বাংলাদেশে সপরিবারে আসবেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানকে সপরিবারে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।   তিনি বলেন, আমি আশা করি শীঘ্রই তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আসবেন। একই সঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আসবেন। এছাড়াও আমি বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানাই বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে।

আমি বিশেষভাবে আশাবাদী তিনি আমাদের বাংলাদেশ সফর করবেন। একই সঙ্গে আমি আরও আশাবাদী, তার সঙ্গে ফার্স্ট লেডিও (এমিনা এরদোগান) আসবেন।

সোমবার তুরস্কের আঙ্কারায় নবনির্মিত বাংলাদেশ দুতাবাস ভবন এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান গণভবন হতে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।   প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ ভবন উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি এটি উদ্বোধন করেন।   এসময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগলু।

তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা ২০১২ সালে রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের আমন্ত্রণে তার তুরস্কের আঙ্কারা সফরের কথাও বর্ণনা করেন।   ২০১২ সালে বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরু হয়। সেসময় এ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে।   তুরস্কের আঙ্কারার বাংলাদেশ মিশন জানায়, আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবন নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ৪৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।   তবে ভবনটি নির্মাণে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা কম ব্যয় হয়েছে। ওই টাকা বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশ নিতে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তুরস্কে গেছেন।

যে দোয়া করতে নিষেধ করেছেন রাসুল সা.

দোয়া মুমিনের হাতিয়ার। দোয়া ইবাদত। দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা সম্ভব হয়। কিন্তু রাসুল সা. কয়েকটি বিষয়ে কখনো আল্লাহর কাছে চাইতে নিষেধ করেছেন।

কোনো বিপদে পড়লে কখনো মহান আল্লাহর কাছে মৃত্যু কামনা করে দোয়া করা উচিত নয়। বরং বিপদে ধৈর্যসহকারে তাঁর আশ্রয় প্রার্থনাই মুমিনের কাজ।

আনাস রা.-এর সনদে নবি সা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যেন বিপদে পড়ার কারণে মৃত্যু আকাঙ্ক্ষা না করে। তবে মৃত্যু তার কামনা হয়, তাহলে সে যেন বলে, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে জীবিত রাখুন যতক্ষণ পর্যন্ত আমার হায়াত আমার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি আমার জন্য মৃত্যু কল্যাণকর হয়, তবে আমাকে মৃত্যু দিয়ে দিন।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৭০৭)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং মৃত্যু আসার আগে যেন মৃত্যুর জন্য দোয়া না করে। কেননা তোমাদের কেউ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। আর মুমিন লোকের বয়স তার কল্যাণই বাড়িয়ে থাকে। (মুসলিম, হাদিস : ৬৭১২)

ইহকালেই শাস্তি প্রার্থনা করতেও নিষেধ করেছেন রাসুল সা.। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. একজন মুসলিম রোগীকে সেবা করতে গেলেন। সে (অসুখে কাতর হয়ে) অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল, এমনকি সে পাখির ছানার মতো হয়ে গেল।

রাসুলুল্লাহ সা. তাকে বলেন, তুমি কি কোনো বিষয় প্রার্থনা করছিলে অথবা আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে কিছু চেয়েছিলে? সে বলল, হ্যাঁ। আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহ! আপনি পরকালে আমাকে যে সাজা দেবেন তা এ ইহকালেই দিয়ে দিন। সে সময় রাসুলুল্লাহ সা. বললেন, সুবহানাল্লাহ! তোমার এমন সামর্থ্য নেই যে, তা বহন করবে? অথবা তুমি তা সহ্য করতে পরবে না।

তুমি এমনটি বললে না কেন? হে আল্লাহ! আমাদের কল্যাণ দাও পৃথিবীতে এবং কল্যাণ দান করো পরকালেও। আর জাহান্নাম থেকে আমাদেরকে রক্ষা করো। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তখন তিনি তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। আর আল্লাহ তাকে সুস্থ করে দেন। (মুসলিম, হাদিস : ৬৭২৮)

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.