আল্লাহ আমাদের জীবন দিয়েছেন, একদিন তিনিই নিয়ে যাবেন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী সবদিকে অচলাবস্থা চলছে। পাশাপাশি মৃত্যু হানা দিচ্ছে। যদিও এখানে সুস্থতার সংখ্যা অনেক বেশি। তারপরও মানুষের ভেতরে কেমনজানি একটা আতঙ্ক বিরাজমান। সমগ্র বিশ্বে যে যত শক্তিশালী, অর্থশালী হোক কোন শক্তি কাজে লাগছে না। মনে হচ্ছে করোনাভাইরাসটাই সবচেয়ে শক্তিশালী। আর প্রকৃতি যেন আজ একটা শোধ নিচ্ছে।

সংসদে বুধবার বাজেট অধিবেশনের শুরুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে করোনা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, মৃত্য যখন অবধারিত, মৃত্যকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, আল্লাহ একদিন নিয়ে যাবেন। আমরা সবাই মিলে আল্লাহর কাছে দোয়া করি করোনা ভাইরাসের হাত থেকে মানবজাতি যেন রক্ষা পায়।

বিকালে স্পিকার ড. শিরীণ শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অস্টম ও চলতি বছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে সাবেক সংসদ সদস্যসহ জাতীয় গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও তার ওপর আলোচনা হয়। কড়া স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে স্বল্পসংখ্যক সংসদ সদ্যসের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন সদস্য শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বের সবদিকে একটা অচলাবস্থা চলছে। পাশাপাশি মৃত্যু এসে হানা দিচ্ছে। যদিও এখানে সুস্থ্যতার সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। তারপরও মানুষের ভেতরে কেমনজানি একটা আতংক বিরাজমান। যারজন্য সমগ্র বিশ্বে যে যত শক্তিশালী হোক যত অর্থশালী হোক, যতই অস্ত্রের শক্তি হোক কোন শক্তিই কাজে লাগছেনা। মনে হচ্ছে, করোনা ভাইরাসটাই সবচেয়ে শক্তিশালী। আর প্রকৃতি আজ যেন একটা শোধ নিচ্ছে-এরকম আমার কাছে মনে হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলো করোনায় কেউ মারা গেলে আত্বীয়-স্বজন আপনজন লাশ ফেলে চলে যায়। সেই লাশটা নেয় পুলিশ বাহিনী নিয়ে কবর দিচ্ছে, জানাজা পড়ছে। সেখানে আপনজন কেউ থাকছেনা ভয়ে। ভয়ে ভীত হয়ে মানুষ এমন অমানবিক আচরণ করবে এটা দু:খজন।

তিনি বলেন, দেখুন, মানুষ মরণশীল। আজকে যখন জন্মেছি মরতে একদিন হবে। তা করোনা ভাইরাসে মরি, বোমা খেয়ে মরি, গুলি খেয়ে মরি, বা অসুস্থ্য হয়ে মরি বা কথা বলতে বলতেও মরে যেতে পারি। কাজেই মৃত্যু যখন অবধারিত, মৃত্যকে ভয় পাওয়ারতো কিছু নেই। অন্তত: আমি ভয় পাইনি কখনো, পাবোও না। আর আমি যখন বাংলাদেশে ফিরে আসি সেই বাংলাদেশ যেখানে আমার বাবাকে হত্যা করেছে, আমার মা, ভাই, শিশু ভাইটাওতো রেহাই পায়নি। সেই খুনীরা যে খুনিদের বিচার হয়নি, সেই সময় তাদের বিচার করা হয়নি তাদের ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছে এবং তারা ছিল ক্ষমতায়।

৭১যারা যুদ্ধারপরাধী তারা ক্ষমতায়। ওই অবস্থায় আমি দেশে ফিরে এসেছি। আমি যদি ভীত হতাম হয়তো। আমি জীবনেও আসতেপারতাম না। কিন্তু আমি ভয় পাইনি। আল্লাহ জীবন দিয়েছে, আল্লাহ একদিন নিয়ে যাবেন-এটাই আমি বিশ্বাস করি। আল্লাহ মানুষকে কিছু কাজ দেয়। সেই কাজটুকু করতে হবে। যতদিন আল্লাহর লিখিত কাজটা আমার দায়িত্ব যা অর্পন করেছেন রাব্বুল আলামীন যতটুকু সময় রেখেছেন তা যতক্ষণ শেষ না হবে ততক্ষণ হয়তো আমি আমার কাজ করে যাব। যখন সময় শেষ হয় যাবে, কাজ শেষ আমিও চলে যাব। কাজে এ নিয়ে এতো চিন্তার কিছু নেই।

সংসদ নেতা বলেন, পালামেন্ট আজকে এই বাজেট দেয়া, অনেক দেশ এটা দিতে পারছেনা। আমি বলেছি না, আমরা একদিকে যেমন করোনা মোকাবেলা করবো, আম্পান ঘুর্ণিঝড় মোকাবেলা করেছি, পাশাপাশি আমাদের দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনটা যাতে চলে তারা যেন কষ্ট না পায় তাদের জন্য যা যা করণী সেটা আমি করে যাবে। কাজেই আমিতো এখানে বেঁচে থাকার জন্য আসিনি।

আমিতো জীবনটা বাংলার মানুষের জন্য বিলিয়ে দিতেই এসেছি। কাজেই এখানে ভয় পাওয়ার তো কিছু নেই, ভয়ের কি আছে। আমি সেটাই মনে করি। আজকে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন আমি তাদেরন আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। চলুন আমরা সবাই মিলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে এই দোয়া করি করোনা ভাইরাসের হাত থেকে মানবজাতি যেন রক্ষা পায় এবং যারা অসুস্থ্য আছে তারা যেন সুস্থ্য হয়।

করোনার কারণে সাবেক সদস্যসহ পরিচিত জনদের জানাযায় অংশ নিতে না পারা এবং পরিবারের খোজ খবর কররতে না পারা কথা উল্লেখ করে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ৭৫ পনের আগষ্টের হত্যাকান্ডের পর যারা প্রতিবাদ করেছিলেন তাদের অনেককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকান্ডের পেছনে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলো। সাবেক সংসদ সদস্য কামরুনাহার পুতুলের স্বামী মোস্তাফিজর রহমান পটলকেও তখন হত্যা করা হয়েছিল। কারোনা ভাইরাসের কারণে আজকে আমাদের সমাজে অনেকে মৃত্যবরণ করেছে।

বিশেষকরে আমাদের প্রশাসন যেভাবে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে, আমাদের পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী আনসার বিজিবি থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ, রাজনৈতিক কর্মী ডাক্তার নার্স স্বাস্থ্য কর্মীরা প্রতিনিয়ত সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সাথে সাংবাদিক প্রত্যেকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে অনেকে মৃত্যবরণ করেছে। তিনি সকলের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা ভাইরাস এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে ফেলেছে মানুষের থেকে মানুষের মধ্যে একটা দুরত্ব নিয়ে এসেছে এটা ঠিক, আবার সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেয়াতে অবশ্য পরিবারের সাথে পরিবারের থাকার একটা সুযোগও হয়েছে। জানিনা, সব জিনিসের ভালো মন্দ দিক থাকে-এটাই আমরা দেখি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদিকে করোনা ভাইরাস তার মধ্যে আসলো ঘূর্ণিঝড় আমফান। এই ঘুণিঝড়ের মধ্যেই আমরা ২৪ লাখ মানুষকে শেলটার নিয়ে আসি। ৬ লাখ গৃহপালিত পশুকেও শেলটার দিয়েছিলাম, তদের খাদ্যের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। ঘুর্নিঝড়ে এমনি ক্ষতি হয়েছে, জীবনগুলো বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি।

করোনা ভাইরাসে কর্মহীন মানুষদের খবর নিয়ে নিয়ে খাবার ও সাহায্য পৌছে দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এভাবে মানুষের দু:কষ্ট লাঘবে প্রচেষ্টা চলছে, প্রত্যেক জেলা প্রশাসকের কাছে আলাদা ফান্ড দিয়ে রেখেছি যাতে প্রত্যেক মানুষ যেন না খেয়ে কষ্ট না পায়। শুধু নিয়মাফিক নয়, বিভিন্নভাবে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। দলের নেতা কর্মীরা বিত্তশালিরা সবাই সাহায্য করেছে।

শোক প্রস্তাবের আলোচনায় আরো অংশ নেন সাবেক কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক চিফ হুইপ আসম ফিরোজ ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা।

মুহাম্মদ সা: নিজ হাতে এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন

নবীর মসজিদ। আরবিতে বলা হয় মসজিদে নববী। হজরত মুহাম্মদ সা: নিজ হাতে এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন।

নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কা থেকে মদীনায় হিযরত করেন, তখন এ শহরটির নাম ছিল ‘ইয়াসরিব’। নবীজি (সা.) আগমনের পরপরই ইয়াসরিব নামটি পবির্তন করে মদিনা নামকরণ করেন।

কিন্তু সেখানে কোন মসজিদ ছিল না যেখানে নবীজিসহ সাহাবীরা নামাজ আদায় করবেন। নতুন হিজরতকারীদের মধ্যে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদের শূন্যতা দেখা দিলে নবীজি (সা.) নিজেই একটি মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। আর এ মসজিদের নাম দেন ‘মদীনা মসজিদ’।

যা ‘মসজিদে নববী শরীফ’ (সা.) বা মদিনায়ে মুনাওয়ারা হিসেবে পরিচিত। প্রথম মসজিদটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছিল প্রায় ৭ মাস। অর্থাৎ- ৬২২ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে থেকে শুরু হয়ে ৬২৩ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ৭ মাসব্যাপী ১ম মদিনা মসজিদের নির্মাণ কাজের সময় ধরা হয়।

নবীজি (সা.)-এর হস্ত মোবারকে ভিত্তি দেয়া পবিত্র ‘মদিনা মসজিদ’ নির্মাণের জন্য নাজ্জার গোত্রের সাহল ও সোহাইল নামক দুই যুবক থেকে প্রয়োজনীয় জমি ক্রয় করে ছিলেন। এ জমির ক্ষুদ্র একটি অংশে নবীজি (সা.) বাসস্থান নির্মাণ করে বাকি পুরো অংশেই মদিনা মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

এ জায়গার প্রতিটি কোণা থেকে তীর নিক্ষেপ করে যে পরিমাণ জায়গা পাওয়া গেল তা হলো মসজিদের একটি ক্ষেত্র। আর এ ক্ষেত্রে বর্গের প্রতিটি বাহুর পরিমাণ দাঁড়ালো ১০০ হাত বা ৫৬ গজ। ১ম নির্মিত পবিত্র মদিনা মসজিদের প্রাথমিক আয়তন ছিল ১০০ ´ ১০০ হাত বা ৫৬ ´ ৫৬ গজ।

মসজিদের ভিত্তি ও দেয়ালের নিম্নভাগ ৩ হাত পর্যন্ত প্রস্তের হিসেবে নির্মিত ছিল। প্রথম পর্যায়ে মদিনা মসজিদ রৌদ্রে শুষ্ক ইট দ্বারা নির্মিত হয়। এই রৌদ্র শুষ্ক ইট ও সিমেন্ট হিসেবে আল-খাবখাবা উপত্যকা হতে আনিত কাদা দ্বারা তৈরি হয়েছিল। তখন মদিনা মসজিদের দেয়াল ছিল ৭ হাত উঁচু। এর ছাদকে শক্তিশালী ও মজবুত রাখার জন্য মদিনা মসজিদের ৩৬টি খেজুর গাছকে স্তম্ভ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

মসজিদের ছাদ নির্মিত হয়েছিল খেজুর পাতা দিয়ে। ছাদকে সুন্দর, রৌদ্র ও বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য খেজুর পাতার উপর কাদামাটির আস্তরণ লেপে দেয়া হয়েছিল। ১ম নির্মিত পবিত্র মদিনা মসজিদে প্রবেশের জন্য ৩টি দরজা ছিল।

প্রধান প্রবেশ পথটি ছিল দক্ষিণ দিকে যা দিয়ে মুসল্লিরা মসজিদে প্রবেশ করতেন এবং বাহির হতেন। পশ্চিম দেয়ালে ছিল মসজিদের দ্বিতীয় প্রবেশ পথ যা ‘বাবে রহমত’ নামে স্বীকৃত। তৃতীয় প্রবেশ পথটি ছিল পূর্ব দেয়ালে যা দিয়ে নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) মসজিদে প্রবেশ করতেন। এ জন্য এটির নামকরণ হয় ‘বাব উন নবী (সা.)’।

ঐতিহাসিকদের মতে, মদিনা মসজিদেই সর্ব প্রথম মেহরাব, মিম্বার, আজান দেয়ার স্থান বা মিনার এবং অজুর স্থানের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে মসজিদে নববী শরীফ বহুগুণ বড় ও সম্প্রসারিত। সম্পূর্ণ আধুনিক নতুন নকশার ভিত্তিতে এটিকে সম্প্রসারণ ও পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। যাহাতে এক সাথে কয়েক লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

সংস্কার ও সম্প্রসারণ
পবিত্র মসজিদে নববী (সা.) বা মদিনা মসজিদ তখন থেকেই মুসলমান শাসকদের দ্বারা বহুবার সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় নেয়ার পর ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা হযরত ওমর (রা.) ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে মসজিদে নববী (সা.)’র একদফা সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ করেন।

এসময় মসজিদের উত্তরে ৩০ হাত, দক্ষিণে ১০ হাত ও পশ্চিম দিকে ২০ হাত প্রশস্ত করেন। খলীফা হযরত ওমর (রা.)’র সময় মসজিদের জায়গার পরিমাণ হয় উত্তর-দক্ষিণে ১৪০ হাত এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১২০ হাত।

এরপর ৩য় খলীফা হযরত ওসমান গণি জিন্ নূরাইন (রা.)’র খেলাফতকালে ৬৪৬-৬৪৭ খ্রিস্টাব্দে খেজুর পাতার পরিবর্তে মসজিদের ছাদে ব্যবহার করা হয় সেগুন গাছের কাঠ। তখন ছাদের আকার দাঁড়ায় ১৬০ ´ ১৩০ হাত। এ সময় মসজিদের আয়তন হয় উত্তর দক্ষিণে ১৬০ হাত এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৫০ হাত।

পরবর্তীতে খলিফা আল্ ওয়ালিদের সময় মদিনা মসজিদটি আধুনিক ইমারতে পরিণত হয়। ওয়ালিদ ৭০৭ খ্রিস্টাব্দে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)-কে সাজিয়ে তোলেন।

তাঁর সময় মসজিদে নববী (সা.)’র আয়তন বেড়ে দাঁড়ায় ২০০ ´ ২০০ হাত। ৭০৭ খ্রিস্টাব্দের এসময়ই সর্ব প্রথম পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)’র ৪ কোণায় ৪টি মিনার নির্মাণ করেন বাদশা বা খলিফা আল-ওয়ালিদ। তখন প্রতিটি মিনারের উচ্চতা ছিল ৫০ হাত এবং প্রস্থে ছিল ৮ হাত। এরপর খলিফা মাহদী ৭৭৫-৭৮৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এ পবিত্র মসজিদটি আবারো সম্প্রসারণসহ সংস্কার করেন এসময় এ আয়তন দাঁড়ায় ৩০০ ´ ৩০০ হাত। পরবর্তীতে ১৪৮১ খ্রিস্টাব্দে মামলুক সুলতান কয়েত-বে পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)-এর মধ্যে গম্বুজ প্রতিষ্ঠিত করেন।

কিন্তু ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে পবিত্র এ গম্বুজ শরীফে রং-এর আস্তরণ দিয়ে সবুজ গম্বুজ বানিয়ে ছিলেন ওসমানী সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ। আর সেই থেকেই আজঅবধি মদিনায়ে মুনাওয়ারা তথা পবিত্র মসজিদে নববী শরীফের উপর নূরানী এ সবুজ গম্বুজ শরীফটি কোটি কোটি ঈমানদার তথা আশেকে রাসুল (সা.)দের মাঝে আলোকবর্তিকা ও প্রাণস্পন্দন হয়ে আছে। যা কিয়ামত পর্যন্ত ঈমানি চেতনা দান করবেন নবী প্রেমিকদের অন্তরে।

সর্বশেষ আধুনিকায়নে পবিত্র মসজিদ-এ নববী (সা.)’র নব সজ্জা ও রূপদান করেন সৌদি বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে সউদ। এর পরিকল্পনা করা হয় ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে। ১৯৫৩-১৯৫৫ সাল নাগাদ মসজিদ আধুনিকায়ন করা হয়। বিশালকার এ পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)’র সমস্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সৌদি রাজ পরিবারের।

মসজিদের পাশেই ছিল হজরত মুহাম্মদ সা: এর বসবাসের ঘর। মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে রয়েছে একটি সবুজ গম্বুজ। গম্বুজটি নবীর মসজিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ এ গম্বুজের নিচেই রয়েছে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর রওজা মোবারক। হজরত মুহাম্মদ সা: মসজিদের পাশে যে ঘরে ইন্তেকাল করেন সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।

পরে মসজিদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে তার রওজা মোবারক মসজিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পবিত্র মসজিদে নববী (সা.) তথা মহানবী (সা.)’র রওজা পাকের দু’পাশেই রয়েছে নবীজির প্রাণপ্রিয় ছিদ্দীক ইসলামের ১ম খলিফা হযরত আবুবকর (রা.) ও ২য় খলিফা ফারুকে আজম হযরত ওমর (রা.)-এর রাওজা শরীফ। আল্লাহ আমাদের সকলকে নূরানী নবীজির (সা.) নূরী রাওজায়ে আকদাস শরীফ জেয়ারতের মাধ্যমে জীবনকে ধন্য করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

পৃথিবীর প্রথম জমিন হচ্ছে পবিত্র কাবাঘর

মুসলিম ইম্মাহর ভাষ্য মতে এটাকে বলা হয় বাইতুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর। কাবা শরিফ ও পবিত্র কাবাঘরও বলা হয়ে থাকে। এই পবিত্র কাবা ঘরের অভিমুখী হয়েই আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করেন পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলিম। সৃষ্টির সূচনা থেকেই মহান পবিত্র এই কাবাকে মহান আল্লাহ তার মনোনীত বান্দাদের মিলনস্থল করেছেন।

আমরা সকলেই জানি , ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। এ বিষয়ে পিএইচডি করেছেন ড. হুসাইন কামাল উদ্দীন আহমদ। তাঁর থিসিসের শিরোনাম হলো—‘ইসকাতুল কুররাতিল আরধিয়্যা বিন্ নিসবতে লি মাক্কাতিল মুকাররামা।’ (মাজাল্লাতুল বুহুসুল ইসলামিয়া, রিয়াদ : ২/২৯২)

ওই থিসিসে তিনি প্রাচীন ও আধুনিক দলিল-দস্তাবেজের আলোকে এ কথা প্রমাণ করেছেন যে কাবাই পৃথিবীর মেরুদণ্ড ও পৃথিবীর মধ্যস্থলে অবস্থিত। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পানিসর্বস্ব পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি এ কাবাকে কেন্দ্র করেই।

আরেকটি বিষয় হলো, মাটিতে রূপান্তর হওয়ার আগে কাবা সাদা ফেনা আকারে ছিল। সে সময় পৃথিবীতে পানি ছাড়া কিছু ছিল না। আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর। হাদিসের ভাষ্য মতে, কাবার নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় অন্য সব মহাদেশ। মাটি বিছানোর পর জমিন নড়তে থাকে। হেলতে থাকে।

এর জন্য মহান আল্লাহ পাহাড় সৃষ্টি করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয় (হেলে না যায়)।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১৫)

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.