জেল ভেঙে কিরগিজস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্টকে মুক্ত করল জনতা

মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তানের বিরোধীদলগুলো পার্লামেন্ট নির্বাচন নিয়ে বিক্ষোভের সময় সরকারি ভবনগুলো দখল করেছে। সহিংস বিক্ষোভের পর নির্বাচনী ফল বাতিল করেছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষও।

মঙ্গলবার প্রায় দুই হাজার বিক্ষোভকারী ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটি ভবনে ঢুকে পড়ে। তারা সেখানে রাখা দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আতাবায়েভকে জেল ভেঙেমুক্ত করেন।

কিরগিজ প্রেসিডেন্ট সুরোনবাই জিনবেকোভ বলেছেন, দেশ একটি অভ্যুত্থান চেষ্টার মুখে পড়েছে। তবে তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি না চালানোর জন্য আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এক ভিডিও বার্তায় জিনবেকোভ বলেছেন, অজ্ঞাত একটি রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচনী ফলকে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণ হিসাবে ব্যবহার করছে; তারা বেপরোয়া।

এ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ঠেকাতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপই নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জিনবেকোভ। তিনি বিরোধীদলগুলোকে তাদের সমর্থকদের শান্ত করে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বানও জানান।

জিনবেকোভ বলেন, আমি কেন্দীয় নির্বাচন কমিশনকে সহিংসতার ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা এবং প্রয়োজনে নির্বাচনের ফল বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছি।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল রাতভর সংঘর্ষে একজন নিহত ও ৫৯০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুর্নীতির দায়ে আটক সাবেক প্রেসিডেন্টকে কারাগার থেকে নিয়ে গেছে বলেও জানানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, কারাগার ত্যাগের পর সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আতাবায়েভ। দুর্নীতির অভিযোগে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তাকে।

আল-জাজিরার স্থানীয় সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ‘তিনি (সুরনোবায়) সব দলের নেতাদেরকে তাদের সমর্থকদের শান্ত হওয়ার ও বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেশবাসীকে শান্তিরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সবধরনের প্ররোচনামূলক শক্তি ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

যুদ্ধে না পেরে তুরস্কের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নালিশ করবে আর্মেনিয়া

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কার্যত যুদ্ধ চলছে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে। এরই মধ্যে যুদ্ধের নয়দিন পেরিয়ে গেল। এখনও অধরা সমাধানসূত্র। আজারবাইজানের সাথে যুদ্ধে আর্মেনিয়া খুব বেশি সুবিধা করতে পারছে না।

নাগার্নো করাবাখের একের পর এক শহর, এলাকা ও গ্রাম দখল করছে আজারবাইজান। যুদ্ধে আর্মেনীয় সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আর্মেনীয় সেনাদের পালিয়ে যাওয়ার খবরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে আসছে। আর এর মধ্যেই আর্মেনিয়া জানিয়েছে, দুই দেশের সঙ্ঘাতে তুরস্কের ভূমিকা নিয়ে আমেরিকার কাছে অভিযোগ জানাবে দেশটি।

এদিকে জাতিসঙ্ঘ, রেডক্রস, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরে এ বার শান্তিপূর্ণ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে আনতে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে দেশটি।

এদিকে গত সপ্তাহের মতো চলতি সপ্তাহেও আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে তীব্র যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার আর্মেনিয়া দাবি করেছে, তাদের গোলায় ‘বিধ্বস্ত হয়েছে’ আজারবাইজানের শহর টারটার।

অন্য দিকে, আজারবাইজানও জানিয়েছে, তাদের আক্রমণে বিতর্কিত নাগার্নো-কারাবাখের রাজধানীর কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া হিসেব অনুযায়ী- আজারবাইজানের হামলায় নাগার্নো-কারবাখেই কমপক্ষে ২২০ জন যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

তারা সকলেই আর্মেনিয়ার সেনার মদতে আজারবাইজানের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন। এ ছাড়াও ৮২ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আজারবাইজানে অন্তত ২৪ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান দুইটি দেশেরই সীমান্তে অবস্থিত ইরান। যুদ্ধ থামাতে এ বার ইরানও পদক্ষেপ নিয়েছে। দুইটি দেশকেই শান্তিপূর্ণ ভাবে বৈঠকে বসার অনুরোধ জানিয়েছে ইরান। কিন্তু তাতে এখনো পর্যন্ত কোনো দেশই সাড়া দেয়নি।

ইরান জানিয়েছে, সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সবরকম চেষ্টা তারা করবে।

অন্য দিকে তুরস্ক সমর্থন দিচ্ছে আজারবাইজানকে। বস্তুত, আর্মেনিয়া জানিয়েছে, তুরস্কের ভূমিকা নিয়ে তারা আমেরিকার কাছে অভিযোগ জানাবে।

আজারবাইজানের ভূখণ্ড থেকে দ্রুত সরে যান: আর্মেনিয়াকে ইরান

আজারবাইজানের দখলীকৃত ভূখণ্ড থেকে সরে যেতে আর্মেনিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি আজ (মঙ্গলবার) এ আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরানের দৈনিক কেইহান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেছেন, “আমরা যেমনিভাবে ইসরাইলের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের বিরোধী তেমনি কারাবাখ ইস্যুতেও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান।”

আলী আকবর বেলায়েতি আরও বলেন, “ইরান সব দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনে বিশ্বাসী। এটা জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার অংশ। আমরা জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে এই নীতি মেনে চলি।

আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া উভয়ই আমাদের উত্তরের প্রতিবেশী। আর্মেনিয়া প্রতিবেশী আজারবাইজানের ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। তারা আর্মেনিয়ার দক্ষিণের অন্তত ৭টি শহর দখল করে রেখেছে। জাতিসংঘের এ সংক্রান্ত চারটি ইশতেহার রয়েছে। সব ইশতেহারেই বলা হয়েছে আজারবাইজানের একটা অংশ দখলে রেখেছে আর্মেনিয়া। আর্মেনিয়াকে দখল ছেড়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্তে ফিরে যেতে বলা হয়েছে এসব ইশতেহারে।”

বেলায়েতি বলেন, ইরানও চায় আজারবাইজানের ভূখণ্ড সেদেশকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এসব অঞ্চল দখল করে নেওয়ায় আজারবাইজানের ১০ লাখের বেশি মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছেন। দ্রুত এসব এলাকা ছেড়ে দিতে বলছি আমরা।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা মনে করি এই সমস্যার সামরিক সমাধান নেই। রাজনৈতিক পথে এগোতে হবে। কারণ সামরিক পন্থা কারো জন্যই কল্যাণকর নয়। যুদ্ধের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ।

সম্প্রতি আবাসিক এলাকাতে বোমা ফেলা হচ্ছে। এটা মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। চলমান যুদ্ধ গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও ক্ষতিকর। তিনি যুদ্ধ অবসানে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

পৃথিবীর প্রথম জমিন হচ্ছে পবিত্র কাবাঘর

মুসলিম ইম্মাহর ভাষ্য মতে এটাকে বলা হয় বাইতুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর। কাবা শরিফ ও পবিত্র কাবাঘরও বলা হয়ে থাকে। এই পবিত্র কাবা ঘরের অভিমুখী হয়েই আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করেন পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলিম। সৃষ্টির সূচনা থেকেই মহান পবিত্র এই কাবাকে মহান আল্লাহ তার মনোনীত বান্দাদের মিলনস্থল করেছেন।

আমরা সকলেই জানি , ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। এ বিষয়ে পিএইচডি করেছেন ড. হুসাইন কামাল উদ্দীন আহমদ। তাঁর থিসিসের শিরোনাম হলো—‘ইসকাতুল কুররাতিল আরধিয়্যা বিন্ নিসবতে লি মাক্কাতিল মুকাররামা।’ (মাজাল্লাতুল বুহুসুল ইসলামিয়া, রিয়াদ : ২/২৯২)

ওই থিসিসে তিনি প্রাচীন ও আধুনিক দলিল-দস্তাবেজের আলোকে এ কথা প্রমাণ করেছেন যে কাবাই পৃথিবীর মেরুদণ্ড ও পৃথিবীর মধ্যস্থলে অবস্থিত। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পানিসর্বস্ব পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি এ কাবাকে কেন্দ্র করেই।

আরেকটি বিষয় হলো, মাটিতে রূপান্তর হওয়ার আগে কাবা সাদা ফেনা আকারে ছিল। সে সময় পৃথিবীতে পানি ছাড়া কিছু ছিল না। আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর। হাদিসের ভাষ্য মতে, কাবার নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় অন্য সব মহাদেশ। মাটি বিছানোর পর জমিন নড়তে থাকে। হেলতে থাকে।

এর জন্য মহান আল্লাহ পাহাড় সৃষ্টি করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয় (হেলে না যায়)।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১৫)

মহানবী (সা:) নিজ হাতে এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন

নবীর মসজিদ। আরবিতে বলা হয় মসজিদে নববী। হজরত মুহাম্মদ সা: নিজ হাতে এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন।

নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কা থেকে মদীনায় হিযরত করেন, তখন এ শহরটির নাম ছিল ‘ইয়াসরিব’। নবীজি (সা.) আগমনের পরপরই ইয়াসরিব নামটি পবির্তন করে মদিনা নামকরণ করেন।

কিন্তু সেখানে কোন মসজিদ ছিল না যেখানে নবীজিসহ সাহাবীরা নামাজ আদায় করবেন। নতুন হিজরতকারীদের মধ্যে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদের শূন্যতা দেখা দিলে নবীজি (সা.) নিজেই একটি মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। আর এ মসজিদের নাম দেন ‘মদীনা মসজিদ’।

যা ‘মসজিদে নববী শরীফ’ (সা.) বা মদিনায়ে মুনাওয়ারা হিসেবে পরিচিত। প্রথম মসজিদটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছিল প্রায় ৭ মাস। অর্থাৎ- ৬২২ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে থেকে শুরু হয়ে ৬২৩ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ৭ মাসব্যাপী ১ম মদিনা মসজিদের নির্মাণ কাজের সময় ধরা হয়।

নবীজি (সা.)-এর হস্ত মোবারকে ভিত্তি দেয়া পবিত্র ‘মদিনা মসজিদ’ নির্মাণের জন্য নাজ্জার গোত্রের সাহল ও সোহাইল নামক দুই যুবক থেকে প্রয়োজনীয় জমি ক্রয় করে ছিলেন। এ জমির ক্ষুদ্র একটি অংশে নবীজি (সা.) বাসস্থান নির্মাণ করে বাকি পুরো অংশেই মদিনা মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

এ জায়গার প্রতিটি কোণা থেকে তীর নিক্ষেপ করে যে পরিমাণ জায়গা পাওয়া গেল তা হলো মসজিদের একটি ক্ষেত্র। আর এ ক্ষেত্রে বর্গের প্রতিটি বাহুর পরিমাণ দাঁড়ালো ১০০ হাত বা ৫৬ গজ। ১ম নির্মিত পবিত্র মদিনা মসজিদের প্রাথমিক আয়তন ছিল ১০০ ´ ১০০ হাত বা ৫৬ ´ ৫৬ গজ।

মসজিদের ভিত্তি ও দেয়ালের নিম্নভাগ ৩ হাত পর্যন্ত প্রস্তের হিসেবে নির্মিত ছিল। প্রথম পর্যায়ে মদিনা মসজিদ রৌদ্রে শুষ্ক ইট দ্বারা নির্মিত হয়। এই রৌদ্র শুষ্ক ইট ও সিমেন্ট হিসেবে আল-খাবখাবা উপত্যকা হতে আনিত কাদা দ্বারা তৈরি হয়েছিল। তখন মদিনা মসজিদের দেয়াল ছিল ৭ হাত উঁচু। এর ছাদকে শক্তিশালী ও মজবুত রাখার জন্য মদিনা মসজিদের ৩৬টি খেজুর গাছকে স্তম্ভ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

মসজিদের ছাদ নির্মিত হয়েছিল খেজুর পাতা দিয়ে। ছাদকে সুন্দর, রৌদ্র ও বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য খেজুর পাতার উপর কাদামাটির আস্তরণ লেপে দেয়া হয়েছিল। ১ম নির্মিত পবিত্র মদিনা মসজিদে প্রবেশের জন্য ৩টি দরজা ছিল।

প্রধান প্রবেশ পথটি ছিল দক্ষিণ দিকে যা দিয়ে মুসল্লিরা মসজিদে প্রবেশ করতেন এবং বাহির হতেন। পশ্চিম দেয়ালে ছিল মসজিদের দ্বিতীয় প্রবেশ পথ যা ‘বাবে রহমত’ নামে স্বীকৃত। তৃতীয় প্রবেশ পথটি ছিল পূর্ব দেয়ালে যা দিয়ে নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) মসজিদে প্রবেশ করতেন। এ জন্য এটির নামকরণ হয় ‘বাব উন নবী (সা.)’।

ঐতিহাসিকদের মতে, মদিনা মসজিদেই সর্ব প্রথম মেহরাব, মিম্বার, আজান দেয়ার স্থান বা মিনার এবং অজুর স্থানের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে মসজিদে নববী শরীফ বহুগুণ বড় ও সম্প্রসারিত। সম্পূর্ণ আধুনিক নতুন নকশার ভিত্তিতে এটিকে সম্প্রসারণ ও পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। যাহাতে এক সাথে কয়েক লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

সংস্কার ও সম্প্রসারণ
পবিত্র মসজিদে নববী (সা.) বা মদিনা মসজিদ তখন থেকেই মুসলমান শাসকদের দ্বারা বহুবার সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় নেয়ার পর ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা হযরত ওমর (রা.) ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে মসজিদে নববী (সা.)’র একদফা সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ করেন।

এসময় মসজিদের উত্তরে ৩০ হাত, দক্ষিণে ১০ হাত ও পশ্চিম দিকে ২০ হাত প্রশস্ত করেন। খলীফা হযরত ওমর (রা.)’র সময় মসজিদের জায়গার পরিমাণ হয় উত্তর-দক্ষিণে ১৪০ হাত এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১২০ হাত।

এরপর ৩য় খলীফা হযরত ওসমান গণি জিন্ নূরাইন (রা.)’র খেলাফতকালে ৬৪৬-৬৪৭ খ্রিস্টাব্দে খেজুর পাতার পরিবর্তে মসজিদের ছাদে ব্যবহার করা হয় সেগুন গাছের কাঠ। তখন ছাদের আকার দাঁড়ায় ১৬০ ´ ১৩০ হাত। এ সময় মসজিদের আয়তন হয় উত্তর দক্ষিণে ১৬০ হাত এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৫০ হাত।

পরবর্তীতে খলিফা আল্ ওয়ালিদের সময় মদিনা মসজিদটি আধুনিক ইমারতে পরিণত হয়। ওয়ালিদ ৭০৭ খ্রিস্টাব্দে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)-কে সাজিয়ে তোলেন।

তাঁর সময় মসজিদে নববী (সা.)’র আয়তন বেড়ে দাঁড়ায় ২০০ ´ ২০০ হাত। ৭০৭ খ্রিস্টাব্দের এসময়ই সর্ব প্রথম পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)’র ৪ কোণায় ৪টি মিনার নির্মাণ করেন বাদশা বা খলিফা আল-ওয়ালিদ। তখন প্রতিটি মিনারের উচ্চতা ছিল ৫০ হাত এবং প্রস্থে ছিল ৮ হাত। এরপর খলিফা মাহদী ৭৭৫-৭৮৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এ পবিত্র মসজিদটি আবারো সম্প্রসারণসহ সংস্কার করেন এসময় এ আয়তন দাঁড়ায় ৩০০ ´ ৩০০ হাত। পরবর্তীতে ১৪৮১ খ্রিস্টাব্দে মামলুক সুলতান কয়েত-বে পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)-এর মধ্যে গম্বুজ প্রতিষ্ঠিত করেন।

কিন্তু ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে পবিত্র এ গম্বুজ শরীফে রং-এর আস্তরণ দিয়ে সবুজ গম্বুজ বানিয়ে ছিলেন ওসমানী সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ। আর সেই থেকেই আজঅবধি মদিনায়ে মুনাওয়ারা তথা পবিত্র মসজিদে নববী শরীফের উপর নূরানী এ সবুজ গম্বুজ শরীফটি কোটি কোটি ঈমানদার তথা আশেকে রাসুল (সা.)দের মাঝে আলোকবর্তিকা ও প্রাণস্পন্দন হয়ে আছে। যা কিয়ামত পর্যন্ত ঈমানি চেতনা দান করবেন নবী প্রেমিকদের অন্তরে।

সর্বশেষ আধুনিকায়নে পবিত্র মসজিদ-এ নববী (সা.)’র নব সজ্জা ও রূপদান করেন সৌদি বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে সউদ। এর পরিকল্পনা করা হয় ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে। ১৯৫৩-১৯৫৫ সাল নাগাদ মসজিদ আধুনিকায়ন করা হয়। বিশালকার এ পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)’র সমস্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সৌদি রাজ পরিবারের।

মসজিদের পাশেই ছিল হজরত মুহাম্মদ সা: এর বসবাসের ঘর। মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে রয়েছে একটি সবুজ গম্বুজ। গম্বুজটি নবীর মসজিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ এ গম্বুজের নিচেই রয়েছে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর রওজা মোবারক। হজরত মুহাম্মদ সা: মসজিদের পাশে যে ঘরে ইন্তেকাল করেন সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।

পরে মসজিদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে তার রওজা মোবারক মসজিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পবিত্র মসজিদে নববী (সা.) তথা মহানবী (সা.)’র রওজা পাকের দু’পাশেই রয়েছে নবীজির প্রাণপ্রিয় ছিদ্দীক ইসলামের ১ম খলিফা হযরত আবুবকর (রা.) ও ২য় খলিফা ফারুকে আজম হযরত ওমর (রা.)-এর রাওজা শরীফ। আল্লাহ আমাদের সকলকে নূরানী নবীজির (সা.) নূরী রাওজায়ে আকদাস শরীফ জেয়ারতের মাধ্যমে জীবনকে ধন্য করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.