আর্মেনিয়াকে কড়া বার্তা আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের

আজারবাইজানি ভূখণ্ডে অপরাধ সংঘটন করায় আন্তর্জাতিক আদালতে আর্মেনিয়াকে জবাবদিহিতা করতে হবে মন্তব্য করেছেন আজেরি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ।গত সোমবার নাগোরনো-কারাবাখের দখলমুক্ত অঞ্চলে সফরে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিন দশক পর আর্মেনিয়ার দখল থেকে উদ্ধার হওয়া ফুজুলি ও জাবরাইল অঞ্চলে সেনাবাহিনীর পোশাক পরে সফরে যান প্রেসিডেন্ট আলিয়েভ। এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ফাস্টলেডি মেহরিবান আলিয়েভা।

আলিয়েভ জানান, আর্মেনীয়রা এই অঞ্চলটি ত্যাগ করার সময় সব দালান ধ্বংস ও লুটপাট চালিয়েছে। আর্মেনীয়দের উদ্দেশ আজারবাইজানিরা যেন এখানে বসবাস না করতে পারেন।

আলিয়েভ বলেন, আমরা এখানে বাস করব!আমরা এখান চিরদিনের জন্য বাস করব!আমরা পুনরায় দালানগুলো মেরামত করব, সবকিছু করব।

আন্তর্জাতিকভাবে নাগোরনো-কারাবাখ আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৯০ এর দশকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দুই দেশের মধ্যে সংঘাতে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়। সেই সময় বিরোধীয় অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয় জাতিগত আর্মেনীয়রা।

সর্বশেষ আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। ছয় সপ্তাহ চলা যুদ্ধে আজারবাইজান কারাবাখে দ্বিতীয় বৃহত্তর শহর শুশা দখল করে। আজারবাইজানের একের পর এক হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে আর্মেনীয় বাহিনী। এরপরই রাশিয়ার হস্তক্ষেপে দুই দেশের মধ্যে ১০ নভেম্বর শান্তি চুক্তি হয়।এর ফলে যুদ্ধ ছাড়াই কয়েকটি অঞ্চলের দখল আসবে আজারবাইজানের হাতে। সু্ত্র: ইয়েনি শাফাক

নেদারল্যান্ডসের সাবেক বক্সার তারকা রুবির ইসলাম গ্রহণ!

বিশ্বব্যাপী উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও গণমাধ্যম-সংবাদমাধ্যমে ইসলাম বিদ্বেষী প্রচারণা তো বহু আগে থেকেই চলে আসছে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলাম ধর্ম তথা মুসলমানদের নিয়ে নেতিবাচক প্রচার-

প্রচারণা ও ইসলাম ভীতি ছড়ানোর কারণে ইসলাম বিদ্বেষ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পাশ্চাত্যের বেশিরভাগ মানুষ অজ্ঞানতা ও সঠিক জ্ঞানের অভাবে মুসলিমদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে থাকে। তবে এতসব বাঁধা থাকা সত্ত্বেও এখনো সারা পৃথিবীর বেশিরভাগ অমুসলিম ইসলাম ধর্মকে সম্মান করেন ও তাদের অনেকেই স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করছেন।

এমনি একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন ইউরোপের দেশে নেদারল্যান্ডস-এর বক্সার রুবি জেসিয়াহ মেসু। সম্প্রতি তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। আর এই সংবাদটি তিনি তার ইনস্টাগ্রাম অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সবাইকে জনিয়েছেন।

মূলত মেসু ইতোপূর্বে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ছিলেন। কিন্তু তিনি ইসলাম তথা শান্তির ধর্মের শিক্ষায় ভীষণ অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি মুসলিম হয়েছেন বলে জানান। গত সোমবার (১৬ নভেম্বর) নেদারল্যান্ডের একটি মসজিদে ইসলাম গ্রহণ করে নিজের আবেগ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন রুবি জেসিয়া।

ইনস্ট্রাগ্রামের নিজের ইসলাম গ্রহণের কথা জানিয়ে সাবেক ডাচ বক্সার তারকা বলেন, ‘কয়েক বছর অনুশীলনের পর আমি অত্যন্ত গর্বিত যে শেষ পর্যন্ত আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি আরো আগেই কালেমা শাহাদাত পাঠ করেছি। কিন্তু আজ মসজিদে সবার সম্মুখে আমি ফের শাহাদাহ পাঠ করি। আল্লাহ যা চান তাই হয় এবং আমি তা পাঠ করে খুবই আনন্দিত।’

এদিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য নেদারল্যান্ডসের শীর্ষ এই বক্সিং তারকাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মুসলিমরা। তারা বলছেন, একজন শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদের ইসলাম গ্রহণ এবং বিশ্বব্যাপী ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা মুসলমানদের জন্য আনন্দের।

সারাবিশ্বের মুসলিমর সোশ্যাল মিডিয়ায় নবমুসলিম রুবিকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি ইসলাম ধর্মে তাকে স্বাগত জানান। একই সাথে তার ব্যক্তি ও কর্মজীবনে সফলতা ও সমৃদ্ধি অর্জনের দোয়া কামনা অনেকে।

ডাচ বক্সারের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ছবিতে দেখা যায়, একটি মসজিদের ভেতর তিনি হিজাব পরিধান করে আছেন। সেখানে কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

এদিকে সাবেক বক্সার তারকার ইসলাম গ্রহণের সংবাদটি অন্যান্য বিশ্বের অন্যান্য তারকারাও শেয়ার করে। আফ্রিকান বক্সার তারকা হাদি সুলাইমানি রুবির ইসলামগ্রহণের সংবাদটি শেয়ার দেন।

ফেসবুক পোস্টে সুলাইমানি লিখেন, ‘নেদারল্যান্ডের একটি মসজিদে সাবেক ডাচ টাইসন তারকা রুবি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আল্লাহু আকবর। তিনি যাকে ইচ্ছে তাকে সুপথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ তাঁকে নিরাপদ রাখুন এবং তাঁর কাজ কবুল করুন।’

সূত্র : আল জাজিরা

অমুসলিম তারকা খেলোয়াড়দের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। চলতি বছর এপ্রিল মাসে উইলহেলম ওট নামে এক ক্রীড়াবিদ ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

উইলহেলম ওট অস্ট্রিয়ার পেশাদার মিক্সড মার্শাল আর্ট ফাইটার। তিনি জানান, কোভিড ১৯-এর কারণে লকডাউনের সময় তিনি ইসলাম ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ইসলামের মধ্যেই শান্তির সন্ধান পেয়েছেন।

এর আগে রোজি গ্যাব্রিয়েল নামে কানাডিয়ান এক নারী অ্যাডভেঞ্চারার ২০১৮ সাথে পাকিস্তান সফরকালে ইসলাম গ্রহণ করেন। সেসময় তিনি বলেছিলেন, মুসলিমদের আচরণ, ভ্যাতৃত্ব ও একে অপরের প্রতি ভালোবাসা দেখে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা, দ্যা ইসলামিক ইনফরমেশন।

আবারও মুক্তিকামী ৪ কাশ্মীরিকে গুলি করে হত্যা করল ভারতীয় বাহিনী

জম্মু-কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার জম্মু জেলার নাগ্রোটা এলাকায় গুলিতে নিহত চারজন জইশ-ই-মোহাম্মদের সদস্য বলে ভারতীয় বাহিনী দাবি করেছে।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, এদিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে একটি ট্রাককে মাঝপথে আটকান রাস্তায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা।

জম্মুর পুলিশপ্রধান এসএসপি শ্রীধর পাটিল বলেন, জঙ্গিরা একটি গাড়ির ভেতরে লুকিয়েছিল। নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে নিহত চারজন জইশ-ই-মোহম্মাদের সদস্য। সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা দফতরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবেন্দর আনন্দ জানিয়েছেন, এ অভিযানে শুরুতে পুলিশ ও সিআরপিএফ-এর যৌথ বাহিনী ছিল। পরে সেনাবাহিনীও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।

সংঘর্ষের কারণে আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক। নাগ্রোটা ও উধমপুরের টিলটিং এলাকায় সব যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সেনারা আফগানিস্তানে সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করেছে

আফগানিস্তানে মোতায়েন অস্ট্রেলিয়ান সেনারা সে দেশের সাধারণ নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করেছে। যুদ্ধ নয় একেবারে ঠাণ্ডা মাথায় সেনার অনেক সাধারণ নিরহ মানুষকে হত্যা করে। দীর্ঘদিন পর সত্য সামনে এলো। নিরাপরাধ আফগান নাগরিকদের হত্যা করেছে অস্ট্রেলিয়ার সেনা। অস্ট্রেলিয়ার এলিট আর্মির আফগান ফাইলে রয়েছে এমন ৩৯টি ঘটনার তথ্য।

যুদ্ধে নয়, ঠান্ডা মাথায় সাধারণ আফগান এবং যুদ্ধবন্দিদের হত্যা করেছিল অস্ট্রেলিয়ার এলিট আর্মি। সম্প্রতি সে কথা স্বীকার করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সেনা। সেনা বাহিনীর উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনার জন্য তাঁরা অত্যন্ত দুঃখিত। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীরা শাস্তি পাবেন।

২০০২ সালে অস্ট্রেলিয়ার সেনা আফগানিস্তানে গিয়েছিল। ন্যাটো বাহিনীর হয়ে আফগানিস্তানে দীর্ঘ দিন লড়াই করেছে তারা। যে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, ২০০৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সেই ঘটনাগুলি ঘটেছে বলে সেনা বাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে। বস্তুত, ঘটনাগুলি কোনোদিন জনসমক্ষে আসতোই না।

বছরকয়েক আগে অস্ট্রেলিয়া সেনাবাহিনীর সদর দফতর থেকে কিছু ফাইল ফাঁ,স হয়ে যায়। আফগান ফাইল নামে সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে তার তথ্য। তাতেই দেখা যায়, সাধারণ মানুষের উপর কী ভাবে অত্যাচার চালিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার এলিট ফোর্সের কিছু সেনা। তারপরেই তদন্ত শুরু হয়। এবং সত্য প্রকাশ্যে আসে।

অস্ট্রেলিয়া এলিট আর্মির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জেনারেল অ্যাঙ্গুস ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, অন্তত ৩৯ জন সাধারণ আফগানকে হত্যা করেছিল সেনা বাহিনী। নিহতদের কেউ সাধারণ চাষী, কেউ শিক্ষক। যুদ্ধের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্কই ছিল না। অস্ট্রেলিয়া পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল এই ঘটনার তদন্ত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত লাগাতার এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সেনা। ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, এত বড় নীতিহীনতার অভিযোগ এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সেনার বিরুদ্ধে ওঠেনি। দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, দোষী সেনা অফিসাররা একাধিক যুদ্ধবন্দির উপরেও অত্যাচার চালিয়েছেন। বন্দিদের উপর অত্যাচার চালিয়ে খুন করে ভূয়া রিপোর্ট লেখা হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তিদের।

যুদ্ধক্ষেত্রই নয়, এমন বহু জায়গায় সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে এবং খুন করা হয়েছে। মোট ২৩টি ঘটনায় ৩৯জনকে এ ভাবে খুন করা হয়েছে। ডয়চে ভেলে

ভারতীয় পেঁয়াজ ছাড়াই স্থিতিশীল দেশের বাজার

ভারতের সরবরাহ ছাড়াই তিন মাস ধরে স্থিতিশীল দেশের পেঁয়াজের বাজার। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জসহ দেশের ব্যবসায়ীরা গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভারত ছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করায় সরবরাহে রয়েছে স্থিরতা। এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে দেশি পেঁয়াজ।

টানা দু’বছর হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলে লাগামহীভাবে বেড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি হয় দেশের বাজারে। প্রথমবার কেজি তিনশোতে ঠেকলেও দ্বিতীয়বার একশো পর্যন্ত ওঠে। এ অবস্থায় নতুন নতুন দেশের বাজার ধরে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। আর এক্ষেত্রে বাজার স্থিতিশীল রাখার পেছনে নীরবে ভূমিকা রাখছে দেশীয় পেঁয়াজ।

আমদানিকারকরা বলছেন, এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে ভারতের ওপর নির্ভরতা কমবে। এ অবস্থায় ১১টি দেশের বাজার ধরে রাখতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যবসায়ীরা।

গত সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর মিশর, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানির অনুমতিপত্র খোলেন ব্যবসায়ীরা। এরপরই সহনীয় মাত্রায় নেমে আসে পেঁয়াজের দাম। সময় টিভি

ভারতের কারণে এশিয়ার গণ্ডিতে আটকে আছে বাংলাদেশ!

পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (আসিয়ান), অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নতুন এক বাণিজ্য এলাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। প্রথমবারের মতো জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া একত্রিত হয়ে চীনের সাথে বাণিজ্যচুক্তি করেছে। এই বাণিজ্য জোট দুনিয়া-কাঁপানো।

এতে ক্রয়শক্তির হিসাবের (পিপিপি)পরিভাষায় পৃথিবীর মোট সম্পদের এক তৃতীয়াংশ আছে। আসিয়ানের সূচিত এই উদ্যোগে পরিষেবা, বিনিয়োগ, ই-কমার্স, টেলিকমিউনিকেশন্স, মেধাসত্ত্ব অন্তর্ভুক্ত। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার সময় রিজিওন্যাল ইকোনমিক পার্টনারশিপ বা আরসিইপিতে ভারতও ছিল। কিন্তু হিন্দুত্ববাদী দিল্লী গত বছরের এ সময়ে চুক্তি থেকে সরে যায়।

ভারত কি ভয় পায়?

ভারতের তত গতিশীল না থাকা অর্থনীতির কি চীনা পণ্যের বিরুদ্ধে সংরক্ষণবাদী প্রতিবন্ধকতা স্থায়ীভাবে রক্ষা করা প্রয়োজন? মধ্য মেয়াদে ভারত বিশ্বের তৃতীয় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়ার অনেক কথা বলা হলেও আসলে দেশটি পূর্ব এশিয়ান অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতাকে ভয় পায়।

দেশটি মৌনভাবে স্বীকার করে নিয়েছে যে তাদের দেশ রফতানি-চালিত অর্থনীতি নয়। তাদের রফতানির বেশির ভাগই কাঁচামাল বা নিম্ন প্রযুক্তির সামগ্রী। এ কারণেই মূলত চীনের সাথে তাদের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। আইটি সফটওয়্যার নয়, লোহার আকরিক, সুতা ও রত্নপাথরই চীনে তাদের প্রধান রফতানি পণ্য।

অবশ্য দুট বিষয় মনে রাখতে হবে। প্রথমত, ১৭টি দেশের জোটে সবচেয়ে ধনী অর্থনীতি জাপান অনেক আলোচনা করেছে, বিশেষ করে কৃষি ও খাদ্য নিয়ে। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওসের মতো গরিব দেশগুলো বিশ্বজয়ী অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত নয়। তাহলে ভারতীয় হাতি যেখানে প্রবেশ করতে ভয় পায়, সেখানে কিভাবে এসব দেশ উত্তর-পূর্ব এশিয়ার ম্যানুফেকচারিং হ্যারিকেন প্রতিরোধ করতে পারবে বলে মনে করছে?

নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, মোদির ব্যবসায়ী সঙ্গীরা ভারতের অর্থনৈতিক গোলকধাঁধার দুর্নীতিতে চলাচল করতে দক্ষ। সে কারণে তারা ছোট পুকুরে বড় মাছ হতে থাকতে চায়। উদারিকরণের তিন দশকের পরও মনে হচ্ছে তারা স্টিল, টেক্সাইল ও ডেইরি খাতে প্রতিযোগিতা করতে অক্ষম। এর দক্ষিণ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া অপ্রাসঙ্গিক। আরসিইপি থেকে তার সরে আসার আরেকটি কারণ রয়েছে।

চীনকে নিয়ে আমেরিকার সাথে বাজি

২০১৯ সালে শেষ মিনিটে ভারতের সরে আসার অন্যতম কারণ হলো তাকে আমেরিকার পেছন থেকে ডাকা। আমেরিকান চাপের কারণেই ইরানের কাছ থেকে সে সরে এসেছিল। আরপিইসির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটল।

ভারত দাবি করছে, তারা বাণিজ্য যোগাযোগ বাড়াতে চায়। আসিয়ানের সাথে তার আগে থেকেই মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি ছিল। মূলত, চীনের সাথে যোগাযোগ সীমিত করার আকাঙ্ক্ষাতেই সে পরিচালিত হচ্ছে। আসিয়ান অর্থনৈতিক সহযোগিতার কাঠামোর মধ্যেই বিকশিত হতে না চাওয়াটা প্রায় বিরক্তির পর্যায়েই পড়ে। এর বদলে ভারতকে আমেরিকা উৎসাহিত করছে চীনের সাথে বিপর্যয়কর মুখোমুখি হতে।

মনে রাখতে হবে, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া কোয়াডের (চীনবিরোধী গ্রুপিং) সদস্য হলেও তারা আরসিইপিতেও আছে। ভারতও তা করতে পারত। এখন ভারত আরো ৩০ বছরের জন্য এই অর্থনৈতিক এলাকা থেকে উপকৃত হওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখল।

বাংলাদেশ?

ভারত আরসিইপিতে সই করলে, বাংলাদেশ ওই এলাকায় সক্রিয় ভারত ও মিয়ানমারে নিজেকে পরিবেষ্টিত দেখতে পেত।

ওই পরিস্থিতিতে প্রবৃদ্ধি ও জনসংখ্যা বিবেচনা করে বাংলাদেশকেও সাথে সাথে তাতে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারত। ডলারের হিসাবে জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। একই সূচকে মিয়ানমারের কাছ থেকে পেছনে থাকলেও বৃহত্তর শিল্প খাতে বেশ এগিয়ে আছে।

ভারত আরসিইপিতে যোগ দিলে গ্রুপটি হলো দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার ইউনিয়ন। বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রান্তবর্তী দেশ, সেইসাথে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য চীনে যাওয়ার প্রবেশদ্বারও।

শেষ কথা হলো, আরসিইপি সদস্যরা সংক্ষিপ্ততর সরবরাহ শৃঙ্খল দেখবে, গভীরতর আঞ্চলিক যোগাযোগ দেখবে, বৃহত্তর অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ দেখবে, অনেক বেশি প্রযুক্তি হস্তান্তর দেখবে। এটা হবে ‘এশিয়ার জন্য এশিয়ার তৈরী’: এশিয়ার ভোক্তা ও ম্যানুফেকচারিং প্রবৃদ্ধি বাজার।

বাংলাদেশের কৌশলত সম্প্রদায়ের জন্য প্রশ্ন হলো: আরসিইপি যদি আরো সদস্য গ্রহণের জন্য উন্মক্ত হয়, তবে কি বাংলাদেশের কি তাতে যোগদানের কোনো পরিষ্কার লক্ষ্য থাকবে? তার কি আসিয়ান+১-এ যোগদান করা উচিত হবে না? ২০২০-এর দশকে বাংলাদেশ কোন দিকে মুখ ঘোরাবে? চীনের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্বে সে কত দূর যাবে?

এই মুহূর্তে আমরা দেখছি যে সৌভাগ্যবানদের ভেতরে নেয়ার জন্য আরসিইপি এগিয়ে আসায় দক্ষিণ এশিয়ার ছোট দেশগুলো এ দিকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। বাংলাদেশ চির দিনের জন্য বাইরের ঠাণ্ডায় কাঁপতে থাকতে পারে না।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক

সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন

রাশিয়ার বড় সিদ্ধান্ত; ফিলিস্তিনে ইহুদি বসতি অবৈধ ঘোষণা

ইসরায়েলের বিপক্ষে বড় ঘোষণা রাশিয়ার। ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইহুদিবাদী উপশহর নির্মাণ অবৈধ ঘোষণা করলো দেশটি। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েল পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস বা পূর্ব জেরুজালেম এলাকায় সহস্রাধিক বাড়ি নির্মাণের বিষয়ে যে টেন্ডার জারি করেছে তা আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী এবং সংকট সমাধানের চলমান প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

গত রোববার ইসরায়েলের একটি পত্রিকা জানিয়েছে, মার্কিন নির্বাচনের আগে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা পূর্ব জেরুজালেমে এক হাজার দুইশ’ বাড়ি নির্মাণের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

এই খবরের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এ ধরণের তৎপরতা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বিরোধের ন্যায়সঙ্গত সমাধানের পথকে রুদ্ধ করে দেবে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যাবে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর ইশতেহারে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি উপশহর নির্মাণকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ইহুদিবাদী ইসরায়েল জাতিসংঘ ইশতেহার লঙ্ঘন করে একের পর এক উপশহর নির্মাণ করে যাচ্ছে। উপশহর নির্মাণের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ধ্বংসের কাজও অব্যাহত রেখেছে দখলদারেরা। সূত্র: পার্সটুডে