ফের স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আবারও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সৌদি আরবের অবস্থান সম্পর্কে জানালেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান।

গতকাল শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) নাইজারে শুরু হওয়া ওআইসি-এর ৪৭তম পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের শীর্ষ সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান একথা জানান। খবর আল জাজিরার

ফয়সাল জানান, আন্তর্জাতিক আইন ও আরব পিস ইনিশিয়েটিভের আলোকে পশ্চিম জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তি রাষ্ট্র গঠন করে ফিলিস্তিনের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে আসছে সৌদি আরব।

এর আগে গত মাসেও ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে প্রিন্স ফয়সাল বলেন, শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক করবে। তবে এর আগে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সংকট সমাধানে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে।

প্রিন্স ফয়সাল ওই সাক্ষাতকারে আরো বলেন, ‘আমরা শান্তির আহ্বানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য তা আবশ্যক। আর চূড়ান্ত পর্যায়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদির স্বাভাবিক সম্পর্ক এরই অংশ। আরব পিস ইনিশিয়েটিভেও এ প্রস্তাবনা জানানো হয়। তাই আমরা মনে করি, স্বাভাবিক সম্পর্ক শিগগির তৈরি হবে। তবে এর আগে আমাদেরকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি পরিকল্পনার আলোকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।’
উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার ২৭ নভেম্বর নাইজারের রাজধানী নিয়ামে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তিন দিন ব্যাপী ৪৭তম শীর্ষ সম্মেলন শুরু ‍হয়।

শীর্ষ সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যে যেকোনো সন্ত্রাসী হামলায় ইসলামকে সম্পৃক্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মীয় বিষয়ের অবমাননার তীব্র নিন্দা জানায় সৌদি আরব। আর মুসলিম বিশ্ব এখন সন্ত্রাসী হামলার শিকার।’

চলমান শীর্ষ সম্মেলনে ধর্মাবমাননা প্রতিরোধে জাতিসংঘকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান ওআইসি-এর মহাসচিব ইউসুফ আল উসাইমিন। সূত্র: আল জাজিরা

প্রাণের শহর জেরুসালেম

মুসলিমদের কাছে হারাম আল শরীফ আর ইহুদিদের কাছে পরিচিত টেম্পল মাউন্ট হিসেবে৷ এখানেই রয়েছে আল আকসা মসজিদ, কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আস সিলসিলা, কুব্বাত আন নবীর মত মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনাগুলো৷ অন্যদিকে ইহুদিরা মনে করে তাদের বাইবেলে বর্ণিত সবচেয়ে পবিত্র দুইটি গির্জার ঠিকানা এটি৷

প্রাণের শহর জেরুসালেম
আল-আকসা মসজিদ
রূপালি রঙের গম্বুজ এবং বিশাল হলঘর বিশিষ্ট আল-আকসা মসজিদ৷ সুন্নি মুসলমানদের কাছে যা মক্কা ও মদিনার পর তৃতীয় পবিত্রতম স্থান৷ ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী মেরাজে যাওয়ার সময় হযরত মুহাম্মদ (সা.) মসজিদুল হারাম থেকে আল-আকসায় এসে নামাজ আদায় করেন৷

প্রাণের শহর জেরুসালেম
কুব্বাত আস সাখরা
কুব্বাত আস সাখরা বা ডোম অব দ্যা রক৷ টেম্পল মাউন্টেনের উপর অবস্থিত গম্বুজটিতে সাখরা নামের একটি পাথর রয়েছে৷ ইসলাম ধর্মমতে হযরত মুহাম্মদ (সা.) মেরাজে যাওয়ার পূর্বে এই পাথরটি সেখানে স্থাপন করেন৷

প্রাণের শহর জেরুসালেম
জলপাই পাহাড়
দৃশ্যটি পুরাতন নগরের পূর্ব পাশে পাহাড়ের নীচের৷ এই পাহাড়ের পশ্চিম ও দক্ষিণ ঢালুতে আছে প্রাচীন ইহুদি সমাধি৷ এক সময় এলাকাটি ছিল জলপাই বাগানে ঘেরা৷ তাই নামও হয় জলপাই পাহাড়৷ এটি ইহুদিদের সবচেয়ে প্রাচীন সমাধি৷

প্রাণের শহর জেরুসালেম
পশ্চিম দেয়াল
জেরুসালেমের পুরাতন শহরে অবস্থিত চুনাপাথরের এই প্রাচীন দেয়ালটি টেম্পল মাউন্টেন বা পশ্চিমের দেয়াল৷ ইহুদিদের নিকট এটি সবচেয়ে পবিত্রতম স্থান৷ তারা এখানে প্রার্থনা করতে আসেন৷ এখানে পুরুষ-নারীর জন্য পৃথক বিভাগ রয়েছে, যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে৷ অবশ্য প্রবেশের পূর্বে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা তল্লাশী পার হতে হয়৷

প্রাণের শহর জেরুসালেম
যেখানে যিশু ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন
জেরুসালেমের ওল্ড সিটি বা পুরান নগরী গুরুত্বপূর্ণ খ্রিস্টানদের কাছেও৷ বেশিরভাগের ধারণা যিশুকে ক্রুশবিদ্ধ ও সমাধিস্থ করা হয় এখানেই৷ সেই স্থানটিতে রয়েছে তাদের পবিত্র একটি গির্জাও৷ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানরা মনে করেন বাইবেলের বার্তা অনুযায়ী ইসরায়েলে ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা খ্রিস্টানদের ধর্মীয় দায়িত্ব৷

প্রাণের শহর জেরুসালেম
জেরুসালেম কার?
ইসরায়েলের দাবি তিন হাজার বছর আগে জেরুসালেমই ছিল ইহুদিদের রাজধানী৷ অন্যদিকে ফিলিস্তিনি আরবরাও এই ভূমিকে তাদের ঐতিহাসিক, পবিত্র নগরী হিসেবে বিবেচনা করে৷ ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বপ্নও জেরুসালেমকে কেন্দ্র করে৷

প্রাণের শহর জেরুসালেম
ইসরায়েলের দখলদারিত্ব
১৯৬৭ সালে ৬ দিনের যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর আর পূর্ব জেরুসালেম দখলে নেয় ইসরায়েল৷ আইন করে দাবি করে নিজেদের ভূমি হিসেবে৷ যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এখনও মিলেনি৷ টেম্পল মাউন্ট বা হারাম আল শরীফের নিজ নিজ ধর্মীয় উপাসনালয়ে যাতায়াত ও প্রার্থনায় অংশ নিতে পারেন মুসলিম ও ইহুদিরা৷

প্রাণের শহর জেরুসালেম
রাজধানীর দাবি
১৯৮০ সালে ইসরায়েলের সংসদ নেসেট অখন্ড জেরুসালেমকে তাদের রাজধানীর মর্যাদা দেয়৷ দেশটির সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, সুপ্রিম কোর্ট, সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর অবস্থান এই শহরেই৷ জাতিসংঘ কিংবা আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে কিংবা পূর্ব জেরুসালেমে দেশটির দখলদারিত্ব, কোনটিরই স্বীকৃতি দেয়নি৷

প্রাণের শহর জেরুসালেম
যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি
২০১৭ সালে জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেন ডনাল্ড ট্রাম্প৷ সেই সঙ্গে তেল আভিভ থেকে দূতাবাস সেখানে সরিয়ে নেয়ারও নির্দেশ দেয় ওয়াশিংটন৷ এই পদক্ষেপকে ইসরায়েল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়৷

প্রাণের শহর জেরুসালেম
জনসংখ্যায় পরিবর্তন
১৯৬৭ সালের আগেই পশ্চিম জেরুসালেমে ইহুদিদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়৷ তবে পূর্ব জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিরাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ৷ যুদ্ধের পর অবৈধভাবে দুই লাখের বেশি ইহুদিকে সেখানে স্থানান্তর করে ইসরায়েল৷ ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেরুসালেমের জনসংখ্যা দাড়িয়েছে সাড়ে আট লাখে৷ যার ৬৩ ভাগ ইহুদী আর ৩৭ ভাগ ফিলিস্তিনি৷

প্রাণের শহর জেরুসালেম
জেরুসালেম বিক্রির জন্য নয়
সম্প্রতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের এক পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প৷ সে অনুযায়ী জেরুসালেম শহর ইসরায়েলের অবিভক্ত রাজধানী থাকবে৷ আর অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেম হবে ফিলিস্তিনিদের রাজধান৷ এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট আব্বাস বলেছেন, ‘‘জেরুসালেম বিক্রির জন্য নয়’’৷ মুসলমান, ইহুদি আর খ্রিস্টান; তিন ধর্মের মানুষের কাছেই পবিত্র এক নগরী জেরুসালেম৷ যা দখল করে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে ইসরায়েল৷ অন্যদিকে মুসলমানদের স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বপ্নও এই জেরুসালেমকে ঘিরেই৷ সুত্র: ডয়েসে ভেলে

এবার মসজিদের ইমামকে বহিষ্কার করে জেলে পাঠাল ফ্রান্স

কথিত সন্ত্রাসবাদী কাজে উসকানি দেয়ার অভিযোগ এনে পাকিস্তানের এক ইমামকে ১৮ মাসের জেলের সাজা দেয়ার পাশাপাশি দেশ থেকেও বহিষ্কার করল ফ্রান্স। জেলের সাজা শেষ হলেই তাকে দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্যারিসের একটি আদালত।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে পাকিস্তান থেকে ফ্রান্সে এসেছিল লুকমান হায়দার। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের শার্লি হেবদো পত্রিকার সামনে সশস্ত্র হামলার পর সোস্যাল মিডিয়াতে তিনটি ভিডিও পোস্ট করেন ওই ইমাম। যাতে হামলাকারীর প্রশংসা করেন তিনি।

ইমাম লেখেন, ওই বীর পুরুষকে পাকিস্তানের সবাই চিনে গিয়েছে। নবীর কাছ থেকে মর্যাদা ও সম্মান অর্জন করেছে। এর পাশাপাশি বেশ কিছু মন্তব্যও করেন লুকমান। সেই পোস্টগুলো প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রশাসন পদক্ষেপ নেয়। গ্রেফতার করে মামলা শুরু করা হয় লুকমান হায়দার নামে ওই পাকিস্তানি নাগরিকের নামে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর পূর্ব প্যারিসে সাপ্তাহিক ব্যঙ্গ পত্রিকা ‘শার্লি হেবদোর পুরনো অফিসের কাছে ছুরি নিয়ে হামলা চালাল এক ব্যক্তি। ওই হামলায় আহত হয়েছিলেন দু’জন। এমএসএন

বড়ো জয় মুসলিম ছাত্রীদের; স্কুলে হিজাবের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল সুইডেন

সুইডেনের একটি প্রশাসনিক আদালত সেদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় স্কোন রাজ্যের স্কুলসমূহে হিজাবের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে।

মঙ্গলবার (১৭ই নভেম্বর) সুইডেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মাল্মে প্রশাসনিক আদালত এক বিবৃতিতে স্কোন রাজ্যের স্করপ সিটি কাউন্সিলের স্কুলসমূহে হিজাব নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি বাতিল করা হয়েছে।

আদালত গুরুত্বারোপ করে বলেছে, হিজাব নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কিত সুইডিশ সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক।

সোমবার (১৬ই নভেম্বর) সুইডেনের বিচার বিভাগ একটি বিবৃতি জারি করে, সেদেশের সংবিধান লঙ্ঘনের কারণে হিজাব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে, স্করপিও পৌরসভা ১৩ বছরের কম বয়সী ছাত্রীদের জন্য স্কুলে হেডস্কার্ফ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইস্কুরুপ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ম্যাথিয়াস লিডেলহাম এক বক্তৃতায় বলেন: “আমরা এই আইনটিকে স্বীকৃতি দেব না এবং এই আইন আমাদের স্কুলে প্রয়োগ করা হবে না”।

সিটি কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিডেলহাম বিরোধিতার পরে, তার বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় মৃত্যুর হুমকি বার্তা এবং হুমকিমূলক প্রতিক্রিয়া প্রেরণ করা হয়েছে।

মাওলানা স্বামীর সঙ্গে সানার গাড়িতে ঘোরার ভিডিও ভাইরাল

সবে সবে বিয়ে করেছেন সানা খান। মাওলানা আনাস সাঈদের সঙ্গে সংসার পেতেছেন তিনি। গুজরাটের মাওলানার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার পর বিভিন্ন মুহূর্তের ভিডিও শেয়ার করতে শুরু করেছেন এক সময়ের অভিনেত্রী।

বিয়ের পর শাশুড়ির হাতের বিরিয়ানি তৈরির ভিডিও শেয়ার করে অনুরাগীদের চমকে দিয়েছেন সানা খান। এবার আনাস সাঈদের সঙ্গে বাড়ির বাইরে বের হলেন সানা। মুখ ঢেকে গাড়িতে বসে থাকতে দেখা যায় বিগ বসের প্রাক্তন প্রতিযোগীকে। প্রাক্তন অভিনেত্রী স্বামীর সঙ্গে কোথায় যাচ্ছেন, সে বিষয়ে কিছু জানা যানাননি। তবে ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তা হু হু করে ভাইরাল হয়ে যায়।

জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার মেলভিন লুইসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মন ভেঙে যায় সানা খানের। এমনকি, তার সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালীন মেলভিন বিভিন্ন সময়ে অন্য মেয়েদের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করতে দেখা যায় সানাকে। এরপরই বিনোদন দুনিয়াসহ বলিউড থেকে সরে যাচ্ছেন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন সানা খান। যা নিয়ে জোর শোরগোল শুরু হয়ে যায়।

বাংলাদেশ-ভারত থেকেই বিশ্বে করোনা ছড়িয়েছে, দাবি চীনা বিজ্ঞানীদের

বাংলাদেশ-ভারত থেকেই বিশ্বে করোনা ছড়িয়েছে, দাবি চীনা বিজ্ঞানীদের
করোনা ভাইরাসের উৎস নিয়ে এবার ভিন্ন দাবি করেছেন চীনা গবেষকরা। তাদের দাবি, মহামারি করোনার উৎস চীনে নয়, বরং ভারত বা বাংলাদেশ থেকেই এটি ছড়িয়েছে।

সম্প্রতি চীনের সায়েন্স অ্যাকাডেমি প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এমন দাবি করা হয়েছে। এ গবেষণাটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানচেটে প্রকাশিত হয়েছে। খবর ডেইলি মেইল ও দ্যা সানের।

চীনা বিজ্ঞানীদের দাবি, করোনাভাইরাস চীনের উহানে ছড়িয়ে পড়ার আগে ভারত-বাংলাদেশে দেখা দিয়েছিল। গত বছর এ অঞ্চলে তীব্র তাপদাহের সময় মানুষ ও বন্যপ্রাণীরা একই উৎস থেকে পানিপানের ফলে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। যার প্রমাণও রয়েছে তাদের কাছে।

গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের মে থেকে জুন মাসে রেকর্ড দ্বিতীয় দীর্ঘতম দাবদাহ তাণ্ডব চালিয়েছিল উত্তর-মধ্য ভারত এবং পাকিস্তানে। ফলে ওই অঞ্চলে ভয়াবহ পানির সংকট সৃষ্টি হয়। পানির অভাবে বানরের মতো বন্যপ্রাণী একে অপরের সঙ্গে ভয়াবহ লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছিল এবং অবশ্যই এটি মানুষ-বন্যপ্রাণী সংস্পর্শের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছিল।

চীনা গবেষক দলটি করোনাভাইরাসের উৎস খুঁজতে ফাইলোজেনেটিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তাদের মতে, সবচেয়ে কম রূপান্তরিত রূপটাই ভাইরাসের আসল রূপ হতে পারে।

এ ধারণার ভিত্তিতেই চীনা গবেষকরা দাবি করেছেন, করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ উহানে হয়নি। ভারত কিংবা বাংলাদেশের মতো জায়গাগুলো, যেখানে কম রূপান্তরিত ভাইরাসের নমুনা পাওয়া গেছে, সেখানেই হতে পারে এর আসল উৎস।

ভারত-বাংলাদেশের পাশাপাশি করোনার সম্ভাব্য উৎস হিসেবে রাশিয়া, গ্রিস, সার্বিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও চেক রিপাবলিকেরও নাম বলেছেন চীনের ওই গবেষকরা।

চীনা গবেষকদের এ দাবির সঙ্গে একমত নন অনেক বিশেষজ্ঞ। গ্লাসগো ইউনিভার্সিটির ভাইরাল জিনোমিক্স অ্যান্ড বায়োইনফরম্যাটিকস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডেভিড রবার্টসন চীনা বিজ্ঞানীদের গবেষণাপত্রকে খুবই ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, ন্যূনতম রূপান্তরিত ভাইরাস সিকোয়েন্স শনাক্তকরণে লেখকদের দৃষ্টিভঙ্গি সহজাতভাবেই পক্ষপাতদুষ্ট। লেখকরা মহামারির বিস্তৃতি সংক্রান্ত উপাত্তগুলো এড়িয়ে গেছেন, যাতে চীনে ভাইরাসের উত্থান এবং সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়া স্পষ্ট দেখা যায়।

তুরস্ককে পরমাণু বোমা বানাতে সহায়তা করবে পাকিস্তান!

সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের ওপর বেশ ক্ষুব্ধ ভারত। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যিপ এরদোগানের পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন বেশ ক্ষুব্ধ করছে ভারতকে। গত কয়েক বছরে বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে এ নিয়ে।

গত ফেব্রুয়ারিতে এরদোগান আরেক দফা ভারতকে ক্রুদ্ধ করেন পাকিস্তান পার্লামেন্টে এ কথা বলে যে কাশ্মির ইস্যু পাকিস্তানের যত কাছে, আমাদেরও তত কাছে। তুরস্ক সেখানকার নির্যাতনের বিষয়ে সোচ্চার থাকবে। তিনি কাশ্মিরি মুসলিমদের সংগ্রামকে গ্যালিপলিতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তুর্কি লড়াইয়ের সাথে তুলনা করেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরদোগানের মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে অভিহিত করেন।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রে কাশ্মির প্রশ্নে পাকিস্তানকে সমর্থন করে তুরস্ক। এর বিনিময়ে পাকিস্তান ১৯৭৪ সালে সাইপ্রাসে তুরস্কের সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতি সমর্থন দেয়। এসব বিষয় আগে থেকে থাকলেও তা ভারতকে ক্রুদ্ধ করেনি। বর্তমানে এরদোগান যেভাবে পাকিস্তানকে সমর্থন করছেন, তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে আছে ভারত।

এর প্রতিক্রিয়ায় ভঅরত ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য জাহাজ নির্মাণের ২.৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি বাতিল করার হুমকি দিয়েছে। তাছাড়া তুরস্কের ঐতিহাসিক শত্রু আর্মেনিয়ার কাছ থেকে রাডার কেনার জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে ভারত। তবে ভারত সম্ভবত তুরস্কের সাথে চুক্তিটি বাতিল করবে না। দেশটি সম্ভবত পাকিস্তানের প্রতি তুরস্কের সম্পর্ক শিথিল করার জন্য হুমকি দিয়ে আসছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক তাবাদল্যাবের প্রধান মোশাররফ জাইদি বলেন, ভারত মনে করে, তার অর্থনৈতিক শক্তি ও আকারের কারণে সে যেকোনো ধরনের জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকতে পারে। কিন্তু তুরস্ক তা গ্রাহ্য করছে না দেখে ভারত বিস্মিত হয়েছে।
ভারত ও তুরস্কের বাণিজ্য ভারসাম্য ব্যাপকভাবে নয়া দিল্লির অনুকূলে। জাহাজের চুক্তিটি বরং কিছুটা ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
তবে ভারত যাই মনে করুক না কেন, উপমহাদেশের মুসলিমদের ওপর তুর্কি প্রভাব এখনো বেশ প্রান্তিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। বরং উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রভাবই অনেক বেশি। সেখানে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কোটি কোটি লোক বাস করে। তাছাড়া এসব দেশের মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্নভাবে দান-খয়রাতও করে থাকে উপসাগরীয় দেশগুলো।

আবার পাকিস্তানের সম্ভাবনাময় বাজারের কারণেও দেশটির সাথে তুরস্কের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার একটি অন্যতম কারণ। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের কাছে অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিক্রির জন্য ১.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমানগুলো আধুনিকায়নের কাজেও তুরস্ক সহায়তা করছে। তাছাড়া তুর্কি টিভি সিরিয়াল, চকোলেটের মতো পণ্যও পাকিস্তানে বেশ সমাদৃত।

আবার পাকিস্তানে এমন কিছু আছে, যা কামনা করতে পারে তুরস্ক। আর তা হলো পরমাণু অস্ত্র। এরদোগান গত সেপ্টেম্বরে পরমাণু শক্তি লাভের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তেলআবিবভিত্তিক ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো গালিয়া লিন্ডেনস্ট্রাস বলেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক পরমাণু অস্ত্র নির্মাণে সহযোগিতামূলক অবস্থান গ্রহণ করতে পারে।
তবে তুরস্ককে পরমাণু অস্ত্র বানাতে পাকিস্তান ততটা সহায়তা নাও করতে পারে। পাকিস্তানে অনেকে মনে করে, তুরস্ক পরমাণু বোমা বানাতে পারলে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর হিসেবে পাকিস্তানের মর্যাদা নষ্ট হয়ে যাবে। সূত্র: আল-মনিটর