ঝিনাইদহে প্রায় ৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ নির্মাণ

ঝিনাইদহ জেলায় সরকারিভাবে ৯০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সাতটি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা, উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মসজিদগুলো নির্মাণ করছে গণপূর্ত বিভাগ। জেলা শহরে নির্মিত হচ্ছে জেলা মডেল মসজিদ। আর শৈলকূপা, কালীগঞ্জ, মহেশপুর, কোটচাঁদপুর, হরিণাকুণ্ড ও সদর উপজেলায় একটি করে উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মিত হচ্ছে।

জেলা গণপূর্ত অফিস সূত্রে জানা যায়, চার তলা বিশিষ্ট জেলা মডেল মসজিদ এবং তিনতলা বিশিষ্ট উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। জেলা মসজিদ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। আর উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণে প্রতিটির ব্যয় বরাদ্দ আছে ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে মসজিদগুলোর নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গেছে।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মসজিদগুলোতে থাকবে নারী, পুরুষ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক পৃথক নামাজের রুম। থাকবে কার পার্কিং সুবিধা ও ইসলামী শিক্ষা দানের ব্যবস্থা। থাকছে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের থাকার পৃথক রুম। ভিআইপি রুম, ওয়েটিং রুম, অটিস্টিক কর্নার, ইমাম ট্রেনিং সেন্টার, কনফারেন্স রুম, ইসলামী ফাউন্ডেশনের রিসার্চ সেন্টার, বই বিক্রয় কেন্দ্র, ম্যাগাজিন রুম ও পাঠাগার থাকবে। সেই সঙ্গে একজন সহকারী পরিচালকের অফিসও থাকবে।

গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন জানান, এক বছরের মধ্যে মসজিদগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

সূত্র: ইত্তেফাক

ইমামকে লাঞ্ছিত করায় যুবলীগ নেতাকে সমাজচ্যুত করলেন এলাকাবাসী!

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ইমামকে লাঞ্ছিত করায় যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম শফিকে সমাজ থেকে একঘরে করে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার সম্মুখ বৈলর গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, সম্মুখ বৈলর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নিজাম উদ্দিন মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ১২ বছর আগে জমি ক্রয় করেন। সেই জমি বৈলর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফি বছরখানেক যাবত দখলের চেষ্টা করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার দিন শুক্রবার জুমার নামাজের আগে মসজিদের সামনে শফি তার লোকজন নিয়ে ইমাম সাহেবের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে ইমামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উপস্থিত মুসল্লি ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ শফিকে আটক করে একটি দোকানে রেখে নামাজ পড়তে যান। পরে শফির পরিবারের লোকজন সামাজিকভাবে বিচারের আশ্বাস দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

ওই দিন আসর নামাজের পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুসল্লিরা এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভায় শফিকে একঘরে করে সমাজচ্যুত করেন।

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন- বৈলর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, মসজিদ কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী, সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী মাস্টার, ইউনিয়ন কৃষক লীগের যুগ্ম আহবায়ক কামরুজ্জামান কাজল, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা প্রমুখ।

মসজিদের ইমাম মাওলানা নিজাম উদ্দিন বলেন, শফি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ দিন যাবত আমার ক্রয় করা জমি দখল করার চেষ্টা করছেন। ঘটনার দিন কোনো কারণ ছাড়াই তিনি তার লোকজন নিয়ে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তাই সমাজের লোকজন তাকে একঘরে করে সমাজচ্যুত করেছেন।

এ বিষয়ে শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, আমাকে সমাজচ্যুত করেনি। আমি রাজনীতি করি; এ বছর এই ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচন করব। রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য আমার প্রতিপক্ষরা এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। সূত্র: যুগান্তর