কুকর্মের নথি জাতিসঙ্ঘে তুলে ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান

পাকিস্তানের অভ্যন্তরের সন্ত্রাসবাদ উস্কে দেয়ার জন্য ভারতকে দায়ী করে জাতিসঙ্ঘে একটি অভিযোগপত্র দায়ের করেছে ইসলামাবাদ। ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে যেই অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরের সন্ত্রাসবাদ উস্কে দেয়ার জন্য নয়াদিল্লীর বিভিন্ন কুকর্মে জড়িত থাকার প্রমাণস্বরূপ বিভিন্ন নথি বা দলিলাদি জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেসের কাছে পেশ করে পাকিস্তান। এসময় সীমান্ত এলাকায় নয়াদিল্লি অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে উল্লেখ করে ক্ষোভ জানায় ইসলামাবাদ।

ভারত যখন আগামী দুই বছরের জন্য জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করতে যাচ্ছে তার আগ মুহূর্তে দেশটির বিরুদ্ধে পাকিস্তান গত মঙ্গলবার সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনল। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ভারত জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে কাজ করবে।

জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি মুনির আকরাম জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার বিভিন্ন প্রমাণ সম্বলিত অভিযোগপত্র দায়ের করেন।

এসময় মুনির আকরাম বলেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতের সন্ত্রাসবাদ এবং ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের বিষয়টি বিশ্বসম্প্রদায়কে বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি ভারত যে অবৈধ এবং আগ্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে সেগুলো প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে হবে। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসঙ্ঘ সনদ ও নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব লঙ্ঘনের জন্য ভারতকে অভিযুক্ত করেন।

এদিকে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসে বলেন, সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতের জড়িত থাকার বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা সব অভিযোগ ও প্রমাণাদি খতিয়ে দেখা হবে।

এর আগে, এক ব্রিফিংয়ে পাকিস্তান মিশনের রাষ্ট্রদূত মুনির আকরাম ব্যাখা করেন, সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে নয়াদিল্লি কীভাবে আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে। তিনি বলেন, ‘পারমাণিক অস্ত্রের পরীক্ষার পর থেকেই পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে বিভেদ আরো জোরালো হয়েছে। বর্তমানে দু’দেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে। কারণ, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিজেদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম আরো বিস্তার ঘটিয়েছে নয়াদিল্লি। এ বিষয়ে আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণাদি রয়েছে।’

নয়াদিল্লি কীভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে তা বৈঠকে গুতেরেসের কাছে তুলে ধরেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত। এ বিষয়ে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল এবং দেশটির সঙ্গে চীনের অর্থনেতিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ভারত সন্ত্রাসী হামলায় মদদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে ইসলামাবাদ। নয়াদিল্লি যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালাতে সন্ত্রাসীদের সহায়তা করছে তার বিস্তর প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলে তখনই জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি। আর এখন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের কাছে এই অভিযোগ তুলে ধরার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে কড়া বার্তা দিল পাকিস্তান।

ইসরাইলি অবরোধের কারণে গাজার ক্ষতি হয়েছে ১,৭০০ কোটি ডলার: জাতিসংঘ

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার ওপর ২০০৭ সালে ইহুদিবাদী ইসরাইল কঠোর অবরোধ আরোপ করার পর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১,৭০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

জাতিসংঘ কনফারেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা আঙ্কটাডের এক রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর পার্সটুডে’র।

আঙ্কটাডের গ্লোবালাইজেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-এর পরিচালক রিচার্ড কজুল রাইট বলেন, অন্য কোন কিছুর দিকে তাকানোর সময় নেই বরং গাজার মানুষের জন্য উন্নয়ন হওয়াটা জরুরি।

ইহুদিবাদী ইসরাইল গাজার ওপর ২০০৭ সাল থেকে সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করে এবং ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩টি যুদ্ধ পরিচালনা করেছে। ইহুদিবাদী ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন এবং অবরোধের কারণে গাজার দারিদ্র্য বেড়েছে স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে অন্তত চার গুণ।

আঙ্কটাডের রিপোর্ট অনুযায়ী, সারাবিশ্বে সবচেয়ে খারাপ অর্থনীতির ভেতরে রয়েছে গাজা। পাশাপাশি ইহুদিবাদী ইসরাইল সামরিক আগ্রাসন চালানোর সময় গাজা উপত্যকার বেসামরিক জনগণকে যেমন হত্যা করেছে তেমনি বেসামরিক স্থাপনা এবং হাজার হাজার কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর বোমা হামলা চালিয়েছে।

ইসরাইলি অবরোধ এবং আগ্রাসনের কারণে যে ক্ষতির রিপোর্ট তুলে ধরা হয়েছে তা প্রকৃতপক্ষে পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয় বরং একটি অংশমাত্র। এতে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকটি তুলে আনা হয়েছে। কিন্তু সামরিক আগ্রাসন এবং অবরোধের কারণে আরো যে সমস্ত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার অর্থ হলো অনেক বেশি।