক্টোবর মাসে সারাবিশ্বে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। এ দিবসে বৃদ্ধ ও বয়স্ক মানুষের প্রতি সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া এ দিবসে বৃদ্ধাদেরকে উপহার ও মেসেজ ইত্যাদি প্রেরণ করা হয়।পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে অধিকাংশ মানুষই বৃদ্ধ মাতা-পিতার খোঁজখবর রাখে না। বৃদ্ধা নিবাসে পাঠিয়ে দেন।

সেখানে খাওয়া-দাওয়া পানাহার চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও ছেলেমেয়ে নাতি-নাতনি আপনজনের সাহচর্য থেকে বিরত হওয়ার কারণে মানসিকভাবে অনেক কষ্ট পান। তাদের জীবনযাত্রা হয়ে ওঠে দুর্বিসহ। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, গোটা বিশ্বের যতো আদর সোহাগ, মায়া-মমতা, প্রেম নিবেদন মানুষের মধ্যে জড়িয়ে আছে কোনো কোনো স্বার্থের খাতিরে।

স্বার্থহীন ভালোবাসা পাওয়া খুব কঠিন। প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসার মধ্যে লুকিয়ে আছে স্বার্থ। স্বার্থ জড়িয়ে আছে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার মধ্যেও। বন্ধু-বান্ধবের ভালোবাসার স্বার্থ আছে। স্বার্থ প্রতিটা পদে পদে। কিন্তু মধ্যগগনে সূর্যের মতো স্পষ্ট স্বার্থহীন ভালোবাসা একমাত্র মা- বাবার অন্তরে।

মা সন্তান জন্ম দেয়ার পর দুধ পান থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর যৌবনে পদার্পণ পর্যন্ত জীবনের পরতে পরতে স্নেহ-মমতা অক্লান্ত পরিশ্রম স্বার্থহীনভাবে মা-বাবার। স্নেহ-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন সন্তানকে।

প্রতিটা মা-বাবার স্বপ্ন আমার কষ্ট ক্লেশ পরিশ্রমের মাধ্যমে সন্তান একদিন বড় হবে। মানুষ হবে, দেশবরেণ্য হবে, শ্রেষ্ঠ হবে। আল্লাহওয়ালা হবে, দেশপ্রেমিক হবে। মা-বাবার ও দেশের সেবা করবে।

সে সন্তান একদিন বড় হয়ে মা-বাবাকে পাঠায় নার্সিংহোমে। মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, যখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যায়, তাদের রোগব্যাধি বাড়তে থাকে। স্মরণশক্তি কমতে থাকে, বুদ্ধি- বিবেচনায় ঘাটতি দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে

হতে পারে, দেখা দিতে পারে নানা রকম দুর্বলতা। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের ঘরে রেখে সেবা-যত্ন করা, চিকিৎসা করা, সম্মানজনক জীবন যাত্রার ব্যবস্থা করা প্রতিটা মানুষের অন্যতম ফরজ দায়িত্ব। হজরত ওয়াইস করনী রহমাতুল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর জমানার লোক।

তিনি মুসলিম ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নিকট দরখাস্ত পাঠালেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার খেদমতে হাজির হতে চাই। কিন্তু আমার মা অসুস্থ আমার খেদমত ছাড়া তার চলে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বললেন,মায়ের পাশে থাকো, মায়ের সেবা করো, আমার জিয়ারত লাভের দরকার নেই। সাহাবিদের মর্যাদা লাভ করার প্রয়োজন নেই। ওয়াইস করনী হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য করলেন,

সাহাবীদের মর্যাদাকে কোরবানি করে মায়ের সেবায় যত্নবান হলেন। সেই সেবার বদৌলতে আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে রাখলেন তার জন্য অফুরন্ত নিয়ামত আর দুনিয়াতে মহামানবদের কাতারে শামিল করে পুরস্কৃত করলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হজরত ওমর (রা.)-কে বললেন, কোনো এলাকা হতে যদি কোনো ব্যক্তি আসে তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিও। আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করবেন। হজরত ওমর (রা.) খুঁজতে খুঁজতে একসময় ওয়াইস করনীর সাক্ষাৎ পেলেন এবং বললেন, আপনি আমার জন্য দোয়া করেন।

ওয়াইস করনী জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার নিকট দোয়া চাওয়ার কারণ কী? খালিফা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, দোয়া চাওয়ার জন্য, আল্লাহ তায়ালা আপনার দোয়া কবুল করবেন। একজন জলিল কদর সাহাবি খলিফাতুল মুসলিমীনকে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, তার দ্বারা দোয়া করিয়ে নিতে। ওয়াইস করনী (রহ.) এত সুমহান মর্যাদার

আসন লাভ করলেন একমাত্র মায়ের সেবার বদৌলতে। মুসলিম শরিফ হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলেন, আমি দু’টি কাজের জন্য আপনার হাতে শপথ গ্রহণ করতে এসেছি, আমি আমার দেশ ছেড়ে মদিনা- মনোয়ারা থাকতে চাই, আপনার পাশে থেকে
আল্লাহর পথে জিহাদ করতে চাই।

আর এরদ্বারা আমার নিয়ত হলো আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রতিদান লাভ করা। রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা- বাবা কেউ জীবিত আছেন? লোকটি বললেন, হ্যাঁ দু’জনে জীবিত।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সঙ্গে না থেকে তার নিকট গিয়ে তাদের সেবা-যত্ন করো এবং স্বদ্যব্যবহার করো। আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই প্রতিদান অবশ্যই পাবে। (মুসলিম শরিফ)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেন, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত, ওই ব্যক্তি লাঞ্ছিত। জিজ্ঞেস করলে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, যে মাতা-পিতাকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল। তারপর তাদের খেদমত করে জান্নাত লাভ করতে পারেনি।

হজরত আবু উমামা বাহেলী রহমতুল্লাহি বর্ণনা করেন, একব্যক্তি নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূল (সা.)! সন্তানের ওপর মাতা- পিতার হক কতটুকু? এরশাদ হলো, মাতা-পিতাই হলো তোমার জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম, ইবনে মাজাহ। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আমাদের প্রবীণ ও বয়স্কদের সম্মান করে না, তাদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন নয়, সে আমার উম্মত নয়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.