সেজদা দিয়ে নামাজ পড়ে মুনাজাত করতো- আমি বুঝতে পারছি আমি এই যু’দ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে

স্ত্রী গত ৬ জুন বিকেল থেকে কিছু ঘণ্টার ব্যবধানে জ্বর, সর্দি, শরীর, গলা এবং মাথা ব্যাথা, কিছুটা শ্বাসকষ্ট উপলব্ধি করতে থাকে। আমাকে জানানোর সাথে সাথে বাসার একটি রুম সম্পূর্ণ আলাদা করে দেই তার জন্য। সাথে খাওয়া দাওয়ার উপকরণ এবং ব্যবহার্য সব কিছু তার কাছাকাছি দিয়ে আমাদের মেয়ে ইনারাকে নিয়ে আমাদের বেড রুমে আমি ইনারা আলাদা হয়ে যাই।

আমি কিছুটা চিন্তায় পরে যাই কারণ সে যদি পজেটিভ হয়ে থাকে তাহলে আমাদেরও পজেটিভ হওয়ার ঝুঁ’কি অধিক। সব চিন্তা বাদ দিয়ে তাকে ভরসা এবং সাহস দিতে থাকি যেন তার মনোবলটা বৃদ্ধি পায়। আমি মেয়েকে একা এক রুমে টিভিতে কার্টুনও লেখাপড়ার উপকরণ দিয়ে প্রয়োজনীয় ঔষধ আনতে যাই, এসে শুনি মেয়ে কয়েকবার তার মাকে জ’ড়িয়ে ধ’রতে চেয়েছে।

সাড়ে তিন বছরের মেয়েকে যতটুকু পারলাম বোঝালাম এখন কিছুদিন মায়ের কাছে যাওয়া যাবে না তাকে ধরা যাবেনা !! স্বভাবতই মেয়ের প্রশ্ন বাবা কেন ?

সব কিছু সহজ করে বলে তাকে বুঝাতে অনেকটা সমর্থ হই। আর তার মায়ের রুমের ১৫ ফিট দূরত্বে একটা দাগ একে দেই, আর ভালো করে বুঝিয়ে দেই মা কোন কারনে এই দাগ অতিক্রম করা যাবে না। জবাবে মেয়ে সব সময় বলতে থাকে বাবা আচ্ছা। এবং লক্ষী মেয়ের মতো মানতেও থাকে। কিন্তু মা সন্তান বলে কথা মেয়ে যে কোন বায়না বা অজুহাতে মায়ের কাছে চলে আসতো যখন আমি ঔষধ বা প্রয়োজনীয় কিছু আনতে বাহিরে যেতাম।

রাত যতো গভীর হতে থাকে তার শারীরিক যন্ত্রণা গুলো আরো প্র’কট হতে থাকে বিছানা থেকে মুভ করাটা তার জন্য অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পরে। শুধু ওয়াশরুমে যাওয়া ছাড়া বাকি সব আবশ্যকীয় উপকরণ এবং খাবার নিয়ে আসা এবং সময় মতো এগুলো নিয়ে আবার জীবাণুমুক্ত করা সব কিছু একাই করতে থাকি পাশাপাশি মেয়ের সব দায়িত্ব কর্তব্য পালন করা। আর মেয়েটার প্রচন্ড দৌরাত্ম্য সহ্য করা আর প্রায়শই মিনিট পাঁচেক পরপর এটা দাও সেটা দাও এবং রাতজাগা পাখি আমার মেয়ে। যা আগে তার মা আমি দুজন মিলে মানিয়ে নিতাম। কিন্তু এই সময়টায় আমি একা একা হিমশিম খেতে থাকি। আর করোনার কারণে বাসায় হোম সার্ভেন্ট বা কোন হেল্পিং হ্যান্ডের সাপোর্ট নেই অনেক দিন। আর এই মুহূর্তমধ্যে কাউকে এসে কাজে সাহায্য করতে বলাটাও ঠিক হবে না।

যাক আমি মনোবল সাহস হারাইনি একা একা সব দায়িত্ব সুন্দর করে পালন করতে থাকি। তার পাশাপাশি আমি বুঝে গেছি খুব শীঘ্রই আমিও Covid-19 পজেটিভ হতে যাচ্ছি। কিন্তু কিছুই করার ছিলোনা পরিবারকে সুরক্ষিত রাখাটাই ছিলো তখন আমার মূল মন্ত্র।

দ্বিতীয় দিন স্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত খারাপের দিকে যেতে থাকে প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট, জ্বর ১০৩°, খাবারে সম্পূর্ণ স্বাদ এবং নাকে কোন ঘ্রাণ না পাওয়া। আমি একজন Covid-19 আক্রা’ন্ত রোগীকে যা যা ঘরোয়া চিকিৎসা করা প্রয়োজন সবই করাতে থাকি। যেমন পুষ্টিকর খাবার, ভিটামিন-সি আছে এমন ফল, চার থেকে পাঁচ বার অন্তত ১০ মিনিট গরম পানির ভাপ এবং গার্গল করাও প্রয়োজনীয় ঔষধ নেওয়া। আল্লাহর রহমতে তৃতীয় দিন সে প্রথম এবং দ্বিতীয় দিন থেকে অনেকটা ভালো অনুভব করতে থাকে। এবং চতুর্থ দিন ক্লান্তি, দুর্বলতা, অনেকটা শরীর ব্যাথা ছাড়া আর তেমন কোন সমস্যা থাকে না। আমি অনেকটা আশ্বাসিত হই মহান আল্লাহতালা হয়তো রহমত বর্ষণ করছেন।

৯ জুন থেকে আমার সামান্য জ্বর অনুভূতি হতে থাকে এবং ১০ জুন সব Covid-19 উপসর্গ একটার পর একটা দেখা দিতে থাকে ১০১° জ্বর, তীব্র ঠান্ডা সর্দি, প্রচন্ড শরীরের মাংস পেশী সহ পুরো শরীর ব্যাথা, পেটে সামান্য সমস্যা এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি কিছুটা ঝাপসা হয়ে যাওয়া। এর মধ্যে আমি তখন থেকে আমার স্ত্রীর জায়গায় চলে আসি সে চলে যায় আমার জায়গাটিতে। আমি নিজেকে মানসিক ভাবে উদ্যত করতে থাকি এই যু’দ্ধ জয়ের। এ এক অদ্ভুত অচেনা জ্বর অন্যরকম শরীর ব্যাথা যার তীব্রতা এতটাই ম্যানিফেস্ট যখন আমি শরীরে টি-শার্টটি পড়ার সময় কটনের স্পর্শে তাতেও ব্যাথা অনুভব করতাম।

একদিন বউয়ের কাছে একটা বালিশ চাই সে যখন কাছে আসে দুরত্ব মেনে ছুড়ে মা’রতে বলি আস্তে ছুড়ে দেওয়া বালিশটি আমার পিঠে পড়ে, আমি এই নরম বালিশের আঘা’তে ৫ থেকে ৬ মিনিট কাতরাতে থাকি ব্যাথায় মনে হচ্ছিলো একটা আস্ত ইট আমার পিঠে সজোড়ে মেরেছে। ব্যাথায় আমার শরীর প্রায়ই লকড হয়ে থাকতো বিছানা থেকে উঠতে পারতাম না প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট আ’টকে থাকতাম, এমন রাত কেটেছে রাত চারটায় আমার প্রচন্ড ঠান্ডা লাগছে জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে এখন ফ্যান অফ করতে হবে, আমি ব্যাথায় ওঠতে না পেরে ৫ মিনিটে আস্তে আস্তে হামাগুড়ি দিয়ে ১০ ফিট দুরত্বের ফ্যানের সুইচ অফ করি।

এই ভাবে চার দিন অতিবাহিত হয়, আমার শরীর আরো খারাপের দিকে যেতে থাকে। নিয়মিত জ্বর সর্দির ঔষধ খেতে থাকি। পঞ্চম দিন আরো অবনতির দিকে যায়। ওই দিন খাবারে সম্পূর্ণ স্বাদ এবং নাকে কোন গন্ধ না পাওয়া শুরু হয় এবং দুই নাক সম্পুর্ণ আটকে থাকে শ্বাস প্রশ্বাস মুখ দিয়ে নিতে হচ্ছিল যা আমার কষ্টকে নতুন রুপ দেয়। সেইদিন প্রথম কুমিল্লা মেডিকেলের বন্ধু ডাক্তার HM Hasib কে মোবাইলে সব জানাই। কিছু ঔষধ প্রেসক্রাইব করে, যাতে ছিলো নাকের একটা ড্রপ অসাধারণ কাজ করে তিন দিনের দুই বন্ধ নাক চার ফুটায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে খুব ভালো ভাবেই খুলে যায়। অনেকটা রিলিফ ফিল করি।

আমার যেদিন থেকে জ্বর আসে তার অনেক আগে থেকেই আমি নিয়মিত গরম পানি, প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার তালিকায় রাখি সব সময় এবং জ্বর হওয়ার পর থেকে এর পরিমান আরো বাড়াই পাশাপাশি চার বেলা গরম পানির ভাপ নিচ্ছিলাম প্রত্যেকবার ১০ মিনিট করে।

ষষ্ঠ থেকে সপ্তম দিন থেকে আমি আস্তে আস্তে শারীরিক ভাবে অনেকটা নিষ্প্রভ হতে থাকি। কারণ জ্বরের টেম্পারেচার যতো দিন যাচ্ছে আর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে প্রথম দিকে যা থাকতো ১০০° থেকে ১০১° তা ১০৩° ফারেনহাইট সব সময় এখন। আর প্রথম দিন যে জ্বর আসে এখন অব্দি এতো দিনে ১ মিনিটের জন্য শরীর থেকে জ্বর আর ব্যাথা যায় নি। শারীরিক ভাবে আর পারছিলাম না কিন্তু মনোবলের ভিত্তিটা শ’ক্ত ছিলো, কিন্তু তাও অনেকটা নড়বড়ে হয়ে যায় যখন সপ্তম থেকে দশম দিন পর্যন্ত যাই খেতাম তাই বমি হয়ে যেতো পাশাপাশি জ্বর এবং অন্যন্য সমস্যা গুলো আরো প্রকট হলো। কিন্তু ভয় পাইনি।

আমার এই অবনতি দেখে আমার স্ত্রীও অনেকটা উদ্বিগ্ন হয়ে যেতে থাকে আমি বুঝতে পারি কিন্তু সে আমাকে বুজতে দেয়নি, আমার শরীর এবং মনোবল ঠিক রাখতে যা যা প্রয়োজন নিজে অসুস্থ থাকা সত্বেও করে যাচ্ছে অবলীলায়।

অষ্টম দিনে ২ জন বড় ভাই ডাক্তারের সাথে কথা বলেছি উনারা সব শুনে মোটামুটি নিশ্চিত আমি পজেটিভ কিছু উপদেশ দিয়ে সাহস দিলেন ভালো হয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। তবে বেশি সমস্যা দেখা দিলে যেনো মেডিকেলে চলে যাই। এবং যাতে অবশ্যই Covid-19 টেস্ট করাই।

এতো দিন অতিবাহিত হলো কিন্তু আমার কোন ইচ্ছে ছিলো না Covid-19 টেস্ট করানোর কারণ টেস্টের জন্য নমুনা দিতে পারা আর হাতে সোনার হরিন পাওয়া নাকি এক কথা এতো দিনে যা যানলাম!! কিন্তু ডাক্তাররা আমাকে বারবার বলে আসছেন যেকোনো উপায়ে টেস্টটা করাতে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে অনেক চেষ্টা করে টেস্টের জন্য নাম ঠিকানা দিতে সক্ষম হই এবং উনারা জানান দুই দিনের মধ্যে কোভিড নমুনা সংগ্রহের জন্য ডাকবেন। এবং কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে যেয়ে আমাকে নমুনা দিয়ে আসতে হবে যদিও তখন আমি নিজে যেয়ে নমুনা দেওয়ার জন্য শারীরিক ভাবে সক্ষম ছিলাম না।

অষ্টম এবং নবম দিন আমি অনেকটা অচেতন, কি করলে কি হবে বা কার কাছে যাবো, আমার অনেক বন্ধু এবং অনেক বড় ভাই ডাক্তার থাকা সত্বেও তখন কারো কন্টাক্ট বের করে যে কাউকে ফোন দিয়ে ব্যাপার গুলি জানাবো আমি এগুলো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না আমি অনেকটা হি’তাহি’ত জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। শুধু স্ত্রীকে এতটুকু বলি কি করবে আমাকে কিভাবে বাঁচাবে এখন সব তোমার চেষ্টার উপর অনেকটা নির্ভর করবে।

দশম দিন স্ত্রী এবং স্ত্রীর ভাই Rony Anis ভাই এর সহায়তায় অনেক কষ্ট করে অনেককে ফোন দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে একজন ডাক্তারকে দেখানোর ব্যবস্থা করলো, প্রথম অবস্থায় উনি দেখতে চাননি বলেছেন কুমিল্লা মেডিকেলে জরুরি বিভাগে যেয়ে ডাক্তার দেখাতে। এমন অনেক ডাক্তার দেখবেন না নি’ষেধ করে দিয়েছেন।

কারণ উনাদের যথেষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই আমার মতো কোভিড সাসপেক্ট রুগিকে দেখার। যাক অনেক রিকুয়েষ্টে এই মানবিক ডাক্তার সাহেব যিনি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আমাকে নিয়ে যেতে বললেন। উনি আমার চার ফিট দূরত্বে থেকে আমাকে দেখেন এবং সব সমস্যা শুনে ৭ টি পরীক্ষা করতে প্রেসক্রাইব করেন। ২ ঘন্টার ব্যবধানে পরীক্ষার সব রিপোর্ট স্ত্রী হাতে পেয়েছে ডাক্তারকে দেখালো সব গুলো রিপোর্ট নরমাল/ভালো আছে। তার মানে আমার Covid-19 পজেটিভ হওয়ার সম্ভাবনা এখন খুব বেশি ডাক্তার সাহেব বললেন। যদি রিপোর্ট খারাপ আসতো তাহলে ধ’রে নিতাম এই এই সমস্যার কারনে আমি এই এই কস্ট গুলো পাচ্ছি।

১০ম দিন থেকে নতুন করে উদ্বৃত্ত হলো কাশী যা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে পাশাপাশি কিছুটা শ্বাসকষ্ট নিয়ে। ১১তম দিনে সকাল ১০ টায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন থেকে ডাকেন নমুনা দিতে সময় মতো যাই এবং সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের মধ্যে নমুনা দিয়ে আসি উনারা ৪ দিন পরে পজেটিভ/নেগেটিভ জানাবেন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে চলে আসি।

এভাবে আমার ১৩ দিন জ্বর থাকে। ১০ থেকে ১৩ দিনের তিন দিন সবচেয়ে কস্টের সময়টা অতিক্রম করি জ্বর থাকে ১০৩.৭° পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট শরীর ব্যাথা এবং অন্যান্য সমস্যা গুলোতো আছেই।

আমি বাঁচার আশা অনেকটা ছেড়ে দিয়েছিলাম আমি শেষ ৩ থেকে চার দিন বেশিই কষ্ট পেয়েছি যা পরিমাপ করা যাবেনা হয়তো কখনো ভয় তেমন কাজ করেনি কিন্তু এতো গুলো সমস্যা যন্ত্রণা নিতে পারছিলাম না, বউ যখন চলে যেতো ঘুমাতে আমিও ঘুমের প্রস্তুতি নিতাম কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে মহান আল্লাহতালার কাছে নিজের সকল গুনাহের জন্য মাফ চেয়ে একমাত্র কলিজা সন্তান, মা, বাবা এবং স্ত্রী আপনজনদের জন্য মহান আল্লাহতালার কাছে মঙ্গল কামনা করে কালেমা পরে মৃ’ত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে ঘুমাতাম। শুধু বেশি কষ্ট লাগতো এই অবস্থাতে মা বাবা কেন ঢাকা আর কুমিল্লা এই সময়টায় মা বাবা কাছে নেই!! কেন ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কেউ একজন একজনের কাছাকাছি আসা যায় না। পাশের রুমে থেকেও মেয়েটাকে একটু স্পর্শ করতে পারি না।

শেষের দুই দিন প্রচন্ড কাশি এবং শ্বাসকষ্ট কিছুক্ষণ পরপর কাশি টানা ১০ থেকে ১৫ মিনিট থাকে যখন শুরু হয়। এভাবে দিন ২ বার শুধু শ্বাসকষ্টের ইনহেলার নিতাম এবং কিছুক্ষণ সম্পুর্ন উল্টো হয়ে মানে পিঠ উপরের দিকে দিয়ে শুয়ে থাকতাম তাতে কিছুটা নিরাময় হতো। ডাক্তারকে স্ত্রী জানালেন ডাক্তারের একটাই কথা হসপিটালাইজড করেন তারাতাড়ি এক্ষেত্রে বড় কিছু হয়ে যেতে পারে রোগী এই কন্ডিশনে বাসায় নিরাপদ না। কিন্তু আমরা দুই জনই হাসপাতালে ভর্তির পক্ষপাতিত্ব ছিলামনা।

কিছু ডাক্তাররা সাপোর্ট দিবেন এবং সকলকে দিয়ে আসছেন কিন্তু কতক্ষণ আমাদের স্বাস্থ্য খাতের যেই নশ্বর ভ’ঙ্গুর অবস্থা এই পান্ডেমিক সিচুয়েশনে উনারা কি আমাদেরকে সেবা দিতে চান না? অবশ্যই চান!! কিন্তু সেবা দেওয়ার নামে অদৃশ্য করোনার বিরুদ্ধে যে উনারা যু’দ্ধ করবেন সেই যু’দ্ধ সরঞ্জাম উনাদের কাছে অপর্যাপ্ত এবং নিম্নমানের, যা দিয়ে নিয়মিত যুদ্ধ করতে গেলে উনাদেরই মৃত্যুর মিছিল থামবে না। যাক শেষে ডাক্তারকে বলা হলো আমরা হাসপাতালে যেতে চাচ্ছি না আপনি কাশিটা কমানোর ব্যবস্থা করেন, তখন উনি দুইটা ইনজেকশন দিতে বললেন।

ইনজেকশন দিবো কিন্তু কোন লোক আসতে চায় না ইনজেকশন নাম আর রোগীর অসুস্থতার ধরন শুনে বুঝে যায় Covid-19 রোগী আসতে চায় না। আমার কাশি থামছে না। আবার রনি ভাইকে জানানো হয় উনি অনেক যু’দ্ধ করে হাজার রিকুয়েষ্ট করে একজন ইনজেক্টর আমার বাসায় পাঠাতে সক্ষম হন। আমার প্রতি এই মানবিন উপকার গুলোর জন্য সর্বদা কৃতজ্ঞ থাকবো রনি ভাইয়ের কাছে। ইনজেকশন গুলো দেওয়ার কয়েক ঘন্টা পর আরও কিছু ঔষধের উপকারে কাশিটা আস্তে-ধীরে কমতে থাকে।

মহান আল্লাহতালা আমার দিকে ফিরে তাকান ১৩ তম দিন হঠাৎ শরীর প্রচন্ড পরিমানে ঘামতে থাকে অনবরত ৩০ মিনিটের মতো পাশাপাশি বুঝতে পারি জ্বরটাও আস্তে আস্তে নামছে। এর মধ্যে দুই দিন অতিবাহিত হলো এখন আমার জ্বর এবং শরীর ব্যাথা নেই একবারেই। শুধু প্রচন্ডরকম শরীর দুর্বলতা, খাবারে সম্পুর্ণ স্বাদ এবং নাকে কোন গন্ধ না পাওয়াটা এখনো আছে। আবার গত দিন থেকে আগের চেয়ে অনেকটা বেশী পরিমান খেতে পারি। আমি বুঝতে পারছি আমি এই যু’দ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে।

আমি পজেটিভ হওয়ার থেকে টানা ১৬ দিন আমার মেয়েকে স্পর্শ করিনি, ১৫ ফিট একে দেওয়া দাগের ভিতরে আসতে দেই নি। মেয়ে শুধু একটা রিকুয়েষ্ট করতো বাবা আমি দাগের এখানে মেঝেতে এসে খেলনা নিয়ে খেলবো আর তোমাকে দেখবো, আর তুমি আমাকে দুর থেকে গল্প বলবে, আগে মেয়ে প্রতি রাতে আমার বুকে এসে আমার মুখে এক ঘন্টা গল্প না শুনলে কখনো ঘুমাতো না। ১৬ টা দিন পাশাপাশি দুই রুমে থেকেও নিজের মেয়েকে ছাড়া ঘোমানোটা আমার জন্য মেয়ের জন্য অনেক দুরূহ ছিলো। আর মেয়ে ঘুম থেকে উঠেই মায়ের সাথে কা’ন্নাকাটি বাবার জ্বর কখন ভালো হবে। আমি বাবাকে ধ’রতে পারি না। আমি যখন দূর থেকে বলতাম আল্লাহর কাছে দোয়া করো মা, সাথে সাথে নিজের নামাজের জায়নামাজ নিয়ে বসে যেতো এবং নিজের মতো করে সেজদা দিয়ে নামাজ পড়ে মুনাজাত করতো।

আমার এতো দিনের কষ্ট আমার কাছে কিছুই মনে হয় না কারন আমাদের দুইজন আক্রা’ন্ত মা, বাবার মাঝে থেকেও আমাদের রাজকন্যার মধ্যে কোন প্রকার উপসর্গ এখন পর্যন্ত দেখিনি সম্পুর্ণ সুস্থ আছে আমার ইনারাটা। মহান আল্লাহর কাছে সর্বদা আকুতি সন্তানটা ভালো এবং সুস্থ থাকুক।

পাশাপাশি আমার পরিবারে মা, বাবা, বোন, ভাই নিকট আত্মীয় এবং আমার স্ত্রীর পরিবারের সকলে আমার নিয়মিত খোঁজখবর রেখে মহান আল্লাহর কাছে আমার জন্য প্রার্থনা করতেন, সকলের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞ থাকবো সর্বদা। মহান আল্লাহতালার কাছে প্রার্থনা সকলকে যেনো উনি এই ভাইরাস থেকে সদা সর্বক্ষণ হেফাজতে রাখেন।

গতকাল ২৫ জুন আমার মোবাইলে SMS আসে DGHS ( Directorate General of Health Services) থেকে আমার কোভিড-১৯ এর জন্য দেওয়া নমুনাটি #পজেটিভ।

কিছুদিন পরে আবার নমুনা দিবো ইনশাআল্লাহ যদি নেগেটিভ আসে এবং আমার রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়া থেকে ১৪ দিন পর আমি প্লাজমা ডোনেট এর জন্য এলিজেবল হবো। এবং এন্টিবডি টেস্ট এর পরে আমি প্লাজমা ডোনেট করবো ইনশাআল্লাহ। আমি নিয়মিত র’ক্ত দেই যদি এই মহামা’রী কালীন সময়ে কোন মুমূ’র্ষু আক্রা’ন্ত যে কাউকে নিজের প্লাজমা ডোনেট করতে পারি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করবো। আমার জন্য সকলে দোয়া করবেন, যেনো নানা প্রকার ঔষধ এবং হাই এন্টিবায়োটিক এর ধকল এবং শারীরিক দুর্বলতা আমি কাটিয়ে উঠতে পারি ত্বরন্বিত ভাবে, আগের মতো সুস্থ সবলও প্রাণচঞ্চল হয়ে সকলের মাঝে ফিরে আসতে পারি।

#ধন্যবাদ সকলকে যারা আগ্রহ নিয়ে আমার এতো বড় লিখাটি পড়ে নিজের বহুমূল্য সময় নস্ট করেছেন। এবং পরিশেষে আপনাদের কাছে আমার একটাই প্রত্যাশা এই ভাইরাস থেকে নিজে সাবধান থাকুন, পরিবারকে সাবধানে রাখুন এবং সমাজও দেশটা কে নিরাপদে রাখুন।
ফেসবুক থেকে।

মুহাম্মদ সা: নিজ হাতে এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন

নবীর মসজিদ। আরবিতে বলা হয় মসজিদে নববী। হজরত মুহাম্মদ সা: নিজ হাতে এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন।

নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কা থেকে মদীনায় হিযরত করেন, তখন এ শহরটির নাম ছিল ‘ইয়াসরিব’। নবীজি (সা.) আগমনের পরপরই ইয়াসরিব নামটি পবির্তন করে মদিনা নামকরণ করেন।

কিন্তু সেখানে কোন মসজিদ ছিল না যেখানে নবীজিসহ সাহাবীরা নামাজ আদায় করবেন। নতুন হিজরতকারীদের মধ্যে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদের শূন্যতা দেখা দিলে নবীজি (সা.) নিজেই একটি মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। আর এ মসজিদের নাম দেন ‘মদীনা মসজিদ’।

যা ‘মসজিদে নববী শরীফ’ (সা.) বা মদিনায়ে মুনাওয়ারা হিসেবে পরিচিত। প্রথম মসজিদটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছিল প্রায় ৭ মাস। অর্থাৎ- ৬২২ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে থেকে শুরু হয়ে ৬২৩ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ৭ মাসব্যাপী ১ম মদিনা মসজিদের নির্মাণ কাজের সময় ধরা হয়।

নবীজি (সা.)-এর হস্ত মোবারকে ভিত্তি দেয়া পবিত্র ‘মদিনা মসজিদ’ নির্মাণের জন্য নাজ্জার গোত্রের সাহল ও সোহাইল নামক দুই যুবক থেকে প্রয়োজনীয় জমি ক্রয় করে ছিলেন। এ জমির ক্ষুদ্র একটি অংশে নবীজি (সা.) বাসস্থান নির্মাণ করে বাকি পুরো অংশেই মদিনা মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

এ জায়গার প্রতিটি কোণা থেকে তীর নিক্ষেপ করে যে পরিমাণ জায়গা পাওয়া গেল তা হলো মসজিদের একটি ক্ষেত্র। আর এ ক্ষেত্রে বর্গের প্রতিটি বাহুর পরিমাণ দাঁড়ালো ১০০ হাত বা ৫৬ গজ। ১ম নির্মিত পবিত্র মদিনা মসজিদের প্রাথমিক আয়তন ছিল ১০০ ´ ১০০ হাত বা ৫৬ ´ ৫৬ গজ।

মসজিদের ভিত্তি ও দেয়ালের নিম্নভাগ ৩ হাত পর্যন্ত প্রস্তের হিসেবে নির্মিত ছিল। প্রথম পর্যায়ে মদিনা মসজিদ রৌদ্রে শুষ্ক ইট দ্বারা নির্মিত হয়। এই রৌদ্র শুষ্ক ইট ও সিমেন্ট হিসেবে আল-খাবখাবা উপত্যকা হতে আনিত কাদা দ্বারা তৈরি হয়েছিল। তখন মদিনা মসজিদের দেয়াল ছিল ৭ হাত উঁচু। এর ছাদকে শক্তিশালী ও মজবুত রাখার জন্য মদিনা মসজিদের ৩৬টি খেজুর গাছকে স্তম্ভ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

মসজিদের ছাদ নির্মিত হয়েছিল খেজুর পাতা দিয়ে। ছাদকে সুন্দর, রৌদ্র ও বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য খেজুর পাতার উপর কাদামাটির আস্তরণ লেপে দেয়া হয়েছিল। ১ম নির্মিত পবিত্র মদিনা মসজিদে প্রবেশের জন্য ৩টি দরজা ছিল।

প্রধান প্রবেশ পথটি ছিল দক্ষিণ দিকে যা দিয়ে মুসল্লিরা মসজিদে প্রবেশ করতেন এবং বাহির হতেন। পশ্চিম দেয়ালে ছিল মসজিদের দ্বিতীয় প্রবেশ পথ যা ‘বাবে রহমত’ নামে স্বীকৃত। তৃতীয় প্রবেশ পথটি ছিল পূর্ব দেয়ালে যা দিয়ে নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) মসজিদে প্রবেশ করতেন। এ জন্য এটির নামকরণ হয় ‘বাব উন নবী (সা.)’।

ঐতিহাসিকদের মতে, মদিনা মসজিদেই সর্ব প্রথম মেহরাব, মিম্বার, আজান দেয়ার স্থান বা মিনার এবং অজুর স্থানের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে মসজিদে নববী শরীফ বহুগুণ বড় ও সম্প্রসারিত। সম্পূর্ণ আধুনিক নতুন নকশার ভিত্তিতে এটিকে সম্প্রসারণ ও পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। যাহাতে এক সাথে কয়েক লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

সংস্কার ও সম্প্রসারণ
পবিত্র মসজিদে নববী (সা.) বা মদিনা মসজিদ তখন থেকেই মুসলমান শাসকদের দ্বারা বহুবার সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় নেয়ার পর ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা হযরত ওমর (রা.) ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে মসজিদে নববী (সা.)’র একদফা সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ করেন।

এসময় মসজিদের উত্তরে ৩০ হাত, দক্ষিণে ১০ হাত ও পশ্চিম দিকে ২০ হাত প্রশস্ত করেন। খলীফা হযরত ওমর (রা.)’র সময় মসজিদের জায়গার পরিমাণ হয় উত্তর-দক্ষিণে ১৪০ হাত এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১২০ হাত।

এরপর ৩য় খলীফা হযরত ওসমান গণি জিন্ নূরাইন (রা.)’র খেলাফতকালে ৬৪৬-৬৪৭ খ্রিস্টাব্দে খেজুর পাতার পরিবর্তে মসজিদের ছাদে ব্যবহার করা হয় সেগুন গাছের কাঠ। তখন ছাদের আকার দাঁড়ায় ১৬০ ´ ১৩০ হাত। এ সময় মসজিদের আয়তন হয় উত্তর দক্ষিণে ১৬০ হাত এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৫০ হাত।

পরবর্তীতে খলিফা আল্ ওয়ালিদের সময় মদিনা মসজিদটি আধুনিক ইমারতে পরিণত হয়। ওয়ালিদ ৭০৭ খ্রিস্টাব্দে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)-কে সাজিয়ে তোলেন।

তাঁর সময় মসজিদে নববী (সা.)’র আয়তন বেড়ে দাঁড়ায় ২০০ ´ ২০০ হাত। ৭০৭ খ্রিস্টাব্দের এসময়ই সর্ব প্রথম পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)’র ৪ কোণায় ৪টি মিনার নির্মাণ করেন বাদশা বা খলিফা আল-ওয়ালিদ। তখন প্রতিটি মিনারের উচ্চতা ছিল ৫০ হাত এবং প্রস্থে ছিল ৮ হাত। এরপর খলিফা মাহদী ৭৭৫-৭৮৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এ পবিত্র মসজিদটি আবারো সম্প্রসারণসহ সংস্কার করেন এসময় এ আয়তন দাঁড়ায় ৩০০ ´ ৩০০ হাত। পরবর্তীতে ১৪৮১ খ্রিস্টাব্দে মামলুক সুলতান কয়েত-বে পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)-এর মধ্যে গম্বুজ প্রতিষ্ঠিত করেন।

কিন্তু ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে পবিত্র এ গম্বুজ শরীফে রং-এর আস্তরণ দিয়ে সবুজ গম্বুজ বানিয়ে ছিলেন ওসমানী সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ। আর সেই থেকেই আজঅবধি মদিনায়ে মুনাওয়ারা তথা পবিত্র মসজিদে নববী শরীফের উপর নূরানী এ সবুজ গম্বুজ শরীফটি কোটি কোটি ঈমানদার তথা আশেকে রাসুল (সা.)দের মাঝে আলোকবর্তিকা ও প্রাণস্পন্দন হয়ে আছে। যা কিয়ামত পর্যন্ত ঈমানি চেতনা দান করবেন নবী প্রেমিকদের অন্তরে।

সর্বশেষ আধুনিকায়নে পবিত্র মসজিদ-এ নববী (সা.)’র নব সজ্জা ও রূপদান করেন সৌদি বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে সউদ। এর পরিকল্পনা করা হয় ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে। ১৯৫৩-১৯৫৫ সাল নাগাদ মসজিদ আধুনিকায়ন করা হয়। বিশালকার এ পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)’র সমস্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সৌদি রাজ পরিবারের।

মসজিদের পাশেই ছিল হজরত মুহাম্মদ সা: এর বসবাসের ঘর। মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে রয়েছে একটি সবুজ গম্বুজ। গম্বুজটি নবীর মসজিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ এ গম্বুজের নিচেই রয়েছে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর রওজা মোবারক। হজরত মুহাম্মদ সা: মসজিদের পাশে যে ঘরে ইন্তেকাল করেন সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।

পরে মসজিদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে তার রওজা মোবারক মসজিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পবিত্র মসজিদে নববী (সা.) তথা মহানবী (সা.)’র রওজা পাকের দু’পাশেই রয়েছে নবীজির প্রাণপ্রিয় ছিদ্দীক ইসলামের ১ম খলিফা হযরত আবুবকর (রা.) ও ২য় খলিফা ফারুকে আজম হযরত ওমর (রা.)-এর রাওজা শরীফ। আল্লাহ আমাদের সকলকে নূরানী নবীজির (সা.) নূরী রাওজায়ে আকদাস শরীফ জেয়ারতের মাধ্যমে জীবনকে ধন্য করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

পৃথিবীর প্রথম জমিন হচ্ছে পবিত্র কাবাঘর

মুসলিম ইম্মাহর ভাষ্য মতে এটাকে বলা হয় বাইতুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর। কাবা শরিফ ও পবিত্র কাবাঘরও বলা হয়ে থাকে। এই পবিত্র কাবা ঘরের অভিমুখী হয়েই আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করেন পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলিম। সৃষ্টির সূচনা থেকেই মহান পবিত্র এই কাবাকে মহান আল্লাহ তার মনোনীত বান্দাদের মিলনস্থল করেছেন।

আমরা সকলেই জানি , ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। এ বিষয়ে পিএইচডি করেছেন ড. হুসাইন কামাল উদ্দীন আহমদ। তাঁর থিসিসের শিরোনাম হলো—‘ইসকাতুল কুররাতিল আরধিয়্যা বিন্ নিসবতে লি মাক্কাতিল মুকাররামা।’ (মাজাল্লাতুল বুহুসুল ইসলামিয়া, রিয়াদ : ২/২৯২)

ওই থিসিসে তিনি প্রাচীন ও আধুনিক দলিল-দস্তাবেজের আলোকে এ কথা প্রমাণ করেছেন যে কাবাই পৃথিবীর মেরুদণ্ড ও পৃথিবীর মধ্যস্থলে অবস্থিত। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পানিসর্বস্ব পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি এ কাবাকে কেন্দ্র করেই।

আরেকটি বিষয় হলো, মাটিতে রূপান্তর হওয়ার আগে কাবা সাদা ফেনা আকারে ছিল। সে সময় পৃথিবীতে পানি ছাড়া কিছু ছিল না। আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর। হাদিসের ভাষ্য মতে, কাবার নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় অন্য সব মহাদেশ। মাটি বিছানোর পর জমিন নড়তে থাকে। হেলতে থাকে।

এর জন্য মহান আল্লাহ পাহাড় সৃষ্টি করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয় (হেলে না যায়)।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১৫)

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.