মুসলিম রাষ্ট্র বলেই কি পাকিস্তানের সাথে আলোচনা করা যাবে না?, প্রশ্ন মেহবুবা মুফতির

চীন লাদাখে ঢুকে ভারতীয় ভূখণ্ড দখলের পথে হাঁটলেও তাদের সাথে আলোচনা চলতে পারে। অথচ পাকিস্তানের সাথে কোনো কথোপকথনেই রাজি নয় কেন্দ্র। মুসলিম দেশ বলেই কি এই অনাগ্রহ? রোববার কেন্দ্রের উদ্দেশে এমনই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন জম্মু ও কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি।

শনিবার জম্মু-কাশ্মিরে ছিল জেলা উন্নয়ন পরিষদের নির্বাচন। উপত্যকা থেকে ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির পর প্রথম ভোট মিটেছে নির্বিঘ্নেই। রোববার এক সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মেহবুবা প্রশ্ন তোলেন ‘ওরা বলে, মুসলিমরা পাকিস্তান‌ি, শিখরা খালিস্তানি আর সমাজবাদীরা আরবান নকশাল। তাহলে ভারতীয় কারা? কেবল বিজেপি?’ আক্রমণাত্মক মেজাজে তার আরো বক্তব্য, ‘সারা ভারতেই বিরোধীদের অবদমন করে রাখা হয়েছে। ইডির মতো প্রতিষ্ঠানগুলি ওদের টার্গেট করে রেখেছে। আমাদের প্রার্থী, সদস্যদের কোনো নিরাপত্তাই নেই।’

শুক্রবারই পিডিপি নেত্রী অভিযোগ করেছিলেন, তাকে বেআইনিভাবে আটক করেছে পুলিশ। সে প্রসঙ্গেও এদিন মুখ খোলেন তিনি। তার কথায়, ‘আমাকে আটক করা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন যা বলেছে, তা শুনে আমি হতাশ। যেদিন থেকে আমরা জানিয়েছি জেলা উন্নয়ন পরিষদের নির্বাচনে লড়ার কথা, তখন থেকেই আমাদের দলীয় সদস্যদের উপরে অত্যাচার বেড়ে গিয়েছে।’ এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে ৩৭০ ধারার বিলোপ নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশে তার প্রশ্ন, ‘যদি ৩৭০ ধারার বিলোপই সমাধান হত, তাহলে কেন এখনও কাশ্মিরে সেনা মোতায়েন রয়েছে?’

গত বছরের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মির থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল করে সেটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই সময়ই মেহবুবা মুফতি-সহ কাশ্মিরের প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। এক বছরেরও বেশি সময় গৃহবন্দি থাকার পর মাসখানেক আগে মুক্তি পেয়েছেন পিডিপি নেত্রী।

ভারতের আসানসোলে গ্রামের একমাত্র হিন্দু পরিবারের বৃদ্ধের সৎকার মুসলিম প্রতিবেশীদের

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির দেখল আসানসোল। জামুরিয়া থানার অন্তর্গত দেশেরমোহন গ্রামে বসবাস করে একটি মাত্র হিন্দু পরিবার। শনিবার সন্ধ্যায় সেই পরিবারের কর্তা বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। মৃতের নাম রামধনু রজক (৮০)। এই মৃত্যুর খবর গ্রামের মুসলিম বাসিন্দারা রাতেই জানতে পারেন। তারপর গোটা গ্রাম একত্রিত হয়ে হিন্দু ধর্ম মতে সৎকারের সিদ্ধান্ত নেন।

তাঁরা রাতেই রামধনু রজকের ছেলে ও মেয়েদের খবর দেন। সকালে মৃতের এক ছেলে গ্রামে আসেন, বাকিরা থাকেন ভিন রাজ্যে, তাই তাঁরা সৎকারের কাজে পৌঁছতে পারেননি। গ্রামের বাসিন্দা শেখ ফিরদৌস বলেন, ‘‘দেশেরমোহন গ্রামে মোট পরিবার ২৩০টি, তার মধ্যে মাত্র একটি হিন্দু পরিবার। কয়েকদিন আগে বার্ধক্যজনিত কারণে রামধনু রজক(৮০) অসুস্থ বোধ করেন। তখন সন্তানরা বাইরে থাকায় তার চিকিৎসার সমস্ত দায় মুসলিম প্রতিবেশীরাই নেন। দুর্গাপুরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষমেষ রানীগঞ্জের একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তিনি প্রয়াত হন।

স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মুবারক জানান, ‘‘দেশেরমোহন গ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গোটা এলাকার কাছে এক দৃষ্টান্ত। যিনি মারা গিয়েছেন, তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসে হিন্দু হলেও আমাদের গ্রামেরই একজন সম্মাননীয় ব্যক্তি ছিলেন। এই গ্রাম প্রমাণ করল, মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে। সে হিন্দু হোক, মুসলিম হোক বা অন্য যে ধর্মেরই হোক না কেন। আনন্দবাজার

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা লড়তে গাম্বিয়াকে ৫ লাখ ডলার দিয়েছে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা লড়তে গাম্বিয়াকে ৫ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ।

নাইজারে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে এই অর্থ সহায়তার বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নাইজারের রাজধানী নিয়ামে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দেন সংস্থাটির বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

তিনি জানান, সম্মেলনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের জন্য তহবিল সংগ্রহের বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওআইসির মাধ্যমে গাম্বিয়াকে ৫ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়া হয়েছে। মামলায় লড়তে গাম্বিয়ার ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।
ওআইসি সেক্রেটারিয়েট জানিয়েছে, রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা লড়তে গাম্বিয়াকে সৌদি আরব, তুরস্ক, নাইজেরিয়া অর্থ সহায়তা দিয়েছে।

২৭-২৮ নভেম্বর নাইজারের রাজধানী নিয়ামে ওআইসির ৪৭তম পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

‘নামাজ পড়তে অসুবিধা হতো, তাই অভিনয় ছেড়ে দিয়েছি’

নামাজ পড়তে অসুবিধা হয় বলে পাঁচ বছর ধরে অভিনয় করেন না বাংলা চলচ্চিত্রে কালজয়ী অভিনেত্রী আনোয়ারার মেয়ে মুক্তি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

মুক্তি লিখেছেন, ‘অনেকই জিজ্ঞেস করে, আমি অভিনয় ছেড়ে দিলাম কেন? আসলে সময়মতো নামাজ পড়তে আমার অসুবিধা হতো। তাই প্রায় পাঁচ বছর হলো আমি অভিনয় ছেড়ে দিয়েছি।’

তার এই স্ট্যাটাসের নিচে অনেকেই এই সিদ্ধান্তের জন্য তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকে মন খারাপ করে মুক্তির অভিনয় মিস করবেন বলেও জানান।

নামাজ পড়তে অসুবিধা হওয়ায় অভিনয় ছেড়েছেন নায়িকা নামাজ পড়তে অসুবিধা হওয়ায় অভিনয় ছেড়েছেন নায়িকা মুক্তি দর্শক মুগ্ধ করেছেন হুমায়ূন আহমেদের নন্দিত চলচ্চিত্র ‘শ্রাবণ মেঘের দিনে’ জমিদারের বড় নাতনির চরিত্রে।

এখানে শাহানারূপী মুক্তিকে দর্শক মনে রাখবেন অনেকদিন। কাজ করেছেন তিনি হেলাল খানের বিপরীতে ‘হাছন রাজা’ সিনেমাতেও। কাজ করেছেন কিছু নাটক-টেলিছবিতেও।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরু করেন মুক্তি। আ’লোচনায় আসেন একই বছরের সিনেমা ‘চাঁদের আলো’ দিয়ে। ওমর সানীর বিপরীতে এই সি’নেমায় আলো চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

আরো পড়ুন-জার্মান শহরে মাইকে ‘আজান নিষিদ্ধের’ মামলায় জয়ী হলেন মুসলিমরা!

জার্মানির একটি শহরে মাইকে আজান দেয়া নিষিদ্ধ করার দাবিতে স্থানীয়দের করা মা’মলায় জয় পেয়েছেন মুসলিমরা। টানা পাঁচ বছরের আইনি লড়াই শেষে বুধবার মা’মলাটি খারিজ করে দিয়েছেন জার্মান আদালত

জার্মানির একটি শহরে মাইকে আজান দেয়া নিষিদ্ধ করার দাবিতে স্থানীয়দের করা মা’মলায় জয় পেয়েছেন মুসলিমরা। টানা পাঁচ বছরের আইনি লড়াই শেষে বুধবার মা’মলাটি খারিজ করে দিয়েছেন জার্মান আদালত।

ফলে, এখন থেকে শহরটিতে মাইকে আজান দিতে আর কোনও বাধা থাকল না। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ২০১৫ সালে জার্মানির উত্তর রাইন-ওয়েস্টফালিয়া অঙ্গরাজ্যের ওর-এরকেনশিক শহরের বাসিন্দারা আজানের সময় মাইক ব্যবহারের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

মসজিদ থেকে ৯০০ মিটার দূরে বসবাসকারী একটি পরিবারের অভিযোগ ছিল, আজানের শব্দে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কিন্তু পরিবারটির এ দাবি খারিজ করে দিয়েছেন জার্মান আদালত।

রায় ঘোষণায় বিচারক বলেছেন, অন্যরাও ধর্মীয় চর্চা করবে এটা প্রতিটি সমাজকে অবশ্যই মানতে হবে। যতক্ষণ কাউকে ধর্মচর্চায় জোর করা হচ্ছে না, ততক্ষণ অভিযোগ জানানোর কোনও সুযোগ নেই।